https://www.prothomalony.com/
18498
north-america
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ০৫:৩৭
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার খবরের মধ্যে সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো ও তার পরিবারকে ভিসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।
এর এক দিন আগে অর্থ পাচারের অভিযোগে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে ফ্লাভিও বলসোনারোকে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) ফ্লাভিও বলেছিলেন, দেশ ছেড়ে যাওয়ার কথা তিনি কখনও ভাবেননি। বরং ব্রাজিলেই থেকে বিরোধী দলের নেতৃত্ব দেবেন। তবে নির্বাচনে হারের পর তার দেশ ছাড়ার খবর প্রকাশিত হলে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ফ্লাভিওর এমন পদক্ষেপকে লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেছেন। রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় নিজের ৮১তম জন্মদিন উদ্যাপনের সময় তিনি বলেন, যে ব্যক্তি নিজের দেশ থেকে গোপনে চলে যান, তার কিছু লুকানোর থাকতে পারে। নির্দোষ হলে প্রমাণ দেওয়ার জন্য ফ্লাভিওর ব্রাজিলেই থাকা উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাবেক ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও প্রথমে নির্বাচনের ফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান। এমনকি ফল বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেছিলেন তিনি। তবে সোমবার (২৬ অক্টোবর) তার দল এক বিবৃতিতে নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়ার কথা জানায়। নির্বাচনে লুলার কাছে ৪৪ লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে হেরে যান ফ্লাভিও।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য ব্রাজিলের নির্বাচনের ফল নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, নির্বাচনটি আরেকটি কারচুপির নির্বাচন বলে মনে হচ্ছে। তবে ভোটে অনিয়ম হয়েছে—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ভোট গ্রহণের সময় শেষ মুহূর্তে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা হলেও এতে নির্বাচনের ফল বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্য হোয়াকিন কাস্ত্রো প্রশ্ন তুলেছেন, ফ্লাভিওর ব্রাজিল ছাড়ার ঘটনায় ট্রাম্প প্রশাসনের কোনো ভূমিকা ছিল কি না। তিনি বলেন, নির্বাচনে পরাজিত হওয়া আশ্রয় পাওয়ার কারণ হতে পারে না। অর্থ পাচার, দুর্নীতি ও মুদ্রা পাচারের অভিযোগে তদন্তের মুখে থাকা ফ্লাভিওকে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে কংগ্রেসের কাছে ট্রাম্প প্রশাসনকে জবাব দিতে হবে।
ফ্লাভিওর ছোট ভাই এদুয়ার্দো বলসোনারোও এর আগে তাকে নির্বাচনে হারলে ব্রাজিল ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত এদুয়ার্দো গত জুনে অনুপস্থিতিতে দোষী সাব্যস্ত হন। অভিযোগ ছিল, তিনি অবৈধভাবে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে তদবির করেছিলেন। চলতি মাসের শুরুর দিকে এক পডকাস্টে এদুয়ার্দো বলেছিলেন, তার ভাই নির্বাচনে না জিতলে দেশ ছেড়ে যাওয়ার পক্ষে তিনি।
উত্তর আমেরিকা থেকে আরো পড়ুন