https://www.prothomalony.com/

17807

new-york

নিউইয়র্ক

নিউইয়র্কে চরমপন্থা ও যুদ্ধ বন্ধে বৈশ্বিক ঐক্যের ডাক বিশ্বধর্মীয় নেতাদের

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ ০৮:৪৫

ধর্মের নামে বিভাজন, উগ্রবাদ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন দেশের ধর্মীয় নেতা, গবেষক, নীতিনির্ধারক ও কমিউনিটি ব্যক্তিত্বরা। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনের গাজাসহ বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে যুদ্ধ, দখলদারিত্ব ও মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা কামনা করা হয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে ‘জালসা’ কনভেনশন হলে ‘লাভ অ্যান্ড মার্সি—দ্য মেসেজ অব অল দ্য প্রফেটস (আ.)’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলনে এসব আহ্বান জানানো হয়। সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ, গবেষক, আন্তঃধর্মীয় সংলাপের প্রতিনিধি, কমিউনিটি নেতা ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশ নেন।

সম্মেলনের প্রধান অতিথি ছিলেন আওলাদে রাসূল (সা.), দরবারে গাউছুল আযম মাইজভাণ্ডারীর সাজ্জাদানশীন এবং সুফি ইউনিটি ফর ইন্টারন্যাশনাল সলিডারিটির (এসইউআইএস) প্রেসিডেন্ট হযরত শাহসুফি ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী আল-মাইজভাণ্ডারী।

তিনি বলেন, আল্লাহর সব নবী-রাসুল মানবজাতিকে ভালোবাসা, ন্যায়বিচার, দয়া, সহনশীলতা ও মানবকল্যাণের শিক্ষা দিয়েছেন। অথচ কিছু চরমপন্থী গোষ্ঠী ধর্মের অপব্যাখ্যা করে ঘৃণা, সহিংসতা ও সন্ত্রাসকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের বিরুদ্ধে আলেম-ওলামা, ধর্মীয় নেতা, রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

গাজায় চলমান মানবিক সংকটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, নারী, শিশু ও নিরীহ মানুষের ওপর সহিংসতা সমগ্র মানবতার জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। বিশ্বের যেখানেই যুদ্ধ, দখলদারিত্ব বা নিরপরাধ মানুষের রক্তপাত ঘটুক না কেন, তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া নৈতিক দায়িত্ব।

গ্লোবাল সিকিউরিটি ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট ড. আহমদ মুহিউদ্দীন (জনাথন গ্র্যানফ) বলেন, কেবল সামরিক শক্তি দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। স্থায়ী শান্তির জন্য নৈতিক নেতৃত্ব, আন্তঃধর্মীয় সহযোগিতা, মানবাধিকার রক্ষা এবং পারস্পরিক আস্থা জরুরি।

ইসলামিক ফোরাম অব কানাডার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট শায়খ ফয়সাল হামিদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা রহমত, ভারসাম্য ও মানবসেবার। যারা ইসলামের নামে উগ্রবাদ ছড়ায়, তারা ইসলামের প্রকৃত আদর্শ থেকে বিচ্যুত।

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত ইউএসএর প্রেসিডেন্ট আল্লামা সৈয়দ জুবায়ের আহমদ বলেন, ধর্ম মানুষের মধ্যে বিভেদ নয়, বরং ঐক্য ও শান্তির বার্তা দেয়। উগ্রবাদ প্রতিরোধে কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক সঠিক জ্ঞান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের বিকাশ জরুরি।

মইনীয়া যুব ফোরামের সাবেক প্রেসিডেন্ট শাহজাদা সৈয়দ মেহবুব-এ মইনুদ্দীন আল-হাসানী এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট শাহজাদা শায়খ সৈয়দ মাশুক মইনুদ্দীন আল-হাসানী তরুণদের মানবসেবা, নৈতিকতা, আধ্যাত্মিকতা ও সহনশীলতার আদর্শে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, তরুণদের ইতিবাচক মূল্যবোধে গড়ে তুলতে পারলে উগ্রবাদ ও ঘৃণার রাজনীতি দুর্বল হয়ে পড়বে।

সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন শায়খা মারইয়াম কবীর, আল্লামা সৈয়দ মুতাওয়াক্কিল বিল্লাহ রাব্বানী বদরপুরী, মুফতি সাজ্জাদ রেযা, গিয়াস আহমেদ, শায়খ আজমাইন আসরার মাইজভাণ্ডারী, মাওলানা বিলাল খান, সৈয়দ হামজা শাহ, মাইকেল শেরাক, মোহাম্মদ লুৎফুল করিম, মোহাম্মদ শামসুদ্দীন আজাদ, মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, মোশাররফ হোসেন, মোহাম্মদ কাসিম মাজিদ এবং আলহাজ মোহাম্মদ সেলিমউদ্দিন।

সম্মেলনের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ক্বারী মুহাম্মদ ফারুক ও ক্বারী সৈয়দ মুস্তানজিদ বিল্লাহ রাব্বানী। সমাপনী পর্বে বিশ্বশান্তি, বাংলাদেশের সমৃদ্ধি, ফিলিস্তিনের নিপীড়িত জনগণের নিরাপত্তা এবং সমগ্র মানবজাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন শাহসুফি ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী আল-মাইজভাণ্ডারী।

বক্তারা বলেন, শান্তি কোনো একক ধর্ম, জাতি বা রাষ্ট্রের বিষয় নয়; এটি সমগ্র মানবজাতির অভিন্ন দায়িত্ব। তাই ঘৃণা, উগ্রবাদ ও সহিংসতার পরিবর্তে ভালোবাসা, ন্যায়বিচার, সহনশীলতা এবং মানবিক মর্যাদার ভিত্তিতে একটি শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়ে তুলতে এখনই সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশিষ্ট ইসলামী বক্তা শায়খা মারইয়াম কবীর, নিউইয়র্ক আহলুল বাইত মসজিদের খতিব আল্লামা সৈয়দ মুতাওয়াক্কিল বিল্লাহ রাব্বানী বদরপুরী, আমেরিকান মুসলিম অ্যাডভোকেসি নেটওয়ার্ক’র চেয়ারম্যান মুফতি সাজ্জাদ রেযা, জেবিবিএ’র সভাপতি গিয়াস আহমেদ, ওয়েস্টার্ন মিশিগান ইউনিভার্সিটি-এর পিএইচডি গবেষক শায়খ আজমাইন আসরার মাইজভাণ্ডারী, নিউ জার্সি বিলাল মসজিদের খতিব মাওলানা বিলাল খান, ইয়ুথ ফোরাম অব ওমানের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ হামজা শাহ, আন্তঃধর্মীয় নেতা, লেখক ও শিক্ষাবিদ মাইকেল শেরাক।

আরও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ব্রুকলিনের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ লুৎফুল করিম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ইউএসএ-এর প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ শামসুদ্দীন আজাদ, বাংলাদেশ সোসাইটি ইনকরপোরেটেডর সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন, খাজা মইনুদ্দীন চিশতীর (রহ.) চিশতিয়া তরিকার প্রতিনিধি মোহাম্মদ কাসিম মাজিদ এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত ইউএসএ’র সেক্রেটারি জেনারেল আলহাজ মোহাম্মদ সেলিমউদ্দিন, অনুষ্ঠানের স্পন্সর করেন মোহাম্মদ রানা তালুকদার এবং পরিচালনায় ছিলেন মোহাম্মদ রহমান শাকিল।

নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন