https://www.prothomalony.com/

17718

sports

খেলাধুলা

২০২৬ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বল রদ্রির হাতে: মেসিকে ছাড়িয়ে স্প্যানিশ মিডফিল্ডারের শ্রেষ্ঠত্বের নেপথ্যে

প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬ ০৫:৫৫

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট পরেছে স্পেন। আর পুরো টুর্নামেন্টে অসাধারণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিস্বরূপ টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ‘গোল্ডেন বল’ জিতে নিয়েছেন স্পেনের মাঝমাঠের চালিকাশক্তি রদ্রি। তবে ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকার হাতে এই পুরস্কার ওঠায় ফুটবল বিশ্বে নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন— গোল ও অ্যাসিস্টের পরিসংখ্যানে লিওনেল মেসি এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও কেন রদ্রিকে এই সম্মান দেওয়া হলো?

পরিসংখ্যান বনাম মাঠের প্রভাব: মেসি ও রদ্রির দ্বৈরথ
৩৯ বছর বয়সেও আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। পুরো টুর্নামেন্টে ৮টি গোল এবং ৪টি অ্যাসিস্ট করে তিনি আলবিসেলেস্তেদের ফাইনালে তোলার মূল কারিগর ছিলেন। তবে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে স্পেনের সুসংগঠিত মাঝমাঠের কড়া পাহাড়ায় মেসি নিজের চেনা ছন্দ খুঁজে পাননি, যার ফলে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ ফাইনালে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি।

অন্যদিকে, রদ্রির অবদান শুধু গোল বা অ্যাসিস্টের সংখ্যা দিয়ে পরিমাপ করা অসম্ভব। একজন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে তিনি ছিলেন স্পেনের পুরো কৌশলের মূল কেন্দ্রবিন্দু।

মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ: খেলার গতি নির্ধারণ এবং বলের দখল ধরে রাখায় তিনি ছিলেন অনন্য।

রক্ষণাত্মক দেয়াল: প্রতিপক্ষের আক্রমণ মাঝমাঠেই নসাৎ করে দেওয়ার গুরুদায়িত্ব তিনি সফলভাবে পালন করেছেন।

ধারাবাহিকতা: পর্তুগাল, ফ্রান্স এবং আর্জেন্টিনার মতো বড় দলগুলোর বিপক্ষে নকআউট পর্বে স্পেনের আধিপত্য বজায় রাখার পেছনে তার অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি।

ফুটবল ইতিহাসে রদ্রির বিরল কীর্তি
সাধারণত গোল্ডেন বল পুরস্কারটি ফরোয়ার্ড বা আক্রমণভাগের ফুটবলারদের ঝুলিতেই বেশি যায়। তাই একজন রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে রদ্রির এই জয় ফুটবল ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত। এর আগে আক্রমণভাগের বাইরে থেকে এই সম্মান পেয়েছিলেন:

লুকা মদ্রিচ (ক্রোয়েশিয়া, ২০১৮)

জিনেদিন জিদান (ফ্রান্স, ২০০৬)

অলিভার কান (জার্মানি, ২০০২)

কেন মেসির চেয়ে রদ্রিকে বেছে নেওয়া হলো?
এবারের বিশ্বকাপে কিলিয়ান এমবাপ্পে কিংবা লিওনেল মেসি ব্যক্তিগত স্কোরের দিক থেকে আলো ছড়ালেও, ফিফার টেকনিক্যাল কমিটির কাছে শুধু গোল-অ্যাসিস্টই শেষ কথা ছিল না। সেরা খেলোয়াড় নির্বাচনের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে—
১. দলের ওপর খেলোয়াড়ের সামগ্রিক প্রভাব।
২. কৌশলগত ও ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা।
৩. পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা।

এই সবকটি মানদণ্ডে স্পেনের শিরোপা জয়ের নায়ক রদ্রি নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, যা তাকে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের মর্যাদাপূর্ণ ‘গোল্ডেন বল’ এনে দিয়েছে।

খেলাধুলা থেকে আরো পড়ুন