https://www.prothomalony.com/
18476
north-america
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ০৪:১০
নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র
কয়েক দিন বাকি। এবার যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে আলোচিত সিনেট লড়াইগুলোর একটি
মিশিগানে ।স্বয়ং হোয়াইট হাউস মিশিগান সিনেট আসন নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে
পড়েছে।প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সর্বশক্তি নিয়োগ করেছেন এই সিনেট
আসনে।সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং ডেমোক্র্যাটদের প্রচন্ড জনপ্রিয় নেতা বারাক
ওবামা মিশিগান ঘুরে গেছেন।কার্যত: আব্দুল এল-সাঈদ ও মাইক রজার্সের মাঠের
প্রতিদ্বন্দ্বিতা বর্তমানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রেসিডেন্ট ওবামার
লডাইয়ে পরিনত হয়েছে।
অবসরে যাওয়া ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের আসনটি এবার শূন্য।
প্রাইমারিতে দলের শীর্ষ নেতাদের সমর্থনপুষ্ট কংগ্রেসওম্যান হ্যালি
স্টিভেন্সকে হারিয়ে মনোনয়ন পান ডেমোক্র্যাট আবদুল এল-সাইয়েদ। মিশিগানে
জন্ম নেওয়া এই চিকিৎসক মিশরীয় অভিবাসীদের সন্তান। নির্বাচিত হলে তিনি
হবেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী
রিপাবলিকান মাইক রজার্স। তাঁকে সমর্থন দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। গত
ছয় দশকে রিপাবলিকানরা যে আসন জিততে পারেনি, সেটি ছিনিয়ে নেওয়াই তাঁদের
লক্ষ্য। ১৯৯৪ সালের পর মিশিগানে কোনো রিপাবলিকান সিনেট নির্বাচনে জেতেননি।
গত ২৪ অক্টোবর শনিবার সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ড্রেট্রয়েট কেসটেক
হাইস্কুলে এক বিশাল সমাবেশে ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রার্থী
আব্দুল এল-সাঈদ এবং গভর্নর প্রার্থী জোসেলিন বেনসন সহ অন্যান্য সকল
প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলেন,এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন নানা কারণে
খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গনতন্ত্রকে সুসংহত করতে ডেমোক্র্যাটদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে
হবে।তিনি সকলে ভোটাধিকার প্রয়োগের উপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেন।
এদিকে গত ২৩ অক্টোবর শুক্রবার সিনেট প্রার্থী আব্দুল এল সাঈদের সমর্থনে
বাংলাদেশীদের পক্ষ থেকে এক নির্বাচনী র্যালির আয়োজন করা হয়।জনাকীর্ণ এই
সমাবেশে আবদুল এল সাঈদ বর্তমা নানা ইস্যু নিয়ে কথা বলেন।তিনি বলেন,এখন
জনগনের
নাভিশ্বাস উঠেছে।গ্রোসারী পণ্য,ডাক্তারী সেবা, ঔষধপত্র,গ্যাসের মূল্য
সবকিছু কর্মজীবী আমেরিকানদের নাগালের বাইরে চলে গেছে।মানুষের অবস্থা করুণ।
সরকার একে একে মেডিকেইড ও ফুড স্টাম্প সুবিধার মত জরুরি পরিষেবা বন্ধ করে
দিয়েছে।মিডলক্লাস মানুষ এখন দিশেহারা।
.jpeg)
মিশিগানের ওয়ারেন শহরের দারুল কোরআন মসজিদ কমপ্লেক্সের বিরাট অডিটরিয়মে
উপচে পড়া মানুষের করতালি আর উল্লাসের মধ্যে এল- সাঈদ বক্তব্য দেন।এল-সাঈদ
বলেন মিশিগানবাসীরা উদার ও বিশাল হৃদয়ের অধিকারী।তাঁরা নিজেদের সর্বোচ্চটা
আপনাকে দিতে চায় এবং বিনিময়ে আপনার কাজ কাছ থেকে উৎকৃষ্ট এবং ভালোটা আশা
করে।তিনি বলেন,এপর্যন্ত তিনি মিশিগানের ১শ ১০ টি শহরের ৬শর বেশী ভেন্যুতে
গিয়েছেন এবং মানুষের সাথে কথা বলেছেন। সকলেই তাঁকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি
বলেন,জয় আমাদের হবেই।সকলকে নিজ নিজ ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে
বলেন, সকলকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে যাতে করে সব ভোট কাস্টিং নিশ্চিত
হয়।এল-সাঈদের ক্যাম্পেইন থেকে এক পরিসংখ্যানের বরাতে জাননো হয়,প্রাইমারিতে
প্রায় ১৪ হাজার বাংলাদেশীর ভোট পড়েছে।৩ নভেম্বর এই সংখ্যা ৪০ হাজার হবে
বলে তারা আশাবাদী।
জরিপে কেউ নিরাপদ নন। আগস্টে ফক্স নিউজের জরিপে নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে
রজার্স ৫১ শতাংশ, এল-সাইয়েদ ৪৭ শতাংশ পেয়েছেন। আবার সুসকুয়েহানা ও
এএআরপির জরিপে সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে এল-সাইয়েদ ৪৬-৩৯ ব্যবধানে এগিয়ে।
কুক পলিটিক্যাল রিপোর্ট ও সাবাটোস ক্রিস্টাল বল—দুটিই লড়াইটিকে "টসআপ"
বলছে। ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ জীবনযাত্রার ব্যয়। সেপ্টেম্বরের ওয়াশিংটন
পোস্ট–শার স্কুল জরিপে প্রায় অর্ধেক ভোটার একে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু
বলেছেন।
এল-সাইয়েদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সম্ভবত কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের আস্থা
অর্জন। মিশিগানের ভোটারদের প্রায় ১৪ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ। ২০২৪ সালে কমলা
হ্যারিস এই গোষ্ঠীর ৮৭ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন, অথচ সেপ্টেম্বরের জরিপে
এল-সাইয়েদের পক্ষে আছেন ৬৭ শতাংশ; আগস্টে ফক্সের জরিপে এ হার ছিল ৭৫
শতাংশ। প্রাইমারিতে স্টিভেন্স কৃষ্ণাঙ্গ ভোটের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি
পেয়েছিলেন।
পেছনে আছে আরব আমেরিকান ও কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন।
২০২৪ সালে ডিয়ারবর্নে ট্রাম্প হ্যারিসের চেয়ে বেশি ভোট পাওয়ায় কিছু
কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারের মনে ক্ষত তৈরি হয়েছে। এল-সাইয়েদ স্বীকার করেছেন,
কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের অবিশ্বাস অমূলক নয়; তবু তাঁর মতে ট্রাম্পই বড় হুমকি।
ওদিকে রজার্স ডেট্রয়েটে প্রচার কার্যালয় খুলেছেন এবং কৃষ্ণাঙ্গ এলাকা ও
গির্জায় যাচ্ছেন।
ধর্মীয় পরিচয় প্রচারের কেন্দ্রে চলে এসেছে। একটি জরিপে মিশিগানের প্রায়
৪৫ শতাংশ সম্ভাব্য ভোটার বলেছেন, তাঁরা মুসলিম প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে
বিবেচনাই করবেন না। ট্রাম্প তাঁকে "মোহাম্মদ" নামে ডেকেছেন এবং
ভিত্তিহীনভাবে "সন্ত্রাসী সহানুভূতিশীল" বলেছেন; এল-সাইয়েদ জবাব দিয়েছেন,
ট্রাম্প তাঁর নাম ভালো করেই জানেন। মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার
অভিযোগও উঠেছে, যা তিনি অস্বীকার করেছেন।
.jpeg)
মেট্রো ডেট্রয়েটের হ্যামট্র্যামিক শহরে বাংলাদেশি আমেরিকানরা রাজনীতিতে
সক্রিয়। ইয়েমেনি ও বাংলাদেশি আমেরিকানরা মিলে শহরের অধিকাংশ বাসিন্দা। গত
বছরের মেয়র নির্বাচনে বাংলাদেশি আমেরিকান প্রার্থী মুহিত মাহমুদ মাত্র ছয়
ভোটের ব্যবধানে হেরে পুনর্গণনার আবেদন করেছিলেন। একটি ভোটও যে কতটা
মূল্যবান হতে পারে, সেটি এই ঘটনা মনে করিয়ে দেয়।
এবারের মিডটার্ম নির্বাচন নিয়ে কথা হয় হ্যামট্রামিক সিটির মেয়র নির্বাচিত
মুহিত মাহমুদ,কাউন্সিল্যান আবু মুসা,সাবেক গোলাপগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মঞ্জুর সাফি এলিম, ব্যবসায়ী ও সিলেট চেম্বার অব
কমার্সের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি লায়েছ উদ্দিন,বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল
আহাদ, মিশিগান বাংলা প্রেসক্লাবের সভাপতি পার্থ দেব,কমিউনিটি নেতা ও
এক্টিভিস্ট হেলাল খাঁন রিয়লটর ও সংস্কৃতি কর্মী কামাল উদ্দিন,সাংবাদিক সফিক
রহমান ও বাংলা প্রেসক্লাব মিশিগানের সেক্রেটারি জুয়েল খাঁন সহ আরো অনেকের
সাথে। তারা সবাই ডেমোক্র্যাট সমর্থক বলেই জানালেন। সকলেই আব্দুল এল-সাঈদ,
গভর্নর ও কংগ্রেসের জন্য ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহন করছেন।তাঁরা বলেন,মিশিগান
রাজ্য ডেমোক্রেটিক বেইস হিসাবে খুবই শক্তশালি অবস্থানে আছে।এল-সাঈদ সহ
ডেমোক্র্যাটদের বিপুল বিজয়ের ব্যপারে সকলেই আশাবাদী। ডমোক্র্যাট দলের
প্রতি সমর্থন ছাড়াও বাংলাদেশীরা অভিবাসী হিসবে প্রার্থী এল সাইদের নৈকট্য
নিজেদের মধ্যে খোঁজে পান বলে জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের একজনের মতে, নির্বাচনের ফল ঠিক হবে "ব্রেড-অ্যান্ড-বাটার"
অর্থনীতিতে, সংস্কৃতি বা পরিচয়ের ইস্যুতে নয়। কিন্তু এবার মিশিগানে
পরিচয় আর অর্থনীতি আলাদা করা কঠিন। এল-সাইয়েদ তাঁর জোট ধরে রাখতে পারেন
কি না, সেটিই ৩ নভেম্বর নির্ধারণ করবে।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন