https://www.prothomalony.com/

18474

north-america

উত্তর আমেরিকা

ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় টান, কংগ্রেসের দখল নিয়ে অঙ্কের লড়াই

প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:৪৬

আমেরিকার রাজনীতির দিকে তাকালে মাঝেমধ্যে বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতির কথাও মনে পড়ে। ক্ষমতাসীনদের জনপ্রিয়তা, বিরোধীদের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা, নির্বাচনী এলাকার সীমানা নিয়ে কৌশল—গণতন্ত্রের মাঠে খেলোয়াড় বদলালেও খেলার ধরন খুব একটা বদলায় না।

আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে কি রিপাবলিকানরা, নাকি ডেমোক্র্যাটরা ফিরে আসবে ক্ষমতার ভারসাম্যে?

প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাবনা তুলনামূলক ভালো। ট্রাম্পের জনসমর্থন নিয়ে প্রশ্ন আছে, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অসন্তোষ আছে, জাতীয় জরিপেও বিরোধীদের এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত মিলছে। কিন্তু রাজনীতির অঙ্কে শুধু জনমতই শেষ কথা নয়। নির্বাচনী এলাকার সীমানা নতুন করে আঁকার মধ্য দিয়ে রিপাবলিকানরা নিজেদের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরির চেষ্টা করেছে।

এখানেই মজার বিষয়। মানচিত্রে সীমানা টানা যায়, কিন্তু মানুষের মন কি সেভাবে ভাগ করা যায়? ২০২৪ সালে যারা ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন, তাঁদের সবাই যে এবারও একই পথে হাঁটবেন, তার নিশ্চয়তা কোথায়?

সিনেটের লড়াই আরও কঠিন। আইওয়া, ওহাইও, টেক্সাস কিংবা মেইনের মতো রাজ্যেও প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র নতুন প্রশ্ন তুলছে। একসময় রিপাবলিকানদের নিরাপদ বলে বিবেচিত কিছু আসনেও ডেমোক্র্যাটরা চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন। তবে জরিপকে নির্বাচনের ফল ভেবে আগাম বিজয় ঘোষণা করার সুযোগ নেই।

আমেরিকার বাংলাদেশি অভিবাসী হিসেবে এই নির্বাচন আমাদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ। কংগ্রেসের ক্ষমতার ভারসাম্য বদলালে অভিবাসননীতি, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, করব্যবস্থা এবং নাগরিক অধিকার নিয়ে বিতর্কের গতিপথও বদলাতে পারে। এসব বিষয়ের প্রভাব পড়ে আমাদের পরিবারে, ব্যবসায়, কর্মক্ষেত্রে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবনে।

আমরা যারা এই দেশে জীবন গড়েছি, তাঁদের কাছে নির্বাচন মানে অধিকার, নিরাপত্তা, সুযোগ এবং এই সমাজে সমান মর্যাদায় টিকে থাকার প্রশ্নও এর সঙ্গে জড়িত।

প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের পাল্লা ভারী মনে হলেও সিনেটের হিসাব এখনো অনিশ্চিত। শেষ পর্যন্ত জরিপ নয়, ভোটাররাই রায় দেবেন।

আমেরিকার রাজনীতিতে একটি পুরোনো সত্য আবারও সামনে আসছে—ক্ষমতার মানচিত্র শাসকেরা আঁকতে পারেন, কিন্তু সেই মানচিত্রের ভাগ্য নির্ধারণ করে ভোটাররা।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন