https://www.prothomalony.com/

18572

north-america

উত্তর আমেরিকা

মার্কিন ইতিহাসের প্রথম মুসলিম মার্কিন সিনেটর হলেন মিশিগানের আব্দুল এল-সায়েদ

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬ ০৭:৩৭

মিশিগানে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মার্কিন সিনেট নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন আব্দুল এল-সায়েদ। মিশিগানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করেছেন প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট আব্দুল এল-সায়েদ, যা রিপাবলিকান পার্টির (জিইউপি) জন্য একটি বড় ধরনের অঘটন। ‘ক্লিক অন ডেট্রয়েট ডট কম’ এর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ডেট্রয়েট ও ওয়েইন কাউন্টির সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা এল-সায়েদ তার রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি মার্কিন ইতিহাসের প্রথম মুসলিম মার্কিন সিনেটর হওয়ার গৌরব অর্জন করলেন। নির্বাচনে আব্দুল এল-সায়েদ ২৫ লাখ ৪ হাজার ৪৫০ ভোট (প্রাপ্ত ভোটের ৫৩ শতাংশ) পেয়েছেন এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক রজার্স পেয়েছেন ২১ লাখ ৬৪ হাজার ৪৫০ ভোট (প্রাপ্ত ভোটের ৪৫ শতাংশ)।

মিশিগান থেকে মার্কিন সিনেট আসনের জন্য প্রচারণার সময় এল-সায়েদ তিনটি বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন: রাজনীতি থেকে করপোরেট অর্থের প্রভাব দূর করা, মানুষের হাতে আরও বেশি অর্থ পৌঁছে দেওয়া এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।

এল-সায়েদ জানিয়েছেন, তিনি মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের ‘সিটিজেনস ইউনাইটেড’ রায় উল্টে দেওয়ার জন্য লড়াই করবেন। পাশাপাশি করপোরেট ও বিশেষ স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর ব্যয় সীমিত করা এবং ‘সুপার প্যাক’ এর প্রভাব কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

এল-সায়েদ মিশিগানের বাসিন্দাদের জীবনযাত্রাকে আরও সাশ্রয়ী করে তোলার কথা বলেছেন। তিনি ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে কাজ করার কথা জানান, যার প্রভাবে জ্বালানি থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে বলে তিনি ও অর্থনীতিবিদরা মনে করেন। তার অন্যান্য প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে—মজুরি বৃদ্ধি, বিলিয়নেয়ারদের ওপর কর বাড়ানো, সাশ্রয়ী আবাসন ব্যবস্থায় বিনিয়োগ করা এবং করপোরেট বাড়ির মালিকদের হাত থেকে ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষা প্রদান করা।

এ ছাড়া সবার জন্য মেডিকেয়ার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এল-সায়েদ, যার অর্থ প্রত্যেক আমেরিকানের জন্য সরকার-প্রদত্ত এমন স্বাস্থ্যসেবা, যেখানে কোনো প্রিমিয়াম, কো-পে বা ডিডাক্টিবল থাকবে না এবং দাঁত, চোখ ও কানের জন্য বর্ধিত কভারেজ যুক্ত থাকবে।

তবে ভোটাররা শেষ পর্যন্ত যে প্রশ্নগুলোর উত্তর জানতে চাইবেন তা হলো: এই প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে কত খরচ হবে? তিনি কীভাবে এগুলো কংগ্রেসের মাধ্যমে পাস করাবেন? আর মিশিগানের পরিবারগুলোর জীবনে বাস্তবে কী পরিবর্তন আসবে? তার ছয় বছরের মেয়াদজুড়ে মিশিগানবাসী এই প্রতিশ্রুতিগুলোর ওপর নজর রাখবেন এবং তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনবেন।
 

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন