https://www.prothomalony.com/
9295
literature
মৃত্যু হবে না কোনোদিন
রেজাউদ্দিন স্টালিন
মৃত্যুর পর ফিরে এসে আমি অন্য কেউ
অন্ধকার আমাকে কোলে নিয়ে হাঁটছে
রূপান্তরিত হচ্ছি প্রতিদিন
কখনো পাখি উড়ছি আকাশে
কখনো বৃক্ষ নামছি মাটিতে
মাথার উপর কোনো শিরস্ত্রান নেই
এক সময় যোদ্ধা ছিলাম
যুদ্ধ ক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে থেকে
আমার চুলগুলো ঘাস
চোখ দুটো পাথর আর
পা দুটো ক্রুশ
যে দেশের জন্য আমি লড়ছি তার কোনো মানচিত্র তৈরি হয়নি
যে শহরে আমার জন্ম
তা এখন ইতিহাসের পৃষ্ঠা
বাইবেলের বাপ্তিস্ম মুছে গেছে স্মৃতি থেকে
আমাকে উদ্ধার করতে নূহের নৌকা ছুটে আসবে না
সামনে যা দেখি সব মৃত
পেছনে প্রত্যেকে নগ্ন
সবার হাতে আমলনামা
আমাকে পাহাড় টেনে তুলছে চূড়ায়
আর সমুদ্রের ঢেউ ভাসিয়ে নিচ্ছে অতলে
ক্ষুধার্ত আমার জন্য আকাশ পাঠায় মান্না- সালুয়া
কিন্তু মাটিতে পড়ার আগেই
কেড়ে নেয় মুসার সৈনিকেরা
জানি ত্রাতা ঈসা আর আসবে না
পুনরুত্থানও হবে না
আর আমার মৃত্যুও হবে না কোনোদিন
মরতে ভুলে গেছি আমি
প্রথম পর্যটন
রেজাউদ্দিন স্টালিন
বাঁচতে চাই দীর্ঘদিন বাঁচার জন্যেই
মেতেছি আজ সমুদ্র মন্থনে।
বেগুনি সব জলের সেতু পেরুতে গিয়ে দেখি,
বিপুল তল আটকে আছে রিপুর বন্ধনে।
লুপ্ত যত নগর থেকে বিস্ফোরক ঘোড়া,
ফাটিয়ে ক্ষুর হ্রেষাধ্বনি ছুটছে মন্দারে।
লক্ষ নাগ ফেলছে বিষ ক্লান্তিহীন ফণা,
পেরুতে গিয়ে ছিন্ন হই সীমান্তের তারে।
অমৃতের পাত্র কই লক্ষদূর নিচে-
নামছি দ্রুত দুমড়ে জল পানির পল্লবে।
পর্যটন প্রথম শুরু বিষমাখা পিরিচে।
বাঁচার জন্য মরতে হবে নিত্য অসম্ভবে।
চার দেয়ালের ভেতরে বাস পাক খাওয়া অন্তর,
অমৃতের বলক ওঠে জিহ্বার চুল্লিতে।
টগবগিয়ে ফুটতে থাক অশ্রুত অক্ষর,
এসেছি আজ অমর হবো সেই সংবাদ দিতে।
সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন