https://www.prothomalony.com/
12913
literature
জনপদের বাতাসে এখনো গা শিরশির ঠান্ডা বয়ে চলেছে। পাতা মোড়ানো কালো গাছগুলো দাঁড়িয়ে আছে অধীর আগ্রহে বসন্তের জন্য। এর ভিতরেই চলছে আমাদের জীবনযাপন। চলছে আমাদের রাজনীতি, সমাজনীতি। চলছে আমাদের যাপিত জীবনের হাসি কান্নার, আশা নিরাশার গল্প। প্রকৃতি যতই বৈরী হোক মানুষের জীবন তার আপন তালে চলেই যায়। কখনো প্রকৃতির নিয়মে কেউ চলে যায়, তারপরও জীবন থামেনা ।কারণ প্রকৃতি শূন্যতা পছন্দ করেনা। এই শূন্যস্থানের ভিতরে রয়ে গেছে কত না বলা কথা, কত হৃদয় ভাঙ্গা কথা। সেসব নিয়েই আমাদের আজকের জনপদ।
ধন্যবাদান্তে-ফরিদা ইয়াসমীন, সোহানা নাজনীন।
সে চলে গেল, বলে গেলনা
এক তরুণীর কাফনে জড়ানো লাশ কবরে নামানো হচ্ছে। কবরস্থানের নিয়ম অনুযায়ী শুধু পুরুষ লোকেরাই কবরে লাশ নামাচ্ছেন। অনতি দুরে মহিলারা দাঁড়িয়ে আছেন। লাশ কবরে নামানোর মুহূর্তে এক মহিলা চিৎকার দিয়ে উঠলো, 'মামনি ভয় পেয়ো না! একদম ভয় পাবে না। তোমার মা আছে, মা তোমার জন্য দোয়া করছে। ভয় পেয়ো না মামনি।'
কবরে লাশ নামানোর মুহূর্তে সবার যেন হাত কেঁপে উঠলো। দোয়া-দরুদ পাঠরত মুসল্লি এবং অন্যান্য পুরুষ লোকের কণ্ঠ যেন মুহূর্তে দ্বিধান্বিত হল। মহিলা আবারো চিৎকার করে উঠলো 'হে আল্লাহ আমার মেয়েকে তুমি কষ্ট দিও না, যত কষ্ট আমাকে দাও! হে আল্লাহ তুমি ওকে ঠান্ডা দিও না! আমার মেয়ে ঠান্ডা সহ্য করতে পারে না।'
সবাই আল্লাহর নাম নিতে নিতে ধীরে ধীরে কফিনটি কবরে নামিয়ে দিল। অশ্রু সজল চোখে সবাই কবরে মাটি দিতে থাকলো। একটি মেয়ের জীবন মুহূর্তেই মাটিতে ঢাকা পড়ল আর তার জীবনের আর একটি অধ্যায় শুরু হয়ে গেল। যে জীবনের নাম পরপারের জীবন। যে জীবন অনন্ত লোকের জীবন।
সুধী পাঠকবৃন্দ! আসুন, একটু পিছনে ফিরে যাই। জেনে নেই গগনবিদারী চিৎকার করা মহিলাটি কে, কি ই বা ঘটেছিল!
সুতপা তার নাম। ভালোবেসে বিয়ে করেছিল আমেরিকা প্রবাসী এক বাঙালিকে। দেখতে বেশ সুদর্শন। খুব সহজে সুতাপা সেই প্রবাসী সুদর্শন এর প্রেমে পরে যায়। সুতপা সবেমাত্র বিএ পাস করেছে। অল্প বয়স, চোখে রঙিন স্বপ্ন। ভালোবাসার মানুষকে কাছে পেতে উতলা হয়ে ওঠে। একসময় ওদের চার হাত এক করে দেন বাবা-মা আত্মীয়-স্বজন সবাই মিলে। তারপর কোন এক শুভক্ষণে সুতপা চলে আসে আমেরিকায় স্বামীর হাত ধরে।
সবার মতো ওদের জীবনে প্রথম দিনগুলো খুব রঙিন ছিল। বসন্ত বাতাসে ফুরফুর করে উড়ে যেত ওরা। বসন্তের পরে যেমন গ্রীস্ম আসে দারুণ প্রখর রোদে, তেমনি ওদের জীবনেও বসন্তের পরে কঠিন এক খরতাপের জীবন আসে। কিছুতেই যেন মেঘগুলো বৃষ্টি হয়ে ঝরতো না। গাছের পাতারা বাতাসের ঠান্ডা পরস বুলিয়ে যেত না। জীবন যেন কঠিন থেকে কঠিনতর হতে থাকে।
এই খরতাপে পোড়া জীবনেও ওদের কোল জুড়ে আসে এক কন্যা সন্তান। কন্যার ফুলের মত নিষ্পাপ মুখের দিকে তাকিয়ে সুতপা আশায় বুক বাঁধে। ভাবে সব খরতাপ কেটে যাবে ।ওদের জীবনে শান্তির পরশ নেমে আসবে, শীতল বৃষ্টি শান্তির পরশ বুলিয়ে দেবে। মেয়ের নাম রাখে প্রেমা। ওদের জীবনের হারানো প্রেম যেন আবার ফিরে আসে সেই আশায় এই নাম রাখা।
কিছুদিন বেশ ভালোই কেটে যায়। কন্যার মুখের দিকে তাকিয়ে দুজনেই ভুলে যায় আগের দিনের বিবাদ। প্রেমা বড় হতে থাকে। ফুটতে থাকে তার মুখে আধো আধো বোল।হামাগুড়ি থেকে ছোট ছোট পায়ে হাঁটা, বাবা-মাকে ডাকা সবই যেন মধুর হয়ে ওঠে। কিন্তু তারপরেও কোথায় যেন একটি তার বেসুরো বাজতে থাকে। বেসুরো তারটি ক্রমেই বড় হতে থাকে। একদিন এতই বড় হয়ে যায় যে সন্তানের মায়াও তাদেরকে একসাথে করতে পারেনা। ভেঙে যায় ওদের সংসার। সুতপা বুঝতে পারে পৃথিবীটা কত কঠিন। ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে শুরু হয় তার একলা চলা পথ। সে পথ বড় দীর্ঘ মনে হয়। প্রেমা বড় হতে থাকে আর বুঝতে পারে একজন বাবার অনুপস্থিতি কত কষ্টের। মাঝেমাঝে যায় বাবার সাথে দেখা করতে। কিন্তু ওর ছোট্ট মন বুঝতে পারে, ওর প্রতি বাবার টান অনেক কম। মন খারাপ করে মায়ের কাছে চলে আসে। বলে, 'মা ,বাবা তো আমাকে চায় না।' কথাগুলো সুতপার বুকে তিরের ফলার মত বেঁধে।
অনেক ত্যাগ তিতিক্ষার পথ পার হয়ে, সুতপা মেয়েকে বড় করে। প্রেমার মনে কত না বলা কথা, কত কষ্টের গভীর ক্ষত। প্রেমার সব কষ্টের কথা, সব না পাওয়ার কথা সে তার গায়ে ফুটিয়ে তোলে- গা জুড়ে ট্যাটু আঁকে। এক একটা ট্যাটু যেন তার এক একটা কষ্ট। শরীরে আঁকা ট্যাটুই যেন তার প্রেম ,তার জীবন কাহিনী। মাকে বলে, সে বিয়ে করবে না। মায়ের জীবনে সুখ হয়নি বিয়ে করে। তাই সেও সিদ্ধান্ত নেয় বিয়ে না করার। কিন্তু তবুও এক সময় তার জীবনে প্রেম আসে। তারপর ভালোবেসে বিয়ে করে পার্কার নামের এক শ্বেতাঙ্গ যুবককে। বিয়ের পর প্রেমার জীবন একদম পাল্টে যায়। স্বামীর ভালোবাসায় তার জীবন বর্ণিল হয়ে ওঠে; সুখে সংসার করতে থাকে দুজনে। সাজানো গোছানো প্রেমার সংসার দেখে তার মা সুখে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করে। স্বামী শ্বশুরবাড়ি সবকিছু নিয়ে প্রেমার সুখের অন্ত নাই।
কিন্তু বিধাতা বুঝি হাসেন অলক্ষ্যে।
এই সুখের সংসারে হঠাৎ করে কালবোশেখীর ঝড় নেমে আসে।একদিন বান্ধবীদের সাথে বেড়াতে যায় প্রেমা ।হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পরে। কাউকে কিছু বুঝতে দেয়ার আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। ডাক্তার জানায় কার্ডিয়াক এ্যারেস্ট।
মাউন্টস সাইনাই গ্রেভইয়ার্ডে প্রেমার ৩৪ বছরের জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে; যেখানে প্রেমা শুধু একটা সাইনবোর্ড। আর সেই সাইনবের্ডের গা ভেসে যায় সুতপা'র অশ্রুজলে; প্রতিমুহূর্তে। এই আমাদের প্রবাসজীবন.....!
তুষারময় সকাল
ফেব্রুয়ারি মাস, শহরজুড়ে শীতের জাঁকজমক উপস্থিতি। স্নো পড়ে চারিদিক ঢেকে যায়, কিন্তু তাই বলে মানুষের কাজকর্ম অফিস আদালত থেমে থাকে না। উত্তর আমেরিকার এই একটা ব্যাপার সুমিকে খুব দোলা দেয়। জীবনের এতোটা বছর ধরে তুষারপাত দেখছে তারপরেও পুরনো হয় না। এমন এক তুষারপাতের পর সকালে দরজা খুলে সুমি দেখে অন্তত তিন ফিট স্নো পড়ে আছে। ড্রাইভওয়ের চারিদিকে আলো করে আছে সাদা বরফ। কফির মগ নিয়ে দাঁড়াতেই সুমি শুনতে পায় ডোরবেলের আওয়াজ। দরজা খুলতেই একঝাক কনকনে বাতাস ঠেলে ঘরে ঢুকল। দরজার সামনে একটা ছেলে দাঁড়িয়ে, বয়স তেমন বেশি না, কেবল আঠারোতে পড়েছে হয়তোবা। চেহারাটা তেমন বোঝা যাচ্ছে না, সবকিছুই গরম কাপড়ে প্যাঁচানো। তার মধ্যেই দেখা গেল মুখটা, সাদা চামড়ার গালের উপরে অনেকগুলো বাদামি ফুটকী। হাতের বড় বেলচা দেখিয়ে বলল, 'তোমার বরফ পরিষ্কার করা লাগবে?'
ছেলেটাকে বরফ পরিষ্কারের নির্দেশ দিয়ে সুমি জানালার কাচ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে দেখছে। ছেলেটা বেশ পটু হাতেই বেলচা চালাচ্ছে, তারমানে এই কাজে সে নতুন না। তীব্র ঠাণ্ডায় বাইরে দশ মিনিটের বেশি দাঁড়ানো সম্ভব না, অথচ ছেলেটা প্রায় আধাঘন্টা হল বরফ সরাচ্ছে। মায়াই লাগলো সুমির। ছেলেটার নাম জানা হয়নি, ভাবছে কাজ শেষ হলে জিজ্ঞাসা করে নেবে।
বেশ কিছুক্ষণ পর ছেলেটা দরজার গোড়ে এসে হাতমোজা খুলতে খুলতে বলল, 'আমার পাওনা দিয়ে দাও। আমি আর দাঁড়াতে পারবো না। আর যদি তুমি চাও সামনের দিনগুলোতে তোমার ড্রাইভওয়ে আর সামনেটা পরিষ্কার করা লাগবে তাহলে জানালা দিয়ে আমাকে ডাক দিও।'
'নাম কি তোমার?'
'আদ্রিয়ান।'
'তোমার ফোন নাম্বার নেই?'
'নাহ, আমার ফোন নেই। চিন্তা কর না, বরফ পড়া শেষ হলে আমি রাস্তা দিয়ে হেঁটে বেড়াই। যার দরকার পড়ে সে ডেকে নেয়', আদ্রিয়ান ঘাড় নেড়ে উত্তর দেয়।
'তুমি কি একটু ভিতরে আসবে আদ্রিয়ান? তোমাকে কফি খাওয়াতে চাচ্ছিলাম।'
আদ্রিয়ান ভিতরে এসে দাঁড়ালো। সদ্য কৈশোর পেরুনো ছেলে আদ্রিয়ান, এখনো ঠোঁটের উপরে গোঁফের পুরো ভাজ আসেনি। নাকের ডগা আর গালদুটো ঠাণ্ডায় লাল আপেলের মতো টুকটুকে হয়ে আছে। আদ্রিয়ান বার করেক বসার ঘরের চারিদিকে চোখ বুলালো। চোখ কুঁচকে বলে উঠলো, 'তোমারা কি বাঙালি? ঘরের সাজসজ্জা দেখে আমার কাছে কেন যেন মনে হচ্ছে তোমরা বাঙালি।'
সুমি বেশ অবাক হল, এতটুকু ছেলে কিভাবে বুঝতে পারলো? কোনার মোড়ায় বসে কফি খেতে খেতে আদ্রিয়ান অনেক গল্প করলো।
তার বাবা মা এসেছিল মেক্সিকো থেকে, আদ্রিয়ান ছাড়া তাদের আর কোন সন্তান ছিলো না। পায়ে হেঁটে বর্ডার পার হয়ে, কতশত বনজঙ্গল ডিঙ্গিয়ে এদেশে ঢুকেছিল। তাদের ছিল না কোন স্ট্যাটাস, ওয়ার্ক পারমিট, হেলথ ইন্স্যুরেন্স। আদ্রিয়ানের বাবা সারাদিন হোম ডিপোর সামনে দাঁড়িয়ে দু'একটা কাজ পেত। তার মা একটা ঝুড়িতে আম ফালি করে কেটে কিছু ঠান্ডা পানির বোতল নিয়ে বড় রাস্তার সিগন্যালের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতো। গরমের দিনে কিছু মানুষ গাড়ি থামিয়ে সেই লাল মরিচের গুড়ো, লবন আর লেবুর রস মাখা আম কিনে নিত। আদ্রিয়ান তখন ছোট, স্কুলে যাবার ও বয়স হয়নি। মায়ের সাথে সেও রাস্তার মোড়ে দাঁড়াতো, সাথে থাকতো শতছিন্ন একটা বাদামি ভালুকের পুতুল। ফুটপাথের পাশে গাছের ছায়ায় আদ্রিয়ান খেলতো তার ভালুক বন্ধুর সাথে আর অবাক চোখ মেলে দেখতো এক নতুন শহরের চকচকে রাস্তায় তার মায়ের বেঁচে থাকার লড়াই। সিগন্যালে কোন গাড়ি থামলেই তার মা হাতে দুটো ঠান্ডা পানির বোতল নিয়ে চপল পায়ে এগিয়ে যেত। রাস্তায় দাঁড়িয়েই চলতো বিকিকিনি, কেউ কখনো ওদেরকে দেখে দয়া করে দুটো ডলার বেশি দিত। এভাবেই তারা একটা বেসমেন্টের স্যাঁতসেঁতে ঘরে অন্য একটা পরিবারের সাথে শেয়ার করে থাকতো।
একসময় আদ্রিয়ানের স্কুলে যাবার সময় হল। ততোদিনে তার মা-বাবা একটা কারখানায় ক্লিনার হিসাবে কাজ শুরু করেছে। কাজের পারমিট না থাকার কারণে ন্যায্য পরিমাণের চাইতে কম ডলার পারিশ্রমিক পেত। বাবা-মা স্কুলের পর আদ্রিয়ানকে এক বাঙালি বেবি সিটারের বাসায় রেখে যেত। সন্ধ্যার বেশ পরে তারা সীমাহীন খাটুনির পর ক্লান্ত শরীরে অ্যাড্রিয়ানকে তুলতে যেত। টেনেটুনে একরকম চলছিল, কিন্তু আদ্রিয়ানের মা আর বেশিদিন সুস্থ থাকতে পারলো না। কারখানার ধুলাবালিতে আর কেমিক্যালের ধোঁয়ায় মায়ের শরীরে রোগ বাসা বাঁধে। মেডিক্যাল ইন্স্যুরেন্স না থাকায় কোন চিকিৎসা পায়নি, ডাক্তারের ফিস দেবার মতো ক্ষমতা ছিল না তাদের। বিনা চিকিৎসাতেই আদ্রিয়ানের মা এই পৃথিবী ছাড়ে।
এটুকু বলেই আদ্রিয়ান কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলো। সুমীকে অবাক করে দিয়ে বলে উঠলো, 'জানো, তোমাদের বিফকারি আর পাতলা হলুদ ভাত আমার খুব প্রিয়।'
ভীষণ অবাক হয়ে সুমি জিজ্ঞাসা করলো, 'হলুদ ভাত মানে তো খিচুড়ি। তুমি এই খাবার কোত্থেকে খেলে?'
'খুব ছোটবেলায় তো মা মারা গিয়েছিল। তাই মায়ের রান্না কেমন তা মনে নেই। আর বেশিরভাগ সময় ওই বাঙালি পরিবারেই থাকতাম। ওখানেই হাত দিয়ে ভাত খাওয়া শিখেছিলাম। ওরা খুব বিফকারি আর হলুদ ভাত রান্না করতো। একসময় ভীষণ ভালো লেগে যায় ওদের খাবারগুলো।'
'আচ্ছা তোমার বাবা'র কথা তো বললে না। তার কি কোন খোঁজ নেই?'
আদ্রিয়ানের বাবা যে কারখানায় কাজ করতো সেখানে একদিন ক্রাইম হয়। তাদের বৈধতার পেপার্স না থাকায় আজও তার বাবা জেলে দিন কাটাচ্ছে। মা মারা গেল, বাবা জেলে, তাই আদ্রিয়ানের ঠাঁই হয়েছিল ফস্টার হোমে। কিন্তু সেই ফস্টার বাবা-মা'য়েরও কোন সন্তান ছিল না। তারা আদ্রিয়ানকে নিজের সন্তানের মতোই আদরযত্ন দিয়ে বড় করেছে। আদ্রিয়ান এই বছর থেকে কলেজে পড়া শুরু করবে। ক্লাশ শুরু হতে এখনো ছয়মাস বাকি আছে। এদিক ওদিক কাজ করে সে নিজের হাত খরচ নিজেই জোগাড় করে। ফস্টার বাবা-মা'র বয়স বেড়েছে, তাদেরকেও দেখা শোনা করতে হয়। গ্রোসারি করে দেয়া ডাক্তারের কাছে নেয়া, সবই এখন আদ্রিয়ান করে।
'জেলখানায় তোমার বাবা কে দেখতে যাও না?'
'যাই মাঝেমাঝে, কিন্তু বাবাকে দেখে কষ্ট লাগে। টাকার অভাবে ভালো লইয়ার নিতে পারেনি দেখে মামলার কোন সুরাহা হয়নি', আদ্রিয়ান মাথা নিচু করে উত্তর দেয়।
আবারো নীরব থাকে আদ্রিয়ান। ঝট করে মাথা তুলে প্রচন্ড আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলে, 'দেখে নিও, আমি কলেজ শেষ করে একদিন ভাল স্যালারির চাকরি করবো। সেদিন লইয়ার দিয়ে ঠিক ঠিক বাবাকে জেল থেকে বের করে নিয়ে আসবো।'
আদ্রিয়ান উঠে দাঁড়ালো, দেয়ালে ঝোলানো একটা ফ্যামিলি ছবির দিকে তাকিয়ে বললো, 'তোমার ফ্যামিলি তাই না? ছোট বাচ্চাগুলা কি তোমার গ্র্যান্ডচাইল্ড? ওরা খুব সুন্দর আর তুমিও অনেক সুখী। তোমাকে আমার অনেক ভালো লেগেছে, ভবিষ্যতে স্নো পরিষ্কার করতে চাইলে আমাকে ডাকতে পার। আজ অনেক কামাই করেছি, এখন বাড়ি ফিরে যাব। এই ডলার দিয়েই আমার পুরোমাস চলে যাবে আশা করছি।'
সুমি তাকে দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিতে দিতে বললো, 'তুমিও খুব ভালো ছেলে। কথা দিচ্ছি, সামনের দিন তোমাকে বিফকারি আর পাতলা হলুদ ভাত খাওয়াব।'
হাতের গ্ল্যাভসটা পুনরায় হাতে পরতে পরতে আদ্রিয়ান হাসিমুখে স্নো বুটের মধ্যে পা ঢুকালো। ওর বের হবার পথে তাকিয়ে রইলো সুমি। একটা পরিবারহারা ছেলে কিভাবে ঠাঁই করে নিয়েছে অন্যের জীবনের সাথে। এই উত্তর আমেরিকার পথে পথে দিন-রাত কাটিয়ে এক অদৃশ্য কষ্ট আর আশা বুকের মাঝে ধারণ করে আছে।
সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন