https://www.prothomalony.com/

9345

bangladesh

বাংলাদেশ

উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেবে না বিএনপি

প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৪ ১০:২২

শেষ মুহূর্তে বিএনপি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দলের নেতৃত্বের শেষ সময়ের সিদ্ধান্তের কারণে বিএনপির প্রায় অর্ধশত নেতা উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে রয়েছেন। এখন তাদের নির্বাচন থেকে ফেরানো নিয়ে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েছেন নীতিনির্ধারকেরা। কারণ, প্রথম ধাপের নির্বাচনে প্রার্থীদের ফেরানো না গেলে পরের ধাপগুলোতে প্রার্থীর সংখ্যা আরও বাড়বে, তাতে দলে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে।

১৫ এপ্রিল সোমবার রাতে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছেন দলটির নীতিনির্ধারকেরা।  ১৬ এপ্রিল মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘সভায় নির্বাচন কমিশন ঘোষিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা হয়। সভা মনে করে, ইতিপূর্বে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিষয়ে দলের যে সিদ্ধান্ত, সেটা পরিবর্তনের কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। এই অবৈধ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হতে পারে না। সুতরাং এই উপজেলা নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ নাই।’ 

এদিকে উপজেলা নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে শুরু থেকে দলের অভ্যন্তরে মতানৈক্য ছিল। তৃণমূলের নেতাদের মধ্যে এই নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ থাকলেও কেন্দ্র চুপ থেকেছে। এই অবস্থায় কেন্দ্র থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা না করে প্রথম ধাপের নির্বাচনে অংশ নিতে এরই মধ্যে বিএনপির অন্তত অর্ধশত নেতা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

এখন মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন পার হওয়ার পরে দলের পক্ষ থেকে ভোট বর্জনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এল। এই অবস্থায় বিএনপির যারা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন, তাদের ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শুধু তা-ই নয়, বিলম্বিত এই ঘোষণা নিয়ে দলের অভ্যন্তরেই উঠেছে প্রশ্ন। মনোনয়নপত্র দাখিলকারীদের অনেকে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। অনেকের মনোভাব এমন যে প্রয়োজনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়েও নির্বাচনে অংশ নেবেন।

উপজেলা নির্বাচন নিয়ে দেরিতে সিদ্ধান্ত আসা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির অনেক নেতা। কেন্দ্রের এমন ভূমিকাকে ‘খামখেয়ালিপনা’ উল্লেখ করে এই নেতারা বলছেন, উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিতে অনেকে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন আগে থেকে। দল এ ব্যাপারে কিছু না বলায় তাঁরা ধরেই নিয়েছিলেন, এবার হয়তো দল এ ব্যাপারে নমনীয় থাকবে। অনেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য প্রস্তুতিও নিয়ে ফেলেছেন। শেষ সময়ে এসে দলের এমন সিদ্ধান্ত ভালো হলো না।

এদিকে বিএনপির যারা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন, তাদের তালিকা করা হচ্ছে জানিয়ে দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স সংবাদ মাধ্যমকে জানান, যারা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে বলা হবে। প্রিন্স বলেন, এখনো সময় আছে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় তো শেষ হয়ে যায়নি। এরপরেও কেউ দলের সিদ্ধান্ত না মেনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন