https://www.prothomalony.com/

18506

north-america

উত্তর আমেরিকা

ফ্রান্সে শনিবার নতুন বিক্ষোভ, নিরাপত্তায় ৭০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডারম মোতায়েন

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ০৬:৪৯

ফ্রান্সে গত সপ্তাহান্তের সহিংসতা, দোকানপাটে লুটপাট ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর নতুন করে বিক্ষোভের প্রস্তুতি চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শনিবার, ২৪ অক্টোবর, দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডারম মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। নিরাপত্তা জোরদারে বিশেষায়িত বাহিনীর পাশাপাশি হেলিকপ্টার, ড্রোন ও সাঁজোয়া যান ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ১৭ অক্টোবরের সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে স্থানীয় প্রশাসনকে বিক্ষোভের আয়োজক, মিছিলের সম্ভাব্য পথ ও নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট এলাকায় বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা অথবা বিকল্প পথে মিছিল আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।

রাজধানী প্যারিসে শ্রমিক সংগঠনগুলোর উদ্যোগে বাস্তিল থেকে নাসিওঁ পর্যন্ত মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষার্থী সংগঠন ইন্টারফ্যাক এবং ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিকল্প কর্মসূচির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বলে ফরাসি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

লিল শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় শনিবারের বিক্ষোভ ও জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মার্সেইয়ে প্রথমে বিক্ষোভ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর দুপুর ২টায় নির্ধারিত পথে মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়।

চলমান উত্তেজনা কমাতে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ শুক্রবার শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তাদের দাবি ও উদ্বেগ শোনার উদ্দেশ্যে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নুরও আগামী সোমবার শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে।

সরকার সহিংসতা ও ভাঙচুরের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানালেও শ্রমিক ও শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর একাংশের আশঙ্কা, ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে। নিরাপত্তার কারণে দেশটির কয়েকটি শহরে স্থানীয় কারফিউ ও জমায়েতের ওপর বিধিনিষেধও জারি রয়েছে। কোথাও অপ্রাপ্তবয়স্কদের রাতে চলাচল সীমিত করা হয়েছে, আবার কোথাও নির্দিষ্ট এলাকায় বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

শনিবারের কর্মসূচিকে সামনে রেখে পরিবহনব্যবস্থা, বাণিজ্যিক এলাকা ও সরকারি ভবনগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে প্যারিসের ল্যুভর জাদুঘর সপ্তাহান্তে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

শনিবারের বিক্ষোভ কতটা বিস্তৃত হবে এবং পুলিশের সঙ্গে নতুন করে সংঘর্ষ ঘটবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে দেশজুড়ে বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন এবং বিভিন্ন শহরে কর্মসূচির ওপর বিধিনিষেধ ফ্রান্সের চলমান সামাজিক উত্তেজনার গুরুত্ব তুলে ধরছে।

উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন