https://www.prothomalony.com/
18574
literature
‘শনিবারের চিঠি’
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬ ০৭:৪৬
আজ থেকে একশত বৎসর আগে ‘শনিবারের চিঠি’ নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা বের হতো কোলকাতায় প্রতি শনিবারে। পত্রিকাটি বের হতো শুধু মাত্র কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃজনশীল সাহিত্যকে তাচ্ছিল্য করার জন্য। পত্রিকার প্রতিটি পাতায় কবি নজরুল যা কিছু লিখতেন –কবিতা, গল্প, উপন্যাস—তারই বিরুদ্ধাচারণ করে একটি ব্যাঙ্গাত্মক ব্যাখ্যা দেয়া হতো। যে দু’জন বিরূপ মহারথী এর পিছনে ছিল তারা হলো মোহিতলাল মজুমদার ও তার দোসর সজনীকান্ত দাস। ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকার সম্পাদনা বা লেখা লিখি তারাই করতো। এরাই ‘সাত মহারথীর’ দুই মহারথী যারা কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছে কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করতো প্রতিনিয়ত। কবির সাহিত্য, মেধা ও কাব্য সৃষ্টিকে এত বেশী ঈর্ষা করতো যে এক পর্যায়ে কবি নজরুল তাঁর ‘বড়োর পিরিতি বালির বাঁধ' প্রবন্ধে এই কথাগুলো লিখতে বাধ্য হয়েছেন—”আজ তাই একটিমাত্র প্রার্থনা—যদি পরজন্ম থাকেই, তবে আর যেন এদেশে কবি হয়ে না জন্মাই ।”
এদের কথা কবি নজরুল তাঁর বিখ্যাত ‘আমার কৈফিয়ৎ’(কাব্যগ্রন্থ ‘সঞ্চিতা’) কবিতার একটি পংতিতে লিখেছেন—“প্রতি শনিবারী চিঠিতে প্রেয়সী গালি দেন, ‘তুমি হাঁড়িচাঁচা! /আমি বলি, ‘প্রিয়ে, হাটে ভাঙি হাঁড়ি!”
এছাড়াও একই প্রবন্ধে কবি নজরুল তাঁর মনে ব্যথা নিয়ে লিখেছেন,“ আজ আমাদের মনে হচ্ছে আজকের রবীন্দ্রনাথ আমাদের সেই চিরচেনা রবীন্দ্রনাথ নন। তাঁর পিছনের বৈয়াকরণ পন্ডিত এসব বলাচ্ছে তাঁকে।”
তিনি আক্ষেপ করে লিখেছেন, “ এই অভিমন্যুর রক্ষী মনে করে কবিগুরু আমায়ও বাণ নিক্ষেপ করতে ছাড়েননি। তিনি বলেছেন, “আমি কথায় কথায় ‘রক্ত’কে ‘খুন’ বলে অপরাধ করেছি। এই আরবী, ফার্সি শব্দ প্রয়োগ কবিতায় শুধু আমিই করিনি। আমার বহু আগে ভারতচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ, সত্যেন্দ্রনাথ প্রভৃতি করে গেছেন। রবীন্দ্রনাথ “ইটালিকে উদ্দেশ্য করে এক কবিতা লিখেছেন। তাতে – ‘উতারো ঘোমটা’ তাঁকেও ব্যবহার করতে দেখেছি। ‘ঘোমটা খোল’ শোনাই আমাদের চিরন্তন অভ্যাস। ‘উতারো ঘোমটা’ আমি লিখলে হয়তো সাহিত্যিকদের কাছে অপরাধীই হতাম। কিন্তু ‘উতারো’ কথাটা যে জাতেরই হোক, ওতে এক অপূর্ব সংগীত ও শ্রী-র উদ্বোধন হয়েছে ও জায়গায়, তা তো কেউ অস্বীকার করবে না। ওই একটু ভালো শোনাবার লোভেই, ওই একটু ভিনদেশী কথার প্রয়োগে অপূর্ব রূপ ও গতি দেওয়ার আনন্দে আমিও আরবি-ফার্সি শব্দ ব্যবহার করি।” (নজরুল রচনা সমগ্র, পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি, ভলিউম-৪, পৃঃ ৫৪০-৫৪৩)।
মোহিতলাল মজুমদার ও সজনীকান্ত দাসকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশের একদল বৈহাসিক বামপন্থী গোষ্ঠী । তারা শিকড়সহ উপড়ে ফেলতে চায় কবি কাজী নজরুল ইসলাম নামে একটি মহীরুহের অস্তিত্ব।
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুল কলেজের পাঠ্যক্রমে নজরুল সাহিত্য শুধু অস্তিত্ব নিয়ে বেঁচে আছে, কোন পূর্ণতা নেই, কোন সদিচ্ছা নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে নজরুল সাহিত্যের উপর ফুলস্কেল গবেষণা হচ্ছে না। যথেষ্ট আর্থিক অনুদান কিংবা গ্রান্ট নেই। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন্ শ্রেনীতে কবি নজরুলের কোন্ কবিতা, কোন্ গজল, কোন্ ছড়া, গল্প, উপন্যাস বা নাটক পঠিত হবে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কোন সঠিক ধারণা নেই। এহেন অপপ্রয়াস চলতে থাকলে বাংলাদেশে নজরুল সাহিত্য একদিন বিলুপ্ত হয়ে যাবে। যে নজরুল-সাহিত্য একদিন পাশ্চাত্যে hidden treasure হিসাবে পরিচিত ছিল, সেটি আার এখন hidden নয়, ধীরে ধীরে তার মাধুর্য ও প্রতীতির উন্মেষ ঘটছে ।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর অনেকটি বৎসর অতিবাহিত হয়ে গেছে , এই দীর্ঘ কাল সময় কবি নজরুলের সাহিত্য ও সঙ্গীত চর্চার কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে সেটা আমাদের আজ খতিয়ে দেখার প্রয়োজন । বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য ইন্স্টিটিউশনে নজরুল সঙ্গীত ও নজরুল-সাহিত্যের উপর গবেষণা যেভাবে হওয়ার কথা সেভাবে হচ্ছে না। প্রতি বৎসর মোট কতটা গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয় এর উপর একটি স্টেটিস্টিকস নেয়া প্রয়োজন । শুধু নজরুল-সাহিত্য ও সঙ্গীতকে নিয়ে গবেষণা করার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পূর্ণ ফেকাল্টি ওপেন করার প্রয়োজন । নজরুল সাহিত্যকে চর্চা ও গবেষণার মাধ্যমে এগিয়ে নিতে না পারলে বিশ্বসাহিত্যের এক অপূরণীয় ক্ষতি হবে। সারা বাঙালী জাতির জন্য একটি দেশকে হারানোর মত ক্ষতি হবে।
কিছু লোক ব্যাঙের মতো একটি কূপের মাঝে লম্ফঝম্প করছে, কূপই তাদের জীবন, কূপই তাদের পৃথিবী। এর বাহিরে কি ঘটছে তাদের কোন ধারণা নেই। এই সব ব্যাঙের অস্তিত্ব বিশ্বের আর কোন কূপে আছে কি না আজও এর হদিস মেলেনি ।
এবারও সাহিত্যে নোবেল ছিনিয়ে এনেছে কানাডা।
২০১৩ সালে সাহিত্যে নোবেলবিজয়ী এলিস এন মুনরো, কানাডার ওন্টারিও প্রদেশের হিউরন শহরে বাস করতেন। তাঁর বাসা খুঁজে নিতে আমাকে একটু বেগ পেতে হয়েছিল। এখন বুঝতে আপনাদের কষ্ট হবে না, বঙ্গের ঐ ব্যাঙদের অবস্হান কোথায়! পৃথিবীতে যত নোবেল লোরিয়েট আছেন তাঁদেরকে তাঁদের দেশবাসি অন্তরের গভীর থেকে শ্রদ্ধা করেন কিন্তু তাঁদেরকে নিয়ে মাতামাতি করেন না। (চলবে)
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রসঙ্গঃ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একজন অসাধারণ প্রতিভাবান কবি ও ছোট গল্প লেখক ছিলেন। তিনি তাঁর অপূর্ব রচনাশৈলী এবং হৃদয়গ্রাহী শব্দচয়ন দিয়ে বাংলা সাহিত্যকে অলংকৃত করেছেন । তাঁর সৃষ্ট ছোটগল্পগুলি বাংলা সাহিত্যে একটি অমূল্য সংযোজন। তবে তাঁর ছোটগল্পে কিংবা সার্বিক সাহিত্যে সর্বহারা, বাংলার কৃষক, শ্রমিক মজুরের কঠিন জীবন সংগ্রাম, তাদের জীবনের দুঃখ ও বেদনার আকুতি, অনুভূতি, আর্তচিৎকার ফুটে উঠেনি। তাঁর সাহিত্যে যে মানবতা আছে, সেটি হলো স্পিরিচুয়াল হিউমানিজম বা আধ্যাত্মিক মানবতা। তিনি নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন এক অঞ্জলীভরা ১০৩টি আধ্যাত্মিক গীতি সম্বলিত কাব্যগ্রন্থ—‘গীতাঞ্জলি’ লিখে।
১৯১৩ সালের একটি ঔপনিবেশিক দেশের একজন নেটিভ ভারতীয়র পক্ষে ১০৩টি কবিতা লিখে নোবেল পুরষ্কার অর্জন করা কোন ভাবেই সম্ভব ছিল না, তিনি যতই প্রতিভাবান শিল্পী, সাহিত্যিক ও কবি হউন না কেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাহিত্যে ১৯১৩ সালে নোবেল বিজয়ী হওয়ার পিছনে কি কি ফেক্টর অবদান রেখেছে, তার একটা হিন্টস দিতে চেষ্টা করবো।
১৯১২ সালের ৭ই জুলাই লন্ডনে ইংলিশ চিত্রকার উইলিয়াম রথেনস্টেইনের বাসায় আইরিস কবি উইলিয়াম বাটলার ইয়েটসএর সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিচয় হয়, সেখানেই ‘গীতাঞ্জলী’র পান্ডুলিপিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ইয়েটসকে হস্তান্তর করেন। ইয়েটস লন্ডনে বসেই গীতাঞ্জলী এডিট করেছিলেন এবং ইন্ট্রোডাকশন লিখেছিলেন।
যখন কোন কবি তাঁর নিজের কবিতা নিজে অনুবাদ করেন সেটার আউটপুট খুবই ভালো হয়। তদুপরি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নির্মুক্ত, নির্মল অনুবাদ এবং সেই সাথে তাঁর ইংরেজী ভাষার কাব্যিক মাধুর্য ও সাবলীলতা এই গীতিগুলোর মাঝে গতিময়তা ও প্রাণময়তা এনে দিয়েছিল। অনুবাদ করতে গিয়ে তিনি মুল কবিতার মিস্টিক ভাবধারাকে ও গভীরতাকে এতটুকু বিনষ্ট করেননি ।
কবি ইয়েটসের ভূমিকা:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে পাশ্চাত্য বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার পেছনে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটসের অবদান ছিল অনন্য ও অবিস্মরণীয়। ১৯১২ সালে ইন্ডিয়া সোসাইটি থেকে প্রকাশিত 'Gitanjali: Song Offerings'-এর জন্য কবি ইয়েটস একটি চমৎকার ও আবেগঘন ‘পরিচিতি’ লিখে দেন। এই ‘পরিচিতি’ বা ‘Introduction’ পাশ্চাত্য পাঠকদের মনে রবীন্দ্রনাথের আধ্যাত্মিক ও কাব্যিক গভীরতা সম্পর্কে তুমুল কৌতূহল তৈরি করে এবং একই সাথে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমির দৃষ্টি আকর্ষণ করে। যার ফলশ্রুতিতে ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ প্রথম অ-ইউরোপীয় হিসেবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
তাঁর অনুদিত কবিতাগুলো পড়ে কবি উইলিয়াম বাটলার ইয়েটস মুগ্ধ হয়ে পান্ডুলিপিটি বার বার পড়েছেন। মরমী ভাবধারা, মরমী চিন্তা ও দর্শনের প্রতি কবি ইয়েটসএর প্রবল আকর্ষণ ছিলো।
১৯১২ সালে জুলাই মাসে ইয়েটস যখন প্রথম গীতাঞ্জলির পাণ্ডুলিপি পড়েন, তখন তিনি ট্রেনে বা বাসে বা রেস্তোরাঁয় যেখানেই যেতেন, এই পাণ্ডুলিপি সাথে রাখতেন এবং পড়তেন। এমনকি লন্ডনে ইয়েটস তাঁর নিজের বাড়িতে রবীন্দ্রনাথের কবিতা আবৃত্তির আসর বসাতেন। সেখানে এজরা পাউন্ড (Ezra Pound) এবং মে সিনক্লেয়ারের মতো সমকালীন বিখ্যাত কবি ও সমালোচকদের আমন্ত্রণ জানিয়ে তিনি রবীন্দ্রনাথের কাজের সাথে তাদের পরিচয় করিয়ে দেন।
১৯১২ সালে ইংল্যান্ড যাত্রার পূর্বে এবং যাত্রাপথে রবীন্দ্রনাথ নিজেই তাঁর মূল বাংলা 'গীতাঞ্জলি' এবং আরও কয়েকটি কাব্যগ্রন্থ থেকে কিছু কবিতা বাছাই করে ইংরেজিতে অনুবাদ করেন।
তাই ইংরেজি 'গীতাঞ্জলি' কিন্তু হুবহু বাংলা 'গীতাঞ্জলি'র অনুবাদ নয়। মূল বাংলা গীতাঞ্জলির ১৫৭টি গীতির মধ্যে মাত্র ৫৩টি গান ইংরেজি সংস্করণে স্থান পায়। বাকি ৫০টি কবিতা তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ যেমন—'গীতিমাল্য', 'নৈবেদ্য', 'খেয়া', ও 'শিশু' থেকে নেয়া হয়। মোট ১০৩টি কবিতার সংকলন নিয়ে ‘গীতাঞ্জলি’র সৃষ্টি হয় (উৎস: বিশিষ্ট রবীন্দ্র-গবেষক প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় রচিত 'রবীন্দ্রজীবনী' এবং বিশ্বভারতী থেকে প্রকাশিত রবীন্দ্র-সাহিত্য নির্দেশিকায় এর উল্লেখ আছে )। ইংরেজিতে সংকলনটির নাম দেওয়া হয় 'Gitanjali: Song Offerings'।
রবীন্দ্রনাথের করা অনুবাদগুলো ডব্লিউ. বি. ইয়েটস কিছুটা পরিমার্জন ও সম্পাদনা করেছিলেন, যাতে ইংরেজি ভাষার ছন্দ ও মাধুর্য অক্ষুণ্ণ থাকে। তবে মূল ভাব বা আধ্যাত্মিকতায় কোনো পরিবর্তন করা হয়নি।
বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে যখন পাশ্চাত্য সমাজ বস্তুবাদের দিকে ঝুঁকে পড়েছিল, তখন গীতাঞ্জলির শান্ত, মরমী এবং ঈশ্বরপ্রেমের কবিতাগুলো তাদের আত্মাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়।
গীতাঞ্জলির এই ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশের মাত্র এক বছরের মাথায়, ১৯১৩ সালের নভেম্বর মাসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। নোবেল কমিটি তাদের ঘোষণায় উল্লেখ করেছিল যে, “তাঁর অত্যন্ত সংবেদনশীল, তাজা এবং সুন্দর পদ্যের জন্য এই পুরস্কার দেওয়া হলো, যা তিনি তাঁর নিজস্ব ইংরেজি শব্দে প্রকাশ করেছেন”।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, রবীন্দ্রনাথের নিজস্ব অনুবাদ প্রতিভা এবং ইয়েটসের আন্তরিক পৃষ্ঠপোষকতা—এই দুইয়ের মেলবন্ধনেই বাংলা সাহিত্য আন্তর্জাতিক স্তরে এক ঐতিহাসিক উচ্চতায় পৌঁছাতে পেরেছিল।
নোবেল কমিটিতে আবেদনকারীরা তাদের স্বপক্ষে শক্তিশালী রেফারেন্সে প্রদান করে থাকেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নোবেল কমিটিকে তা দিতে পেরেছিলেন অনায়াসে। কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ইংলেন্ডের বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব, কবি ও সাহিত্যিকদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন মিটিং এর আয়োজন করার পিছনে দুজন শক্তিশালী ব্যক্তি নেপথ্যে থেকে কাজ করেছিলেন। তাঁরা হলেন ইংলিশ চিত্রকার উইলিয়াম রথেনস্টেইন এবং কবি উইলিয়াম বি. ইয়েটস। তবে তাঁর পিতামহ দ্বারকানাথ ঠাকুর (১৭৯৪-১৮৪৬)। লন্ডনে একটি ক্ষেত্র তৈরী করে গিয়েছিলেন। দ্বারকানাথের বিপুল সম্পত্তি এবং উত্তরাধিকার পরোক্ষভাবে রবীন্দ্রনাথের জীবন ও শৈল্পিক গতিপথকে রূপ দিয়েছিল: দ্বারকানাথ অগাধ সম্পত্তি অর্জন করেছিলেন। এই বংশানুক্রমিক সম্পদ ঠাকুর পরিবারকে একটি আর্থিক নিরাপত্তা প্রদান করেছিল। এর ফলে রবীন্দ্রনাথ লেখালেখি করা, ভ্রমণ করা এবং তাঁর শিল্পকলা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য পর্যাপ্ত সময় ও বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতার সুযোগ পেয়েছিলেন।
দ্বারকানাথ একজন সফল ব্যবসায়ী, ব্যাংকার, কয়েকটি জাহাজের মালিক, একজন দীওয়ান ও রিয়েল-ইস্টেট ব্যবসায়ী, পরবর্তীতে প্রচুর জমির অধিকারী। ঐসময় তিনি বৃটিশদের কাছে তাদেরই সমকক্ষ আরেকজন ভারতীয় বৃটিশ ছিলেন। বৃটিশ সম্রাজ্ঞী মহারাণী ভিক্টোরিয়ার অতি প্রিয়ভাজন ব্যক্তি ছিলেন। মহারাণী ভিক্টোরিয়ার পরিচয়ে ফ্রান্স ও সুইডেনের রয়েল পরিবারের সাথেও তার সম্পর্ক স্হাপন হয়েছিল।
ড. মুস্তফা মুনীর
নজরুল গবেষক, অনুবাদক ও গ্রন্থকার
হিউস্টন, টেক্সাস
সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন