https://www.prothomalony.com/
18086
north-america
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৪:০৮
যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা অভিবাসীদের মামলায় সময় দেওয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপের নির্দেশনা পেয়েছেন অভিবাসন আদালতের বিচারকেরা। এতে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা অনেক অভিবাসী দ্রুত বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।
গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন প্রশিক্ষণ নির্দেশনায় বিচারকদের মামলার শুনতি স্থগিত বা সময় বাড়ানোর আবেদন ‘কন্টিনিউয়েন্স’ সীমিত করতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে যেসব অভিবাসী অন্য সরকারি সংস্থার কাছ থেকে ভিসা, গ্রিন কার্ড বা আইনি মর্যাদা পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রেও সময় কম দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্যাতিত ও পরিত্যক্ত শিশু এবং গুরুতর অপরাধের শিকার ব্যক্তিরাও এ নীতির প্রভাবের মধ্যে পড়তে পারেন। পাশাপাশি আইনজীবী খুঁজে নেওয়ার জন্য অভিবাসীদের ১০ দিনের বেশি সময় না দেওয়ার বিষয়ে বিচারকদের নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
সম্প্রতি কয়েক শ অভিবাসন বিচারক ‘কন্টিনিউয়েন্স’ নিয়ে একটি বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণে অংশ নেন। প্রশিক্ষণটি পরিচালনা করেন বোর্ড অব ইমিগ্রেশন আপিলসের বিচারক কিথ হানসাকার। প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য ছিল মামলার শুনানি দ্রুত শেষ করা এবং অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব কমানো।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আদালতগুলোতে প্রায় ৩২ লাখ মামলা বিচারাধীন। এই বিপুল জট কমাতে প্রশাসন দ্রুত মামলার নিষ্পত্তিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
তবে অভিবাসন অধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, অতিরিক্ত দ্রুততার কারণে বৈধ দাবি থাকা ব্যক্তিরাও নিজেদের মামলা প্রস্তুত করার পর্যাপ্ত সুযোগ হারাতে পারেন। বিশেষ করে আইনজীবীর সহায়তা পাওয়ার সুযোগ কমে গেলে বহিষ্কারের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
গার্ডিয়ানকে দেওয়া বক্তব্যে মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিবাসন আদালতের মামলার জট কমানো প্রশাসনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। অন্যদিকে অভিবাসন আদালত কর্তৃপক্ষ বলেছে, বিচারকদের আইন, বিধি ও নীতিমালা মেনে দ্রুত ও আইনসম্মতভাবে মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, অতিরিক্ত মামলা নেওয়া আইনজীবীদের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রশিক্ষণ উপস্থাপনায় উল্লেখ করা হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির মধ্যে অভিবাসন আদালতে দ্রুত বহিষ্কার প্রক্রিয়া আরও জোরদার হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন