https://www.prothomalony.com/
11448
opinion
নিউ ইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ তরুণদের ট্রেনের ছাদে চড়া নিয়ে উদ্বিগ্ন। এতে মৃত্যুর ঝুঁকি রয়েছে। তরুণদের এই বিপদ থেকে রক্ষা করতে ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে NYPD ৯১১ এবং ৩১১-এর রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে ড্রোন এবং মাঠের দল ব্যবহার করে অভিযান শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। এই ড্রোনগুলো ট্রেনের উপরে টহল দেয় এবং কোনো ব্যক্তি ট্রেনের ছাদে চড়লে তাদের শনাক্ত করে। পরবর্তী স্টেশনে ট্রেন থামানো হয় এবং ওই ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়া হয়। এই অভিযানের ফলে এখন পর্যন্ত ১,০০০টির বেশি ড্রোন উড্ডয়নের মাধ্যমে ১১৪ জনকে বিপদ থেকে রক্ষা করা হয়েছে।
এই পদক্ষেপ নেয়ার কারণ ট্রেনের ছাদে যেন কেউ চড়তে না পারে এবং জীবন ঝুঁকিতে না পড়ে। নভেম্বর ৪, সোমবার কমিউনিটি অপ:এড এ সিটি মেয়র এরিক অ্যাডামস্ বলেন, 'গত সপ্তাহে নিউ ইয়র্ক সিটিতে চলন্ত ট্রেনের ছাদে অবৈধভাবে চড়ার কারণে এক কিশোরী মারা গেছে এবং আরেকজন গুরুতর আহত হয়েছে। এটি কোনো একক ঘটনা নয়, বরং এমন অনেক ঘটনার মধ্যে একটি। সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয়তার প্রলোভন অনেক তরুণকে এই বিপজ্জনক কাজে প্রলুব্ধ করছে, যার ফলশ্রুতিতে বহু প্রাণহানি ঘটছে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, যেসব কোম্পানির অ্যালগরিদম এসব প্রাণঘাতী কনটেন্ট প্রচার করছে, তারা এই সমস্যার সমাধানে যথেষ্ট উদ্যোগ নিচ্ছে না।'
তিনি বলেন, 'আমাদের এই কার্যক্রম সফল করতে সবার সাহায্য প্রয়োজন। যদি আপনি কাউকে ট্রেনের ছাদে উঠতে দেখেন, ৯১১-এ কল করে রিপোর্ট করুন। এই ফোনকলের মাধ্যমে আপনি একটি তরুণ প্রাণ রক্ষা করতে পারেন — যেমন ১৫ বছর বয়সী জ্যাকেরি নাজারিওর জীবন। তার মা, নর্মা, কুইন্সে আমাদের ড্রোন প্রোগ্রাম সম্পর্কে নিউ ইয়র্কবাসীকে আপডেট দিতে যোগ দিয়েছিলেন। নর্মা তার ছেলে জ্যাকেরিয়া সম্পর্কে বলেন —জ্যাকেরিয়ার প্রিয় শিল্পী ছিলেন ন্যাট কিং কোল এবং ফ্রাঙ্ক সিনাত্রা। কিন্তু মাত্র ১৫ বছর বয়সে, সোশ্যাল মিডিয়ার প্ররোচনায় জ্যাকেরি ট্রেনের ছাদে চড়ে মৃত্যুবরণ করেন। নর্মা সবসময় তার ছেলের শোকপত্রটি সাথে রাখেন।
নর্মা বলেন, 'সোশ্যাল মিডিয়ার এখানে বড় ভূমিকা আছে, এবং তারা তাদের দায়িত্ব পালন করছে না।'
অ্যাডামস বলেন, 'তিনি ঠিকই বলেছেন। ২০২১ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে, ট্রেনের ছাদে চড়ার ঘটনা ৩৬৬ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। যারা এই কনটেন্ট হোস্ট করে এবং অর্থ উপার্জন করে, তাদের দায়বদ্ধতা নিতে হবে। আমি টিকটক এবং অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকে এসব বিপজ্জনক ভিডিও অবিলম্বে নিষিদ্ধ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছি — এবং নিশ্চিত করতে বলেছি যে ট্রেন সার্ফিং প্রচারের ভিডিওগুলি ভাইরাল হওয়ার আগেই মুছে ফেলা হোক। বাস্তবে, আমরা টিকটক এবং আরও চারটি জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের মালিকদের বিরুদ্ধে মামলা করেছি যাতে তারা আমাদের তরুণদের উপর তাদের প্রভাবকে আগের চেয়ে আরও বেশি গুরুত্ব সহকারে নেয়।'
বর্ধিত নজরদারির পাশাপাশি, অ্যাডামস্ প্রশাসন গভর্নর হকুল এবং মেট্রোপলিটন ট্রানজিট অথরিটির সঙ্গে মিলে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে "সাবওয়ে সার্ফিং কিলস – রাইড ইনসাইড, স্টে অ্যালাইভ" প্রচারাভিযান শুরু করেছে। এতে তরুণরা তাদের সহপাঠীদের সাবওয়ে সার্ফিংয়ের বিপদ সম্পর্কে সচেতন করছে।
তবে এই প্রাণঘাতী প্রবণতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রতিটি নিউ ইয়র্কবাসীকে ভূমিকা রাখতে হবে বলে মনে করেন আ্যডামস্। তিনি বলেন, 'আপনি যদি একজন অভিভাবক হন, তাহলে এখনই আপনার সন্তানদের সাথে ট্রেনের ছাদে ওঠার বিপদ সম্পর্কে কথা বলুন। আপনি হয়তো মনে করতে পারেন আপনার সন্তান এটি করবে না, তবে তারা এমন কাউকে চেনে যে চেষ্টা করতে পারে। আপনি যদি তরুণ হন, তাহলে অন্যদের এমন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে উৎসাহ দেবেন না, সেটা সরাসরি হোক বা অনলাইনে। যদি সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদম আপনাকে এই কনটেন্ট দেখায়, তাহলে এটিকে একটি বিপদ হিসেবে রিপোর্ট করুন। আপনি যদি শিক্ষক হন, তাহলে আপনার শিক্ষার্থীদের নিরাপদে থাকার এবং জীবন বাঁচানোর বিষয়ে কথা বলুন।'
সবাইকে সতর্ক থাকতে এবং ট্রেনের ভিতরে নিরাপদে থাকার আহ্বান জানান এরিক অ্যাডামস্।
অভিমত থেকে আরো পড়ুন