https://www.prothomalony.com/

18415

bangladesh

বাংলাদেশ

নাসা জয় থেকে বিশ্বমঞ্চে: এআই ও গবেষণায় আলো ছড়াচ্ছেন বাংলাদেশি তরুণী টিসা খন্দকার

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ০৬:০৫

বাংলাদেশের তরুণদের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী মেধা যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারে, তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন টিসা খন্দকার। নাসা আন্তর্জাতিক স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জে বৈশ্বিক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জনের মধ্য দিয়ে যে আন্তর্জাতিক যাত্রার সূচনা হয়েছিল, তা আজ বিস্তৃত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), শিক্ষা প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক গবেষণার পরিমণ্ডলে। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে তথ্যপ্রযুক্তি, ডেটা অ্যানালিটিক্স ও ম্যানেজমেন্ট এবং প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভাবন নিয়ে কাজ করছেন।

২০২২ সালে নাসার বিশ্বখ্যাত আন্তর্জাতিক উদ্ভাবন হ্যাকাথন 'নাসা ইন্টারন্যাশনাল স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ'-এ বাংলাদেশের দল 'টিম ডায়মন্ডস'-এর সদস্য হিসেবে "ডায়মন্ড ইন দ্য স্কাই" প্রকল্পের মাধ্যমে বৈশ্বিক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন টিসা ও তাঁর দল। শিশু ও তরুণদের কাছে মহাকাশ এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (স্টেম) শিক্ষাকে অংশগ্রহণমূলক ও সহজবোধ্য করার ভাবনা থেকেই প্রকল্পটির বিকাশ ঘটে। পরবর্তীতে তিনি এই ধারণাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সহায়ক শিক্ষা ও মানুষ-কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ের (হিউম্যান-এআই কোলাবোরেশন) সাথে যুক্ত করেন।

আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার এই সাফল্য টিসা খন্দকারকে বৈশ্বিক পর্যায়ে কাজ করার বিস্তৃত সুযোগ তৈরি করে দেয়। ২০২৬ সালে ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত 'বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ইয়ুথ সামিট'-এ অংশ নিয়ে তার দল প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আর্থিক অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে 'অ্যাগ্রিক্রেডিট' শীর্ষক একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক ধারণা তুলে ধরে। 

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "প্রযুক্তি তৈরি করাই শেষ লক্ষ্য নয়। প্রযুক্তি যদি বাস্তব মানুষের সমস্যার সমাধানে ব্যবহার করা না যায়, তাহলে তার প্রভাব সীমিত থেকে যায়।"

উদ্ভাবক হিসেবে সাফল্যের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিচারক হিসেবেও যুক্ত হয়েছেন তিনি। শিক্ষা ও প্রযুক্তির মর্যাদাপূর্ণ বৈশ্বিক স্বীকৃতি 'কিউএস রিইমাজিন এডুকেশন অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬'-এ বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন টিসা। পাশাপাশি তরুণদের বিভিন্ন উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তাবিষয়ক আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে বিচারক ও দিকনির্দেশক হিসেবে নিয়মিত পথপ্রদর্শন করে আসছেন তিনি।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের প্রধান কার্যালয়ে (এডব্লিউএস হেডকোয়ার্টার্স ২) আয়োজিত 'এডব্লিউএস ডিএমভি কমিউনিটি ডে'-তে আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে অধিবেশন পরিচালনা করেন টিসা খন্দকার। "হ্যাকাথন থেকে প্রোডাকশন: ক্লাউড আর্কিটেকচারের সাহায্যে এআই-চালিত পণ্যের দ্রুত বিকাশ" শীর্ষক সেশনে তিনি হ্যাকাথনের ধারণাকে ক্লাউড আর্কিটেকচারের সহায়তায় কীভাবে বাস্তবমুখী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পণ্যে রূপান্তর করা যায়, তা প্রযুক্তিবিদদের সামনে তুলে ধরেন।

একাডেমিক গবেষণার জগতেও নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন এই তরুণী। ২০২৬ সালে ভার্জিনিয়া টেকে অনুষ্ঠিত 'সিআই প্লাস এইচকম্প' সম্মেলনে "ডায়মন্ড ইন দ্য স্কাই"-এর ওপর তার মানুষ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বিত শিক্ষা ধারণা উপস্থাপন করেন এবং এর স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মানজনক 'এনএসএফ স্টুডেন্ট ট্রাভেল গ্রান্ট' লাভ করেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতির যুগে শিক্ষাব্যবস্থায় মানুষের দায়িত্বশীলতা, পর্যবেক্ষণ ও মূল্যবোধের ভারসাম্য বজায় রাখা অর্থাৎ মানুষ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মধ্যকার সমন্বিত বুদ্ধিমত্তা (কমপ্লিমেন্টারি ইন্টেলিজেন্স) প্রতিষ্ঠাই তার গবেষণার অন্যতম দিক।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিস্তৃত কর্মক্ষেত্র তৈরি হলেও নিজের শিকড় এবং বাংলাদেশের তরুণ সমাজকে নিয়ে বড় পরিকল্পনা রয়েছে টিসা খন্দকারের। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক উদ্ভাবন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, গণিত ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিক্ষায় সঠিক সুযোগ তৈরি করতে চান তিনি। 

টিসা বলেন, "আমি চাই বাংলাদেশের একজন স্কুলের শিক্ষার্থীও বিশ্বাস করুক যে নাসা, আন্তর্জাতিক গবেষণা সম্মেলন বা বিশ্বব্যাংকের মতো বড় বৈশ্বিক মঞ্চগুলো তাদের জন্য অসম্ভব কিছু নয়।"

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন