https://www.prothomalony.com/

12073

literature

সাহিত্য

শিল্পঘর

ড্রামার: ছন্দের কারিগর, ড্রাম সুরের প্রাণ

প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারী ২০২৫ ০০:৫৮

ড্রামের ইতিহাস প্রাচীন ও গৌরবময়। প্রাচীন মিশর থেকে শুরু করে চৈনিক সভ্যতার ধর্মীয় আচারে ড্রামের ব্যবহার, ড্রামারদের গুরুত্ব স্পষ্ট করে তোলে। ড্রামের তাল অনেক সময় ভাষা বা প্রার্থনার সঙ্গে তুলনা করা হয়, কারণ এটি হাজার হাজার বছর ধরে মানুষের সৃজনশীলতার প্রকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ধারণা করা হয়, ড্রামের ছন্দ থেকেই সঙ্গীতের অন্যান্য শাখার উৎপত্তি। আর ড্রামার হলেন সেই সঙ্গীতজ্ঞ, যিনি ড্রাম, করতাল এবং ড্রামস্টিকসের মতো পারকাশন যন্ত্র ব্যবহার করে সুরের গভীরে ছন্দময় অনুষঙ্গ সৃষ্টি করেন। ড্রামের প্রতিটি আঘাতে তিনি শুধু তাল নয়, একটি গল্প বুনে চলেন—যেখানে সুর, সংগ্রাম, এবং স্বপ্নের মেলবন্ধন সঙ্গীতকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। একজন দক্ষ ড্রামার কেবল তাল ধরে রাখেন না, তিনি সঙ্গীতের হৃদস্পন্দন রচনা করেন। টাইমকিপিং, তাল ও সমন্বয়ের ক্ষেত্রে তার অসামান্য দক্ষতা, ড্রাম প্যাটার্ন এবং ফিলগুলির প্রতি তার গভীর বোঝাপড়া সঙ্গীতকে পূর্ণতা এনে দেয়। এর সঙ্গে আরো যুক্ত হয় ড্রামার এর সৃজনশীলতা, অভিযোজন যোগ্যতা এবং আবেগ, যা একটি অনন্য বাজানোর শৈলী ফুটিয়ে তোলে। ড্রামের প্রতিটি আঘাত যখন সঙ্গীতকে বৃহৎ গোষ্ঠীর হৃদয়ে পৌঁছে দেয়, তখন একজন ড্রামার ছন্দের মাধ্যমে সঙ্গীতের আত্মা জাগিয়ে তোলেন এবং আমাদের শোনান এক অনন্ত সুরের গল্প।

শিল্পঘর পাতায় আজ থাকছে এমনই দুজন ড্রামার, মো: শাহাদাত ওসমান মিথুন এবং আলভি শরীফ। আশাকরি, শিল্পঘর এর আজকের পাতাটি পাঠকদের মনে বালো লাগা এনে দিবে।

ধন‍্যবাদান্তে-রোকেয়া দীপা

 

ড্রামার মো: শাহাদাত ওসমান মিথুনস

মো: শাহাদাত ওসমান মিথুন একজন দক্ষ ড্রামার, যার সুরের প্রতি এক অদ্ভুত টান ছিল ছোটবেলা থেকেই। এই টান তাকে টেনে নিয়ে গেছে জীবনের এক নতুন অধ্যায়ে। গ্রামের মেঠোপথ থেকে শহরের স্টেজ পর্যন্ত তার যাত্রা যেন এক রূপকথার গল্প। ক্লাস ফাইভে পড়ার সময় স্কুলে ড্রামস পিটি করানোর সুযোগ পেয়েছিল মিথুন। সে সময় ড্রামস পিটানোর ঝংকার, রিদমের মুগ্ধতা, আর ছন্দের যে জাদু—সেই প্রথমবার তার হৃদয়ে গেঁথে যায়। তখন থেকেই তার মনে ড্রামস শেখার ইচ্ছা তৈরি হয়। কিন্তু তার সেই ইচ্ছা পূরণ হওয়া সহজ ছিল না। পরিবারের আর্থিক সঙ্কট, গ্রামের পরিবেশ, এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধার অভাব সত্ত্বেও সে তার সুরের পথ থামতে দেয়নি। 

প্রথমবার ড্রামস শেখার সুযোগ হয় তার প্রিয় মামা মুজিবের কাছে। সেই থেকে শুরু। এরপর একে একে তার বাবু ভাই, সাঈদ ভাই, মিজান মামা, ডানো ভাই, তূর্য ভাই—এদের কাছে সে ড্রামসের বিভিন্ন দিক শিখেছে। তবে ড্রামস শেখার পাশাপাশি শিখতে হয়েছে ধৈর্য, শৃঙ্খলা, এবং কঠোর পরিশ্রমের মূল্য। 


ড্রামার মো: শাহাদাত ওসমান মিথুন
 

সঙ্গীতের প্রতি ভালোবাসা তাকে প্রতিটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে শক্তি জুগিয়েছে। তার জীবনের প্রথম প্রোগ্রাম ছিল চট্টগ্রাম সিটি কলেজের নবীন বরণ অনুষ্ঠানে। সেই দিনটি আজও তার মনে গভীরভাবে আঁকা। নতুন কিছু শুরু করার রোমাঞ্চ, একই সঙ্গে ভয় এবং উত্তেজনার এক মিশ্র অনুভূতি, যা তার সঙ্গীত জীবনের ভিত্তি তৈরি করেছিল। 

মিথুন জানায়, 'সুর আর সাধনার গল্প বলতে আমার কাছে ড্রামস বাজানো একটি গভীর সাধনার বিষয়। প্রথম স্টেজে দীর্ঘ সময় ধরে ড্রামস বাজানো আমার কাছে ছিল এক দুঃস্বপ্নের মতো। হাত ব্যথা হয়ে যেত, শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ত। কিন্তু সঙ্গীতের প্রতি ভালোবাসা আমাকে দমাতে পারেনি। ধীরে ধীরে প্র্যাকটিস করতে করতে সেই কষ্ট সহ্য করার অভ্যাস তৈরি হয়ে যায়। প্রতিটি ব্যথা যেন এক একটি নতুন অভিজ্ঞতা। আজ এত বছর পর ড্রামস বাজানো আমার কাছে আর কষ্টসাধ্য মনে হয় না। তবে প্রতিটি প্রোগ্রামে আমি আমার সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করি।' মিথুনের মতে, প্রতিটি পরিবেশনা এমন হতে হবে যাতে শ্রোতাদের মনে আজীবন থেকে যায়। 

শুরুর দিনগুলোর সংগ্রাম সম্পর্কে মিথুন বলেন, 'দিনগুলি ছিল ভিন্ন। ২০০৫ সালে আমার জীবনের প্রথম স্টেজ পারফরম্যান্স হয় চট্টগ্রাম কলেজের নবীন বরণ অনুষ্ঠানে। তখন আমি ছিলাম এক তরুণ স্বপ্নবাজ। আমার ব্যান্ডের নাম ছিল "ওয়েভ ব্যান্ড"। শুরুর দিনগুলোতে সে চট্টগ্রামের বিভিন্ন জায়গায় প্রোগ্রাম করতাম। আধুনিক সময়ের মতো তখন এত উন্নত ড্রামস বা সাউন্ড ইকুইপমেন্ট সহজলভ্য ছিল না। সে সময় নিজের যন্ত্রপাতি বহন করতে হতো, যা বেশ কষ্টসাধ্য ছিল। অনেক সময় দীর্ঘ সময় ধরে বাজানোর ফলে শরীর ভেঙে পড়ত। তবুও সঙ্গীতের প্রতি ভালোবাসা আমাকে থামায়নি, প্রতিটি চ্যালেঞ্জ আমাকে আরো বেশি অনুপ্রাণিত করত।' 

 

সঙ্গীত জীবনের শুরুর দিনগুলোতে মিথুন একাধিক ব্যান্ডের সঙ্গে কাজ করেছে। প্রথমে বনসাই ব্যান্ড, এরপর স্টোন ব্যান্ড, বেঙ্গল বয়েজ ব্যান্ড এবং নাটাই ব্যান্ড। প্রতিটি ব্যান্ডে কাজ করার সময় সে শিখেছে মিউজিকের নতুন নতুন দিক। ঢাকায় এসে তার জীবনের মোড় ঘুরে যায়। এখানে সে কাজ করার সুযোগ পায় দেশের নামকরা শিল্পীদের সঙ্গে। মিথুন জানান, পারভেজ ভাই, জয় শাহরিয়ার, বাপ্পা মজুমদার, রিংকু ভাই, তাপস এন্ড ফ্রেন্ডস, তাহসান, মিলা, রেশমি মির্জা, সামিনা চৌধুরী, পন্থ কানাই, প্রতীক নবি এবং কিশোর ভাইয়ের মতো কিংবদন্তি শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে মিউজিকের গভীরতা অনুধাবন করতে সাহায্য করেছে। 

প্রতিটি শিল্পীর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার জন্য এক একটি নতুন শিক্ষা ছিল-বলে জানান মিথুন। প্রত্যেকের কাজের ধরন, তাদের মিউজিকের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি, এবং সৃজনশীলতার ধরন থেকে তিনি অনেক কিছু শিখেছেন। মিতুন বলেন, 'আমি এক সময় বুঝতে পেরেছি যে, সঙ্গীত হলো এক অশেষ জ্ঞানভাণ্ডার, যেখানে শেখার কোনো শেষ নেই।' 

দেশ-বিদেশের মঞ্চে তার সাফল্য ব‍্যাপক। মিউজিক ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় প্রাপ্তি হলো দেশ-বিদেশের মঞ্চে পারফর্ম করার সুযোগ। মিথুনের মতে, মিউজিক এমন একটি মাধ্যম যা সব ধরনের ভৌগোলিক সীমারেখা অতিক্রম করতে পারে। দেশে যেমন শ্রোতারা তাকে ভালোবাসায় ভরিয়ে দেয়, তেমনি দেশের বাইরে প্রবাসী বাঙালিরাও তাকে নিজেদের পরিবারের একজন মনে করেন। 

জাপান, সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র, দুবাই এবং ভারতের মঞ্চে বাংলা গান পরিবেশন করার অভিজ্ঞতা মিথুনের জীবনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তিনি জানান, প্রতিটি মঞ্চে তার অভিজ্ঞতা আলাদা। তবে এক জিনিস সবখানে এক—সঙ্গীতের প্রতি শ্রোতাদের ভালোবাসা। তার মতে, সঙ্গীত এমন একটি জাদু যা ভাষা এবং সংস্কৃতির সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে। 

ড্রামস বাজানোর প্রতি তার গভীর ভালোবাসা তাকে সব সময় নতুন কিছু শেখার অনুপ্রেরণা দেয়। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গিটার সেন্টারে ড্রামস নিয়ে ইন্টারন্যাশনাল কোর্স করছেন। 

স্বপ্ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মিথুন বলেন, 'আমার একটাই স্বপ্ন—বাংলা মিউজিককে সারা বিশ্বের বাঙালিদের সামনে তুলে ধরা। আমি চাই সুর যেন নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে। 

মিউজিকের গভীরতা এক অনুভবের জগৎ তার কাছে। ড্রামস বাজানো তার কাছে কেবল পেশা নয়, এটি তার অনুভূতির প্রকাশ। তিনি নিজেকে হয়তো কথায় ভালোভাবে প্রকাশ করতে পারেন না, কিন্তু তার বাজানো সুরেই যেন সমস্ত কথা বলে ওঠে। প্রতিটি স্ট্রোক, প্রতিটি রিদম এমনভাবে শ্রোতাদের মন ছুঁয়ে যায় যে, মনে হয় সুরের গভীরে হারিয়ে যাওয়া সম্ভব। 

মিথুনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার ইম্প্রোভাইজেশন। নিয়মের মধ্যে আবদ্ধ না থেকে তিনি তার সুরের মাধ্যমে স্বাধীনতার স্বাদ খুঁজে পান। প্রতিটি পরিবেশনা যেন একটি নতুন গল্প। তার সরল উপস্থিতি, নিখুঁত রিদম, এবং সাদামাটা জীবনযাত্রা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে।

অবসর সময়ে তিনি ক্রিকেট খেলতে, গান শুনতে এবং প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে পছন্দ করেন। তবে তার আসল আনন্দ মিউজিকের ভেতরেই। মিথুন বলেন, 'সঙ্গীত হলো জীবনের সবচেয়ে বড় থেরাপি। এবং পরিবার আমার শক্তির উৎস।' 

মিথুনের সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে তার পরিবার। মিথুনের বাবা-মা এবং দুই বোন সবসময় তাকে সাপোর্ট করেছেন। প্রতিটি স্টেজ পারফরম্যান্সের আগে এবং পরে পরিবারের দোয়া আর ভালোবাসা তার জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। মিথুন বলেন, 'পরিবারের সমর্থন ছাড়া জীবনের কোনো লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব নয়।'

 

ড্রামার আলভি শরীফ

আলভি শরীফ আরো একজন দক্ষ ড্রামার যার কাছে ড্রাম বিট হচ্ছে একটি গানের হৃদস্পন্দন-যা পুরো পরিবেশনার ছন্দ ও শক্তি নির্ধারণ করে। আলভির মতে, সেই স্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করতে পারা এবং সঙ্গীতকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া অত্যন্ত শক্তিশালী ও পরিপূর্ণতার অনুভূতি দেয় তাকে যা তার অভিজ্ঞতা তার সংগীত যাত্রার গভীর দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে। 

আলভির সংগীতজীবন শুরু হয় শৈশবেই। তিনি হারমোনিয়াম, তবলা, পারকাশন এবং মাঝে মাঝে গিটার বাজাতেন। ২০১৫ সালে ড্রামিং শখ হিসেবে শুরু করলেও এটি দ্রুত তার এক গভীর আবেগে পরিণত হয়। আলভি ড্রাম কিট সেটআপে সাধারণত ৫-পিস কিট পছন্দ করেন।  যাতে স্নেয়ার, বেজ ড্রাম, দুটি টম, একটি ফ্লোর টম, হাই-হ্যাট, ক্র্যাশ, এবং রাইড সিম্বল থাকে। এটি বহুমুখী এবং বিভিন্ন স্টাইলে সহজেই মানিয়ে নেওয়া যায় বলে জানান তিনি। 

বর্তমানে আলভি ডাবল পেডালের গতি বাড়ানোর ওপর কাজ করছেন এবং ড্রাম সোলো নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন, যাতে পারফরম্যান্সে গভীরতা ও জটিলতা যোগ করা যায়। 

আলভি জানান, তিনি দলের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে নানাভাবে সহযোগিতা করেন। আলভি মনে করেন, এক্ষেত্রে যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি চোখের সংযোগ বজায় রাখেন এবং সূক্ষ্ম ইঙ্গিত দিয়ে সবাইকে সিঙ্কে রাখেন। এছাড়া অন্যান্য যন্ত্রের ছন্দ ও গতিবিধি নিবিড়ভাবে লক্ষ্য করেন, যাতে অন্যদের সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখা যায়। সেইসাথে, 

নিয়মিত ব্যায়াম, স্ট্রেচিং এবং সঠিক হাইড্রেশন নিশ্চিত করেন এবং ক্লান্তি এবং আঘাত এড়াতে প্রয়োজনীয় বিরতি নেন তিনি। 

ড্রামিং সম্পর্কিত আঘাতের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে আলভি বলেন, 'তীব্র বাজানোর কারণে আঙুলে ফোসকা পড়ে যায়। ব্যান্ডেজ ও গ্লাভস ব্যবহার করতে হয়। হাত সুরক্ষিত রেখে এবং বাজানো চালিয়ে যেতে হয়।' 

সৃজনশীলতা ও কারিগরি দক্ষতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে তিনি প্রথমে মৌলিক বিষয়গুলো আয়ত্ত করেন যা তাকে আরও সৃজনশীল হতে আত্মবিশ্বাস দেয়। অনুশীলনের সময় ফিলস, গ্রুভ এবং ট্রানজিশনের সাথে পরীক্ষা চালান, যাতে নির্ভুলতা ও অভিব্যক্তির মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকে।

আলভি জানান, প্রিয় ড্রামিং স্মৃতি বা সাফল্য রমেল খান, নকীব খান এবং তপন চৌধুরীর মতো বিখ্যাত শিল্পীদের মৌলিক গানে বাজানোর সুযোগ পাওয়া তার সংগীত জীবনের একটি বিশেষ মুহূর্ত। 

ড্রামার আলভী শরীফ
 

স্টেজে তার সবচেয়ে আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিনি বলেন 'আমার ব্যান্ডের সঙ্গে পরিবেশনায় দর্শকদের উল্লাস দেখার মতো আনন্দ আর কিছুতে নেই। বিশেষ করে যখন দর্শক গানটির সাথে তাল মিলিয়ে গান গায় বা ড্রাম সোলো ও ফিলসে প্রতিক্রিয়া দেখায়, তখন সেটি এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা মনে হয়।' 

নতুন সঙ্গীতের ট্রেন্ড ড্রামিংয়ে যুক্ত করতে আলভি আধুনিক গান শুনেন এবং বিট ও প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করেন। সেই ট্রেন্ডগুলো তার বাজানোর স্টাইলে যুক্ত করার চেষ্টা করেন একইসাথে তিনি নিজস্ব সাউন্ড অক্ষুণ্ণ রাখেন। 

ড্রামার হিসেবে ভবিষ্যৎ লক্ষ্য সম্পর্কে আলভি বলেন, 'আমি ইউনিক গ্রুপ তৈরি করতে চাই এবং তা মৌলিক গানে অন্তর্ভুক্তও করতে চাই। পাশাপাশি, অন্যান্য সঙ্গীতশিল্পীদের সঙ্গে সহযোগিতা করে বিভিন্ন স্টাইল অন্বেষণ করতে চাই।' 

নতুন ড্রামারদের জন্য তার পরামর্শ হলো, নিয়মিত অনুশীলন করতে টাইমিং, টেকনিক এবং বহুমুখিতার ওপর মনোযোগ দেয়া। ধৈর্য ধরে কাজ করতে, অনুপ্রাণিত থাকতে, এবং নতুন স্টাইল ও রিদম নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পরামর্শ দেন তিনি। তার আরো একটি বিশেষ পরামর্শ হলো, শুরুতেই টাইমিং ও ডাইনামিকের ওপর মনোযোগ দেয়া।একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করা এবং মেট্রোনোম ব্যবহার করে অনুশীলন করতে বলেন তিনি—যা অনেক পরিবর্তন আনবে। 

আলভি শরীফের জীবন শুধুমাত্র সংগীত, প্রযুক্তি ও পরিবারে সীমাবদ্ধ নয়। তার জীবনের গল্প আমাদের শেখায় কীভাবে একাধিক ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করা যায় এবং সমাজের জন্য কিছু করতে প্রেরণা খুঁজে পাওয়া যায়।

আলভি শরীফ এমন একটি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন, যেখানে জনসেবার প্রতি গভীর আবেগ ছিল। একজন সরকারি কর্মকর্তার সন্তান হওয়ায় তার শৈশব কেটেছে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে। তার বাবা ঢাকায় যৌথ সচিব পদে অবসর গ্রহণ করেন। ঢাকায় স্থায়ী হওয়ার পর আলভি ধানমন্ডি গভর্নমেন্ট বয়েজ হাই স্কুলে পড়াশোনা করেন এবং পরে ঢাকা কলেজে কলেজ জীবন সম্পন্ন করেন।উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার (এইচএসসি) পর আলভি পূর্ণ স্কলারশিপ পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা যান, যেখানে তিনি ম্যাকনিস স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।  ২০০৫ সালে আলভি রেশমী শরীফের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং টেক্সাসের ডালাসে স্থায়ী হন। সেখানে তিনি একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে সাফল্যমণ্ডিত পেশা গড়ে তোলেন। পাশাপাশি, তিনি কয়েকটি ফ্রিল্যান্সিং আইটি কোম্পানি পরিচালনা করেন এবং ডালাসে বসবাসরত বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেন। 

একজন ড্রামারের জীবনের গল্প হলো সুর, সংগ্রাম এবং স্বপ্নের এক মেলবন্ধন। তাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি স্ট্রোক, এবং প্রতিটি রিদম যেন এক অনুপ্রেরণার উৎস। 

আজকে শিল্পঘরের পাতায় দুজনের গল্প আমাদের শেখায় যে প্রতিভা, পরিশ্রম, এবং পরিবার ও প্রিয়জনের সাপোর্ট দিয়ে জীবনের যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। ড্রামস বাজানো একজন ড্রামারের জন্য শুধুই একটি কাজ নয়। 

এটি শিল্পীর ভালোবাসা, অনুভূতির প্রকাশ, এবং জীবনের সবকিছু। এই দুই শিল্পী প্রমাণ করেন যে, যদি স্বপ্নের প্রতি সৎ থাকা যায়, তবে সাফল্যের পথে কোনো বাধাই টিকে থাকতে পারে না। দু'জনকে শুভ কামনা। 

সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন