https://www.prothomalony.com/
15097
foundation
"আমাদের দেশে বামপন্থী দলগুলো অনেক দলে বিভক্ত। দলগুলো যেন শেয়ালের মাথা হতে চায় সিংহের লেজ হতে চায় না। সিংহের লেজ দেখলেও মানুষ একটু ভয় পায় কিন্তু শেয়ালের মাথা দেখলেই মানুষ তাকে মারতে আসে। আমাদের দেশে সেই ভালো উদাহরণটা নাই, তারা সবাই শেয়ালের মতো চতুর হতে চায়। যার কারণে দলগুলো বহু ভাগে বিভক্ত হয়ে পরে।"
গত ৯ অক্টোবর, (বৃহস্পতিবার) প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা আয়োজিত জনপ্রিয় সাপ্তাহিক সম্প্রচার 'টক অব দা উইক'-এ এসব কথা বলেন সাংবাদিক, কলামিস্ট কাকন রেজা। 'কেমন আছে বাংলাদেশ'-পর্বে সমসাময়িক পরিস্থিতি, রাজনীতি, নির্বাচন ও প্রাসঙ্গিক বিষয়ের উপর আলোকপাত করা হয়। উপস্থাপনায় ছিলেন ফরিদা ইয়াসমীন, পরিচালনায় এইচ বি রিতা। শুরুতেই, আসন্ন নির্বাচনে ২২টি নির্বাচনী দলের ইসির কাছে নিবন্ধন চাওয়া নিয়ে জানতে চান ফরিদা ইয়াসমীন।
তিনি বলেন, "ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হওয়ার কথা কিন্তু দেশের পরিবেশ পরিস্থিতি সেরকম কিছু বলছে না। ২৪ এর আন্দোলনের পর মানুষের মন মানসিকতায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। মানুষ এখন শুধু দলকেন্দ্রিক চিন্তাভাবনা করছে না। মানুষ এখন ব্যক্তির ভালো-মন্দ দেখে ভোট দেয়ার চিন্তা করছে। সে কারণেই হয়তো নতুন দল গঠন হচ্ছে, কেউ কেউ হয়তো ভাবছেন একটা নতুন দল গঠন করি। হয়তো আমাদের দল থেকে ভালো কেউ নির্বাচিত হতেও পারেন। সেই চিন্তা থেকেই ২২ দলের নিবন্ধনের ব্যাপারটি আসতে পারে।"
প্রথম আলোর শিরোনাম ছিল 'কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোটারদের নিয়ে কি ভাবছে ইসি?' দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ মানে কি ভোট দেয়াও নিষেধ-এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, "দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলেও ভোটারদের ভোট দেয়া কেউ বন্ধ রাখতে পারবেনা।"
এ প্রসঙ্গে তিনি বিভিন্ন দলের বিভিন্ন সময়ে বন্ধ হওয়ার কথা বলেন এবং প্রশ্ন রাখেন সেসব ভোটার কি ভোট না দিয়ে বসে ছিল?
নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ভোটারদের ভোট এবার কোন দিকে যেতে পারে-এ প্রসঙ্গে কাকন রেজা বলেন, "আমরা যদি বিগত দিনের নির্বাচ গুলোর দিকে ফিরে তাকাই, তাহলে দেখতে পাবো যে, আওয়ামী লীগের ভোট খুব একটা বেশি না। ১৫ থেকে ২০ পার্সেন্ট ছিল তাদের ভোট। সাধারণ মানুষের ভোট উঠানামা করে। কাজেই যারা ত্যাগী আওয়ামীলীগার, তারা ছাড়া বাকিদের ভোট ভাগাভাগি হবে। আমজনতা ভালো প্রার্থী খুঁজবে ভোট দেয়ার জন্য।"
জুলাই সনদের ব্যাপারে তিনি বলেন, ১৫ অক্টোবর সাক্ষর হতে পারে। এ ব্যাপারে তিনি এনসিপির সমালোচনা করে বলেন, যাদের হাত ধরে বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে আজ তারাই বলছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান। অথচ সে সময় বিপ্লবের সব কিছুই সংগঠিত হয়েছে।
অক্টোবরের প্রথম ৭ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৬৯ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার। এই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে ৯ কোটি ৮৮ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। এই পরিসংখ্যান বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য খুবই ইতিবাচক লক্ষণ বলে মনে করেন কাকন রেজা।
তিনি বলেন, "অর্থনীতির এই ধারাকে বিশ্বব্যাংক বলছে- বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে।" বিশ্ব ব্যাংকের এই বিশ্লেষণকে অনেক তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে নাহিদ ইসলাম তার এক সাক্ষাৎকারে বলেন, অনেক উপদেষ্টা নিজেদের আখের গুছিয়েছেন এবং অভ্যুত্থানের সাথে প্রতারণা করেছে। উপদেষ্টাদের অনেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে লিয়াজো করেছে। অনেকে সেইফ এক্সিট এর ব্যবস্থা করে রেখেছে ।সময় হলে আমরা এদের সবার নাম বলবো।
নাহিদ ইসলামের এই ক্ষোভের কারণ সম্পর্কে কাকন রেজা বলেন, "যখন উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়, দেশ তখন একটা সদ্যস্বাধীন দেশের মতো। তখন সব দলের কাছে মতামত যাওয়া হয়েছিল। দলীয় লিয়াজো প্রথম থেকেই ছিল এবং এটা স্বীকার করে নেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
গণ অভ্যুত্থানের সামনের সারির যোদ্ধা ছিল নাহিদ, সারজিস, সজীব প্রমূখ। কিন্তু অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে তাদের সেই আত্মত্যাগের মূল্যায়ন সেভাবে করা হয়নি। হয়তো সেখান থেকে তাদের এই ক্ষোভের সঞ্চার।"
শারদীয় দুর্গোৎসব নিয়ে দেশে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা চলছে। এবার দেশে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে দুর্গোৎসব উদযাপন করা হয় কোনখানে কোন গোলযোগের খবর পাওয়া যায়নি। সারাক্ষণ নিরাপত্তা, সিসিটিভি সবকিছু ব্যবস্থা করা হয়। এনিয়েও মানুষ প্রশ্ন তুলছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তসলিমা নাসরিন লিখেছেন,হিন্দু বিদ্বেষী জিহাদিদের সংখ্যা এত বেড়ে গেছে যে নিরাপত্তা বাড়িয়ে দিতে হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে কাকন রেজা বলেন, "এদের তো সবকিছুতেই সমস্যা। এ কথাগুলি খুবই হাস্যকর এবং স্পষ্টই বোঝা যায় যে এটা ইসলামবিদ্বেষী এবং এখানে ভারতের একটা সরাসরি ইনফ্লুয়েন্স কাজ করে।"
তিনি আরো বলেন, "ইসলাম বিদ্বেষী হতে গিয়ে এরা এত বেশি ইসলামের বিরোধিতা করেন যে এরা জানেনই না যে জাতিসংঘ ইসলাম বিরোধীতার বিরুদ্ধে একটি দিবস ঘোষণা করেছেন।"
এভাবেই সেদিনের পর্বটি শেষ হয়, যেখানে সাংবাদিক কাকন রেজা নানা সমসাময়িক প্রসঙ্গে খোলামেলা মতামত তুলে ধরেন-রাজনীতিতে ব্যক্তির প্রাধান্য, নিষিদ্ধ দলের ভোটারদের ভূমিকা, সাম্প্রতিক অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাস্তবতা, অর্থনীতির গতি এবং সামাজিক-ধর্মীয় ইস্যুতে জনমতের প্রতিফলন।
'টক অব দা উইক'-এর এ আয়োজনে আলোচনার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়, বাংলাদেশ এখন এক পরিবর্তন-মনস্ক সময়ে, যেখানে মানুষ দল নয়, বরং ব্যক্তির যোগ্যতাকেই মূল্য দিতে শুরু করেছে।
ফাউন্ডেশন থেকে আরো পড়ুন