https://www.prothomalony.com/

3616

literature

সাহিত্য

এই পত্রিকা আমার পালে হাওয়া লাগালো

প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২৩ ১২:০৮

palonyএকদিন আনোয়ার ইকবাল ওরফে কচি ভাইকে বললাম, "জানেন, প্রথম আলো এখন উত্তর আমেরিকা থেকে বেরুবে? যোগাযোগ করে লেখা পাঠাবো কি না ভাবছি।" তিনি উত্তরে বললেন, "ওটা দুইমাস হলো বেরুচ্ছে, ইতিমধ্যেই আমি লেখা পাঠিয়েছি, ছাপাও হয়েছে।"

তলে তলে এতদূর? আমার আক্কেল গুড়ুম। আমি একটা লেখা দিয়ে বললাম, আপনি প্রথম আলো উত্তর আমেরিকায় পাঠিয়ে দিন। তিনি বললেন, তুমি নিজেই পাঠাও।

পাঠালাম সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরীর কাছে। পরের সংখ্যাতেই ছাপানো হলো। আবার পাঠালাম, আবারো ছাপানো হলো। আমাকে উৎসাহ দিল আশীফ এন্তাজ রবি। বললো, দেখতে দেখতে আপনার অনেক লেখা ছাপানো হয়ে যাবে। পরে সেগুলো দিয়ে বই বের করতে পারবেন।

হলোও তাই। বিটকয়েনের ইতিহাস এবং এর যে ব্লকচেইন টেকনলজি তার ওপর অনেকগুলো আর্টিক্যাল পর্যায়ক্রমে প্রথম আলো উত্তর আমেরিকায় ছাপানোর পরে দেশের প্রথম সারির এক প্রকাশনা থেকে বই বেরুলো। সেই বই বিক্রির তালিকায় উপরের সারিতে। এর মাঝে অনেক রম্যলেখা লিখলাম। আমি যে রম্য লিখতে পারি, সেটা শুধু অন্যে না, আমি নিজেও জানলাম এই প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার সুবাদে। সেইসব রম্য নিয়ে "অনুরোধের ঢেঁকি" নামেও একটি বই বেরুলো। কাজেই প্রথম আলো উত্তর আমেরিকাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাতেই হয়। তারপর কিছু কিছু কলাম মূল প্রথম আলোতেও ছাপানো হলো। তবে যাত্রা এখানেই, উত্তর আমেরিকার প্রথম আলো থেকে, সেই ছয় বছর আগে।

একদিন নজরুলের একটি অপ্রচলিত কবিতার দুই লাইন উদ্ধৃতি দিয়ে একটা লেখা পাঠালাম। লেখাটা ছাপা হতেই দেখলাম, আমার দুয়েকটা শব্দ এদিক ওদিক ছিল। সেটাকে ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। একটা কথা বলে রাখি, সময় পেলে লেখক কিন্তু তার লেখাটা ছাপা হওয়ার পরে নিজেই একবার পড়ে দেখে। সে বই হোক, আর পত্রিকার পাতা হোক। নজরুলের কবিতার প্রথম লাইন, "এই যৌবন জল তরঙ্গ রোধিবি কি দিয়া বালির বাঁধ?" এমন কম প্রচারিত একটা কবিতার দুই লাইন আমি স্মৃতি থেকে লিখেছিলাম , সেই কবিতায় আমার ভুল তাঁরা ঠিক করে দিলেন দেখে আমি মুগ্ধ হলাম।

অনেক পরে, মনে হয় ২০১৯ সালে হবে, আমি গেলাম নিউইয়র্কে, ঘুরতে। দোনোমোনো করে শেষে প্ল্যান করলাম যে, প্রথম আলোর নিউইয়র্ক অফিস একবার

ঘুরে আসবো। ভাগ্যিস গিয়েছিলাম। সেখানে যেতেই ইব্রাহিম চৌধুরী আমাকে প্রায় হিরো বানিয়ে ফেললেন। সবাইকে ডেকে ছবি তুলে অস্থির। আমাকে তাঁর ডেস্কে বসতে বললেন, আমি মহানন্দে সম্পাদকের ডেস্কে বসে ছবি তুললাম। আমার সঙ্গে কয়েকজন আত্মীয়স্বজন ছিল। বাসায় ফিরে গিয়ে বুঝলাম, আমার সাত বছর বয়েসি ভাগ্নি রাইদার মনে এসব গভীর দাগ কেটেছে। তার জীবনের লক্ষ্য ছিল স্কুল বাসের ড্রাইভার হওয়া। সেইদিন রাতেই সে সেই লক্ষ্য পরিবর্তন করে ফেললো। এখন সে লেখক হতে চায়।

আরও বুঝতে পারলাম, ইব্রাহিম চৌধুরী একজন ভালো সংগঠক এবং আনন্দপ্রিয় মানুষ। আড্ডা জমিয়ে রাখেন। অনেক গুণীজনকে কাছে এনেছেন। প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার সবাইকে নিয়ে একটি পরিবার তৈরি করেছেন। সেই প্রথম, পরিবারের ছোঁয়া আমিও পেলাম। তারপর বহুবার ভার্জিনিয়ায় এই পরিবারটির সঙ্গে দেখা হয়েছে। সেই হাসি-আনন্দ এবং ভালো পত্রিকা বের করার দীপ্ত প্রত্যয় প্রতিবার তাঁদের সবার চোখে আমি দেখতে পেয়েছি।

বলতে দ্বিধা নেই, এই পত্রিকাটিই আমার লেখালেখির পালে নতুন করে অনেক দিন পরে হওয়া লাগালো। উত্তর আমেরিকার বুকে এই পত্রিকাটি যুগ যুগ ধরে আলোকবর্তিকার মতো উজ্জ্বল হয়ে এগিয়ে যাক, পত্রিকার সাতবছর পূর্তিতে সেই কামনা করি। এই পত্রিকার সকল পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের জন্যে অকুণ্ঠ শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। 

সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন