https://www.prothomalony.com/

11605

foundation

ফাউন্ডেশন 

টক অফ দ্য উইকঃ সিনেমার চাইতে শক্তিশালী মাধ্যম আর কিছু নেই—রাজ হামিদ

প্রকাশ: ২১ নভেম্বর ২০২৪ ০৩:৩৭

"সিনেমায় একটা বার্তা থাকে, সিনেমার প্রতি এটাই আমার মুগ্ধ হবার কারণ। একজন নির্মাতা এবং পরিচালক সিনেমার মাধ্যমে সামাজিক গঠনমূলক পরিবর্তন আনতে পারেন, এটাই সিনেমার শক্তি"-কথাগুলো বলেছেন 'বায়োস্কোপ' ফিল্ম ব্যবস্থাপনার কর্ণধার রাজ হামিদ। গত ১৪ নভেম্বর প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার জনপ্রিয় সাপ্তাহিক সম্প্রচার 'টক অফ দ্য উইক' অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন তিনি। দেশের মুক্তিপ্রাপ্ত জনপ্রিয় সিনেমাগুলো উত্তর আমেরিকায় দেখার সুযোগ করে দেয়াই রাজ হামিদের কাজ। মেডিক্যালের ছাত্র এবং পেশায় ডাক্তার হয়েও রাজ হামিদ উত্তর আমেরিকায় বাংলা সিনেমা দেখানোতে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। 

১৫ নভেম্বর 'দরদ' সিনেমার প্রিমিয়াম ছিল নিউইয়র্ক কুইন্স এর কিউগার্ডেনে। সিনেমা সম্পর্কে রাজ হামিদ জানান, অনন্য মামুন এবং তার টিমের বানানো 'দরদ' সিনেমাটি একটু ভিন্নভাবে বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাচ্ছে। নিউইয়র্কের কিউ গার্ডেন, লং আইল্যান্ডের হিক্সভিলে সিনেমাটি দেখানো হবে। তিনি বলেন, 'উত্তর আমেরিকাসহ চারটি মহাদেশে 'দরদ' সিনেমা দেখানোর দায়িত্ব আমরা নিয়েছি। নিউইয়র্ক, লং আইল্যান্ড, লস এঞ্জেলেস, সানফ্রান্সিসকো, বোস্টন, শিকাগো সহ বেশ কয়েকটি শহরে মুক্তি দিচ্ছি। ক্যানাডায় পাঁচটি শহরে পরের সপ্তাহে মুক্তি পাবে। সিনেমায় নায়কের জটিল ও রোমান্টিক চরিত্রে আছেন মেগাস্টার সাকিব খান। আরো আছেন বম্বের নায়িকা সোনাল চৌহান, টালিউডের পায়েল সরকার। এই দুই ভারতীয় নায়িকার সাথে পাল্লা দিয়ে সাকিব খান নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন। সাকিব খান 'তুফান' সিনেমার মতোই ব্যাপ্তি দেখিয়েছেন 'দরদ' সিনেমায়।'

এবারের ঈদে কোন সিনেমা বা কয়টা সিনেমা মুক্তি পেতে যাচ্ছে, উপস্থাপিকা ফরিদা ইয়াসমীনের এমন প্রশ্নে রাজ হামিদ বলেন, 'এবারের ঈদে নয়টা সিনেমা মুক্তি পাবে ঢাকায়। এর মধ্যে চারটা সিনেমার নির্মাতা আমাদের সাথে যোগাযোগ করেছেন। তবে চারটে সিনেমা এখানে একযোগে দেখানো কষ্টসাধ্য ব্যাপার হবে, তাই আমারা অন্তত দুটো সিনেমা দেখানোর চেষ্টা করবো। নিউইয়র্কের বিশাল দর্শকদের মধ্যে সিনেমাটা অত্যন্ত সাড়া ফেলেছে। তাছাড়া সামনের বছরের প্রথম দিকে দুই বাংলার নন্দিত অভিনেত্রী জয়া আহসানের নির্মিত ওসিডি সিনেমা আসবে।' 

এ প্রসঙ্গে এইচ বি রিতা প্রশ্ন রাখেন, জয়া আহসান পরিচালিত ওসিডি সিনেমাটি কি মানসিক সঙ্কটজনিত বিষয়ের উপরে কি না। তিনি বলেন, 'সিনেমার কাহিনী কিছুটা মানসিক সংকটজনিত বিষয়ের উপরে, তবে অনেকটাই থ্রিলার ভিত্তিক। ওসিডি বিষয়টি কমবেশি সব মানুষের মধ্যেই আছে, কিন্তু এই সমস্যা কখনো কারোর মধ্যে প্রকট আকার ধারন করে। ভিন্ন ধাঁচের সিনেমাটি নিয়ে আমরা খুব আশাবাদী।'

রাজ হামিদের নতুন প্রজেক্ট নিয়ে কাজ চলছে, যেটার শুটিং আমেরিকাতে হবে। এ নিয়ে ফরিদা ইয়াসমীন আরো বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'এই প্ল্যান নিয়ে কথা হয়েছে, শ‍্যুটিং হবে খোদ নিউইয়র্কে। আমাদের পরিচালক, নায়িকা ঠিক আছে, মার্চের প্রথম সপ্তাহে শ্যুটিং শুরু হবে। আশা করছি সেইসময় আমরা সবাইকে আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে জানাতে পারবো। আমি সবসময় চেয়েছি যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে যুক্তরাষ্ট্রে বাঙ্গালিদের জীবন-কাহিনী নিয়ে সিনেমা বানাবো। প্রবাসীর সংগ্রামী গল্পের পুরোপুরি প্রতিফলন পর্দায় দেখানোর চেষ্টা করবো। সেখানে একটি দৃঢ় চরিত্রের মেয়ের গল্পও থাকবে। শত প্রতিকুলতার মধ্যে একটা মানুষ তার স্বপ্নের বাস্তবায়ন করছে এটাও থাকবে, জোরালো একটা স্ক্রিপ্ট হবে।' 

বর্তমান  সময়েও সিনেমার প্রতি রাজ হামিদের কার্যক্রম এবং সাফল‍্য থেমে নেই। তার  শ্রম ও প্রচেষ্টা এ যাত্রাকে সাফল‍্যময় করে তুলেছে। কীভাবে এতকিছুতে ফোকাস করা সম্ভব এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাজ হামিদ বলেন, 'বায়োস্কোপ সংক্রান্ত কাজ আমার স্ত্রী করে থাকেন। আজ থেকে পাঁচ বছর পর বায়োস্কোপের অবস্থান কেমন হবে বা কেমন ভাবে বায়োস্কোপ দেখতে চাই, সেই প্ল্যান আমি করি। লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য আমি কাজ করি। ২০১৭ থেকে এ পর্যন্ত এই যাত্রার সফলতা আমি পুরোপুরি দর্শকদের দিতে চাই। তাছাড়া এখানে মিডিয়ার পূর্ণ সহযোগিতাও আছে।'

এ যাবত রাজ হামিদ ৪৮টির মতো সিনেমা দেখিয়েছেন। শুধু 'পরান' সিনেমার জন্য ২ লাখ ডলারের উপর টিকিট বিক্রি হয়েছিল। আগামীর ফিল্মগুলি নিয়ে রাজ হামিদ অনেক আশাবাদী, তিনি মনে করেন ডায়াস্পোরা মার্কেটের একটা সিলিং আছে। 

বর্তমানে বাংলাদেশের সিনেমা শিল্পের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে একজন নির্মাতাদের দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি বলেন, 'প্রযোজক ও নির্মাতার চাইতেও এখানে সরকারের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকা উচিত। বাংলাদেশে ক্রমশ স্ক্রীনের সংখ্যা কমছে। তাই আমরা সরকারকে একটা প্রস্তাব দিয়েছিলাম, প্রতিটা মফস্বল শহরে তিন স্ক্রিনের সিনেমা হল করার। বহু স্ক্রীনের জন্য যদি দর্শকদের বিকল্প ব্যবস্থা থাকত, বিনোদনের ব্যাপারটা সহজ হত।' 

 

চলচ্চিত্র প্রদর্শনী কালে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে রাজ হামিদ বলেন, 'দর্শকদের প্রতিক্রিয়া আমাদের কাছে মাথার মুকুটের মতো। সিনেমা প্রদর্শনীর দিনে আমি এবং আমার স্ত্রী দুজনেই দর্শকদের সাথে থাকার চেষ্টা করি। দর্শকদের আমেজ এবং অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করি। নিউইয়র্কের বাইরের শহরগুলোতে কোন সিনেমা এক সপ্তাহের বেশি চালাতে পারি না। ঐ এক সপ্তাহ কেমন যেন একটা উৎসবের মতো ধারণ করে। অনেক দূর থেকে ড্রাইভ করে বাঙালিরা সিনেমা দেখতে আসেন। সিনেমা শেষে তারা রেস্টুরেন্টে যেয়ে হৈ হল্লা করে পুরোদস্তুর একটা উৎসবে পরিণত করে। দিনশেষে এটাই আমাদের পাওয়া।' 

বাংলা সিনেমার জনপ্রিয়তা উত্তর আমেরিকায় ধীরে ধীরে বাড়ছে। এখানকার দর্শকরা বাংলা সিনেমার কোন ধরনের কনটেন্ট দেখতে বেশি পছন্দ করেন, ফরিদা ইয়াসমীনের এমন প্রশ্নে রাজ হামিদ বলেন, 'স্বভাবত কারণেই যে সিনেমায় বিনোদন বেশি সেগুলো দর্শকদের খুব আকর্ষণ করে। আবার আর্ট ফিল্মের প্রতি দর্শকদের একটা আলাদা পছন্দ আছে। তারা আর্ট ফিল্মের মধ্যে একটা মেসেজ খোঁজেন। নিউইয়র্ক উবারে বেড়ানোর সময় অনেক বাংলাদেশি উবার ড্রাইভারের সাথে আমার কথা হয়। তাদের কাছে থেকে আমি অনেক ফিডব্যাক পাই, খুব চমৎকৃত হই।'

ডাক্তারী পড়া সম্পন্ন করেও কেন ফিল্মের দিকে ঝুঁকলেন তিনি-ফরিদা ইয়াসমীনের এমন ভিন্নমুখী প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ফিল্মের প্রতি আমার ঝোঁক অনেক দিনের পুরানো, আমি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ডাক্তারী পড়েছি। মেজর করেছিলাম সার্জারিতে, ইচ্ছা ছিল নিউরো সার্জারি নিয়ে বিদেশে পড়বো। কিন্তু তাতে অনেক সময় লাগে, নানান জটিলতার কারণে পরে সেটা হয়নি। অভিনেতা গোলাম মোস্তফা সম্পর্কে আমার আত্মীয় ছিলেন, উনিই আমাকে ফিল্মের প্রতি আগ্রহ তৈরি করেছিলেন। তখন থেকেই মুভির বিশ্লেষণ করা শুরু করেছিলাম, সেই সময়েই ছবির প্রতি মমত্ববোধ শুরু হয়েছিল।' 

রাজ হামিদের উদ্যোগ বাংলা সিনেমার প্রচারে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এ কেবল বিনোদন নয়, বরং প্রবাসী বাঙালিদের জন্য একতার সেতুবন্ধন তৈরি করছে। ফরিদা ইয়াসমীনের গভীর অনুসন্ধিৎসামূলক উপস্থাপনার মাধ্যমে সেদিনের লাইভ পর্বটি শেষ হয়। প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার "টক অফ দ্য উইক" প্রতি বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক সময় রাত নয়টায় ফেসবুক লাইভে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়ে থাকে।  

ফাউন্ডেশন  থেকে আরো পড়ুন