https://www.prothomalony.com/

17154

opinion

অভিমত

প্রাচীন চীনা ব্যায়াম বাদুয়ানজিন: কমাবে উচ্চ রক্তচাপ

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬ ০৩:২৩

উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে আর জিমে যাওয়া কিংবা কঠোর পরিশ্রমের প্রয়োজন নেই। মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিটের একটি প্রাচীন চীনা ব্যায়াম প্রতিদিন ঘরে বসেই রক্তচাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে পারে। মার্কিন গণমাধ্যম ফক্স নিউজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ৮০০ বছরের পুরোনো এই ঐতিহ্যবাহী ব্যায়ামটির নাম ‘বাদুয়ানজিন’। এটি নিয়মিত করলে প্রথম সারির রক্তচাপের ওষুধের মতোই সুফল পাওয়া যায়। ‘জার্নাল অব দ্য আমেরিকান কলেজ অব কার্ডিওলজি’তে প্রকাশিত একটি বড় ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের বরাতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

‘বাদুয়ানজিন’ হলো একধরনের ঐতিহ্যবাহী চীনা ‘কিগং’ বা মাইন্ড-বডি এক্সারসাইজ (মন ও শরীরের ব্যায়াম)। এটি মূলত আটটি ধীরগতির শারীরিক কসরত, সুনিয়ন্ত্রিত শ্বাসের ব্যায়াম এবং ধ্যানের একটি চমৎকার সমন্বয়। এর চীনা নামের অর্থ ‘আট টুকরো রেশমি কাপড়’। কারণ এর প্রতিটি মুভমেন্ট বা নড়াচড়া রেশমি কাপড়ের মতোই মসৃণ ও ছন্দময়। এই ব্যায়ামের জন্য কোনো ধরনের সরঞ্জাম বা জিমের প্রয়োজন হয় না এবং যেকোনো বয়সের মানুষ ঘরে বসেই এটি করতে পারেন।

বেইজিংয়ের ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজেস’ এর প্রিভেন্টিভ মেডিসিন বিভাগের পরিচালক এবং এই গবেষণার প্রধান লেখক ড. জিং লি-এর নেতৃত্বে ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সী ২১৬ জন উচ্চ রক্তচাপের রোগীর ওপর এক বছর ধরে এই পরীক্ষা চালানো হয়। অংশগ্রহণকারীদের তিনটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছিল— একটি গ্রুপ সপ্তাহে ৫ দিন ৩০ মিনিট করে বাদুয়ানজিন চর্চা করে, দ্বিতীয় গ্রুপ দ্রুত হাঁটে এবং তৃতীয় গ্রুপ নিজেদের মতো সাধারণ ব্যায়াম করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব অংশগ্রহণকারী প্রতি সপ্তাহে অন্তত ৫ দিন ঘরে বসে ‘বাদুয়ানজিন’ চর্চা করেছেন, মাত্র তিন মাসের মধ্যে তাদের রক্তচাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। চিকিৎসকদের মতে, এই প্রভাব বাজারে প্রচলিত হাইপারটেনশনের প্রথম সারির কিছু ওষুধের কার্যকারিতার সমান। এক বছর পর দেখা গেছে, এই মৃদু নড়াচড়ার ব্যায়ামটি হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে এবং রক্তচাপ কমাতে ‘দ্রুত হাঁটা’ বা ব্রিস্ক ওয়াকিংয়ের মতোই সমান কার্যকর ও নিরাপদ।

সাধারণত যেকোনো লাইফস্টাইল পরিবর্তনের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের তদারকি শেষ হলে রোগীরা তা ধরে রাখতে পারেন না। কিন্তু বাদুয়ানজিনের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ১২ সপ্তাহ পর চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ তুলে নেওয়ার পরও রোগীরা এক বছর পর্যন্ত এর সুফল ধরে রাখতে পেরেছেন।

ইয়েল স্কুল অব মেডিসিনের অধ্যাপক এবং জেএসিসির প্রধান সম্পাদক ড. হারলান এম. ক্রুমহোলজ বলেন, ‘৮০০ বছরের পুরোনো এই সহজ ও সাশ্রয়ী পদ্ধতিটি যে কতটা বৈজ্ঞানিক ও কার্যকর, তা এই গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণিত হলো। কোনো খরচ, ওষুধ বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই রক্তচাপ কমানোর এই ক্ষমতা সত্যিই অভাবনীয়।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি যেহেতু অত্যন্ত মৃদু এবং শরীরের ওপর বেশি চাপ ফেলে না, তাই বয়স্ক মানুষ বা যাদের হাঁটাচলার ক্ষমতা সীমিত, তাদের জন্য এটি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের একটি চমৎকার এবং স্থায়ী ঘরোয়া সমাধান হতে পারে।

অভিমত থেকে আরো পড়ুন