https://www.prothomalony.com/

18559

literature

সাহিত্য

পথের দাবী উপন্যাসটি প্রকাশের ১০০ বছর পর 'এম্পারার ভার্সেস শরৎচন্দ্র'

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬ ০১:৪৩

অপরাজেয় কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা পথের দাবী উপন্যাসটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। তার ১০০ বছর পর 'এম্পারার ভার্সেস শরৎচন্দ্র' ২০২৬ সালে নির্মিত হয়েছে বাংলা ভাষার  মহাকাব্যিক ঐতিহাসিক এক নাট্য চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্রটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন সৃজিত মুখার্জি। শরৎচন্দ্রের কালজয়ী  'পথের দাবী' উপন্যাসটির কাহিনী অবলম্বনে এ চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করা হয়েছে। ছবিটি সম্প্রতি (গত দুর্গা পূজায়)  মুক্তি পেয়েছে।

মূলত বৃটিশরাজের বিরুদ্ধে ছিল এ উপন্যাস, তৎকালিন সরকারকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে ছিলেন শরৎচন্দ্র। তাই বৃটিশরাজ কর্তৃক উপন্যাসটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। তবে প্রকাশের এক সপ্তাহের মধ্যে বইটির সকল কপি বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। শরৎচন্দ্রের মৃত্যুর এক বছর পর যদিও নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়েছিলো। 'এম্পারার ভার্সেস শরৎচন্দ্র' চলচ্চিত্রটি অতীতকে নিয়ে এসেছে বর্তমানের আঙ্গিনায়। দেশপ্রেম, স্বাধীনতা, মুক্তি, প্রতিবাদ, মত প্রকাশের অধিকারসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে ছবিটিতে।

ছবিটিতে শরৎচন্দ্রের বাস্তব জীবন, বিপ্লবী চরিত্রগুলোর চিত্রণ হয়েছে খুব নিখুঁতভাবে। একদিকে শরৎচন্দ্রের কলম অন্যদিকে সব্যসাচীর সরাসরি সংগ্রাম, প্রতিবাদের দুই ভাষা ছবিটিকে উপজীব্য করে তুলেছে। রবীন্দ্রনাথের উপস্থিতি ও শরৎচন্দ্রের সাথে জাতীয়তাবাদ নিয়ে তাদের দুজনের ভিন্ন দৃষ্টি ভঙ্গি ছবিতে ভিন্ন একটি মাত্রা যুক্ত করেছে যা দর্শকরা উপভোগ করেছেন। সৃজিত সব সময়ই তার গল্পগুলোতে  ভিন্নভাবে বা ব্যতিক্রমী কিছু একটা দিতে চান, এ ছবিতে তার ব্যতিক্রম হয়নি। সাহিত্য, রাজনীতি ও বিপ্লবের পারস্পরিক সংঘাতকে তুলে ধরে ছবিটি চিন্তার শক্তি এবং একটি জাতির ভাগ্য নির্মাণে যে ভূমিকা রেখেছিল তা খুব সুন্দরভাবেই তুলে ধরেছেন।

ছবিতে অভিনয় করেছেন, টোটা রায়চৌধুরী (শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় চরিত্রে), আবির চট্টোপাধ্যায়, মিমি চক্রবর্তী এবং সঞ্জয় নাগ (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চরিত্রে) প্রমূখ।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা পথের দাবী উপন্যাসটি ১৯৪৭ সালে চলচ্চিত্র রূপ দেন পরিচালক সতীশ দাশগুপ্ত ও দিগম্বর চট্টোপাধ্যায়।মূল চরিত্র: সব্যসাচী চরিত্রে দেবী মুখোপাধ্যায়, ভারতী চরিত্রে সুমিত্রা দেবী এবং অপূর্ব চরিত্রে মিহির ভট্টাচার্য অভিনয় করেন।

বিশেষত্ব : এ উপন্যাসটির প্রথম রূপান্তর যা ব্যবসায়িকভাবে দারুণ সফল হয় এবং একাধিক বিএফজেএ (BFJA) পুরস্কার লাভ করে।

১৯৪৮ সালে হিন্দিতে 'সব্যসাচী' নামে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা পথের দাবী উপন্যাসটির চলচ্চিত্রায়ণ করা হয়।

১৯৪৭ সালের সফল বাংলা সিনেমাটির ওপর ভিত্তি করে পরের বছরই এটি হিন্দি ভাষায় পুনর্নির্মিত (Remake) হয়।

১৯৭৭ সালে 'সব্যসাচী' নামে পরিচালক পীযূষ বোস আরেকটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন যার মূল চরিত্রে ছিলেন মহানায়ক উত্তম কুমার এখানে মূল বিপ্লবী চরিত্র 'সব্যসাচী' হিসেবে পর্দায় হাজির হন। অন্যান্য চরিত্রে ছিলেন সুপ্রিয়া চৌধুরী (রোজ), অনিল চট্টোপাধ্যায় এবং বিকাশ রায়।

পথের দাবী  উপন্যাসটি প্রকাশের পর প্রখ্যাত নাট্যকার শচীন সেনগুপ্ত এটিকে মঞ্চনাটকের রূপ দেন। ১৯২০-এর দশকের শেষের দিকে এবং পরবর্তী সময়ে কলকাতার বিভিন্ন পেশাদার ও অপেশাদার নাট্যমঞ্চে এই নাটকটি নিয়মিত মঞ্চস্থ হতো। উপন্যাসের সংলাপে তীব্র দেশাত্মবোধ থাকায় এই নাটকগুলোও তৎকালীন তরুণ সমাজকে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিপ্লবে উদ্বুদ্ধ করত।
 

সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন