https://www.prothomalony.com/

12217

literature

সাহিত্য

কবিতার এক পাতা—-জানুয়ারী সংখ‍্যা

———————————————————-

প্রকাশ: ২০ জানুয়ারী ২০২৫ ২৩:৫৬

সন্দেহের দশানন যেন চোখে চোখে গাঁথা। ঘোলা জল কবে স্বচ্ছ টল টল হবে কারো জানা নেই। কানে কানে প্রতিনিয়ত জন্ম দিচ্ছে গুজব আর গুঞ্জনের। ভীতি প্রদর্শন ও সংঘাত সংঘর্ষ, সন্ত্রাস সংস্কৃতি সরকার ও রাজনীতিতে। প্রায় নতজানু সংবাদ ও সাংবাদিকতা। ধুঁকে চলছে কবিতা, সাহিত‍্য ও নাট‍্য চর্চা, সংগীত ও চলচ্চিত্র। আসলে চলছে তো সব? নাকি সলতেতে আর জোর নেই, নিভে আসছে সব!

কবিতার এক পাতা থেমে নেই। উদ‍্যম, কর্তব‍্য নিষ্ঠা আর ভালোবাসা বুকে ভরে চলছে তার আরাধ‍্য পথে। আপনাদের জন‍্যে এক বুক ভালোবাসা। বিনীত আমন্ত্রণ জানুয়ারী সংখ‍্যার নতুন কবিতাসমূহ পাঠে।

ফারুক ফয়সল


 

 

নিবিড় সংযোগ

কাজী আতীক

বিকল্প উপলব্ধ খোঁজ- ছিলো না কিছুই,

অন্ধকার সয়ে আসা চোখে যেটুকু কেবল

দেখতে পাওয়া যায়, পর্যাপ্ত নয়,

কিছু তাই অনুমানে, কিছু মগ্ন অনুভবে

খুঁজি পথের অন্ত্যমিলহীন এক অন্তস্থ বিস্ময়!

 

আসলে সহজ নয় কোনো খোঁজ,

যখোন বাতিহীন বাতিঘর, আলোহীন পথ,

এভাবে কতদূর এগুনো যায় বলো

সে খোঁজ তাই এখনো অবিরাম অব্যাহত,

 

কোনো প্রথাগত ছন্দ কিংবা

অন্ত্যমিল না থাকা কবিতা যেমন,

যেমন চলা পথ, নদীস্রোত, বহতা বাতাস

কিংবা আকাশের মেঘ অথবা সাগরের ঢেউ

সর্বোপরি অনিবার্য অবারিত আলোর বিভাস,

 

এই অব্যাহত খোঁজ আর এই পথ চলা অনুরূপ

আরাধ্য তোমারই যেনো এক নিবিড় সংযোগ।

 

 

 

নীল ঘোড়াটির অনুসন্ধান

মঈনুস সুলতান

মাঝে মধ্যে সাক্ষাৎ মেলে ব্যতিক্রমী ঘোড়াটির

প্রান্তরে ঘাস খোঁটে— পদচিহ্ণে জমে তার নিশিরাতের শিশির,

তাজীটি থামে না তেমন—নয়ানজুলি ডিঙিয়ে কেবলই ছুটে

রেকাবের কিংখাবে স্তেপে ছুটন্ত ঘাসফড়িংয়ের নকশা ফোটে;

জিরোয় না কোথাও —গন্তব্যের নিশানাও নেই

নেই নির্দ্দিষ্ট কোন আস্তাবল,

নিরিখ করে তাকালে — দেখা যায় —কেশরের তলায়

সংঘাতের জখম প্রবল;

আজনবী এ অশ্বটির গাত্রবর্ণ আচানক রকমের নীল

কখনো হাঁটে সে —অতি ধীরে— চালে হয় না গরমিল,

ফের ছুটে — পেশীতে ফোটে— ছন্দ— মৃদুমন্দ— দুলকি

পাঁজরের পশমে ঝলমল করে স্নায়ুযুদ্ধের উল্কি,

নালের শব্দে ছড়ায়—নিশিরাতে চন্দ্রযূথিকার সৌরভ সিগ্ধ পরিত্রাণ

ঘুরিফিরি—রাখি চোখ দিশাহীন দিগন্তে—নীল ঘোড়াটির করি অনুসন্ধান।

 

 

পরাজয়

আলী সিদ্দিকী

ক্যানভাসের উল্টো পিঠে

আঁকা হয়ে গেছে

আমার পরাজয়

তোমার অমোচনীয় নাম

ভুলতে গিয়ে তোমাকে

এই ছোট্ট জীবনে

মনের অজান্তে নিজেকেই হারালাম।

 

তোমাকে হয়নি দেয়া আমার

মুক্ত আকাশ

হয়নি দেয়া বেদনার রঙে রঙিন

একটি অবুঝ মন

দিয়েছি শুধু দুঃখ এলোমেলো

ঝড়ো হাওয়া

ভোলার জন্য আমরা কখনো

করিনি পণ।

 

 

দু’জন একলা মানুষের গান

আলফ্রেড খোকন

তোমার বাবা

আমাদের নারকেল গাছের সীমানা নিয়ে

যে বিবাদ রচনা করল

জীবনভর;

গোপন হাতে আমিন তার মীমাংসা করল

এই মীমাংসা স্বার্থপর

 

এখন নারকেল গাছটি তোমাদের

কিন্তু গাছের ছায়াটি আমাদের

বাড়ির উঠোনে পড়ে;

ছায়ারা পৃথিবীর মায়াদের

 

গাছ ও গাছদের ছায়া ছাড়িয়ে

আমাদের যে মন

পারিবারিক কলহের কারণে

কোনোদিন স্বীকার করবো না জেনেও

উঠোন প্রান্তে দাঁড়িয়ে রয়েছি

আমরা একলা দু’জন

 

 

 

একটা চুমু

পারভীন শাহনাজ 

বোধের অতলে এখন অথৈ নোনাজল

 একফালি চাঁদ আকাশে,

 টলমলে তার ছায়া ভাসে সেই জলে

তাকে বুকে জড়িয়ে ধরতে খুব ইচ্ছে করে

অথচ ভুলে যাই আমার হাত দুটো নিথর - 

 পাথর হয়ে গেছে বহুযুগ আগে! 

 বুলেটের দগদগে ক্ষত ঢেকে রাখে কালসিটে

 রক্তের দাগ 

চাঁদ ডুবে যায়, 

তার করোটিতে গভীর  চুমু খাওয়া কখনো

 হয়না আমার

ঝিনুকের খোলে মুক্তো নয়, 

জমে  আছে শুধুই অমাবস্যার জমাট অন্ধকার।

 

 

 

ঘর এঁকে টাকা পায় বন্ধুরা আমার

ইকবাল হোসেন বুলবুল

ঘর এঁকে টাকা পায় বন্ধুরা আমার

আমি আঁকি শব্দ ;

পথ এঁকে বাড়ি যায় তারা

আমি আঁকি পথহীন অরণ‍্যের মুখ

 

কেউ তারে প্রেম কয় ; কেউ বলে কঠিন অসুখ ।

 

আমি আঁকি নদী আর জল

তারা আঁকে নৌকা আর সাঁতার কৌশল;

জমি এঁকে মালিকানা লিখে নেয় বন্ধুরা আমার

আমি আঁকি শব্দ

 

এই নাম কেউ রাখে পাগলের নামে; কেউ বলে প্রেমে আছি জব্দ ।

 

হাত এঁকে টাকা ধরে বন্ধুরা আমার

চোখ এঁকে ভরে রাখে সুখের স্বপন ;

কল আর কারখানা এঁকে তারা- সাজায় বাগান

আমি আঁকি ফুল

 

কেউ বলে বারোআনা ; কেউ বলে ষোলআনা’ই ভূল ।

 

 

 

মুক্তবাজার ও পোড়াচান্দের গল্প

শিউল মনজুর

 

ফুটপাতে অনেকের ফুল ও ফলের দোকান ছিল, গাছতলায় ছিল

মৌসুমী ক্লাব অথবা কোথাও দৃষ্টি বিনিময়ের ক্লিনিক; ওসবে

সোনার দামে হৃদয়ের পারদ বিকি হতো নানান কায়দায়। অতঃপর,

চাঁদের মতো ছোট্ট শহরের আনন্দবাজারে অনেকেই কবুল কবুল বলে

শিরনী বিলিয়ে দিতো গৃহ থেকে পাড়ায়।আবার লজ্জাবতীর ছোঁয়া

নিয়ে গোপনে কেউ কেউ পাড়ি জমাত বৈরাগীবাজার পেরিয়ে জেলা

শহরের দিকে; অনুশীলনের পালা বা পাঠ ওখান থেকেই। তবে, পোস্ট

অফিসের লালবাক্স পর্যন্তই ছিল পোড়াচাঁন্দের গল্প। লিচু ও আমের

মৌসুমে গাছপাকা ফলে বিভোর থেকেছি। ছুঁয়েও দেখার শপথ নিতে

পারিনি।সাহসের রাফখাতায় কয়েকছত্র হিজিবিজি আঁকা প্রেমপত্র

নিয়ে এখানে ওখানে ঘুরেছি আর এখন দোকান না ক্লাব, না ক্লিনিক,

হাতের মুঠোয় বাহারী রঙের মুক্তবাজার, যেখানে নদীর পাড়ভাঙার শব্দ

নিয়ত বাজে বেডরুমের ঘড়ির কাঁটায়…

 

 

 

 

যদি একদিন

রেজা শামীম

 

যদি পৃথিবীটা একদিন হঠাৎ একটু থেমে

ঘুরতে শুরু করে উলটো পথে,

যদি তাবৎ সূর্যাস্তগুলো বদলে যায় সূর্যোদয়ে,

যদি নেভাদার মরুভূমি ডুবে যায় একদা সমুদ্রে,

যদি পোষ্য প্রাণীরা ফিরে যায় অরণ্যে

আর, মৃতেরা ফিরে আসে পুরানো জীবনে,

তবে কি প্রার্থিত প্রেম ফিরে পাবে আমার আমূল ব্যর্থ প্রাণ?

 

যদি নদীরা ঝর্ণার শরীর বেয়ে পাহাড় চুড়ায় উঠে

দেখে আসে তার জন্মের জঠর,

যদি গিরিখাত বলে দেয় তার শিলার স্তরে লেখা

জলের প্রাচীন গ্রাফিতির ইতিহাস,

যদি ফারাওদের হায়ারোগ্লিফ একদিন হয়ে যায় অনুবাদ,

যদি কথারা রটিয়ে দেয় মৌনতার মানে,

তবে কি বুঝবে তুমি আমার চলে যাওয়া ছিলো স্রেফ এক অভিমান?  

 

সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন