https://www.prothomalony.com/
18473
north-america
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬ ১৫:৪১
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা শেষে বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাজের সুযোগ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ (ওপিটি) কর্মসূচিতে সম্ভাব্য নীতিগত পরিবর্তনের আলোচনা তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে পড়াশোনা শেষে যুক্তরাষ্ট্রে পেশাগত অভিজ্ঞতা অর্জন ও কর্মজীবন শুরুর পরিকল্পনা করা শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে এফ-১ ভিসায় অধ্যয়নরত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ওপিটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থানের সুযোগ। এ কর্মসূচির আওতায় যোগ্য শিক্ষার্থীরা তাঁদের অধ্যয়নের বিষয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত কাজে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যুক্ত হতে পারেন। সাধারণত সর্বোচ্চ ১২ মাসের ওপিটি সুবিধা পাওয়া যায়। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতের নির্ধারিত বিষয়ে ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থীরা শর্ত পূরণ সাপেক্ষে অতিরিক্ত ২৪ মাসের কাজের অনুমতির জন্য আবেদন করতে পারেন।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে এই কর্মসূচির গুরুত্ব শুধু চাকরি পাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্জিত জ্ঞান বাস্তব কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগ, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের ভিত্তি তৈরিতে ওপিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নেওয়ার সময় পড়াশোনা শেষে এ সুযোগ পাওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখেন।
ওপিটি কর্মসূচিতে নতুন যোগ্যতার শর্ত, আবেদন ফি কিংবা কাজের অনুমতি সংক্রান্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি মার্কিন নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোও প্রভাবিত হতে পারে। বিশেষ করে প্রযুক্তি, প্রকৌশল, গবেষণা ও অন্যান্য দক্ষতানির্ভর খাতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নিয়োগ পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসতে পারে।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। তাঁদের অনেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা অর্জনের পরিকল্পনা করেন। ফলে ওপিটি কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
গত ৮ অক্টোবর মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ ওপিটি কর্মসূচিতে বড় ধরনের ফি আরোপের প্রস্তাব প্রকাশ করেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, একজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর প্রথমবার ওপিটি অনুমোদনের সুপারিশের জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার মার্কিন ডলার দিতে হবে। পরবর্তী সময়ে ওপিটির মেয়াদ বাড়ানোসহ নতুন অনুমোদনের সুপারিশের ক্ষেত্রে আরও ৩০ হাজার ডলার ফি নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। ফলে একজন শিক্ষার্থীর জন্য মোট ব্যয় এক লাখ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
প্রস্তাবে প্রাথমিকভাবে এই অর্থ পরিশোধের দায়িত্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর রাখা হলেও প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে শিক্ষার্থী বা নিয়োগদাতাদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, বিপুল অঙ্কের এই ফি কার্যকর হলে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপিটি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ওপিটি কর্মসূচিতে অনিয়ম ও অপব্যবহার রোধ, অভিবাসন ব্যবস্থায় নজরদারি জোরদার এবং স্থানীয় কর্মীদের স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে এই পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে উচ্চশিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন মনে করছে, এমন সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আকর্ষণের সক্ষমতা এবং দক্ষ জনশক্তি ধরে রাখার প্রচেষ্টায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে প্রস্তাবিত বিধি এখনো কার্যকর হয়নি। আগামী ৯ নভেম্বর পর্যন্ত এ বিষয়ে জনমত গ্রহণ করবে মার্কিন প্রশাসন। এরপর মতামত পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। বর্তমানে ওপিটি ও এর মেয়াদ বৃদ্ধির প্রচলিত নিয়ম এবং আবেদনপ্রক্রিয়া অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীবিষয়ক দপ্তরগুলো শিক্ষার্থীদের আতঙ্কিত না হয়ে নিয়মিত সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ এবং আবেদনসংক্রান্ত সময়সীমার বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের পরিকল্পনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে পড়াশোনা শেষে চাকরির মাধ্যমে পেশাগত অভিজ্ঞতা অর্জনের স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশিসহ লাখো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন