https://www.prothomalony.com/
4103
sports
যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে বসবাস করেন বাংলাদেশের আনহার লতিফ। সম্প্রতি টোকিও ম্যারাথনে অংশগ্রহণ করে অর্জন করেছেন অ্যাবট ওয়ার্ল্ড ম্যারাথন সিক্স স্টার। ছয়টি মেজর ম্যারাথনে অংশ গ্রহণ করে তিনি বাংলাদেশের নামকে নিয়ে গিয়েছেন অনন্য এক উচ্চতায় ।
মা-বাবা সিলেটের হলেও আনহার লতিফের জন্ম ও বেড়ে উঠা চট্টগ্রামে । তিনি চট্টগ্রামের সেন্ট প্লাসিড স্কুল থেকে এসএসসি, মহসিন কলেজ থেকে এইসএসসি পরে চট্টগ্রাম কমার্স কলেজ থেকে গ্রেজুয়েশন করেছেন । আনহার ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার সাথে সম্পৃক্ত । স্কুল কলেজে ফুটবল এবং ক্রিকেট দলের হয়ে বিভিন্ন টুর্নামেন্ট অংশগ্রহন করেছেন। কলেজে পড়াকালীন আন্তঃকলেজ বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাথলেটিক্স ইভেন্টে একশত মিটার রিলেতে মহসিন কলেজের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। সেই থেকে তাঁর খেলোয়াড় জীবনের মোড় ঘুরে যায়। তারপরই মন ঠিক করেন, দৌড়েই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবেন।
আনহার লতিফ উচ্চ শিশিক্ষার্থে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। বর্তমানে নিউজার্সিতে বসবাস করছেন । এদেশে এসে খেলাধূলার পাশাপাশি পড়াশুনা চালিয়ে গেছেন। খেলাধুলার পাশাপাশি কর্মজীবনেও তিনি সফল ।মনটক্লেয়ার উনিভার্সিটি (Montclair State University) থেকে মেনেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম এবং লং আইল্যান্ড ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ করছেন। নিউ জার্সিতে হেলথ কেয়ার বিজনেস ইন্টেলিজেন্সে কর্মরত আনহার লতিফ।
আমেরিকায় এসে স্থানীয় ক্রিকেট লীগে খেলেছেন কিন্তু বরাবরই আগ্রহ লং ডিসটেন্সে দৌড়ানো। আর সেই অদম্য ইচ্ছা থেকেই তিনি নিউইয়র্ক রোড রানার্সের (NYRR ) সদস্য হয়েছেন । NYRR সেন্ট্রাল পার্কে সারা বছর ধরে একাধিক ম্যারাথন ইভেন্টের আয়োজন করে। তারমধ্যে নিউইয়র্ক সিটি ম্যারাথন বিশেষ ভাবে গুরুত্বপূর্ণ । আনহার ২০০৯ সাল থেকে নিয়মিত NYC ম্যারাথনে অংশ নেন। সেই সময়ে তিনি নতুন চাকরি নিয়ে নিউজার্সিতে স্থানান্তরিত হন। এরই মাঝে তিনি হাফ ম্যারাথন (21k) এবং লং ডিসটেনসে- সময় ও গতির উন্নতি করার দিকে মনোযোগ দেন এবং সফল হন।
আনহার লতিফ ২০১৫ সালের পর থেকেই বাংলাদেশের হয়ে NYC হাফ ম্যারাথনে অংশ নিয়ে যাচ্ছেন । ২০১৮ সালে তিনি শিকাগো ম্যারাথনে অংশ গ্রহনের জন্য মনোনীত হন আর সেই থেকেই তাঁর জীবনের নতুন অধ্যায়ের শুরু।
অ্যাবট ওয়ার্ল্ড ম্যারাথন মেজর সিক্স স্টার হিসাবে ছয়টি ম্যারাথনকে বেছে নিয়েছে, সেগুলি হলো বোস্টন, নিউইয়র্ক, শিকাগো, লন্ডন, বার্লিন এবং টোকিও। একজন ব্যক্তি সিক্স স্টার তখনই দাবি করতে পারে, যদি সে এই ছয়টি ম্যারাথন মেজর কম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে পারে। এই ছয়টি ম্যারাথনই বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ম্যারাথন। এটি অর্জন করা খুব সহজ নয় ।
প্রতি বছর বিশ্ব থেকে লক্ষ দৌড়বিদ এতে অংশ গ্রহনের আবেদন করলেও খুব কম সংখ্যক আবেদন অ্যাবট ওয়ার্ল্ড ম্যারাথনে গৃহীত হয়। ২০২০ সালে ৪ লাখ ৫৭ হাজার ৬৮১ জন লন্ডনের ম্যারাথন ব্যালটের জন্য আবেদন করেছিল। আর মাত্র ১৭ হাজার গৃহীত হয়েছে যা ৪ শতাংশের কম । গত মার্চের পাঁচ তারিখে অনুষ্ঠিত টোকিও ম্যারাথনের হিসাবে বিশ্বে মাত্র ৯ হাজার জনেরও কম এই ছয় তারকা খ্যাতি অর্জন করেছেন। যারমধ্যে বাংলাদেশি দৌড়বিদ হিসেব একমাত্র আনহার লতিফ ছাড়া আর কেউ ছিলো না ।
আনহার লতিফ তাঁর ম্যারাথন যাত্রা শুরু করেছেন ২০১৮ সালে শিকাগোতে। আর এ বছরে মার্চে এসে টোকিওতে ম্যরাথন শেষ করে সিক্স স্টার অর্জনের মাধ্যমে তিনি তার লক্ষ্যে পৌঁছান।এছাড়াও তিনি বার্লিন (২০১৯সালে) লন্ডনে দুই বার (২০২১-২০২২ সালে), নিউইয়র্ক (২০২১ সালে) বোস্টন(২০২২ সালে) ম্যারাথনে অংশগ্রহণ করেছেন । তিনিই প্রথম গর্বিত বাংলাদেশি অ্যাবটের সব নিয়ম অনুসারে ছয় তারকা পেয়েছেন ।
আনহার লতিফ মনে করেন স্ত্রী মুনার সহযোগিতা ছাড়া তার পক্ষে ম্যারাথনের গৌরবোজ্জ্বল সম্পদ সিক্স স্টার অর্জন করা সম্ভব হতো না । মুনা তাঁর দৈনন্দিন ডায়েট থেকে পোশাক সবই দেখাশোনা করেন । শুধু তাই নয় একজন দৌড়বিদের জন্য সময়সূচি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাই স্ত্রী মুনা একজন ট্রেনারের মত খাবার ছাড়াও তাঁর দৈনন্দিন সময়সূচীর উপরে কড়া নজর রাখেন। একজন সফল দৌড়বিদের স্বাস্থ্য ও ডায়েট সবচেয়ে জরুরী বিষয়। তাই মুনা সুসম খাদ্য তালিকা তৈরী করে নিজেই রান্না করেন । তাই সব মিলিয়ে সিক্স স্টার অর্জনের পেছনের কারিগর স্ত্রী মুনার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আনহার।
ম্যারাথনে দৌড়াতে যেয়ে কোন বিশেষ অভিজ্ঞতার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিটি ম্যারাথন দৌড়েই উনার ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা হয়ছে সম্প্রতি টোকিও ম্যারাথনে। আনহার লতিফের বাবা মারা যাওয়ার ঠিক এক মাস পরেই তিনি ম্যারাথন দৌড়েছেন। পিতার অসুস্থতা ও পরে মৃত্যু সব মিলিয়ে দেশে আসা যাওয়ার কারনে নিয়মিত শরীর চর্চা ও দৌড় প্রাকটিস ব্যহত হয় ।
যেহেতু মানসিক অবস্থা ভালো ছিল না এবং প্রশিক্ষণেও ঘাটতি ছিল বলে তিনি এবারের টোকিও ম্যারাথনে অংশ না নেয়ায় পরিকল্পনা করছিলেন, কিন্তু পরক্ষনেই বাবার কথা মনে হয়। তাঁর বাবার ম্যারাথন নিয়ে আগ্রহ ছিলো প্রচুর। তিনি সব সময়ই এই বিষয়ে খুঁটিনাটি জানতে চাইতেন। তাই বাবাকে মাথায় রেখেই তিনি এবারের টোকিও ম্যারাথন শেষ করে সিক্স স্টার অর্জন করেন। বর্তমানে আনহার লতিফ দ্বিতীয় ছয় তারকা অর্জনের জন্য ছুটছেন।
খেলাধুলা থেকে আরো পড়ুন