https://www.prothomalony.com/
17796
north-america
প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬ ০৭:৫৮
যুক্তরাষ্ট্রে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে বিমানবন্দরকেন্দ্রিক অভিযান জোরদার করেছে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইস)। নতুন এ পদক্ষেপের ফলে বৈধভাবে গ্রিন কার্ড বা ভিসা নবায়নের আবেদন চলমান থাকা অনেক অভিবাসীও আটক হচ্ছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৫টি বিমানবন্দরে সাধারণ পোশাকে থাকা আইসিই কর্মকর্তারা যাত্রীদের চেক-ইন কাউন্টার, বোর্ডিং গেট ও আগমনী এলাকায় আটক করছেন। আটক হওয়াদের মধ্যে মার্কিন নাগরিকের স্বামী-স্ত্রী, কর্মভিসা নবায়নের অপেক্ষায় থাকা প্রযুক্তি খাতের কর্মী, সাবেক জে-১ এক্সচেঞ্জ ভিজিটর এবং আশ্রয়প্রার্থীরাও রয়েছেন।
এর আগে বিমানবন্দরে মূলত বহিষ্কারাদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসন (টিএসএ) ও আইস যৌথভাবে কাজ করত। তবে এখন ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও যাদের অভিবাসন-সংক্রান্ত আবেদন বিচারাধীন রয়েছে, তাদেরও এই অভিযানের আওতায় আনা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারীরা যাতে দেশের ভেতরে অবাধে ভ্রমণ করতে না পারেন, সে লক্ষ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যদিও বিমানবন্দরভিত্তিক এই কর্মসূচি সম্প্রসারণের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি সংস্থাটি।
আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতে ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও যাদের গ্রিন কার্ড, ভিসা নবায়ন বা অন্য কোনো বৈধ আবেদন চলমান থাকত এবং যারা ওয়ার্ক পারমিট পেতেন, তাদের সাধারণত আটক করা হতো না। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে সেই চিত্র বদলে গেছে।
অভিবাসন আইনজীবী চার্লস কাক বলেন, ৩৮ বছরের পেশাগত জীবনে তিনি এমন পরিস্থিতি আগে দেখেননি। তার মতে, এখন অপরাধমূলক রেকর্ড নেই—এমন বৈধ আবেদনকারী ব্যক্তিরাও বিমানবন্দরে আটক হচ্ছেন।
শিকাগোভিত্তিক অভিবাসন আইনজীবী শ্যানন শেফার্ড বলেন, আগে তিনি বৈধ পরিচয়পত্র থাকলে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ভ্রমণের পরামর্শ দিতেন। এখন যাদের অভিবাসন-সংক্রান্ত আবেদন বিচারাধীন রয়েছে, তাদের অপ্রয়োজনীয় বিমান ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন।
প্রতিবেদনে ইকুয়েডরের নাগরিক চ্যান্টাল মোরালেস রোহাসের ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বৈধভাবে জে-১ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন এবং পরবর্তীতে বৈধভাবে থাকার আবেদন করেছিলেন। তবে ডেনভার বিমানবন্দরে ফ্লাইটে ওঠার সময় আইসিই কর্মকর্তারা তাকে আটক করেন। পরে একজন অভিবাসন বিচারক ৩ হাজার ডলারের বন্ডে তার মুক্তির নির্দেশ দেন।
এছাড়া একজন হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী উগান্ডার আশ্রয়প্রার্থী নারী এবং ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ এক অস্ট্রেলীয় নাগরিককেও বিমানবন্দরে আটক বা আটকের চেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
অভিবাসন অধিকারকর্মীরা বলছেন, বিমানবন্দরে এ ধরনের অভিযান অভিবাসীদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। তাদের আশঙ্কা, বৈধ আবেদন বিচারাধীন থাকা ব্যক্তিরাও এখন বিমান ভ্রমণের সময় গ্রেপ্তারের ঝুঁকিতে পড়ছেন।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন