https://www.prothomalony.com/
9233
literature
শিল্পঘরে ঈদ আনন্দ
"ঈদ মানে খুশি, ঈদ মানে আনন্দ,
ঈদ আসে ভুলিয়ে দিতে সকল বিভেদ দ্বন্দ্ব
ঈদ মানে ভুলে যাওয়া যতো দুঃখ ভয়
ঈদের মত সবার জীবনটা হোক দীপ্তিময়।"
ঈদুল ফিতর মানেই সে-ই আনন্দঘন উৎসব যা দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর আসে। মনের সব কালিমা দুর
করে, মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ভুলে, মানর সকল অভিমান বির্সজন দিয়ে সবাই হাতে হাতে মেলায়, বুকে বুক মেলায়।সবার দেহ-মন এক হওয়ার আনন্দ হলো ঈদের আনন্দ। ঈদ মানে নিজের মনের হিংসা ঘৃণা, লোভ, অহঙ্কার, অহমিকা, আত্মম্ভরী, আত্মশ্লাঘা, রাগ-ক্রোধ, বিদ্বেষ যাবতীয় কুপ্রবৃত্তি থেকে নিজেকে মুক্ত করার আনন্দ। ঈদ মানে সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ঐক্য। নৈতিক, আত্মিক ও সামাজিক পরিশুদ্ধির সীমানা পেরিয়ে সামষ্টিক কল্যাণ নিয়ে আসে ঈদ।
ঈদ আসে কৃচ্ছ্র ও শুদ্ধতার প্রতীক হয়ে। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত এবং অফুরন্ত কল্যাণের আলোক ছড়িয়ে ঈদ আসে। ঈদে ছোট-বড় সবাই বাহারি পোশাকে নিজেকে সাজান। ঈদের দিনকে ঘিরে সবার মনে থাকে আনন্দ ও উল্লাস। এই দিনে কি খাবেন, কি পরবেন, কোথায় যাবেন, এসব বিষয় নিয়ে আগে থেকে পরিকল্পনা শুরু করেন অনেকেই। ঈদের পোশাক নিয়ে সবার মনেই নানা পরিকল্পনা থাকে। বিশেষ করে ঈদের দিন নারীরা পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে কেমন মেকআপ করবেন, তা নিয়ে চিন্তিত থাকেন।
আসলে ঈদের সাজ সুন্দর না হলে যেন ঈদ উৎসবই ম্লান হয়ে যায়। তবে সাজসজ্জার আগে অবশ্যই আবহাওয়ার দিকে নজর রাখা জরুরি। কোন পোশাক পরছেন ও কীভাবে সাজছেন তা অনেকটাই আবহাওয়ার উপর নির্ভর করে।
শিল্পঘর আজ-ঈদের নামাজ, ঈদের সাজ-পোশাক, ঈদের মেহেদি এবং বিভিন্ন দেশের ঈদের প্রধান খাবার নিয়ে উপস্থিত হয়েছে আপনাদের সামনে। সবাইরে ঈদ শুভেচ্ছা।
-রোকেয়া দীপা।
ঈদের নামাজ
প্রবাসে বিভিন্ন স্টেটে যেখানে মুসলিম কমিউনিটি বসাবাস করে সেখানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে এবং ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়।নানা রঙ বেরং এর পোষাক পরে ছোটবড় পুরুষ ,মহিলা সকলে প্রবাসে বিভিন্ন মসজিদ ও কমিউনিটি সেন্টারে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেন। প্রতিটি ঈদের জামাতে মুসল্লিদের ভিড় সব সময়ে চোখে পড়ার মতো হয়। ঈদের জামাত শেষে মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। ঈদের নামাজ যেখানে হয় সেইসব স্থানে বিভিন্ন রকম খাবার পরিবেশন করা হয়।এছাড়াও ছোট বাচ্চাদের জন্য চকলেট, খেলনা উপহার হিসেবে দেওয়া হয়। নতুন কাপড় পরে পবিত্র নামাজ শেষে আত্মীয়স্বজন বন্ধুবান্ধবের বাসায় বাসায় হাজির হয়ে সবাই ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন। ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের ঈদের সালামি আদায়ে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। এই ঈদ সালামি বাচ্চাদের জন্য ঈদের আনন্দকে দিগুণ দেয়।
ঈদের সাজ-পোশাক
ঈদ মানেই নতুন পোশকের সঙ্গে সুন্দর সাজে নিজেকে উপস্থাপন করা। এছাড়া ঈদের সাজটা সুন্দর না হলে যেন ঈদ উৎসবটাই ম্লান হয়ে যায়। মেয়েদের সাজে সময় ও আবহাওয়া বুঝে পোশাক বাছাই করা দরকার বলে অনেকে মনে করেন। এই সাজ-পোশাক নিয়ে কথা হয় ফাইজার এর প্রোসেস সেনট্রিক টিম ম্যানেজার এবং চিত্রপট বুটিক এর কর্ণধার প্রজ্ঞা পারমিতার সাথে। তিনি বলেন, 'সাম্প্রতিক সময়ে ফ্যাশন খুব পরিবর্তনশীল। কিছুদিন পরপর হাওয়া বদলের সাথে আমরা ফ্যাশনে একটা নতুন চল দেখতে পাই এবং এটি অনুসরণ করা শুরু করি। খুব গর্বের সাথে বলতে চাই যে, এই মুহুর্তে আমাদের দেশীয় ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করেই ফ্যাশন আবর্তীত হচ্ছে। ঈদ উদযাপনে আমরা তারই প্রতিফলন দেখব বলে আশাবাদী। এবারের ঈদে সাজপোশাকে দেশীয় জামদানি, মসলিন আর টাঙ্গাইলের শাড়ি প্রধান্য পাবে বলে মনে হয়। তার সাথে সাথে বরাবরের মতন অন্যান্য দেশের সালোয়ার কামিজ এরও চল দেখা যাবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শীত প্রায় চলে যাচ্ছে এবং বসন্ত শুরু হচ্ছে। পোষাকের বিভিন্ন উপকরণ, রঙ এবং বৈচিত্র নিয়ে পরীক্ষা করার জন্য এটি একটি খুব মিষ্টি আবহাওয়া। ঋতুরাজ বসন্তের আগমনীতে প্যাস্টেল রঙের উপর প্রাধান্য দিচ্ছেন ক্রেতারা। ঈদের সকালটায় খুব ব্যস্ত সময় কাটে। তাই সকালের সাজটা ন্যাচারাল হওয়াই ভাল। এসময় খুব হালকা মেকাপ আর প্যাস্টেল রঙা শাড়ি বা কামিজে নিজেকে সাজানো যায়। এতে করে স্নিগ্ধতা এবং আরাম দুটো দিকই প্রকাশ পাবে।হাজারো কাজের মাঝে নিজের জন্য একটু সময় বের করে, দিনের শুরুটাও উপভোগ করা যাবে। শাড়ি অথবা কামিজ, তার সাথে খুব হালকা মেকআপ করে নেওয়া যেতে পরে।। একটু কনসিলার, পাউডার ফাউন্ডেশন, সাথে লাইট ব্রোঞ্জার এবং ব্লাশ মানানসই হবে। চোখের সাজটা টেনে দেওয়া যেতে পারে কাজল দিয়ে আর সাথে মাসকারা। মিষ্টি কোন সুগন্ধি দিয়ে সকালের সাজের পূর্ণতা হবে। তবে রাতের সাজটা হতে হবে গর্জিয়াস এবং আকর্ষণীয। একটু ভারী ধাঁচের শাড়ি, গাউন বা কামিজ মানানসই হবে। হালের ফ্যাশন হল বাহারি ব্লাউজ। খুব স্টাইলিশ বা ভরাট কাজের ব্লাউজ আর ম্যাচিং জুতো কিন্তু পুরো লুকটাকে একটা আলাদা মাত্রা দিবে। সাথে ভারী বেস মেকআপ, প্রচুর হাইলাইটার আর পোষাকের সাথে মিলিয়ে চোখের সাজ। প্রিয় সুগন্ধির সাথে আপনার পছন্দের গয়না পরতে কিন্তু ভুলবেন না!"
ঈদের মেহেদি
মেহেদি ছাড়া ঈদ অসম্পূর্ণ মনে হয়। মেহেদি পরার এই আনন্দ বর্ণিল হয়ে রঙ ছড়িয়ে পড়ে সবার মাঝে। ঈদের আনন্দকে বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ। উৎসব আর মেহেদি এই নাম দুইটা এক সুতায় গাঁথা। মেহদি দিয়ে হাত রঙ্গিন করা ছাড়া কোনো আনন্দ উৎযাপন করা যেন পরিপূর্ণতা পায়না।
প্রাচীন কাল থেকে কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে পালাপর্বনে সবকিছুতেই মেহেদি ব্যবহার হয়ে আসছে। ঈদ আসলে যেন মেহেদির ব্যবহার আরো বেশি বেড়ে যায়। চাঁদ রাতে হাতে মেহেদি লাগানোর প্রচলন অনেক আগের থেকে রয়েছে। ঈদের একদিন আগে হাতে মেহেদি লাগালে এর রং অনেক ভালো থাকে বলে চাঁদ রাতে অনেকই মেহেদি হাতে লাগায়। ঈদের সাজে মেহেদি হয়ে উঠে একটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। ধারণা করা হয় মুহম্মদ সা: এর মেহেদি ব্যবহারের তথ্য মুসলমানদের মেহেদি ব্যবহারের প্রতি আগ্রহী করেছেন। এছাড়া নারীদের সাজের একটা সুন্দর অংশ হচ্ছে মেহেদি। ভারতীয় উমহাদেশে একসময় মেহেদির ব্যবহার মুসলিম সমাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।পরবর্তীতে মোগল সম্রাজ্যের জনগণ এইটা প্রসারিত করেন।
মেহেদির প্রচলন ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে শুরু হলেও পরবর্তীতে এই প্রথাটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয় পেয়েছে। এখন মানুষ এটাকে সার্বজনীন রূপে গ্রহণ করেছেন। একেক দেশে একেক ভাবে মেহেদি ব্যবহার করা হয়। আমাদের দেশে এমনকি এই প্রবাসেও ঈদের রঙ আরো রঙিন করতে মেহেদির ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। বর্তমানে টিউব মেহেদি ব্যবহার বেশি হলেও সব সময় এমন ছিলনা চিত্র। গাছের পাতা ছেঁড়া থেকে বাটা পর্যন্ত একটু একটু করে ঈদের আনন্দের রঙ পরতে পরতে ছড়িয়ে রূপ নিতো পারিবারিক উৎসবে। কালের বিবর্তনে বাটা মেহেদি যেমন স্থান পেয়েছে বাণিজ্যিক টিউবে তেমনি নকশায় এসেছে ভিন্নতা। নানা রকম সজ্জার সাথে মানান সই মেহেদি আলপনায় নিজের সৌখিনতা ফুটিয়ে তুলতে পেশাদার নকশাদারের দারস্থ হন অনেকেই। তাই চাঁদরাতে জ্যাকসন হাইটসে, ব্রুকলিন চার্লস মেকডোনাল্ড, জ্যামাইকা, এডিসন , পিটারসন সহ অনেক জায়গায় মেহেদি পরানোর ভিড় চোখে পড়ার মত দেখা যায়।
আধুনিকতার এই যুগে মেহেদি লাগানোর অনেক পরিবর্তন আসলেও একে ঘিরে পারিবারিক উৎসবে রঙ হারায়নি এত টুকুও। বরং চাঁদরাতে মেহেদি উৎসব পারিবারিক বন্ধন কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়।
রিমি রুম্মান এর ঈদ আনন্দ
নিউইয়র্ক এর কুইন্স এ বাস করেন রিমি রুম্মান। চমৎকার গদ্য, গল্প লিখেন তিনি। তাঁর লেখায় একটা গভীর বোধ, উপলদ্ধি থাকে যা সহজেই পাঠকদের মুগ্ধ করে। ঈদ আনন্দ নিয়ে রিমি রুম্মান জানান,
"বদলে গিয়েছে প্রবাসে ঈদ উদযাপনের ধরন। প্রায় তিন দশক আগে আমি যখন দেশ ছেড়ে এই নিউইয়র্ক শহরে আসি, তখন আমার কাছে ঈদ মানেই ছিল নিঃসঙ্গ বেদনার নাম। অতিশয় কষ্টের একটি দিন। স্বজন-সান্নিধ্যের জন্য হাহাকার ও দীর্ঘশ্বাসের দিন। এই শহরে কোথাও ঈদের আমেজ ছিল না। কেনাকাটার ধুম ছিল না। বন্ধু-পরিজন ছিল না। ঈদের দিন কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়তাম। অন্য আর সব দিনের মতোই খুব নীরবে কেটে যেত দিনটি। সময়ের সাথে সাথে আমাদের বন্ধু-স্বজন বেড়েছে। মুসলিম কমিউনিটি বিস্তৃত হয়েছে। ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে রমযান পালিত হচ্ছে। রেস্তোরাঁগুলোয় ইফতারের ব্যাপক আয়োজন চলে। জমজমাট ঈদ-শপিং, ঈদ-মেলা উৎসবের আনন্দকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।
গত বছর ঈদের কয়দিন আগে আমার এক বন্ধু বাংলাদেশ থেকে নিউইয়র্ক এসেছিল অফিশিয়াল ট্যুরে। চাঁন-রাতে তাঁকে জ্যাকসন হাইটস-এ নিয়ে গিয়েছিলাম। মেহেদি উৎসব, আতশবাজি ফোটানো, ভিড়ভাট্টা আর ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাক দেখে সে বিস্ময়ে চোখ গোলাকৃতি করে বলল, 'প্রবাসে তোদের ঈদ-আনন্দ তো দেশের আনন্দকে ছাড়িয়ে গিয়েছে রে!' উৎসবের আনন্দ শুধু জ্যাকসন হাইটস পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়। জ্যামাইকা, ব্রুকলিন, ব্রংক্স সবখানে ছড়িয়ে পড়েছে।
এবার আসি, কীভাবে আমরা পরিবার নিয়ে ঈদ উদযাপন করি, সে বিষয়ে। একমাস সিয়াম সাধনা শেষে ঈদ-আনন্দ মানেই এক মহামিলন। প্রবাসে জন্ম ও বেড়ে ওঠা সন্তানদের নিয়ে আমাদের বিশাল বন্ধু-বাহিনী। বিধায় সকলে মিলে আগে থেকেই পরিকল্পনা থাকে ঈদের দিনটি কেমন করে সাজাবো। ভোরের দিকে পাঞ্জাবি-পাজামা পরে সকলে নামাজ আদায় করতে চলে যায়। নামাজ শেষে পরস্পরের সঙ্গে কোলাকুলি করে। এটি সকলকে সম্প্রীতি, সৌহার্দ ও ভার্তৃত্বের বন্ধনে নতুন করে আবদ্ধ করে। তারপর কোনও এক বন্ধুর বাসায় সকলে মিলিত হই। সেখান থেকে একে একে আমাদের সব কয়টি গাড়ি ছেড়ে যায় পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। সব বন্ধুদের বাসায় ঢুঁ মারতে হয়। কিছু না কিছু খেতে হয়। কিন্তু মূল উদ্দেশ্য দিনব্যাপী সকলে এক সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটানো। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে খাবার-দাবার সঙ্গে নিয়ে চলে যাই প্রকৃতির সান্নিধ্যে। অনেকটা বিশাল এক একান্নবর্তী পরিবারের মতো ঘাসের ওপর বসে একত্রে খাওয়া-দাওয়া চলে। নিউইয়র্ক সিটির শিক্ষার্থীরা ঈদের ছুটি পাওয়ায় আমাদের সন্তানদের ঈদ-আনন্দ কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। দিনভর ঘোরাঘুরি, আড্ডা, খাওয়া, একত্রে সময় কাটানো শেষে সীমাহীন আনন্দ নিয়ে আমরা বাড়ির পথে ফিরি মধ্যরাতে।
বিদেশ-বিভূঁইয়ে এমন একটি অসাধারণ উৎসবের দিন কাটাতে পেরে সৃষ্টিকর্তাকে কৃতজ্ঞতা জানাই। সকলকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা।"
ঈদের খাবার
নতুন পোশাকে ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি ঈদের অন্যতম আকর্ষণই থাকে মিষ্টি, ঝাল স্বাদের মুখরোচক নানান খাবার-দাবার। তবে দেশ ভেদে ঈদের ঐতিহ্যবাহী খাবারে ভিন্নতা রয়েছে। যেমন, তুরস্কে 'লোকুম' যা হরেক রঙের মিষ্টির টুকরো। এই 'লোকুম' মূলত টার্কিশ ডিলাইট। মরোক্কোতে ঈদের বিশেষ খাবারের নাম হলো 'তাজিন।' ঐতিহ্যগতভাবে এই রান্নাতে ব্যবহার করা হয় মাটির পাত্র যেটার নাম তাজিন। আর ওই মাটির পাত্রের নামানুসারে রান্নার নামকরণও হয়েছে তাজিন। সাধারণত ভেড়া ও গরুর মাংস দিয়ে তৈরি করা হয় এই খাবারটি। তবে মাংসের সাথে নানারকম সবজি ও মশলার মিশ্রণও থাকে এতে।
আফগানিস্তানের 'বোলানি', এবং বসনিয়ার এতিহ্যবাহী এক খাবার হলো 'তুফাহিজা।' এই বিশেষ রেসিপিটি ঈদসহ বিশেষ দিনে বসনিয়ানরা তৈরি করে থাকেন। আপেল সেদ্ধ করে তৈরি করা হয় এটি। সেদ্ধ আপেলের মধ্যে আখরোট বাদামে ভরাট করা হয় এবং হুইপড ক্রিম দিয়ে উপরে সাজানো হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে ল্যাম্ব রোস্ট ও মাখন দিয়ে তৈরি কুকি বা বিস্কুট এবং
ঈদ আয়োজনে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে মাংসজাতীয় খাবার বিশেষ করে 'ল্যাম্ব রোস্ট' ভীষণ জনপ্রিয়। বিভিন্ন দেশে অবশ্য এর ভিন্ন ভিন্ন নাম রয়েছে। যেমন-সিরিয়া, লেবাননে এর নাম - মামুল, ইরাকে একে বলা হয় ক্লাইচা এবং মিশরে এর নাম কাহাক। লেবাননে ঈদ উদযাপন মামুল ছাড়া অসম্পূর্ণ বলে মনে করা হয়।
বাংলাদেশ সহ পুরো দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে ঈদের দিনে সেমাই পরিবেশন করা হয়। বাংলাদেশের অনেক এলাকায় হাতে বানানো চালের সেমাইও পরিবেশন করেন। শুধু ঘি, চিনি দিয়ে সেমাই রান্না করা যায়। আবার ঘন দুধ ও চিনি দিয়েও অনেকে রান্না করে থাকেন।
ঘন দুধ দিয়ে রান্না করা সেমাই পাকিস্তান ও ভারতের মুসলিমদের কাছে 'শীর খুরমা' নামে পরুচিত।
মিয়ানমারের মানুষেরা ঈদের দিন তাদের ঐতিহ্যবাহী এক খাবার 'শাই মাই' তৈরি করে থাকেন। আমাদের সেমাইয়ের মতোই রান্না; তবে তা ভিন্ন উপায়ে রান্না করা হয়।
রাশিয়ার জনসংখ্যার কমপক্ষে ১৫ শতাংশ মুসলিম।ঈদের দিনে তাদের অনেকের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবার - মানতি। এটি এক ধরনের ডাম্পলিং বা পুলি পিঠা। মাখানো আটার ভেতর ভেড়া বা গরুর মাংসের কিমার পুর দিয়ে তা ভাপে দেয়া হয়। পরিবেশন করা হয় মাখন এবং সাওয়ার ক্রিম দিয়ে।
চীনের বেশিরভাগ মুসলিমদের কাছে ঈদের দিনের প্রিয় খাবার হলো সেখানকার ঐতিহ্যবাহী 'সাঙজা।' ময়দার লেই দিয়ে মোটা করে নুডলস বানিয়ে তা ডুবো তেলে কড়া করে ভাজা হয়।
ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় ঈদ আয়োজনে রাখা হয় নানা ধরনের মুখরোচক মিষ্টি। এর পাশাপাশি থাকে ঐতিহ্যবাহী খাবার 'কেটুপাত'। পাম গাছের পাতায় মোড়া এক ধরনের চালের আটার পিঠার মতো এটি।
ব্রিটেনের মুসলিমদের কাছে ঈদের দিনে জনপ্রিয় একটি খাবার হলো বিরিয়ানি। চাল, মাংস এবং সবজি দিয়ে তৈরি এই মুখরোচক খাবারটির সাথে থাকে দই এবং পুদিনার চাটনি। খাদ্য বিশেষজ্ঞদের মতে. ব্রিটেনে বিরিয়ানির জনপ্রিয়তার অন্যতম একটি কারণ হলো- এখানকার জনসংখ্যার পাঁচ শতাংশ দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত।
সোমালিয়ায় জনপ্রিয় হলো ক্যাম্বাবুর, যা পাতলা রুটি বা প্যানকেকের মতো দেখতে। সোমালিয়ায় খুবই জনপ্রিয় খাবার এটি। মাংস বা সবজির সাথে গরম গরম পরিবেশন করা হয় ঐতিহ্যবাহী এই প্যানকেক। চিনি এবং দই দিয়ে আলাদাভাবে খাওয়া হয় এটি।
ইথিওপিয়ায় এটির নাম -ইনজেরা এবং সেখানেও ঈদ উৎসবসহ অন্যসব আয়োজনে খুব জনপ্রিয় এই খাবারটি। ঐতিহ্যবাহী এই খাবারটি ইরিত্রিয়া, ইয়েমেন ও সুদানেও বেশ জনপ্রিয়।
ঈদের নামাজ, খাবার, পোশাক, মেহেদির সাজে এই ঈদের আনন্দ থাকুক আমাদের মনে সারা বছর জুড়ে। আবারো ঈদ শুভেচ্ছা।
সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন