https://www.prothomalony.com/
17028
opinion
ফ্যাটি লিভার: যেভাবে বুঝবেন-যত্ন নিবেন
আমাদের যকৃৎ বা লিভার হলো শরীরের অভ্যন্তরে থাকা বৃহত্তম অঙ্গ। এটি শরীরকে খাবার হজম করতে, শক্তি সঞ্চয় করতে এবং বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে।
তবে, স্বাস্থ্য সচেতনতা বিভাগে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত এবং উদ্বেগের নাম হলো 'ফ্যাটি লিভার'। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, যখন আমাদের লিভার বা যকৃতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চর্বি জমা হয়, তখন তাকে ফ্যাটি লিভার ডিজিজ বলা হয়। লিভারে সামান্য চর্বি থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু যকৃতের ওজনের ৫ থেকে ১০ শতাংশের বেশি চর্বি জমলে তা বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ফ্যাটি লিভারের প্রকারভেদ রয়েছে। মেডিলাইন প্লাস (ইউএস ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিন) এর তথ্য অনুযায়ী, ফ্যাটি লিভার প্রধানত দুই প্রকারের হয়:
১. নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (NAFLD): এটি এমন এক অবস্থা যেখানে মদ্যপানের সাথে কোনো সম্পর্ক ছাড়াই লিভারে চর্বি জমে। এর আবার দুটি ভাগ আছে— সিম্পল ফ্যাটি লিভার (যেখানে চর্বি থাকলেও লিভারের কোষের ক্ষতি হয় না) এবং নন-অ্যালকোহলিক স্টিয়াটোহেপাটাইটিস যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। NASH-এর কারণে লিভারে প্রদাহ এবং কোষের ক্ষতি হতে পারে, যা পরবর্তীতে লিভার সিরোসিস বা ক্যান্সারের দিকে নিয়ে যায়।

২. অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ: অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে লিভারে যে চর্বি জমে, তাকে এই শ্রেণিতে ফেলা হয়। লিভারের প্রধান কাজ হলো অ্যালকোহল ভেঙে শরীর থেকে বের করে দেওয়া, কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় ক্ষতিকর পদার্থ উৎপন্ন হয় যা লিভারের কোষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, প্রদাহ তৈরি করে এবং শরীরের প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয়।
অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ এর পরবর্তী ধাপগুলো হলো অ্যালকোহলিক হেপাটাইটিস এবং সবশেষে সিরোসিস।
বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ২৫% মানুষ এই রোগে আক্রান্ত এবং স্থূলতা ও ডায়াবেটিস বাড়ার সাথে সাথে এই হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। মেডিলাইন প্লাস এর তথ্য মতে, ফ্যাটি লিভারের সঠিক কারণ সব সময় স্পষ্ট নয়, তবে কিছু বিষয় এই ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়: বিশেষ করে যাদের টাইপ-২ ডায়াবেটিস, প্রি-ডায়াবেটিস, স্থূলতা বা মেটাবলিক সিনড্রোম রয়েছে, তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। এছাড়া মধ্যবয়সী বা তার চেয়ে বেশি বয়সীদের মধ্যে এর প্রবণতা বেশি থাকলেও বর্তমানে শিশুরাও এতে আক্রান্ত হচ্ছে। উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে কোলেস্টেরল বা ট্রাইগ্লিসারাইডের আধিক্য, হেপাটাইটিস সি-এর মতো সংক্রমণ এবং নির্দিষ্ট কিছু ঔষধ (যেমন: কর্টিকোস্টেরয়েড বা ক্যান্সারের ঔষধ) সেবনও এই রোগের কারণ হতে পারে। এমনকি অস্বাভাবিক দ্রুত গতিতে ওজন কমানো বা বিষাক্ত রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসাও লিভারে চর্বি জমাতে ভূমিকা রাখে।
নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ এবং অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ—উভয়ই সাধারণত 'নীরব ঘাতক' বা সাইলেন্ট ডিজিজ হিসেবে পরিচিত। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো স্পষ্ট লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা যায় না। তবে কিছু লক্ষণ, যেমন- কোনো কারণ ছাড়াই শরীর সব সময় ক্লান্ত বা অবসাদগ্রস্ত মনে হওয়া, পেটের ডান দিকের ওপরের অংশে (যেখানে লিভার থাকে) হালকা ব্যথা বা অস্বস্তি অনুভূত হওয়া, হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া, জন্ডিস (চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া), পা ফুলে যাওয়া (এডিমা)।
আমরা কীভাবে লিভারকে রক্ষা করতে পারি?
মেডিলাইন প্লাস জানাচ্ছে যে, ফ্যাটি লিভারের জন্য বর্তমানে কোনো নির্দিষ্ট অনুমোদিত ওষুধ নেই। এর প্রধান চিকিৎসা হলো জীবনযাত্রার আমূল পরিবর্তন। আপনার যদি যেকোনো ধরনের ফ্যাটি লিভার রোগ থেকে থাকে, তবে জীবনযাত্রায় নিচের পরিবর্তনগুলো আনার মাধ্যমে আপনি লিভারকে সুস্থ করে তুলতে পারেন:
• স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রচুর পরিমাণে ফলমূল, শাকসবজি এবং আস্ত দানা শস্য যুক্ত করুন। লবণ এবং চিনির ব্যবহার কমিয়ে আনা লিভারের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

• শারীরিক সক্রিয়তা: নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম লিভারের জমে থাকা অতিরিক্ত শক্তি (ফ্যাট) খরচ করতে সাহায্য করে।
• ওজন নিয়ন্ত্রণ: শরীরের ওজন কমালে লিভারের চর্বি দ্রুত হ্রাস পায়।
• বর্জনীয় অভ্যাস: মদ্যপান থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকা লিভারের স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারে প্রধান ভূমিকা রাখে।
•ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখলে লিভারের ক্ষতি রোধ করা সম্ভব। তবে কোনো ডায়েটারি সাপ্লিমেন্ট, ভিটামিন বা ভেষজ প্রতিকার শুরু করার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
•প্রয়োজনীয় টিকাদান: লিভার সুস্থ রাখতে এবং সংক্রমণ রোধে হেপাটাইটিস এ, হেপাটাইটিস বি, ইনফ্লুয়েঞ্জা (ফ্লু) ও নিউমোকক্কাল রোগের টিকা নেওয়া জরুরি। ফ্যাটি লিভার আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে এই ভাইরাসগুলো লিভার বিকল হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
লিভার শরীরের একটি অত্যন্ত সহনশীল অঙ্গ, কিন্তু এর ওপর অতিরিক্ত চাপ দিলে তা ধীরে ধীরে অকেজো হয়ে পড়তে পারে। ফ্যাটি লিভার রোগ অনেক সময় কোনো উপসর্গ ছাড়াই শরীরে বাসা বাঁধে। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসই হতে পারে আপনার দীর্ঘায়ু ও সুস্থ লিভারের নিশ্চয়তা।
শিশুর ফুড অ্যালার্জি: প্রতিরোধে চিকিৎসার আধুনিক দিগন্ত
বর্তমান বিশ্বে ফুড অ্যালার্জি একটি ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্য সমস্যা। বর্তমানে প্রতি ২০ জন আমেরিকান শিশুর মধ্যে একজনের খাদ্য অ্যালার্জি দেখা যায়, যা সাধারণত শৈশবে এবং কখনো কখনো কিশোর বয়সেও প্রকাশ পায়। তবে ২০১৯ সাল থেকে বিখ্যাত 'LEAP' স্টাডির ওপর ভিত্তি করে নতুন নির্দেশিকা আসার পর পরিস্থিতির ইতিবাচক পরিবর্তন শুরু হয়েছে। ইন্ডিয়ানাপোলিসের বিখ্যাত অ্যালার্জি বিশেষজ্ঞ এবং ইমিউনোলজিস্ট ডঃ লীনা পাধ্যে এই বিষয়ে এমডি নিউজলাইন পডকাস্টে গুরুত্বপূর্ণ আলোকপাত করেছেন। তাঁর মতে, সঠিক রোগ নির্ণয় এবং সচেতনতাই পারে এই সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান দিতে।
ফুড অ্যালার্জির ক্ষেত্রে একটি বড় সমস্যা হলো ভুলভাবে অ্যালার্জি চিহ্নিত করা। ডঃ পাধ্যে উল্লেখ করেছেন যে, অনেক সময় রোগীরা 'আইজিই মিডিয়েটেড' অ্যালার্জি না হওয়া সত্ত্বেও কিছু খাবার এড়িয়ে চলেন। প্রকৃত খাদ্য অ্যালার্জি তখন হয় যখন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা কোনো নির্দিষ্ট খাবারের প্রোটিনকে ক্ষতিকারক মনে করে তার বিরুদ্ধে 'আইজিই' অ্যান্টিবডি তৈরি করে। এর ফলে খাবার খাওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই আর্টিকেরিয়া, মুখ ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট বা বমির মতো উপসর্গ দেখা দেয়। তিনি বলেন, শুধুমাত্র রক্ত পরীক্ষা বা স্কিন প্রিক টেস্টের পজিটিভ রিপোর্ট মানেই অ্যালার্জি নয়, যদি না রোগীর শরীরে ক্লিনিকাল লক্ষণ থাকে। সঠিক ইতিহাস না জেনে শুধুমাত্র পরীক্ষার ওপর ভিত্তি করে অনেক খাবার ডায়েট থেকে বাদ দেওয়া শিশুর পুষ্টির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ফুড জনিত অ্যালার্জি মূলত তিনটি প্রধান ভাগে বিভক্ত:
১. IgE-মিডিয়েটেড অ্যালার্জি: এটি সবচেয়ে পরিচিত রূপ। খাবার খাওয়ার সাথে সাথেই প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। একমাত্র বৈজ্ঞানিক পরীক্ষাগুলো (স্কিন প্রিক টেস্ট বা ব্লাড টেস্ট) শুধুমাত্র এই ধরনটিই শনাক্ত করতে পারে।
২. FPIES (ফুড প্রোটিন-ইনডিউসড এন্টারোকোলাইটিস সিন্ড্রোম): এটি অত্যন্ত গুরুতর। এক্ষেত্রে খাবার খাওয়ার ৪ থেকে ৮ ঘণ্টা পর প্রচণ্ড বমি ও ডায়রিয়া হয়, যা শিশুকে পানিশূন্য বা নীল করে ফেলতে পারে। দুর্ভাগ্যবশত, এটি নির্ণয় করার জন্য কোনো নির্দিষ্ট ল্যাব টেস্ট নেই।
৩. EoE (ইওসিনোফিলিক ইসোফ্যাগাইটিস): এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহজনিত রোগ যেখানে খাবার থেকে খাদ্যনালীতে প্রদাহ সৃষ্টি হয়। এক্ষেত্রেও ঠিক কোন খাবারটি দায়ী, তা নিশ্চিতভাবে জানার উপায় বেশ সীমিত
ডঃ পাধ্যের মতে, একজিমা মূলত কোনো খাবারের কারণে হয় না। এর আসল কারণ হলো ত্বকের সুরক্ষা স্তরের ত্রুটি বা স্কিন ব্যারিয়ার ডিসফাংশন যা সাধারণত বংশগত বা জিনেটিক কারণে হয়ে থাকে। অনেক বাবা-মা মনে করেন দুধ বা বাদাম বাদ দিলে শিশুর একজিমা ভালো হয়ে যাবে। কিন্তু আসলে একজিমা নিয়ন্ত্রণের উপায় হলো ত্বকের সেই সুরক্ষা স্তরকে চিকিৎসা করা, খাবার বন্ধ করা নয়। তীব্র একজিমা আছে এমন শিশুদের যদি দীর্ঘ সময় কোনো প্রধান খাবার (যেমন পিনাট বা দুধ) থেকে দূরে রাখা হয়, তবে পরবর্তীতে যখন সেই খাবার আবার দেওয়া হয়, তখন শরীরে প্রাণঘাতী অ্যালার্জি বা অ্যানাফিল্যাক্সিস হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।
গর্ভাবস্থায় বা স্তন্যদানকালে মা যদি অ্যালার্জি হতে পারে এমন খাবার (যেমন বাদাম বা ডিম) এড়িয়ে চলেন, তবে শিশুর অ্যালার্জি প্রতিরোধ হবে—এই ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বরং ডঃ পাধ্যের মতে, ডায়েট সীমাবদ্ধ করা হিতে বিপরীত হতে পারে। মা ও শিশু উভয়ের অ্যালার্জি প্রতিরোধের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো একটি সুস্থ মাইক্রোবায়োম বা অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া। তাই মায়েদের উচিত গর্ভাবস্থায় এবং স্তন্যদানকালে কোনো খাবার বর্জন না করে সব ধরনের পুষ্টিকর খাবার সম্বলিত একটি স্বাভাবিক ও বৈচিত্র্যময় খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা। এটি মা ও শিশু উভয়ের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।
আগে ধারণা করা হতো যে, শিশুদের অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী খাবার (যেমন: বাদাম, ডিম) দেরিতে দেওয়া উচিত। কিন্তু আধুনিক গবেষণায় চিত্রটি এখন সম্পূর্ণ উল্টো। ডঃ লীনা পাধ্যে শিশুদের খাদ্য অ্যালার্জি প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় এবং এর সঠিক পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
অ্যালার্জি প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো শিশুর বয়স ৪ থেকে ৬ মাস হওয়ার পর থেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী খাবারের সাথে তাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া। একে বলা হয় 'আর্লি অ্যালার্জেন ইনট্রোডাকশন'। শুরুতে পিনাট (বাদাম), ডিম এবং দুধ দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। এরপর পর্যায়ক্রমে সয়াবিন, গম, বিভিন্ন প্রকার ট্রি-নাট (কাঠবাদাম, কাজুবাদাম ইত্যাদি) এবং তিল শুরু করা উচিত।
যেসব শিশুর মাঝারি থেকে তীব্র একজিমা আছে, তাদের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়। এক্ষেত্রে মা-বাবা বা শিশু বিশেষজ্ঞ সরাসরি খাবার শুরু করতে দ্বিধাবোধ করতে পারেন। তাদের জন্য পরামর্শ হলো: আগে একজন অ্যালার্জি বিশেষজ্ঞকে দেখানো। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় রক্ত বা ত্বক পরীক্ষা করা।পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে খাবারটি কি বাড়িতে শুরু করা নিরাপদ, নাকি চিকিৎসকের উপস্থিতিতে ক্লিনিকে শুরু করা উচিত।
ডঃ পাধ্যে উল্লেখ করেছেন যে, খাদ্য অ্যালার্জির চিকিৎসায় এখন আর শুধু 'খাবার এড়িয়ে চলা' একমাত্র উপায় নয়। ওরাল ইমিউনোথেরাপি চিকিৎসা ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। এই পদ্ধতিতে রোগীকে অত্যন্ত স্বল্প মাত্রায় অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী খাবারটি চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে খাওয়ানো হয় এবং ধীরে ধীরে এই মাত্রা বাড়ানো হয়। এর উদ্দেশ্য হলো রোগীর শরীরকে ওই খাবারের প্রতি সহনশীল করে তোলা, যাতে ভুলবশত সামান্য পরিমাণ খাবার শরীরে প্রবেশ করলেও প্রাণঘাতী প্রতিক্রিয়া না ঘটে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের নতুন সংযোজন হিসেবে ওমালিজাম্যাব এর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এটি একটি ইনজেকশনযোগ্য ওষুধ যা শরীরের অতিরিক্ত 'আইজিই' অ্যান্টিবডিকে ব্লক করে দেয়। এটি ব্যবহারের ফলে মারাত্মক অ্যালার্জি আক্রান্ত রোগীদের রিঅ্যাকশন হওয়ার ঝুঁকি অনেকটা কমে যায়। অনেক ক্ষেত্রে ওরাল ইমিউনোথেরাপির পাশাপাশি এটি ব্যবহার করলে চিকিৎসার কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি পায়।
খাদ্যজনিত অ্যালার্জি কেবল একটি শারীরিক সমস্যা নয়, এটি রোগীর জীবনযাত্রার ওপরও প্রভাব ফেলে। ডঃ লীনা পাধ্যের পরামর্শ অনুযায়ী, উপসর্গ দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।
শিশু যখন বলে "আই হেইট ইউ"
মা-বাবাদের জন্য ছোট সন্তানের মুখ থেকে "আই হেইট ইউ"-শোনাটা সত্যিই বুক ফেটে যাওয়ার মতো কষ্টের। বিশেষ করে বাঙালি সংস্কৃতিতে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা খুব ওতপ্রোতভাবে জড়িত, তাই ছোটদের মুখে এমন কথা আমাদের রাগী বা হতাশ করে তোলে। কিন্তু মনোবিজ্ঞানের ভাষায়, শিশু যখন এমনটা বলে, তখন সে আসলে আপনাকে ঘৃণা করে না; বরং সে তার তীব্র আবেগ প্রকাশ করার ভাষা খুঁজে পাচ্ছে না।
ছোট শিশুদের মুখে এমন আক্রমণাত্মক কথা শুনে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে একটু সময় নিন। মনে রাখবেন, সে তার রাগ প্রকাশ করছে, আপনাকে বিচার করছে না।
এমন মুহূর্তে যা করতে পারেন
শান্ত থাকুন এবং ব্যক্তিগতভাবে নেবেন না: সে আপনাকে ঘৃণা করে না, সে ওই নির্দিষ্ট পরিস্থিতি বা আপনার দেওয়া 'না' শব্দটিকে ঘৃণা করছে। আপনি যদি পাল্টা চিৎকার করেন, তবে বিষয়টি আরও খারাপ হবে। গভীর শ্বাস নিন এবং শান্ত থাকুন।
তার আবেগকে স্বীকৃতি দিন: পাল্টা তার কথার পুনরাবৃত্তি করবেন না বা "বেয়াদব কোথাকার" না বলে বলুন-"আমি বুঝতে পারছি তুমি এখন খুব রাগী অনুভব করছো" অথবা "আমি জানি, আমার এই সিদ্ধান্ত তোমার পছন্দ হয়নি, তাই তুমি কষ্ট পেয়েছ।"
তর্কে জড়াবেন না: সে যখন উত্তেজিত, তখন তাকে নীতিবাক্য বা ডিসিপ্লিন শেখাতে যাবেন না। উত্তপ্ত অবস্থায় মস্তিষ্ক যুক্তিবাদী চিন্তা করতে পারে না, শিশুরা তো না ই। তখন শুধু বলুন, "তুমি শান্ত হলে এই নিয়ে কথা বলব।"
সীমানা নির্ধারণ করে দিন: শান্ত হওয়ার পর তাকে বুঝিয়ে বলুন যে, রাগ হওয়াটা স্বাভাবিক, কিন্তু কথা বলার ধরণটি সঠিক ছিল না। তাকে শেখান আবেগ প্রকাশ করার সঠিক পদ্ধতি-কীভাবে "আই হেইট ইউ" না বলে "আমি খুব রাগ করেছি" বলা যায়।
সক্রিয়ভাবে শোনা ও কারণ অনুসন্ধান করা: রাগটা একটু কমে এলে তাকে কাছে বসান এবং ঠান্ডা মাথায় জিজ্ঞেস করুন, "তুমি কেন কষ্ট পেয়েছো বা কেন এত রেগে গেছো, সেটা কি আমাকে বলবে? আমি শুনতে চাই।" অনেক সময় দেখা যায় সে সারাদিন স্কুলে কোনো সমস্যায় ছিল, কিংবা আপনার কোনো ছোট আচরণ তাকে খুব আঘাত দিয়েছে যা আপনি বুঝতেও পারেননি, কিংবা আপনার মনোযোগ চাচ্ছিল সে। সে যখন তার রাগের কারণটি খুলে বলবে, তখন মাঝপথে কথা না বলে তাকে পুরোটা বলতে দিন। তার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করুন।
নিঃশর্ত ভালোবাসা প্রকাশ করুন: সবশেষে তাকে অনুভব করান যে, তার আচরণ আপনার পছন্দ না হলেও তার প্রতি আপনার ভালোবাসা অপরিসীম। একটি আলিঙ্গন বা মাথায় হাত রাখা অনেক বড় সমস্যার সমাধান করে দিতে পারে।
বাঙালি পরিবারে বড়দের মুখে মুখে উত্তর দেওয়া বা এমন কথা বলাকে বড় অপরাধ ধরা হয়। কিন্তু আধুনিক প্যারেন্টিং বলে, সন্তানের এই অবাধ্যতা আসলে তার মনের ভেতরের অস্থিরতার বহিঃপ্রকাশ। তাকে শাসন দিয়ে দূরে না ঠেলে, ধৈর্য দিয়ে কাছে টানুন। দেখবেন, কিছু সময় পরেই সে নিজেই আপনার কাছে এসে দুঃখ প্রকাশ করবে।
অভিমত থেকে আরো পড়ুন