https://www.prothomalony.com/

17798

new-york

নিউইয়র্ক

নিউইয়র্কে ‘দ্বিতীয় আবাসনের’ কর নিয়ে বিতর্ক, নোটিশ পেয়ে ক্ষুব্ধ বহু বাড়ির মালিক

প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬ ০৮:০৪

নিউইয়র্ক সিটিতে দ্বিতীয় আবাসনের (পিয়ে-আ-তের) ওপর নতুন সম্পত্তি কর কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হলেও, ভুলবশত বহু স্থায়ী বাসিন্দার কাছেও করের নোটিশ পৌঁছানোয় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বাড়ির মালিকদের অভিযোগ, প্রকৃত তথ্য যাচাই না করেই তাদের প্রাথমিক বাসস্থান প্রমাণের দায় চাপিয়ে দিয়েছে সিটি প্রশাসন।

ব্রুকলিনের পার্ক স্লোপ এলাকার বাসিন্দা মারভিন সিপোরেন ১৯৭৩ সাল থেকে একই বাড়িতে বসবাস করছেন। ‍তিনি জানান,  সম্প্রতি মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসনের অর্থ বিভাগ থেকে একটি চিঠি পেয়েছেন তিনি। সেখানে বলা হয়েছে, তার বাড়িটি হয়তো নতুন ‘পিয়ে-আ-তের’ করের আওতায় পড়তে পারে এবং তাকে প্রমাণ করতে হবে এটি তার প্রধান বাসস্থান।

সিপোরেনের চারতলা বাড়িটির বাজারমূল্য ৫.২ মিলিয়ন ডলারের বেশি হওয়ায়, প্রাথমিক বাসস্থান হিসেবে প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হলে তাকে অতিরিক্ত ৪১ হাজার ডলার সম্পত্তি কর দিতে হতে পারে।

তিনি বলেন, কর নথি থেকেই সহজেই বোঝা সম্ভব যে তিনি বছরজুড়েই ওই ঠিকানায় বসবাস করেন। তার অভিযোগ, সিটি কর্তৃপক্ষ নিজেরাই তথ্য যাচাই না করে সাধারণ মানুষের ওপর অপ্রয়োজনীয় ঝামেলা চাপিয়ে দিয়েছে।

তবে তিনি জানান, ধনী ব্যক্তিদের দ্বিতীয় আবাসনের ওপর কর আরোপের নীতিকে তিনি সমর্থন করেন। কিন্তু মধ্যবিত্ত ও দীর্ঘদিনের বাসিন্দাদের হয়রানি করে সেই লক্ষ্য অর্জন করা উচিত নয়।

চিঠি পাওয়া ব্যক্তিদের আগামী ২১ আগস্টের মধ্যে কর অব্যাহতির জন্য আবেদন করতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে মেয়রের কার্যালয়ের মুখপাত্র মনিকা ক্লেইন জানান, অঙ্গরাজ্যের আইন অনুযায়ী সম্পত্তির তালিকা প্রকাশের পর সেখান থেকে সম্ভাব্য করযোগ্য সম্পত্তি চিহ্নিত করা হয়েছে। কেউ আপত্তি জানাতে চাইলে তার সেই অধিকার রয়েছে।

অন্যদিকে গভর্নর ক্যাথি হোকুল বলেন, বর্তমান আইনে পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে কি না, তা পর্যালোচনা করা যেতে পারে। তবে আপাতত তিনি আইনে পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখছেন না।

নতুন এই কর থেকে নিউইয়র্ক সিটির বছরে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের আশা করা হচ্ছে। এই অর্থ সিটির বহু বিলিয়ন ডলারের বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় ব্যবহার করা হবে।

এদিকে রিপাবলিকান সিটি কাউন্সিল সদস্য ডেভিড কারও অভিযোগ করেছেন, অনেক এমন সম্পত্তিও সম্ভাব্য করযোগ্য তালিকায় এসেছে, যেগুলোর বাজারমূল্য নির্ধারিত সীমার অনেক নিচে। তার মতে, এতে সাধারণ বাড়ির মালিকদের মধ্যে অযথা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং এটি প্রশাসনের ত্রুটিপূর্ণ প্রস্তুতিরই প্রমাণ।

নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন