https://www.prothomalony.com/
18478
north-america
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ০৬:০৩
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচনের আর দুই সপ্তাহও বাকি নেই। এর মধ্যেই এক উত্তপ্ত বিতর্কে পরস্পরকে তীব্র আক্রমণ করেছেন মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে মার্কিন সিনেটের দুই প্রার্থী মাইক রজার্স ও আব্দুল আল-সায়েদ। ভোটারদের সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে আয়োজিত এই বিতর্কে তারা জীবনযাত্রার ব্যয়, অভিবাসন নীতির প্রয়োগ এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন। 'ক্লিক অন ডেট্রয়েট ডট কম'-এর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বিতর্কের শুরুতে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স মূলত মিশিগানে উৎপাদন খাতের কর্মসংস্থান কমে যাওয়া, বিদ্যুৎ-গ্যাসসহ অন্যান্য পরিষেবার উচ্চমূল্য এবং গাড়ির বিমা খরচের বিষয়টির ওপর জোর দেন। এ সময় তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে কর বাড়ানোর অভিপ্রায়ের অভিযোগ তোলেন। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আব্দুল আল-সায়েদ জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি তিনি রজার্সের বিরুদ্ধে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিগুলোর সঙ্গে অতিমাত্রায় ঘনিষ্ঠ অবস্থানের অভিযোগ আনেন।
জননিরাপত্তার বিষয়েও দুই প্রার্থীর মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দেয়। রজার্স অভিযোগ করেন যে, আল-সায়েদ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তহবিল বন্ধ বা কমানোর পক্ষে। যদিও আল-সায়েদ সেই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেন। এছাড়া মিশিগানে শিক্ষার মানোন্নয়ন থেকে শুরু করে সাইবার নিরাপত্তার মতো বিভিন্ন স্থানীয় বিষয়েও তাদের মধ্যে বিতর্ক হয়।
অভিবাসন আইন প্রয়োগের বিষয়টি বিতর্কে অন্যতম প্রধান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। রজার্স 'ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট' (আইসিই) এর পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়ে বলেন যে, সংস্থাটি "ধর্ষক, খুনি, গ্যাং সদস্য, মাদক কারবারি ও মানব পাচারকারীদের" বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং অপরাধ দমনে সংস্থাটির ভূমিকা "অসামান্য"।
এর জবাবে আল-সায়েদ আইসিই-এর কৌশলগুলোর কড়া সমালোচনা করে বলেন, "তিনি (প্রতিপক্ষ) চান আইসিই এজেন্টরা আপনাদের রাস্তায় অবাধে ঘুরে বেড়াক। তারা যে কারা, তা আপনাদের জানানোর প্রয়োজন তারা মনে করে না। কেন তারা সেখানে এসেছে, তাও আপনাদের বলার প্রয়োজন তারা বোধ করে না।"
স্বাস্থ্যসেবা ইস্যু নিয়েও দুই প্রার্থী দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। আল-সায়েদের 'মেডিকেয়ার ফর অল' বা সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রজার্স বলেন, অন্য ডেমোক্র্যাটরাও এই পরিকল্পনাকে সমর্থন করবেন না, কারণ এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এর জবাবে আল-সায়েদ পাল্টা আক্রমণ করে বলেন, "আমরা এমন একজন মার্কিন সিনেটরকে মেনে নিতে পারি না, যিনি বড় ওষুধ কোম্পানিগুলোর (বিগ ফার্মা) সাথে আঁতাত করে চলেন।"
পররাষ্ট্রনীতি ও মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে ইরানের বিষয়ে রজার্স সতর্ক করে বলেন যে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দিলে তার পরিণামে মার্কিন ভোটারদের "প্রতি গ্যালন জ্বালানির জন্য ৮ ডলার" পর্যন্ত গুনতে হতে পারে। এর প্রতিক্রিয়ায় আল-সায়েদ রজার্সের বিরুদ্ধে বছরের পর বছর ধরে যুদ্ধকে উসকে দেওয়ার অভিযোগ তুলে বলেন, "যেকোনো পরিস্থিতির জন্যই তার কাছে যুদ্ধের সমাধান থাকে, আর এখন তিনি যুদ্ধ থেকে সরে আসতেও রাজি নন।"
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন