https://www.prothomalony.com/

7285

canada

কানাডা

৪২ জন বাংলাদেশীর কানাডা গমন প্রতিহত করার দায়িত্ব তারা কেন হাতে নিলেন?

প্রকাশ: ১৬ নভেম্বর ২০২৩ ০৭:৪৩

সম্প্রতি ৪২ জন বাংলাদেশীর কানাডা গমন ঠেকিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ বিমানের কর্মকর্তাবৃন্দ। ভূয়া কাগজপত্র নিয়ে এসব লোকজন কানাডা যাচ্ছিলেন বলে তাদের ফ্লাইটের সময় যাত্রা বাতিল করে দেয়া হয়। যদিও এসব লোকজনের ভিসা সঠিক ছিল। কানাডার যথাযথ ভিসা থাকার পরও বাংলাদেশের বিমানের কিছু কর্মকর্তার দায়িত্বের বাইরে দায়িত্ব পালন নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

অনেকেই প্রশ্ন  রাখছেন, আসলেই কি তাদের ভিসা ভূয়া ছিল? কানাডিয়ান হাইকমিশন ১০ বছরের জন্যে ভিসা দিয়েছে। বিয়ের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণের বিষয়টি একটি উপলক্ষ ছিল মাত্র। অন্য কোন দেশ ভ্রমন না করেও কানাডিয়ান হাইকমিশন যদি কাউকে ট্যুরিস্ট ভিসা প্রদান করে থাকে, তার জবাবদিহিতা কি পাসপোর্টধারীকে করতে হবে কেন? বাংলাদেশ বিমানের এ ভিসার প্রদানের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন করার অধিকার রয়েছে কি না, এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সিলেট অঞ্চলের ৪২ জন ভুক্তভোগীর পক্ষে অনেকেই দাঁড়িয়েছেন। তারা ঘটনার তদন্ত দাবী করেছেন। তারা বলছেন, কোন দেশে গিয়ে ভ্রমনকারী কোথায় থাকবেন, তার ঠিকানা বা প্রমাণ ক্যারিয়ার এয়ারলাইন্স কে দেয়ার কি কোন বাধ্যবাধকতা আছে? ইনভাইটেশন লেটার না থাকলে দেশ ভ্রমনে কি বিধি নিষেধ আছে বা ইনভাইটেশন লেটার না থাকলে ভিসা থাকা সত্ত্বেও কোন যাত্রীর ভ্রমন বাতিল করার অধিকার কি এয়ারলাইন্সের আছে?

ইনভাইটেশন লেটার তো ভিসা প্রার্থী হাইকমিশনে তার নথির সাথে জমা দেয়। ওটার বৈধতা যাচাই করার দায়িত্ব ও সেই দেশের। যদি বিদেশে অবস্থানকারী আত্মীয়স্বজন সে দেশে থাকাকালীন খাদ্য, আবাস ও পরিবহনের খরচ বহনের নিশ্চয়তা দেন সেক্ষেত্রে হয়তো আর্থিক সক্ষমতা একটু কম থাকলেও ভিসা দানকারী কর্তৃপক্ষ ভিসা প্রদান বিবেচনা করে থাকে। সব কিছুর দায়িত্বই ভিসা প্রদানকারী কন্স্যুলেট অফিসের।

ট্যুরিস্ট ভিসা শুধু বাংলাদেশ নয়,  সারা পৃথিবীকেই ইদানীং কিছুটা সহজে দিচ্ছে কানাডা। এমনকি ভিজিট ভিসায় গিয়ে কাজ করারও অনুমতি দিচ্ছে। সঠিক কাজ পেলে ভিজিট ভিসার স্ট্যাটাস পরিবর্তন করে ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় রূপান্তর করারও সূযোগ দিচ্ছে। সারা পৃথিবীর লোক এ সূযোগ নিচ্ছে। সে তুলনায় বাংলাদেশীদের সংখ্যা খুবই নগন্য। কানাডায় অভিবাসী গমনের তালিকায় বাংলাদেশ প্রথম ১০ টি দেশের মধ্যেই নেই। গত বছরে কানাডা তে গমনকারীর ৪২ শতাংশই ভারতীয়।

ট্যুরিস্ট ভিসা ছাড়াও এসডিএস সুবিধার আওতায় এক বছরে  টিউশন ফি আর GIC ( Guaranteed investment Certificate)  তে ১০০০০ ডলার থাকলেই ভারত, পাকিস্থান, ফিলিপাইন, কম্বোডিয়া, চীন ইত্যাদি দেশের ছাত্ররা স্টুডেন্ট ভিসায় যেতে পারলেও বাংলাদেশীদের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়। সুতরাং, সাধারন ক্যাটাগরীতে আর্থিক সক্ষমতার প্রমান দেখানো আমাদের দেশের ছাত্রদের জন্যে অনেক কঠিন। যে কারণে, বাংলাদেশী ছাত্রের সংখ্যাও অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম। এই সুবিধা পাবার জন্যে আমাদের যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রচেষ্টাও দৃশ্যমান নয়।

কিছুদিন আগেই, ভূয়া IELTS  এবং ভূয়া কলেজ সার্টিফিকেট দিয়ে কানাডায় ভর্তি হবার বিষয় ধরা পড়লে কানাডা কর্তৃক ভারতীয় শতাধিক ছাত্রকে ফেরৎ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলে ভারতীয় কানাডিয়ানদের আন্দোলনের মুখে কানাডা তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে এদেরকে কানাডায় ইমিগ্রেশন দিতে বাধ্য হয়। অথচ, আমরা বাংলাদেশীরা আমাদের নিজেদের বিরুদ্ধেই প্রচারনা চালাতে থাকি।

ক্ষতিগ্রস্থ লোকজনের পক্ষে দাঁড়ানোদের বক্তব্য, " আমাদের জনগন যদি গিয়ে কানাডায় স্থায়ী হতে পারে, এতে আমাদেরই লাভ। বৈদেশিক মূদ্রা আয় হয়। দেশের কর্মহীন জনসংখ্যার চাপও কমে।  ইনভাইটেশন লেটার, আর্থিক সক্ষমতা সহ অন্যান্য নথি যাচাইয়ের দায়িত্ব ভিসা প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের। এয়ারলাইন্স শুধু মাত্র ভিসা আছে কি না তা দেখে বোর্ডিংকার্ড ইস্যু করবেন। ভিসা ঠিক কি না, তা পরখ করার দায়িত্ব ইমিগ্রেশন এর, এয়ারলাইন্স এর নয়।

এখানে যা হয়েছে, তা তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। বাংলাদেশ বিমান এর কর্মকর্তাবৃন্দ তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন কোন ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে। যদি তা হয়, তাহলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার দায়ে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিত। " 
 

কানাডা থেকে আরো পড়ুন