https://www.prothomalony.com/

18106

canada

কানাডা

বাংলাদেশে গণপতি হত্যাকাণ্ডসহ হিন্দু নির্যাতনের প্রতিবাদে মন্ট্রিয়লে সমাবেশ ও র‍্যালি

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:৪০

বাংলাদেশে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর অব্যাহত নির্যাতন, হত্যাকাণ্ড, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, জমি দখল ও জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অভিযোগের প্রতিবাদে কানাডার মন্ট্রিয়লে সমাবেশ ও র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত ৬ সেপ্টেম্বর (রোববার) নগরীর ব্যস্ততম এটওয়াটার ও সেন্ট ক্যাথরিন এলাকার একটি পার্কে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিশু-কিশোর, তরুণ ও বয়স্কসহ কয়েক শ নারী-পুরুষ অংশ নেন। সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন হাতে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে আশপাশের এলাকায় র‍্যালি করেন।

সমাবেশে বক্তারা বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও নির্যাতনের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরেন। বিশেষ করে রংপুরে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বক্তারা ওই ঘটনার তদন্তে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের অভিযোগ, ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, ধর্মীয় অবমাননার মিথ্যা অভিযোগকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর একের পর এক সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিল, ইউটিউব ও ফেসবুকে প্রকাশ্যে হিন্দু ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষকে নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য ও লেখা প্রচার করা হচ্ছে বলেও তাঁরা অভিযোগ করেন। তাঁদের দাবি, এসব ঘটনায় প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা না থাকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক বাড়ছে।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে হিন্দুশূন্য করার একটি পরিকল্পনা চলছে। অতীতের বিভিন্ন ঘটনার বিচার না হওয়ায় দুষ্কৃতিকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলেও তাঁরা দাবি করেন। তাঁদের ভাষ্য, পরিস্থিতি দিন দিন আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে।

বক্তারা বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ধর্ম, জাতি বা সম্প্রদায়ের পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিকের নিরাপত্তা ও অধিকার খর্ব হওয়ার সুযোগ নেই। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। একই সঙ্গে কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান তাঁরা।

কর্মসূচি থেকে বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি কানাডা সরকার, জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করা, সহিংসতার ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

‘বাংলাদেশি হিন্দুস অ্যান্ড আদার রিলিজিয়াস মাইনরিটি কমিউনিটিজ অব মন্ট্রিয়ল, কুইবেক’-এর ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সদস্যদের পাশাপাশি কয়েকজন মুসলিম অসাম্প্রদায়িক ও প্রগতিশীল ব্যক্তিও অংশ নিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন।

সমাবেশ ও র‍্যালি চলাকালে স্থানীয় মূলধারার কয়েকজন মানুষও অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন। বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে তাঁরাও উদ্বিগ্ন বলে জানান এবং বিষয়টি যথাযথ ফোরামে তুলে ধরার আশ্বাস দেন।

কানাডা থেকে আরো পড়ুন