https://www.prothomalony.com/

11725

bangladesh

বাংলাদেশ

চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রম্মচারীর মুক্তি সহ ৮ দফা দাবীতে মন্ট্রিয়লে বিক্ষোভ পদযাত্রা

প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০২৪ ০৬:০৩

 বাংলাদেশ সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র, চট্টগ্রামের হাটহাজারীর পুন্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর নিঃশর্ত মুক্তি ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৮ দফা দাবী আদায়ের লক্ষ্যে গত ৩০ নভেম্বর শনিবার মন্ট্রিয়লে এক বিরাট বিক্ষোভ পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঐদিন প্রচন্ড শৈত্যপ্রবাহের মধ্যেও নগরীর ভিক্টোরিয়া ও ভ্যানহর্ন কর্নারে হিন্দু ধর্মাবলম্বী প্রবাসী বাংলাদেশি শিশু কিশোর বৃদ্ধ বিভিন্ন বয়সের নর নারীরা সকাল ১১ টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত মানববন্ধন করেন। সমাবেশে হিন্দু সম্প্রদায় ছাড়াও বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের লোকজনও অংশ নেন।
হাতে ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড, মুখে গগণবিদারী শ্লোগানে সমাবেশটি একসময় ভিক্টোরিয়া সড়কে পদযাত্রা করে নেলসন মেন্ডেলা পার্কে গিয়ে মিলিত হয়। সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সভায় বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজকরা দাবী করেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, মিথ্যা মামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, দেশত্যাগের হুমকি, হত্যাকান্ড, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, চাকুরীচ্যুতি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মন্দির, বাসা বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট সহ নানা রকম নিপীড়ন নির্যাতন করে বর্তমানে দেশটিতে আতংকগ্রস্ত এক পরিবেশের সৃষ্টি করা হয়েছে। সরকার, প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে সকল নাগরিকের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ‘অভয়’ দেয়া হলেও বাস্তবে এর কোনোই প্রতিফলন দৃশ্যমান হচ্ছে না বলে তাঁরা অভিযোগ করেন। সমাবেশে তাঁদের দাবী সমূহ মেনে নেয়ার জন্যে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি জোরালো আহবান জানানো হয়। দাবী আদায় না হলে বিশ্বব্যাপি লাগাতার কঠোর কর্মসূচির ডাক দেয়া হবে বলেও বক্তারা হুশিয়ারী উচ্চারন করেন।
উল্লেখ্য, চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রম্মচারী সহ আটক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরপরাধ সকলকে মুক্তি ও ৮ দফা দাবী আদায়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে কানাডার বিভিন্ন শহরে কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ সনাতনী জাগরণ জোটের ৮ দফা দাবীগুলো হচ্ছে, অতীতে বিভিন্ন সরকারের আমল সহ বর্তমানে চলমান সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিচারে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দোষীদের দ্রুততম সময়ে উপযুক্ত শাস্তি, ক্ষতিগ্রস্তদের যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা; ‘সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন; ‘সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ গঠন ; হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে ‘হিন্দু ফাউন্ডেশন, বৌদ্ধ ফাউন্ডেশন ও খ্রিষ্টানধর্মীয় ফাউন্ডেশনে উন্নীত করা; ‘দেবোত্তর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ আইন’ প্রণয়ন এবং ‘অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন’ যথাযথ বাস্তবায়ন করা; সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের জন্য উপাসনালয় নির্মাণ এবং প্রতিটি হল / হোস্টেলে প্রার্থনাকক্ষ বরাদ্দ করা; ‘সংস্কৃত ও পালি শিক্ষা বোর্ড’ আধুনিকায়ন করা; শারদীয় দুর্গাপূজায় পাঁচ দিন ছুটি এবং পাশাপাশি প্রতিটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসবে প্রয়োজনীয় ছুটি প্রদান ইত্যাদি।
 

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন