https://www.prothomalony.com/

12967

literature

সাহিত্য

উত্তরের সাহিত‍্য

প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৫ ১২:১৭

নিরপরাধ

শঙ্খশুভ্র পাশ

কে মাসুম? আশু?  তাকে কি চিনেছি খুব কাছ থেকে?

ছোটবেলা ডাক দেয়৷ মেঘের ভেলায় ভেসে খুশি৷

ঈদের আনন্দ৷ মজা৷ আমি কেন মিথ্যে দুঃখ পুষি!

ভালোবাসি আমজাদ৷ যোগাযোগ? বলবে কে হেঁকে!

 

অগত্যা শ্রীসত্যাগ্রহ৷ কে মাসুম? কথাকার? কবি?

আমল দেয়নি বলে শরীরে কি জাগে খুব দ্বেষ!

আমিও তো মনে-প্রাণে শিরোধার্য করি বাংলাদেশ

আপন মায়ের মতো৷ ছোটবেলা তুমি জানো সবই৷

 

জায়গা অমিল৷ মিল৷ প্রিয় ঈদ৷ মায়ামাখা চাঁদ৷

কে মাসুম? আমি জানি তার কোনও নেই অপরাধ৷

 

 

 

স্মৃতির রণকৌশল

আশরাফ হাসান

স্মৃতির কাছে জানি তুমিও পরাস্ত হও

রোম পুড়ে যাওয়ার মতো জিঘাংসা 

কিম্বা আবহমান বিবমিষার পরও 

বসতে চাও কাছাকাছি l

ধূর্ত শৃগালের চোখের মতো 

দুচোখ তোমার খোঁজে ফেরে শিকারসন্ধ্যা। 

 

আমি তো তোমার পুনরাবৃত্তি মাত্র

নৈঃশব্দ্যেরা ঝরে যায় যখন আকাশ থেকে

তেড়ে আসে দুচোখে আদিগন্ত নিঃসঙ্গতা

আমিও পরাজিত হই

কোনো স্মৃতির তীক্ষ্ম রণকৌশলের কাছে। 

 

 

রূপান্তরিত শিলা 

সুমন শামসুদ্দিন

পাললিক শিলার মতোই স্তরীভূত হয়ে

আমার ভালোবাসা সূক্ষ্ম স্তরে স্তরে জমে

পুঞ্জীভূত ক্ষত জীবাশ্ম আঁকরে ধরে;

হৃদয়-মৃত্তিকা সহসা ঘনীভূত হয়-

দেহজ অতলের অপ্রকাশিত গাঢ় নদে!

 

তোমার অবয়ব ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায়

অসীম প্রণয়ের আকাশগঙ্গায় একা!

কাঞ্চনজঙ্ঘা চূড়ার জমে থাকা শাদা

ঘন শীতল হয়, বিশুদ্ধ স্ফটিকতলে!

অথচ হিমালয় নিশ্চল নির্বিকার!

 

হৃদয়ের গহীনে কেন্দ্রীভূত লাভা জ্বলে

ভালোবাসার তাপ বিগলিত প্রবাহজলে।

আগ্নেয় শিলাতে উত্তাপিত দেহপলে

গভীর প্রেমচাপ পাললিক মোহনা খোঁজে

তমসাচ্ছন্ন শেষ পরিণতির ঘোরে।

 

পরিশেষে তৃষিত প্রণয়-বেদনার ক্ষতে

ঘনিভূত পলল জমে জমে গরল সাঁঝে

পরিনত হয়ে যায় রূপান্তরিত শিলাতে!

 

 

 

থেকে যাবো এ শহরেই

অলোক আচার্য

নিয়ম ভেঙে যদি

সমুদ্র মন্থনে উঠে আসে গরলধারা

অভিশাপের আগুনে পোড়ে বাগানবিলাসের ঝোপ

লাভা স্রোতের আগুন যদি ঢেকে দেয় রাজপথ

শহরের মোড়ে জড়ো হওয়া বিষাক্ত নিঃশ্বাস

টেনে নেবো বুকে-

অযুত-সহস্র পাপ গায়ে মেখে

থেকে যাবো এ শহরেই।

প্রতিদিন প্ল্যাকার্ডের ভিড়ে তোমার ক্লান্তি সুখ

আমাকে ফিরিয়ে দেয়- বারবার

দগ্ধ বিকেলের প্রতীক্ষায় তবু ফিরে আসা এ শহরে। 

 

 

 

বৈশাখের চৈত্রাঘাত

সু শা ন্ত  হা ল দা র 

বাতাসে মৃত্যুঞ্জয়ী ডাক 

মেঘেরা মহাসমুদ্রগামী গাঙচিল আজ 

তবুও ধূসর নীলাভ বর্ণে

যে প্রজাপতি ঢেকে রেখেছে তামসপূর্ণ  রাত 

তবে কি নিদারুণ খেয়ালেই বিদ্রোহী হবে না 

ঝড়ো বাতাসে বৈশাখের চৈত্রাঘাত?  

 

 

ফাল্গুনের রাত

নিশিজাগা ভোর যেন রক্তিম পলাশ 

মাটিভেদী বৃক্ষ জানে না আজ 

জননী তার রেখে গেছে রক্তচন্দন অশোককানন সমাজ 

তবে কি ভাঙনের শব্দে 

জেগে উঠবে না দেবীতুল্য আছিয়ার মতো-

আত্মজা আজ? 

 

 

 

আমার মৃত্যুর পরে

আহম্মদ হোসেন বাবু

আমার মৃত্যুর পরেও বাড়িটা থাকবে 

লেবু গাছে লেবু থাকবে, লিচু গাছে লিচু 

কে আমাকে বলো কতক্ষণ মনে রাখবে? 

 

মৃত্যুর পরেও সমুদ্রে জোয়ার জাগবে 

যুদ্ধে বিপন্ন নিসর্গ করবে মাথা নিচু! 

আমার মৃত্যুর পরেও বাড়িটা থাকবে। 

 

কবি-সাহিত্যিক লিখবে, শিল্পী ছবি আঁকবে 

ডিম রেখে উড়বে কোকিল কাকের পিছু 

কে আমাকে বলো কতক্ষণ মনে রাখবে? 

 

মানুষের বিপদে মানুষ দৌড়ে ভাগবে! 

অন্তরে অন্তর মিশে থাকবে অল্প কিছু 

আমার মৃত্যুর পরেও বাড়িটা থাকবে। 

 

উৎকট মিউজিকে ওরা ডিস্কো নাচ নাচবে 

ধ্বংসের ভেতরে জ্বলবে, ভালোত্বে অনিচ্ছু!

কে আমাকে বলো কতক্ষণ মনে রাখবে?

 

কোরআন বাইবেল কাঁদবে, ধর্ষণটাও ঝাঁকবে 

সমকামিতায় ভাসবে মানুষরূপী বিচ্ছু!

আমার মৃত্যুর পরেও বাড়িটা থাকবে

কে আমাকে বলো কতক্ষণ মনে রাখবে? 

 

 

গীতি কবিতা-পঁচিশে ফেব্রুয়ারি

ইকবাল কবীর রনজু

ফিরে আসে বার বারই পঁচিশে ফেব্রুয়ারি

সেদিন সকালে ঢাকার বাতাসে কান্নার আহাজারী

মুহুর্মুহ গুলির শব্দ গগন বিদারী ।

 

ঝরে গেল নিমিষে তরতাজা কত প্রাণ

নিভে গেল কত প্রাণের স্পন্দন কোলাহল আরগান

অশ্রু জলে দেশের মাটি হইল যে বড় ভারী। 

 

হত্যাযজ্ঞে মাতলো ঘাতক ঢাকার পিলখানায়

কতজন হলো শহীদ আবার কতজন অসহায়

ভুলিনি তাদের ভুলবো না আর ভুলতে কি পারি! 

 

 

 

 

নরম স্পর্শ

গোলাম সরোয়ার 

স্পর্শের গভীরতা ক্রমশঃ

সমুদ্রের গভীরতার চেয়েও বেশি। 

 

সমুদ্রের গভীরতা মাপা যায় 

কিন্তু স্পর্শের গভীরতা অন্তহীন 

কেবলই অনুভূতি। 

 

কখনো যেন স্পর্শতা কী এক 

প্রখর রোদের মতন, 

প্রবল ঝড়ের মতন, 

ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা। 

 

তবে অনন্ত পথের যাত্রায় কেবল 

স্পর্শতা হারিয়ে যায় 

পেছনে ফেলে যেন সব। 

অথচ বোবা রসালাপে মানুষেরা 

ছুটে চলে স্পর্শের অন্তরে 

স্পর্শের গভীরতা ভেদে। 

 

 

 

লেখক-সম্পাদক সম্পর্ক

স্বপন বিশ্বাস

এখন ঈদ সংখ্যার মওসুম চলছে। ফেসবুক জুড়ে থৈ থৈ ঈদ সংখ্যার বিজ্ঞাপণ। পত্রিকা বিজ্ঞাপন দিচ্ছে তাদের ঈদ সংখ্যায় কোন কোন বিখ্যাত লেখকের গল্প উপন্যাস কবিতা যাচ্ছে। যাদের লেখা যাচ্ছে তারা আবার আলাদা ভাবে ফেসবুকে এসে জানান দিচ্ছেন। এইসব বিজ্ঞাপনের পাঠক মূলত যারা লেখালেখি করেন তারা। লেখকরা কে কেমন জাতে উঠলেন সেটা পত্রিকার নামের সাথে মিলিয়ে দেখেন। গত কয়েক বছর লক্ষ্য করছি এই মিলিয়ে দেখার কাজটাও সহজ হয়ে উঠেছে। কয়েকজন পাঠক-কাম-লেখক রীতিমত ঈদ সংখ্যার সূচিপত্র গবেষণা করে ফেসবুকে পোস্ট দেন। তাতে জাতে ওঠা লেখকদের নামগুলো সহজে জেনে নেয়া যায়। এই লিস্টে মানে জাতে ওঠা লিস্টে যুক্ত হওয়ার জন্য ফেসবুকে আরও দুরকমের পোস্ট দেখা যায়। এক জাতের লেখক পোস্ট দেন ঈদ সংখ্যায় লিখিনা বলে কি আমি লেখক নই? আরেক জাতের পোস্ট থাকে সম্পাদক লেখা চেয়েছিলেন কিন্তু আমি দেইনি কিংবা দিতে পারিনি। মানে আমিও তাদের দলে যারা ঈদ সংখ্যায় লেখে। যদিও এইসব পত্রিকার ক্রেতা সংখ্যা নগন্য। পাঠকের সংখ্যা আরও কম।

 

পত্রিকাগুলোর ভেতরেও প্রতিযোগিতা চলে কে কতজন নামি লেখকদের লেখা দিয়ে ঈদ সংখ্যা প্রকাশ করতে পেরেছে। পত্রিকারও জাতে ওঠার ব্যাপার আছে। সেটা লেখকের জাত বিচারের থেকে অধিক মূল্যবান। কারণ ওই জাত দেখিয়ে বাজার থেকে বিজ্ঞাপন সংগ্রহ করতে হয়। ফলে ঈদ সংখ্যার সম্পাদক ভালো মানের লেখা পেলেই ছেপে দিতে পারেন না। তাকে ডানে বামে উপর নিচে অনেক যোগ-বিয়োগ গুণ-ভাগ করতে হয়। এইসব পাটিগণিত বীজগণিত রাজনীতি অর্থনীতি হিসাব করে তাকে লেখা সংগ্রহ করতে হয়। কাজটি সহজ নয়। সাধারণ লেখকদের যেমন সাধরণ অভিযোগ সাহিত্যপাতার সম্পাদক তাদের লেখা ছাপেন না। সম্পাদক সিন্ডিকেট মেইন্টেন করেন। পরিচিত লেখক ছাড়া অপরিচিত লেখকের লেখা পড়েও দেখেন না। কিছু মধুগন্ধি আদান-প্রদানের গল্পও বাজারে চালু আছে। অন্যদিকে পরিচিত লেখকদের আছে ভাব। ভাব না থাকলে সে কোনো জাতের লেখকই না। ভাব থাকার যুক্তিসংগত কারণও আছে। ব্যতিক্রম ছাড়া শুধু লিখে যেহেতু কারও সংসার চলে না তাই লেখককেও কামলা দিতে হয়, বাজার গিয়ে আলু-পটল কিনতে হয়, মাছের বাজারে দরদাম করতে হয়। ঘরে ফিরে দাম্পত্য কলহে লিপ্ত হতে হয়। তারমধ্যে সময় বের করে যতটুকু লিখতে পারেন তা দিয়ে বেশি সংখ্যক সম্পাদকের মন রক্ষা করা সম্ভব হয় না। মাঝেমধ্যে ফেসবুকে এইসব ঈদসংখ্যার সম্পাদকদের পোস্ট চোখে পড়ে। সেখানে তারা ঝেড়ে কাশতে পারেন না। তবে তাদের খুশখুশে কাশি দেখেও কষ্টের মাত্রা কিছুটা বুঝতে পারি। হয়তো পুরনো হলে এইসব কাশি একসময় সাহিত্য হিসাবে প্রকাশ পাবে। বিখ্যাত লেখকদের কাছ থেকে সম্পাদকদের লেখা সংগ্রহের এমন অনেক মজার মজার গল্প আছে।

 

দেশ পত্রিকার বিখ্যাত সম্পাদক সাগরময় ঘোষ তো তার সম্পাদক জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে 'সম্পাদকের বৈঠকে' নামে আস্ত একটি বই লিখে গিয়েছেন। সেখানে একটি লেখা আছে প্রেমেন্দ্র মিত্রের কাছ থেকে লেখা সংগ্রহ প্রসঙ্গে। প্রেমেন্দ্র মিত্র লিখতেন কম, তাই সম্পাদকের বাজারে তার লেখার চাহিদা ছিল বেশি। পূজার মাস-দুই আগে থেকেই প্রতিদিন তার বাড়িতে সম্পাদকদের ভিড় জমতো। সবাই প্রেমেন্দ্র মিত্রের একটা লেখা চায়। লেখক কাউকেই নিরাশ করতেন না। সবাইকেই আশা দিতেন এবং শেষ পর্যন্ত লেখা না দেয়ার এমন একটা কারণ বলতেন যার পরে আর অনুরোধ করার কিছু থাকে না। এমন অনুরোধ করে সাগরময় ঘোষকে একবার 'প্রচণ্ড ধমক' খেতে হয়েছিল। তখন পাশের বাড়ির সঙ্গে লেখকের জানলা নিয়ে মামলা চলছে। তার বাড়ির জানালার সামনে পাশের বাড়ি দেয়াল তুলেছে। আদালতে প্রমাণ দিতে হবে জানলা আগে না দেয়াল আগে। সাগরময় ঘোষ লেখা চাইতে যাওয়া মাত্রই লেখক তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কত বছর ধরে আমার বাড়িতে লেখা চাইতে আসছ? 

সাগরময় বললেন, তা অন্তত বারো বছর ধরে পূজা সংখ্যায় লেখা নেয়ার জন্য আপনার বাড়ি আসা-যাওয়া করছি। প্রেমেন মিত্র বললেন, ভেরি গুড। তাহলে তুমি পুবদিকের জানলাটা নিশ্চয় লক্ষ্য করেছ? তোমাকে কিন্তু মামলায় সাক্ষি দিতে হবে। 

সাগরময় ঘোষ সাক্ষি দিতে রাজী হয়ে গেলেন। ভাবলেন পূজা সংখ্যার লেখা পেতে এবার আর বেগ পেতে হবে না। তাই উৎসাহের সঙ্গে লেখককে যেই-না লেখার কথা বলা আর যাবে কোথায়। চোখ পাকিয়ে প্রচণ্ড ধমক দিয়ে বললেন–

 

লজ্জা করে না লেখা চাইতে? দেখছ মামলা-মোকদ্দমায় ডুবে আছি। উকিলবাড়ি আর আদালত-ঘর ছুটোছুটি করে মরছি, তার ওপর আবার লেখা?

 

বাংলা-সাহিত্যের আরেক দিকপাল তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে শারদীয়া সংখ্যার লেখা সংগ্রহ করতে যাওয়ার গল্পটি আরও মজার। দেশ পত্রিকা থেকে লেখা চেয়ে লেখককে চিঠি দিয়েছিলেন। লেখক উত্তরে লিখেছিলেন-

 

পরমকল্যাণবরেষু, 

সাগরময়, শারদীয়া সংখ্যায় লেখা দেবার জন্য তোমার আমন্ত্রণলিপি পেলাম। তোমাদের সঙ্গে দীর্ঘকাল দেখাসাক্ষাৎ নাই। আগামী বুধবার নয়টার মধ্যে যদি আমার বাড়ি আসতে পার তাহলে সাক্ষাতে কথা হবে। আমার এখান থেকেই তুমি অফিসে চলে যেয়ো। তোমার সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ কামনা করি। ইতি–

 

চিঠি পেয়ে সম্পাদক মহাখুশি। ভাবলেন, লেখাতো পাওয়া যাবেই সাথে নিশ্চয় আপ্যায়নেরও ব্যবস্থা থাকবে। যথাসময়ে লেখকের বাড়িতে হাজির হলেন সম্পাদক। লেখক তাকে চেয়ারে বসিয়েই ভিতরের ঘরের দরজার কাছে গিয়ে চেঁচিয়ে বললেন, সনৎ, শীগগির প্লেট নিয়ে আয়, সাগর এসেছে। 

 

আপনি ব্যস্ত হচ্ছেন কেন। আসুন গল্পগুজব করি। ওটা পরেই হবে। আমার তো তেমন কিছু তাড়া নেই।

আরও ব্যস্ত হয়ে উনি বলে উঠলেন– না না, সে কি করে হয়। যে-জন্যে তোমাকে ডেকে পাঠালাম আগে সেটা সেরে নাও, পরে গল্প করা যাবে।

 

লেখকের বড়ছেলে সনৎ হন্তদন্ত হয়ে ঘরে এসে উপস্থিত, হাতে বৃহদাকারের একটা কালো খাম। খাম দেখে সম্পাদক তো খুব খুশি। ভাবলেন, পাণ্ডুলিপিটা তাহলে আজই হাতে পাচ্ছি। লেখক তার ছেলের হাত থেকে খামটা নিয়েই চলে গেলেন পুবদিকের খোলা জানলাটার কাছে। সম্পাদককেও ডাকলেন সেখানে এবং খামের ভেতর হাত ঢুকিয়ে টেনে বার করলেন একটা এক্স-রে প্লেট। তারপর প্লেটটা সূর্যের আলোর বিপরিতে মেলে ধরে তার শারীরিক অবস্থার বর্ণনা দিলেন। বললেন, জটিল অসুখ, চিকিৎসাও চলছে, ডাক্তারের কথাতেই দিন-সাতেকের মধ্যে চেঞ্জে যাচ্ছি দাজিলিং-এ। এই অবস্থায় পূজা সংখ্যায় এবার তো লিখতে পারব না ভাই। এমনি বললে তো আর বিশ্বাস করতে না, ভাবতে, আমি ফাঁকি দিচ্ছি। তাই ডেকে পাঠিয়েছিলাম।

 

লেখক-সম্পাদকের এমন বিশ্বাস-অবিশ্বাস, অভিযোগ-অনুযোগের অম্লমধুর সম্পর্কের ভেতর দিয়ে লেখকের লেখা চলে। সম্পাদকের দপ্তরে লেখা জমা হয়। সেই লেখা নিয়ে প্রকাশিত হয় পত্রিকার নিয়মিত ও বিশেষ সংখ্যা। এগিয়ে চলে আমাদের শিল্প সাহিত্য। যার আড়ালে চলে বিজ্ঞাপন আর রাজনীতির বড় ব্যবসা।

সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন