https://www.prothomalony.com/
18503
north-america
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ০৬:০৮
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন সুবিধা পেতে শত শত ভুয়া সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা সাজানোর অভিযোগে মূল হোতাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ঘটনায় হাজারো বিদেশি নাগরিক অর্থের বিনিময়ে অপরাধের ভুক্তভোগী সেজে বিশেষ ভিসা পাওয়ার চেষ্টা করেন বলে জানিয়েছে মার্কিন বিচার বিভাগ।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের পার্থ নাই নামের এক ব্যক্তিকে বৃহস্পতিবার দুই বছরের ফেডারেল কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অভিযোগ, তিনি শিকাগো ও আশপাশের এলাকায় ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং খাবারের দোকানে শত শত সাজানো সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনায় সংগঠক হিসেবে কাজ করেন। এসব ঘটনার পর কথিত ভুক্তভোগীদের ইউ ভিসার জন্য আবেদন করার প্রস্তুতি নিতে সহায়তা করতেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট গুরুতর অপরাধের শিকার বিদেশি নাগরিকদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতার বিনিময়ে বৈধ অবস্থান পাওয়ার সুযোগ দিতে ইউ ভিসা চালু করা হয়। ২০০০ সালের আইনের আওতায় চালু হওয়া এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য মানব পাচারের শিকার ব্যক্তি এবং নির্যাতনের শিকার অভিবাসীদের সুরক্ষা দেওয়া।
মার্কিন প্রসিকিউটরদের দাবি, হাজারো ব্যক্তি এ জালিয়াতিতে অংশ নিতে নাইকে অর্থ দিয়েছিলেন। কেউ কেউ ৩০ হাজার ডলার পর্যন্ত পরিশোধ করেন। নাই ও তার কথিত সহযোগী কিওন ইয়ং ভুয়া ডাকাতির জন্য অস্ত্রধারী ব্যক্তিদের নিয়োগ করতেন। কোনো কোনো ঘটনায় ডাকাতির ঘটনা বাস্তব মনে করাতে কথিত ভুক্তভোগীদের আঘাতও করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
এরপর কথিত ভুক্তভোগীদের পুলিশকে দেওয়া বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় নথি তৈরিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো, যাতে তারা সহিংস অপরাধের শিকার হিসেবে স্বীকৃতি নিয়ে ইউ ভিসার আবেদন করতে পারেন। এ ঘটনায় কয়েকজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তির নামও এসেছে। তাদের বিরুদ্ধে ভুয়া ডাকাতির শিকার সেজে আবেদন করার অভিযোগ রয়েছে।
২০২৩ সালের জুলাইয়ে শিকাগোর একটি মদের দোকানে সাজানো ডাকাতির সময় এক অভিযুক্তের অস্ত্র থেকে গুলি ছুটে এক কর্মী গুরুতর আহত হন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সিডব্লিউবি শিকাগোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্তরা পরে চুরি করা গাড়িতে পালিয়ে যান।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির কংগ্রেস সদস্য ক্রিস্টোফার স্মিথ এ ধরনের জালিয়াতির নিন্দা জানিয়ে বলেন, ভিসা জালিয়াতি বা সরকারি সুবিধা পেতে মিথ্যা দাবি করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ হওয়া উচিত। বিশেষ করে মানব পাচার ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষার জন্য তৈরি কর্মসূচির অপব্যবহার গুরুতর অপরাধ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মার্কিন বিচার বিভাগের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, নাই ছাড়াও আরও পাঁচজন এ ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তবে তাদের নাম উল্লেখ করা হয়নি। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা বিভাগ (ইউএসসিআইএস), হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এবং ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের কাছে মন্তব্য চাওয়া হয়েছে।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন