https://www.prothomalony.com/
9315
literature
বাংলা কবিতা বহুবর্ণিল সাজে নিজেকে মেলে ধরেছে বিশ্বময়। আমাদের যত্নশীল প্রয়াস এই বৈচিত্র্যকে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করা।বিষয়ের বৈচিত্র্য, চিন্তার সীমানা ভেদ, আঙ্গিক ও ভাষিক উপস্থাপন রীতির পরিবর্তনসমূহকে আমরা একত্রে এক জায়গায় মেলে ধরতে চাই। ১৪ এপ্রিল, পহেলা বৈশাখ। ১৪৩১ বঙ্গাব্দের উদ্বোধনী। এপ্রিল আমেরিকায় কবিতার মাস বলে অভিহিত। এই দুই মিলিয়ে এপ্রিল সংখ্যাকে দুই পাতার বিশেষ সংখ্যায় প্রকাশ করা হলো। আপনাদের সকলকে জানাই নববর্ষের শুভেচ্ছা! কবিতাগুলি পড়ার বিনীত আমন্ত্রণ! ফারুক ফয়সল
পাখিদের রোজনাচায় ঝরছে কৃষকের ঘাম
হেনরী স্বপন
ধানক্ষেত ফাঁকা ফেলে
গুনাইবিবির পালা
উঠে গেছে শিল্পকলা মঞ্চে;
ডিজিটাল সাউন্ড ঘরে ঘরে
প্রয়াতি হয়ে বেজে উঠছে
দুধ ধানের মোচায়-
মাঠের অঘ্রাণে মারণাস্ত্র
কারখানা গড়ে উঠছে
দুর্বৃত্তের ক্যাম্প…
পাখিদের রোজনাচায় ঝরছে কৃষকের ঘাম।
স্কুল ও স্টেশন
শিহাব শাহরিয়ার
বঙ্কিম স্যার ধূতির ঘিয়ে রঙে খুব জ্বলে উঠতেন
বলতেন, সবুজ রং বুঝতে হলে দুর্বা ঘাসে পা রাখবি
বলতেন, শিশিরের টুপটুপ সাদা রং তাও পাবি দুর্বাঘাসেই
বোকার মতো ট্রেনের দিকে তাকিয়ে থাকবি না
চোখ যাবে, সোহেলিরা ট্রেনে নান্দিনা থেকেই গেছে
বরং ব্রহ্মপুত্রের দিকে তাকা কৈশোরের কোকিল দেখবি
গণিতে ভালো কর, দেখবি যৌবন এসে দাড়াবে প্লাটফর্মে
তুইও সোহেলির মতো যেতে পারবি দুর্বা ও শিশির থেকে
বঙ্কিম স্যার চলে গেছেন, পাইলট স্কুলও প্লাটফর্ম শূন্য...
ক্ষতচিহ্ন
শিবলী মোকতাদির
বিতর্কিত পর্ব নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব-দোলাচলে থাকা ভালো।
যেমন বন মানেই বাঘিনী—
নির্মেদ গদ্যে, ভাষার অনুকরণীয় বিভঙ্গে
বর্ণাঢ্য ক্যানভাসে যতই মেলে ধরা হোক
বাঘের কাছে চিরকালই তা নৈতিক দ্বিচারিতার সাক্ষ্য বহন করে।
জঙ্গলে জরিপের দায়ে সাচ্চা পণ্ডিত, চিন্তক,
কাব্যপিপাসু ও রবীন্দ্রপ্রেমী কথা বলছেন—
মানবীয় রেখাচিত্র ধরে।
পাকেচক্রে জখমের প্রসঙ্গ উঠতেই
ব্যঙ্গবিদ্রূপের বারুদে ঠাসা কামানের মতো
ঝাঁকে ঝাঁকে হরিণ ছুটে গেল, এক্কেবারে দিল ঘেঁষে
সতর্কতার ছাপটি অনেক খুঁজেও মিললো না কোথাও
‘ক্ষতচিহ্ন’ এরপর একটি ড্যাশ দিয়ে বসে আছি
জঙ্গলে সূচিভেদ্য নিস্তব্ধতা, জলে গুপ্তচরের সহর্ষ করতালি!
শিমরাইল সিরিজ
খলিল মজিদ
চৌদ্দ বছরের জোছনা যখন না মরিয়া মা হয়েছে
নদীর চরায়, আর করুণ শিশুটি
ঘৃণাকেই জেনেছে তার প্রাথমিক পিতা
তখন শিমরাইল, হা শিমরাইল
বিল জুড়ে চিলের চিৎকার।
নদী দূষণের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত বিনম্র চিতলের
গতিবিধি সীমাবদ্ধ করা হয়, অথচ বোয়ালেরা
অনায়াসে জলবায়ু পেরিয়ে যায়—
নগ্নদন্ত রাজ্য-অভিসারী।
তাদের অতিশয় অনুভূতি বিদ্ধ করে
তিতাসের আদি ইশতেহার। পাড় ভাঙে—
উন্মুক্ত বুকের অজুহাতে ভাঙা হয় নদীর পাঁজর;
জালে-ওঠা খলসের মতো শ্বাসরোধে
নিহত নদীরা নিমফাটা জলের কঙ্কাল।
তখন শিমরাইল, হা শিমরাইল
বিস্তারিত নদীর চরায় ভেসে ওঠে নিহত জোছনা।
চূড়ায় চুম্বনের গান
আলফ্রেড খোকন
পাহাড়ে যাচ্ছো যাও
মনে রেখ নামার সময়-
পাহাড়েরা দূরে দূরে ডাকে
তারা প্রপঞ্চময়;
যেতে যেতে যেতে
পাশের দু’জন বলবে এসো
চূড়ায় চুম্বনের গল্প শেষে
নেমে আসার পর
সে মনে রাখবে না আর;
ভিড়ের ভিতর
ঠেলাঠেলি করে
পাবলিক বাসে যাচ্ছি ঝুলে
তুমি তখন বেদনা পড়াচ্ছো
কোনো দিগন্তের স্কুলে।
অপরিচয়ের অলক্ষ্য যাত্রা
ওবায়েদ আকাশ
একটি গাছের মতো আর একটি গাছ
একটি মাথার মতো আর একটি মাথা
-- এসব কেউ বিশ্বাস করে না
কারণ মানুষের মতো মানুষ হতে পারে না
তার কিছু শৈল্পিক সীমাবদ্ধতা থাকে
স্বয়ং ঈশ্বর যাকে ব্যক্তিগত সংগ্রহে রেখে
চারদিকে আলো জ্বালিয়ে দিয়েছেন
আমরা সেই আলোতে একবার মই চড়িয়েছি
ঝাঁপিয়ে পড়ে আপাদমস্তক নিজেকে সমর্পণ করেছি
ছুঁয়ে দেখতে গিয়ে হাত পুড়িয়েছি
তবু গাছের মতো গাছ সম্পর্কে কেউ বিভ্রান্ত করেনি।
একদিন গাছকে বলি: আমাতে শিকড় প্রোথিত করো, গাছ!
গাছ আমাকে মানুষের মতো মানুষ হতে বলে
আমরা কি মানুষ নই ঈশ্বর?
গাছ বলে, সত্যি, তুমি মানুষ ঠিক মানুষের মতো
এভাবে একদিন নদীর জলে স্নান করতে করতে বুঝি
নদীটা কী করে নদী হতে গিয়ে আত্মপরিচয় খুঁজে পেয়েছিল!
আমাদের আত্মপরিচয় থেকে ঠিকরে বেরুচ্ছে দ্যুতি
যার কিছুটা কাগজে পোস্টারে ব্যানারে
বাকিটুকু অপরিচয়ের অলক্ষ্য যাত্রায়!
রাগ-অনুরাগ
মোস্তাক আহমাদ দীন
আমি আজ ভেঙে ফেলি মাটির কলস
এ-জীবনে আমি আর যাব না সুরমায়।
অবিরাম বংশীধ্বনি শুনে
গৃহকাজে কোনোদিন ছিল কি রাধিকা?
জলের ছিলা করে কতদিন নেমে যায় পথে
আমার হৃদয় নাকি আউশের সুকোমল মাটি
এমন কথাটি বলে ঘর বাঁধে গোয়ালপাড়ায়।
ঝড়ের বেধারা বাওয়ে যেইদিন কেঁপেছে ঘরের
গোপন খুঁটিও,
দুচোখ খুলেও আমি এ-পাথারে কাউকে দেখি না
হৃদয়ে বেঁধেছে বাড়ি, তবু সেও যায় পরবাসে,
আমি আর খুঁজব না বঁধূয়ার সুদূর-বিদেশ
শ্বাসমূল জীবন
কুমার চক্রবর্তী
যা কিছুই পল্লবিত তাকে শূন্যে রেখে অস্তিত্বকে মাটির গভীরে পুঁতে দিই,
এভাবেই আকাশবোধ, মহাশূন্যতার খেলা চলে অহরহ, আমার জীবনে।
হাওয়াঘর আর দেহের দূরত্বে বাসা বাঁধে অজানা চড়ুই।
একদিন তারা উড়ে চলে যাবে জীবন পেরিয়ে কোনো নির্জন
মৃত্তিকার আশ্রয়ে যেখানে শ্বাসমূল আকাশের দিকে মুখ করে অবশেষে নিখিলকে
ডেকে বলে: আয় আয় আয় ।
জীবন মাটির গান, সুরগুলো গুল্ম হয়ে, পাতা হয়ে,
মর্মরের দিকে উড়ে যায়।
সূর্যাস্ত
সেঁজুতি বড়ুয়া
সূর্যাস্তের আলোয় সমুদ্রকে খুঁজতে গিয়েছিলাম
কাছে গিয়ে দেখি— অতল সমুদ্রটা কোথাও নেই
উদ্ভিন্ন পালকে সেখানে দাঁড়িয়ে বননির্জন একলা ময়ূর
অথচ পাহাড়ি শূন্যতা থেকে নেমে আসা সহজ মানুষ আমি
কোনোদিন সন্ধ্যার পুনরুত্থানে সমুদ্র দেখিনি! অপেক্ষায় থাকি—
কখন দ্রুত ফুরিয়ে যাবার মতো ঝিরঝিরে বৃষ্টি নামবে
নিঃসঙ্গ ময়ূর, নিরাপদ আশ্রয়ে জঙ্গলে ঢুকে যাবে…
নিরুপায় সমুদ্রটা, ঝাউগাছের পাঁচিল টপকে সূর্যাস্তের গা ঘেঁষে দাঁড়াবে!
———————-
রোদের পা
শামীম আজাদ
বিলেতের এই সর্ষেরঙা রোদটুকু যায় কোথায় বলুন দেখি!
পায়রা-পাহাড় আর আকাশের নোলকের নিচেই কি হায়
বার বার এইভাবে চাপা পড়ে যায়।
নাকি থিতু হয়ে বসবার জায়গাই পাচ্ছে না
হয়তো তাই শুধু দেখা যায় তার পা।
আমরাও তো ওঁকে দেখা মাত্রই
একবার সমুদ্র সৈকতে সীউইড
আরেকবার ব্রিকলেনে বৈশাখী মেলা হয়ে যাই
কিংবা ব্যাকইয়ার্ডে বার্বিকিউ করে চিকেন ঝলসাই।
রাঙারোদের আর দোষ কোথায় ভাই,
তাই তো সে সাইকেলেই মেরে দিচ্ছে
চানখারপুল থেকে লিভার পুল
কোনো লাইসেন্স ও হেলমেট ছাড়াই।
শুশ্রূষার রঙ
তমিজ উদ্দীন লোদী
ঝুল বারান্দায় বসে আছি
ল্যাভেন্ডার , পিয়নি ,ডেইজি ও অর্কিডের সমারোহে
চারপাশে শুশ্রূষার রঙ
অনতিদূরে আকাশ ছুঁবে বলে দাঁড়িয়ে আছে ওক , বার্চ ও সাঈপ্রেস
অতলান্তিক আর ইস্ট রিভার থেকে উঠে আসছে হাওয়া
ঠাণ্ডা , ভেজা
চোখ জুড়িয়ে দিচ্ছে সারসার টিউলিপ ও ক্রিসেন্থিমাম
লনের সবুজ ঘাসগুলো যেন দৃষ্টির আরাম
যদিও কোথাও মাটি ভেদ করে উঠে আসছে স্থাপত্যের কান্না
স্কাইস্ক্র্যাপারের হাঁটুর নিচে কাঁপছে তৃতীয় বিশ্বের ঠোঁট
কালো ক্রীতদাসের রক্তে বোনা নগর-ইতিহাসের ভ্রূণ
কৌণিক রৌদ্রের মধ্যে দাঁড়িয়ে দেখছি দেয়ালে দেয়ালে
লেপটে আছে স্বপ্নবিষাদ , রক্তমাখা প্যাস্টেল
দীর্ঘ পথ পেরোনো কবিতা- শিল্পের খেরোখাতা ।
সেন্ট লরেন্স নদী
রাকীব হাসান
এই যে নদী, পাশে তার পালিত বাড়ি –
এই আমার মন-বাদনের ঘরে,
নৌকার শরীর নিয়ে বাস করে একটি পাখি
তার গলুইয়ে প্রমোদে ঘুমাই কাদা মাখা বৈঠা কোলে।
নদীর জল-স্রোত-ঢেউ গাছের শিকড়ে রঙ্গ খেলে
জলের অতলে আরও এক দেহ আছে
যেখানে ঝিনুক আর পাথরের পাড়ায় মাছেদের বাড়ি –
সেন্ট লরেন্স, যে দেহ ভরে আছে জীবনের অমৃত বহর।
আমি ঢেউয়ের মদোন্মত্ত জলে সংসার করি,
বহু দূর বহু হ্রদ পার হয়ে সে এসেছে
জমাট শীতকালেও শরীরে তার আদিবাসী মোহাকদের নাচন;
এ নদীর উৎসব থামে না
দুই পারে ঋতুর রঙে চাষ হয় ফুলের স্বপ্নকাল,
বয়ে চলার ঠুমরীতে তার
বাতাস আর চাঁদের যোগান আছে –
সেন্ট লরেন্স নদী, পৃথিবীর এক রূপসী জলকুমারী
সে বহু ঘাটের বহুগামী শ্বাসের প্রেমপূর্ণ স্রোতধারা !
মিসিসিপি ঢল
বদরুজ্জামান আলমগীর
কপালের ভাঁজ-মত লোকদের জানা ছিল না
আর্মির ক্যাপ্টেন আর ঈশ্বর চক্ষুষ্মান ও কানা
আদিবাসী চোকটাও, চিকাস, ছিন্নভিন্ন চিবোকি
বুটের ত্রাসে ছোটে যেদিকে চোখ যায় সেদিকই,
বিস্রস্ত ছড়িয়ে পড়ে ওকলাহোমা থেকে কিনারা
আবিশ্ব ঘরে বিদ্যুতে গৃহহীন সিলাস ও মিনারা।
মিসিসিপির কল্লোলে প্রাণের শস্য ও দানায়
বেজান পার হয়ে যায় কোটি গৃহহীন অজানায়
নিত্য মৃতপ্রাণ সদা প্রভুর মিহি শ্লোকের পয়ার
সুশীতল নপুংসক কথাদের মোলায়েম সোয়ার,
বল্লম কালে আমরাই আদিবাসী উন্মূল সন্ন্যাস
জগৎ জোড়া রোদনে পুষ্প ট্রেইল অব টিয়ার্স।
সূর্যগ্রহণে বিলুপ্ত নয় সরীসৃপ
তাপস গায়েন
এই উদ্যানে, এই বসন্ত সন্ধ্যায়
ভূগর্ভ থেকে মায়াসিন যুগের ইঁদুরেরা উঠে আসে,
আর সুখী মানুষেরা মেষপালের মতো গৃহে ফেরে
সুউচ্চ বেদীতে ঈশ্বরের অধিষ্ঠান আছে জেনে
আমি আকাশের অবতলে চেয়ে থাকি; মনে হয়—
স্কাইস্ক্রাপারগুলো যেন নিরাসক্ত ঈশ্বর
ঠাণ্ডা বাতাস আমাকে অনুপ্রাণিত করে
ঘুম, স্বপ্ন, আর জাগরণের মাঝে আমি ঘুমিয়ে পড়ি
বন্ধুহীন এই মহানগরীতে
আবার এসেছে ফিরে অপূর্ণ সূর্যগ্রহণ,
কিন্তু আমাকে তাড়িয়ে ফিরছে
অতিকায় সরীসৃপ—
তোমার অপসৃতি, বোধকরি
এখনো বিলুপ্ত নয়…
বন্ধু বাবুল মাঝি ও আমি
শিউল মনজুর
বসন্ত ছুঁই ছুঁই করছে এই আঙ্গিনায়
অথচ, এখানে আমি একা!
তোমাকে খুঁজতে গিয়ে পথ হারিয়েছি অনেক আগেই
জংশনের ট্রেন আমাকে নিয়ে যায়নি,
বন্দরের জাহাজ সেও দূরের শহরে নোঙ্গর করেছে,
ঠাঁই নিয়েছে ভিন দেশে, ফিরেনি বহুদিন!
বসন্ত উপলক্ষে দূরের যাত্রীরা টিকেট কাটছে—
প্যারিসের, লন্ডনের কিংবা দুবাই থেকে সিঙ্গাপুরের।
কারো হাতে লাল গোলাপের ঘ্রাণ,
কারো হাতে গুচ্ছ গুচ্ছ রজনীগন্ধা,
অথচ, আমার কোনো টিকেট নেই—
আমার কোনো ব্যস্ততা নেই, নেই কোনো বসন্ত!
বসন্ত চলে যাবে পাশের বাড়ির আঙিনা ছুঁয়ে ছুঁয়ে!
তখনো বন্ধু বাবুল মাঝি ( লেখক পারভেজ বাবুল ),
কালিগাঙে নৌকার গলুইয়ে বসে-
একা একা করবে পাঠ মেঘে মেঘে বর্ষার কবিতা …
মৃতদেরও মৃত্যু হয়
শান্তা শ্রাবণী
হন্তারক নাকি তোমার পতন
দেখে খুব ক্লান্তি আসে
ঘনীভূত ক্ষরণ ; এই মনস্তাপে
ভুল কিংবা পাপ, নিয়েছি মেনে
সম্পর্ক জিজ্ঞাসায়
কয়লাশ্রমিকের উদাসীনতা পেয়ে বসে
অতিথি শুশ্রূষা এসে
স্তিমিত আলোর পাশে বসে,
রাখে হাত আত্মগোপণে আর
রাত বাড়ে নিমফুল রাস্তার ধারে..
আড়েঠারে কথা ভাঙে
এমন মৃন্ময় কারুকাজ
তোমার আঙুলে তোমার গ্রীবায়
বার বার ভুল হয়ে যায়..
যতবার স্বেচ্ছায় দন্ডের কাঠে পেতেছি মাথা
স্থূল কৌশলগুলো মধুর হেসেছে
বলেছে, এখানে মৃতদেরও মৃত্যু হয়;
মানুষ, সে সবচেয়ে সুন্দর —
এমনকি বিশ্বাসঘাতকতার পরও,
এমনকি ছেড়ে যাবার পরও,
এমনকি লাশকাটা ঘরে, শ্মশানের ছাইয়ের ভিতর!
দূরশহরের কবিতা
মুজিব ইরম
ফুটেছে ম্যাগনোলিয়া বাগানে বাগানে
পরের শহরে…
ড্যাফোডিল এসেই যেন বলে গেলো যাই…
কাঠগোলাপের দিনে
চেরিফুল ফুটিবার দিনে
আমারে পাঠিও ডাক শিমুলে পলাশে…
তোমার শহরে আমি ফিরে যাবো একদিন
জারুল ফোটার দিনে
গেন্ডা ফুল ফুটিবার দিনে…
তুমিও থাকিও ভালা এই আমি বিনে
আমারে পাইবা তুমি পুষ্প ফোটা দিনে…
সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন