https://www.prothomalony.com/

9753

literature

সাহিত্য

উত্তরের সাহিত্য

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৪ ১১:৪৯

নদী জল-জংলার আরেক বাংলাদেশ

দীপংকর গৌতম

 

 

ফিরে যাও শিশিরজল

এখানে শুকানো হারানো নদী উৎসব হবে

হাঙরের মতো আসবে বুলডোজার ভাঙবে

নিয়ম মাফিক কিছু স্থাপনা- বুক পকেট ভরা জলাধার 

আনা হবে মহাফেজখানা থেকে। সেখানে ভাঙাচোড়া হবে- আবার যাহা ৫২ তাহা ৫৩ থাকবে

আমরা করতালি দেব এই উদ্ধার কাজে। তারপরও 

সব মুখস্ত দৃশ্য ঝুলবে চোখের পাতায়

ঘারানো জলাধারগুলো বেড়াতে আসবে পার্কেও জুটির মতো

তবু রক্ষা নেই তোমার-থাপ বাড়বে

আবহাওয়া অফিস শোনাবে নতুন সতর্কবার্তা

জল, ছায়াতী বৃক্ষ কাটা চলবে-উন্নয়নের বাল্যশিক্ষা 

পড়াবে সেই পুরানো পাঠ

হারানো নদী উৎসব চলবে-বৃষ্টি হবে, বিক্রি বাড়বে 

যান্ত্রিক শীতলতার

ফিরে যাও শিশির জল এখানে মৃত দখকৃত নদী উৎসব হবে।নিরুদ্দেশ হবে পাখি,

নদী জল-জংলার আরেক বাংলাদেশ

আমরা গেয়ে যাবো- '

'এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি'

 

 

 

হিমাদ্রি ও পোড়া বেদনা

আশরাফ হাসান

 

 

বন্ধক রেখেছি এ-বুকে দেশলাই-হৃদয়

পুড়তে পারি পোড়াতে পারি

পোড়ে পোড়ে অঙ্গার হবে এ-দেহ

পাঁজরের প্রাসাদ ধনকুবের-গৃহ

শাদ্দাদের বেহেশত, ক্যাসিনোর ঘাট বেজেদের বাড়ি

পোড়াতে পারি সারি-সারি বসত

নাগিনীর হাঁটাপথ ঝোপঝাড়.

বেহায়া ওষ্ঠকেলিতে ঠোঁট রেখে জ্বেলে দিতে পারি

নদীদের রুপালি সন্ত্রাস

 

অবৈধ ইটভাটার মতো পোড়া বেদনা-

হিমরৌদ্রে ছেয়ে যায় দুপুরযৌবন

হামাগুড়ি দিয়ে হাঁটে হলুদ বিকেল

প্রৌঢ বয়েস যেনো অন্তহীন সান্ধ্যমায়া 

 

দিকচক্রবালে ছায়াসমুদ্রের গান

বিগত সবক খুঁড়ে তুলে আনা বেলোয়ারি-অভিধান

চারদিকে হেঁকে যায় কারা--ছায়া-ছায়া, হিমাদ্রি-হিম

 

আজ পুড়তে পারি পোড়াতে পারি তাবৎ হিমপর্বত

জারজ শরীরের মতো সুপুষ্ট অনিয়ম

দ্বীপের বন্দরে নোঙর করা দস্যুজাহাজ

পোড়াতে পারি রজনী জুড়ে ফোঁসফাঁস- সাপেদের খামার।

 

 

 

অমৃতোপম সপ্তদ্বীপা

সুমন শামসুদ্দিন

 

 

———————————---

আমার একটা মেঘপলকা হৃদয় আছে,

আমাকে একচিলতে ভালোবাসা দাও-

আমি তোমাকে, এই মুহূর্তে ফোটা,

পৃথিবীর সমস্ত লজ্জাবতী ফুল এনে দিতে পারি!

 

আমার একটা নিগূঢ়নীল আবেগ আছে,

আমাকে একজোছনা হাসি দাও-

তোমাকে আমি এনে দিতে পারি

গহীন রাতে মুকুলিত আমাজন লিলি!

 

মননে আছে স্থিত এক নিরুপম অনুভব,

অহর্নিশ প্রজননে রত প্রণয়-লহরি নিরবধি;

আমাকে শুধু এক আবক্ষ অনুপল উষ্ণতা দাও,

আমি তোমাকে সন্নিবদ্ধ রাখতে পারি মৌলজঠরে!

 

আমার গোপন বায়বীয় প্রকোষ্ঠে,

তুমিবিহীন যেকোনো আলোকতরঙ্গের-

অভিযোজিত প্রবেশাধিকার রোহিত!

তোমার অন্তহীন বাসরেই সৃজন করি-

আমার অমৃতোপম সপ্তদ্বীপা!

 

 

 

সমাধান

শরিফুজ্জামান পল

 

 

তাড়া নেই জয়ী হওয়ার

অপেক্ষায় আ-মৃত্যু -! 

পরাজিত আমি তবু ও

দুঃখ নেই এতটুকু। 

 

হাট শেষে শূন্য বাজার 

বটগাছ কাঁদে মায়ায়, 

সফল ব্যর্থ সবাই হাঁটছে 

অজানা এক ভুল মোহনায়!

 

ফল জেনেছি কৈশোরে 

ষাটের মানুষ দেখে, 

করিনা তাই জীবন ব্যয়  

ভুল খ্যাতির লোভে। 

 

 

 

তারুণ্যের তরঙ্গ 

আবদুল বাতেন 

 

 

তুমি কেঁদে উঠলে

নেচে উঠে পাড়া- প্রতিবেশী, আনন্দবানে 

কুহুতান ঢেউ তোলে বজ্রাহত বনে বনে।             

তুমি ভেঙে পড়লে

গান গেয়ে উঠে প্রাণসখা, ব্যাকুল বসন্তে 

মিলন মেলা বসে রংধনুর, পুব দিগন্তে। 

তুমি হেরে গেলে

প্রাণে প্রাণে আলপনা, পহেলা বৈশাখের উৎসব        

বিশ্বজয়ের গৌরবে বোবারও আজব কলরব! 

তুমি মুছে গেলে

হাততালি, হাসাহাসি, উষ্ণ আলিঙ্গন- পরস্পরে

চাটনি, চুমুর। ফুলশয্যার সুষমা ঘরে ঘরে। 

 

বিরোধীতা, বর্বরদের

দলিয়ে দু'পায়ে দানবীয় আঁধার এবং আতঙ্ক

টেনে নিয়ে যাও তুমি তারুণ্যের তরঙ্গ।

 

 

 

আধ্যাত্মিক ময়ূর

সাকিব জামাল

 

 

জ্বলজ্বল করে অলৌকিক জল। মস্তিষ্ক জুড়ে নাঁচে যমুনার 

প্রেম। হাওয়াকুঞ্জে অভিসার বাসনা। অনাগত অনুজের আহ্বানে, সপ্তর্ষি মন্ডলে গান তোলে আধ্যাত্মিক ময়ূর- 

অক্লান্ত যৌবনের আয়োজনে!

 

প্রকৃতির পুঁথি পাঠ চলে- নদী, পাহাড়, সমতলে। 

গুহা সভ্যতা আনন্দে হাসে। আগামী গ্রহিক সভ্যতার স্বপ্ন 

দেখে আধুনিক সমকাল। আমি স্থানান্তরিত করি আমাকে 

অন্য জনমে! বিনিময়ে, তুমিই আমার আনন্দময়ী সেই 

সত্তরটি ফুল!

 

 

 

মাস্তুল 

পিয়াংকী 

 

চতুষ্কোণের কোনো রুফটপ নেই।

মানচিত্রে দাগানো আছে চার পুরুষের নামগোত্র

বর্গক্ষেত্রের ভিতর পুকুর 

 

বিকেল মিটলে ব্যালকনিতে আসে যে পরিযায়ী, 

ঘুমের ভিতর সুরঙ্গ দিয়ে দেখি, 

আমার একটি হাত থেকে ও উৎপন্ন হয়েছে

তাহলে ও কে, আমার সন্তান নাকি আমরা সমকামী? 

 

ঋত্বিক ঘটক ভাবাকেও অনুশীলন করতে বলেছিলেন 

তাহলে আমি কোথায় দাঁড়িয়ে? 

ভাবতে যাব এমন সময় 

কয়েকজন ভিক্ষুক অবরোধ করে, 

 

স্তনসমগ্র এবং পেটের মাঝ বরাবর ট্রেনলাইন, 

অবরোধে দাঁড়িয়ে পাখি আর আমি

লোকজন ইঙ্গিত করলেও -আমরা পরস্পরকে বলি, 

'lead your metamorphosis' 

 

 

 

স্কেচ আকাশের নিচে শান্তিনিকেতন 

মুহা.আকমাল হোসেন 

 

 

মনে পড়ে স্কেচ আকাশের নিচে শান্তিনিকেতন 

রামকিঙ্কর রংবস্তি পাশে সাঁওতাল দাম্পত্যের এই বেলা 

একটা আর্য সভ্যতার অব্যর্থ তীরফলা 

রেটিনা ছুঁয়ে একাঙ্ক দিনের

 

ছাতিম ছায়ার রিডে এলোমেলো যৌবনের পুনশ্চ লিপি

লালমাটি মাখা আমাদের স্বপ্ন আয়ু।   

তোমাকে শুনিয়েছিলাম গীতিবিতানের কয়েক পৃষ্ঠা 

খোয়াইয়ের খাদের পাশে।

 

আঙুলের ত্বকে শ্রাবণ সাঁতরে কোপাই পার গল্পের ডিঙি

সোনাঝুড়ির মাঠে স্পন্দন নাচে কালো মেয়ের ময়ূর ঘুঙুর

মোরগ সিসার মতো সূর্যের রাঙা আগুন মাখা 

অভিসারবিম্ব দেহাতি শরীর   

 

পায়ে পায়ে পঙ্‌ক্তিময় প্রেম শেষের কবিতা 

ডাকঘর থেকে ঠাকুরের ডাক নাম উঠে আসে 

সেদিন পঁচিশে বৈশাখ কিংবা বাইশে শ্রাবণ।

 

 

 

আয়না

সারমিন চৌধুরী 

 

 

যে আয়নার দৃশ্যে নিজেকে দেখি

প্রতিবিম্বে হাস্যোজ্জ্বল চেহারার আকৃতি,

স্বর্গসুখের নৈরাজ্য বহমান ঠোঁটে,

সৌন্দর্যের প্রসংশায় মুখের ফেনা তুলে 

অথচ, ভিতরকার ক্ষত দৃশ্যহীন।

এই আয়নাও কি সৌন্দর্যের পূজারী?

 

কাঁচের মত টুকরো হওয়া ভেতরটা 

আহাজারিতে বাকরূদ্ধ মৃত প্রায়,

তবু আয়নার সম্মুখে এটি কেবল মুখশ্রী

আমি হাসলে হাঁসে, কাঁদলে লাগে ঝাপসা

যেখানে শুধু অস্পষ্ট প্রতিচ্ছবি থাকে,

সেই আয়নায় আমি কাঁটাহীন গোলাপ।

 

 

 

পরিত্রাণ 

আসাদুজ্জামান খান মুকুল

 

 

মুক্ত বিহঙ্গের মতো মন আজ উড়ে যেতে চায় সুদূরে 

খোঁজে পেতে চায় নির্জন কোলাহল মুক্ত আবাস

যেখানে নেই অস্পৃশ্য মানবের অস্ত্রের ঝঙ্কৃত শব্দ

কলুষিত ধরায় প্রতিনিয়ত বয়ে যাওয়া মানবের রক্ত;

যার আঁষটে গন্ধে দূষিত আজ সুনির্মল বাতাস।

বিষাক্ত মলয় স্বচ্ছন্দে টানতে পারছেনা হৃদয়ের তন্ত্রীগুলি

অস্থির চারিদিক, দম বন্ধ হবার উপক্রম!

তাই আজ পরিত্রাণ পেতে চায় মন পাখি

উড়ে যেতে চায় জাগতিক মোহ থেকে দূরদিগন্তে 

ফেলতে চায় খানিক স্বস্তির নিঃশ্বাস। 

সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন