https://www.prothomalony.com/

7781

foundation

ফাউন্ডেশন 

উত্তরের জনপদ

প্রকাশ: ১৯ ডিসেম্বর ২০২৩ ০৬:৪৫

বিচ্ছেদ আমাদের জীবনের একটা স্বাভাবিক বিষয় হলেও বাবা-মা'র বিচ্ছেদের পর সন্তানের জন্য পরবর্তী জীবনযাপন অনেকটাই কঠিন হয়ে ওঠে। একজন সিঙ্গেল মা'ই জানেন সেই কষ্টের পরিধি। সংসারের পিছনে আর্থিক সহায়তা দিয়ে গিয়ে সেই মা'কে মানসিক ও শারীরিক ভাবে কঠোর শ্রম দিতে হয়। সন্তানের ভালো-মন্দ চাহিদা পূরণে বদ্ধপরিকর থাকেন সেই মা। শুধু তাই নয়, সন্তানের নৈতিক গুণাবলী ধারণ করানোর জন্যেও একজন মা'কে প্রতিপদে বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে হয়। সন্তানের নানান প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বেড়াতে হয় দিনশেষে। তার ফলস্বরূপ একদিন যখন সন্তানেরা মানুষের শুদ্ধ গুণাবলীতে ঠিকঠাক মানুষ হয়ে ওঠে, তখন সেই মায়ের সব কষ্ট লাঘব হয়ে যায়। এভাবেই উত্তর আমেরিকার 'জনপদ' এগিয়ে যায়, শতশত মানুষের ঘটনা জোড়া দিয়ে। ধন্যবাদান্তে—সোহানা নাজনীন। 


সে ঈদের নামাজে মসজিদে যায় না

ছেলে হুট করেই সেদিন এক জায়নামাজ কিনে বাড়ি ফিরল। মায়ের হাতে দিয়ে বলল, 'মা! জ্যামাইকার মেইন রোড থেকে এটা তোমার জন্য কিনলাম। এক বুড়ো বাঙালি লোক সুন্দর কিছু জায়নামাজ বিক্রি করছিল। শীতের মধ্যে লোকটা এগুলো নিয়ে ফুটপাথের এক কোণায় দাঁড়িয়ে ছিল, সেখানে কোন হিটারের ব্যবস্থা নেই। দেখে মনে হল আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো না। খারাপ লাগল, তাই একটা জায়নামাজ কিনে নিলাম উনার থেকে।' 

মা বলল, 'ঘরে তো ছিল জায়নামাজ, আবার কেন খামোখা টাকা খরচ করলে?' 

'বুড়ো লোক, দাদুর মতো বয়স হবে। দেখে মনে হলো নিউইয়র্কে আপনজন তেমন নেই। থাকলে তো তিনি এ বয়সে শীতের বিকালে ফুটপাতে জায়নামাজ বিক্রি করতেন না। হেল্প করতে মন চাইল কিন্তু তিনি তো এমনিতে টাকা নেবেন না। তাই কিনলাম। দামের থেকে একটু বেশি ডলার দিয়ে এসেছি।' 

নাজমা, জায়নামাজটা হাতে করে নেড়েচেড়ে দেখলেন। জিনিসটা টার্কির তৈরি, সিজদা দেবার জায়গাতে ছোট্ট একটা কম্পাস লাগানো। তাতে করে যে কোনো জায়গাতেই কেবলার অবস্থান জানা যাবে। সবুজ মখমলের মতো জমিনের উপর ফুলকাটা নকশা করা। সেটাতে হাত বুলাতে বুলাতে নাজমার মনে পড়ে গেল সেই বহুবছর আগের কথা।

আমেরিকায় বিয়ে হয়ে আসার পর তার ছেলের জন্ম হয়। আট বছর না গড়াতেই স্বামীর সাথে ছাড়াছাড়ি। ছেলে তখন তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। পড়াশোনায় বেশ ভালো ছিল। নাজমা তাকে কোরআন পড়া শিখিয়েছে স্কুলের পড়ার পাশাপাশি। শনি-রবিবার ছুটির দিনে তিন ঘন্টা করে এ্যাস্টোরিয়ার এক মসজিদে নিয়ে যেত। সেই ফাঁকে নাজমা ওই এলাকার দুটো  বাচ্চাকে টিউশন করতো, তারাও তৃতীয় শ্রেণিতে পড়তো।বাচ্চার আরবি শিক্ষার খরচ, খেলার প্রোগ্রামের বাড়তি খরচ যোগাতেই সে এ কাজটা করতো।

সেইসব দিনের কথা মনে পড়লে আজও মন ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে নাজমার। এই ব্যয়বহুল শহরে একলা হাতে কাজ করে নিজের পড়ার খরচ চালানো, সংসার চালানো, বাবা ছাড়া একটা বাচ্চাকে বড়ো করে তোলা, তার শখ-আহ্লাদ পূরণ করা-সহজ নয়। এসব করতে গিয়ে সে  হিমশিম খেতো। ছেলেটাও বয়সের তুলনায় বেশি পরিপক্ক ছিল, রাস্তায় বের হলে সহজে কিছু কেনার জন্যে বায়না ধরতো না। তারপরেও মাঝেমধ্যে ছেলের প্রয়োজনগুলো মিটিয়ে দিতে নাজমার  অবস্থা আইটাই হয়ে পড়তো। ছেলেকে খুব কষ্ট করে তিলে তিলে মানুষ করে গড়ে তুলছিলেন নাজমা। বিলাসী বা চকচকে জিনিসের বাহুল্য দিতে না পারলেও মনুষ্যত্ব দিতে পেরেছিলেন সময়মত।   

ছেলে ঈদ পছন্দ করতো।  ঈদের দিন খুশি মনে পাজামা পাঞ্জাবি পরতো। বছরে দু'বার মসজিতে যেত ঈদের নামাজ পড়তে। নাজমা-ই তাকে ঈদের দিন নামাজে নিয়ে যেত নিজ এলাকার মসজিদে। তখন তারা থাকতো কুইন্সের ইউনিয়ন স্ট্রিটে, বাসা থেকে মসজিদের দূরত্ব ছিল মাত্র ২০ মিনিটের হাঁটার পথ। নামাজ শেষে মসজিদের বাইরে রাখা আইস্ক্রিম  গাড়ি, পপকর্ন আর ক্যান্ডির ঠ্যালা ছিল বাচ্চাদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ। ওগুলো সব ফ্রি আজকের জন্যে, যেটা খুশি  বেছে নাও, কেউ টাকা চাইবে না। 

একবার এক ঈদের নামাজ শেষে মায়ের সাথে বাড়ি ফেরার পথে, ছেলের মন ভার হল। বাড়ি ফিরে সে কিছুই খেলো না, বাইরেও গেল না। পুরো ঈদের দিনটা চুপচাপ রইল। সন্ধ্যায় নাজমা তাকে নিয়ে গল্প করার ফাঁকে কৌশলে জানতে চাইল, কি হয়েছে। ছেলে তখন মিডল স্কুল শুরু করেছে, তেরো এর মতো হবে বয়স। ওই বয়সেই সে চাপা স্বভাবের, বেশি বলতে চায় না। নাজমা নানান কথায় ভুলিয়ে-ভালিয়ে অবশেষে কথা বের করল। 

'মা! মসজিদ ছাড়া যদি আমি ঘরে ঈদের নামাজ পড়ি তবে কি আমি মুসলমান থাকব না?' 

নাজমা অবাক হলো এমন প্রশ্নে। ছেলে হঠাৎ কেন এমন কথা বলছে ভেবে পেল না। 

'কে বলেছে এ কথা?' 

'কেউ বলেনি। আমিই বলছি।' 

'কি হয়েছে বাবা? কেউ কি তোমাকে কিছু বলেছে?' 

ছেলে তখনো গোমড়া মুখ করে আছে। আবারে সেই একই প্রশ্ন- 'মা, আমি মসজিদে না গিয়ে  বাড়িতে নামাজ পড়লে কি নামাজ হবে না?' 

'হবে। একশো বার হবে। পৃথিবীর যে কোনো প্রান্ত থেকেই তুমি আল্লাহ্ কে ডাকো না কেন, উনি সেই ডাক শুনবেন।' 

ছেলে আর কোনো কথা না বলে চুপ করে তার ঘরে চলে গেল। কিন্তু নাজমা সারারাত ছেলের এমন প্রশ্নে আতঙ্কে রইল। সে বুঝতে পেরেছিল যে কিছু একটা হয়েছে মসজিদে। পরের দিন নাজমা অনেক চেষ্টা করে ছেলের মুখ থেকে আসল কথা বের করল।

সেদিন ঈদের নামাজে মসজিদে যাবার পর তার এক স্কুল বন্ধুর সাথে দেখা হয়। পাকিস্তানি বন্ধু। সেও বাবার সাথে নামাজ পড়তে এসেছিল। তাকে দেখে খুশিতে টগবগ করতে করতে সে তার বাবাকে ডেকে বলছিল, 'ড্যাড, ও আমার ক্লাসে পড়ে, অনেক ভালো বন্ধু আমার।' 

বন্ধুর বাবা পরিচিত হলো। তারপর জানতে চাইল, তুমি কার সাথে এসেছো?  

ও বলল, মায়ের সাথে। মা গাড়িতে বসে আছেন।

তখন তার বন্ধু বলে উঠল, 'ড্যাড! ওর বাবা নেই তাই ওর মা নিয়ে আসে মসজিদে।' 

তখন মসজিদের কেউ কেউ তার দিকে তাকাচ্ছিল। কেউ একজন মুখ ফসকে বলেও ফেলেছিল, 'মা তো ছেলেকে মসজিদে আনতে পারে না, এটা বাবার কাজ।' 

ছেলেটা খুব লজ্জা পেয়েছিল সেদিন। তার মন খারাপ হয়। তাই সে ঈদের দিনে চুপচাপ ছিল। আর মা'কে বলেছিল, সে আর মসজিদে যাবে না। বাড়িতে ঈদের নামাজ করবে।

সেই থেকে ছেলেটা আর ঈদের নামাজে মসজিদে যায় না। ঘরে থেকেই নামাজ করে। নাজমা তাকে জোর করেনি কখনো। সে চায়নি বাবা ছাড়া বেড়ে উঠা তার শিশুটি অন্য কারো দ্বারা মানসিকভাবে আহত হোক। নামাজ ঘরে বসেও করা যায়।  

সেই ছেলে এখন বড়ো হয়েছে। মায়ের জন্য জায়নামাজ কিনেছে। বৃদ্ধ একটা লোককে শীতের বিকালে কাজ করতে দেখে তার মন ব্যাথিত হয়েছে। সাহায্য করার চেষ্টা করেছে। মায়ের শিক্ষা তাহলে বৃথা যায়নি! মানুষের দুরাবস্থা দেখে যেন তার সন্তান অন্তর দিয়ে অনুভব করতে পারে, এটাই তো চেয়েছিলেন নাজমা। আজ তার  চোখে খুশির কান্না, প্রবাসে তিনি একজন সফল সিঙ্গ্যাল মা হিসাবে গর্ববোধ করতে পারেন। 


 

চলতি পথে হঠাৎ শেখা 


(১)

৯০ডিগ্রির উপর তাপমাত্রা। নিউইয়র্কের ব্রডওয়ে জংশনের এক কোণে মেক্সিকান নারীটির কাঁধে পুঁটলির মতো কিছু একটাতে ছোট শিশুটি দোল খাচ্ছে। সামনে তার ছোট একটা ফুডকার্ট, সেখানে স্লাইস করা আম, জুস আর নারকেলের প্যাকেট। প্রতি প্যাকেটের মূল্য ৪ ডলার। 

আমি এসি গাড়িটির ভেতর বসে আছি আরামে। আমার স্বামী গাড়িটি সাইড পার্কিং করে ঠান্ডা ড্রিক্সস্ আনতে গিয়েছেন। যাবার কিছুক্ষণ আগে তাকে ঝেঁড়ে দিয়েছি এসির মাত্রা বাড়াতে। গরমে মরে যাবার অবস্থা। 

১২ বছর যাবত মেক্সিকান নারীটি নিউইয়র্ক সিটির রাস্তার বিক্রেতা। গ্রীষ্মকালে তিনি ব্রডওয়ে জংশনের মধ্য দিয়ে যাওয়া যাত্রীদের কাছে আম এবং অন্যান্য ফল বিক্রি করেন। শীতকালে, অবস্থা বেশ খারাপ হয়। দুইবছর আগে তাকে অ্যাডামস প্রশাসনের দ্বারা অভিযুক্ত জীবন-মানের লঙ্ঘনের একটি ক্র্যাকডাউনের অংশ হিসাবে পুলিশ গ্রেফতার করেছিল। তাকে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ স্টেশনে আনা হয়েছিল। কয়েক ঘণ্টা পর তাকে সমন দিয়ে ছেড়েও দেওয়া হয়। তবে তার ফুডকার্ট ও খাবারগুলো সব ফেলে দেয়া হয়েছিল। সে শুধু বলেছিল, "আমাকে আমার মেয়েদের জন্য লড়াই করতে হবে।" 

আমি একটু নড়ে বসলাম। এসিটা এবার বন্ধ করে দিয়ে গাড়ির কাচ জানালা খোলে দিলাম। 
 

(২)

মহিলাটিকে প্রায় সময়ই দেখি আমার বাড়ির সামনে রাখা গার্বেজ ব্যাগগুলি হাতরে, ছোট ছোট পানির বোতলগুলি তুলে নেন। বিষয়টা কেমন যেন লাগতো। এ দেশে কি কাজের অভাব আছে? 

সেদিন সামনে পড়ে গেলেন তিনি। সালাম বিনিময়ের সাথে শুরু করলাম আলাপ, বাঙালিপনা স্বভাবে। হঠাৎ তিনি আমাকে সামনে রেখেই গার্বেজ ব্যাগ খুলে বোতল টুকাতে শুরু করলেন। আমি তো হতবাক। ভেবেছিলাম, আমাকে দেখে হয়তো তিনি বোতল টুকাতে লজ্জা পাবেন। কৌতুহল বাড়তেই লাগল ঘটনা জানার। 

যখন জানতে পারলাম, ২৩ ডলার বেতনে হোমএইডের সিটি জব করেও তিনি বোতল টোকান কারণ তাকে বাংলাদেশে ছোট ভাইয়ের পরিবার সহ আরো দুই আত্বীয়ের পরিবার টানতে হয়, তখন আমি নিজের কাজে নিজের অস্তিত্ব সঙ্কট নিয়ে লজ্জায় পড়ে গেলাম। 

(৩)

শীত হলেই প্রয়োজনের বাইরে নতুন জ্যাকেট সোয়েটার কিনেন অনেকেই। আমি অবশ্য পুরনো কাপড়ে যুগ পার করা মানুষ। সেদিন ব্ল্যাক ফ্রাই-ডে মূল্যছাড়ে গেলাম মেসিস-এ। কাপড় কিনতে নয় একটা পেঁয়াজ কাটার অত্যাধুনিক মেশিন কিনতে। পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে চোখ জ্বলে যায়, চোখে জল আসে। পলিশ করা নখগুলোও বিগড়ে যায়। 

মেসিস এর সামনে যেতেই দেখলাম এক গৃহহীন, শীতের সন্ধ্যায় জবুথবু হয়ে বসে আছেন। পাশে তার একটা ওয়াকার রাখা। দুর্গন্ধময় এক পুরোনো জ্যাকেট গায়ে। সে জ্যাকেটের ভেতর বিভিন্ন ইংলিশ পত্রিকার কাগজ ঠাসা। শুনেছি, কাগজ দিয়েই নাকি তারা শীতের সময় কিছুটা উষ্ণতা আনার চেষ্টা করেন। একবার মনে হলো তাকে একটা জ্যাকেট কিনে দিই। কিন্তু গৃহহীন লোকটা আমাকে তাকিয়ে থাকতে দেখেই চিৎকার করে বলল, মুভ ল্যাডি মুভ! কিছুটা ভয় পেলাম। 

সেই সাথে আমার মন খারাপ হতে শুরু করল। ফিরে দাঁড়ালাম বাড়ির পথে। হাতের আঙ্গুল, নখগুলো পরখ করে নিলাম। নাহ! সব ঠিকঠাক আছে। এ হাতে পেঁয়াজ কাটা যাবে আরো তিনযুগ। 
 

(৪)

রেস্টুরেন্টে বসে খাচ্ছি। মন খারাপ হলেই আমি আশেপাশের কোনো এক বেকারি বা রেস্টুরেন্টে ঢুকে পড়ি। চা কফি, ব্রেড বা পুরি সিঙ্গারা নিয়ে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকি। এটা আমার মন খারাপ অবস্থাকে ভালো করার এক নিজস্ব পদ্ধতি। 

চায়ের কাপে চুমুক দিতেই কানে এলো, 'মা গো! তারা তো আমারে যাইতে দেয় না। কয়, কি বলে বাতিল হইয়া যাইব। এদিকে বাতের বিষ বাড়তেই আসে। এক বেটি কয়মাস আসত বাডিতে, এখন আসে না। সে আসলেও তো একটু টিপা দিতো। বিষ কমতো।' 

ফিরে তাকালাম। এক বয়স্ক মহিলাকে দেখতে পেলাম। তার চোখের জল গাল গড়িয়ে কাপড়ে পড়ছে। তিনি অনবরত ফোনে কথা বলেই যাচ্ছেন। পাশে থাকা বয়স্ক লোকটি (সম্ভবত উনার স্বামী) বলছেন, 'হইসে থামো। এতো কথা কও কেন? চলো বাড়ি চলো।' 

বছরের পর বছর অনেকে বৃদ্ধরাই এদেশে থাকেন, দেশে যেতে পারেন না। তারা দেশে গেলে পরিবারে হোমএইড সার্ভিসের অর্থ আয় বন্ধ হয়ে যায়। আহা জীবন! 

আমি চা শেষ না করেই উঠে দাঁড়ালাম। ব্যাগটা নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা হলাম। দেড় বছর হয় দেশ ঘুরে এসেছি। আবারো দেশে যাবার জন্য মন খারাপ হলো, তাই স্বামীর সাথে আজ ঝগড়া করেই বেরিয়ে এসেছিলাম। এখন মনে হচ্ছে, আমার হিসাবে কোথাও গড়মিল ছিল।

ফাউন্ডেশন  থেকে আরো পড়ুন