https://www.prothomalony.com/
11369
foundation
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৪ ০৪:০৮
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন নির্বাচন সন্নিকটে। প্রার্থী নির্বাচনে আমাদের কোন ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেয়া উচিৎ-এ নিয়ে মতামত জানিয়েছেন নাসির খান পল। তিনি বলেন, "আমি মনে করি, আমাদের চাহিদা যে পূরণ করবে আমরা তাকেই ভোট দেব। আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম যার হাতে নিরাপদে থাকবে, যেখানে তাদের জীবন স্বাভাবিক নিয়মে চলবে, সেই মানুষকেই ভোট দেবে। সর্বোপরি যে প্রেসিডেন্ট আমাদের সন্তানদের কোনো অসুস্থতার মধ্যে ফেলবে না, অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে, প্রজন্মের জন্য উন্নত পড়াশোনা, সুন্দর একটা জীবন গঠনে চাকরির নিশ্চয়তা সহ, রাস্তাঘাটে জনগণকে নিরাপত্তা দিবে, রাতে যেন একা হেঁটে বাসায় ফিরতে পারে এবং সারাবিশ্বে চলমান যুদ্ধ বন্ধ করবে-সে বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়েই প্রার্থী নির্বাচন করবে।"
গত ১৭ অক্টোবর প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার জনপ্রিয় সাপ্তাহিক সম্প্রচার "টক অফ দ্য উইক" অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আমেরিকায় বাংলাদেশী জনসমাজের মহীরুহ নাসির খান পল। রাজনৈতিক আলোচনা ও যুক্তি বিশ্লেষণে দক্ষ নাসির খান পল, ৫ নভেম্বর এর নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং কমলা হ্যারিসকে নিয়ে কথা বলেছেন।
অনেকে মনে করছেন নির্বাচনে দুজন অজনপ্রিয় প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন, এ নিয়ে নাসির খান পল বলেন, "আমরা যারা এই দেশটাকে ভালোবেসে নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছি, মনে ধারণ করেছি তাদের জন্য এবং নতুন প্রজন্মের জন্য এই নির্বাচন একটা বিশাল ব্যাপার। বর্তমানে সারা পৃথিবীতে অস্থিরতা বিরাজ করছে, এই মুহূর্তে আমেরিকার নির্বাচন নিয়ে সবাই উদ্বিগ্ন। আমি দুই প্রার্থীর কাউকেই অজনপ্রিয় বলে মানতে রাজি না। পূর্বের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সত্তর মিলিয়ন মানুষ ভোট দিয়েছিল। আমেরিকান ইতিহাসে এর পূর্বে কোন প্রেসিডেন্ট এতো ভোট পায়নি। সুতরাং তাকে অজনপ্রিয় বললে ভুল হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আমি একজন জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট হিসাবেই আখ্যায়িত করতে চাই। অপরদিকে কমলা হ্যারিসকে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসাবে নিয়োগ দেবার আগে ডেমোক্র্যাট প্রাইমারী নির্বাচনে সতেরো জনের মধ্যে সবচাইতে কম জনপ্রিয় অবস্থায় কম ভোট পেয়ে বাধ্য হয়ে সরে দাঁড়াতে হয়েছিল। তার জনপ্রিয়তা তখনো তুঙ্গে ছিলোনা। আমেরিকায় পার্টিলাইনে ভোট হয়, এখানে জনপ্রিয়তা কাজ করে না। আগামী নির্বাচনে মিশিগান গুরুত্বপূর্ণ একটা স্টেট। মিশিগানে আজকের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্প ৪৯ এবং কমলা হ্যারিস ৪৮!"
ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং কমলা হ্যারিসের সাম্প্রতিক জরিপের ব্যাপারে তিনি বলেন," জরিপ গণনায় এটাকে মার্জিনাল এরো বলে, দুজনেই এর মধ্যে খুব কাছাকাছি আছেন। তবে ২০১৬-এর পর থেকে আমি ব্যক্তিগতভাবে জরিপে বিশ্বাসী না। তখন নির্বাচনের আগের রাত পর্যন্ত প্রতিটি মিডিয়া, টিভি চ্যানেল, বলেছিল যে ৯৭% চান্স ছিল হিলারী ক্লিন্টনের। কিন্তু সেখানে হিলারী ক্লিনটন জয়ী হন নাই।"
বাঙালিরা কাকে ভোট দিয়ে উপকৃত হবে? উপস্থাপিকা ফরিদা ইয়াসমীনের এমন প্রশ্নে নাসির খান পল বলেন, "এখানে বসবাসরত বাঙালিরা বিভিন্ন পেশায়-কাজে চারিদিকে ছড়িয়ে আছে। বাংলাদেশের রাজনীতির মতো এখানের রাজনীতিতে একদফা দাবী নেই। তবে এক্ষেত্রে আমরা বাংলাদেশের আগ্রহটা দেখতে পারি। আমি বলবো বাঙালিদের এখন বাঙালি না থেকে একটু আমেরিকান হওয়া উচিত, আমেরিকার জনজীবন, নিরাপত্তা, এইসব ব্যাপারে ভাবা উচিত। এতে আমাদের সন্তানদেরই উপকার হবে।"
দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর নীতিগুলো ভিন্ন, যেমন-ট্রাম্প অতীতে কর্পোরেশন ও ধনী ব্যক্তিদের জন্য কর কমানোর দিকে জোর দিয়েছেন। অন্যদিকে, হ্যারিস ধনীদের ওপর কর বাড়িয়ে আয় বৈষম্য কমানোর পক্ষে। আবার বর্তমানে মার্কিন জনগণের জন্য মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। দুই প্রার্থীর যে কেউ প্রেসিডেন্ট হলে এই নীতিগুলো কীভাবে মধ্যবিত্তের উপর প্রভাব ফেলবে বা সমস্যার সমাধান করবে-এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "এই নির্বাচনে ভোটারদের জন্যে তিনটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে যা তাদের জনজীবন, নিজস্ব জীবন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপরে প্রভাব ফেলবে। বিষয়গুলো হচ্ছে-অর্থনীতি, বর্ডার নীতি, মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউক্রেন যুদ্ধ। ৪০-৫০ বছর আগেও মোট ভোটারের মধ্যে ৪০ শতাংশ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট দিতে আসতো। কিন্তু এখন সেই সংখ্যা অনেক বেড়েছে। আমেরিকানদের কাছে অর্থনীতি অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বর্তমানে সাপ্লাই চেইন নষ্ট হয়েছে, জিনিসের দাম বেড়েছে, কিন্তু মানুষের আয় সেই হারে বাড়েনি। ট্রাম্প তার বিগত সময়ে যা বলেছেন তাই-ই করে দেখিয়েছেন। সারা বিশ্বে কোন যুদ্ধ ছিল না, অর্থনীতি শক্তিশালী ছিল। ট্রাম্পের অর্থনীতি ছিল পরীক্ষিত। কিন্তু অর্থনীতি সম্পর্কে কমলা হ্যারিসের কথাবার্তা একবারেই সস্তা মানসিকতার বলে আমি মনে করি। জরিপ অনুযায়ী আমেরিকান সরকারের ৭২ শতাংশ ট্যাক্স প্রদান করে বড়লোকেরা। কিন্তু ডেমোক্র্যাটিক দল এই বড়লোকদের ট্যাক্স নিয়ে গেইম খেলছে। রিপাবলিকানদের পলিসি হচ্ছে ট্যাক্স কাট, এতে দরিদ্র মানুষেরা উপকৃত হয়। আর কমলা হ্যারিসের কথাই হচ্ছে ট্যাক্স বৃদ্ধি।"
ট্রাম্প "ওবামাকেয়ার" বাতিল করে স্বাস্থ্যসেবার খরচ কমানোর পক্ষে ছিলেন, যদিও বিকল্প কোন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গঠন করতে সফল হননি তিনি। হ্যারিস স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নের পক্ষে, বিশেষ করে "মেডিকেয়ার ফর অল" ব্যবস্থাকে সমর্থন করেন। তার লক্ষ্য সকল আমেরিকানকে সহজে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা। এই স্বাস্থ্যসেবা নীতির সমালোচনা করে নাসির খান পল বলেন, "ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা প্রমিস করেন, কিন্তু সেগুলো বাস্তবায়ন হয় না। প্রেসিডেন্ট ওবামা সমস্ত ছাত্র লোন মওকুফ করেছিলেন, কিন্তু সেটা পরে কার্যকরী হয়নি। তেমনি কমলা হ্যারিসও একই কথা বলছেন, বিভিন্ন ব্যাপারে প্রমিস করছেন। রিপাবলিকানরা এই 'ওবামাকেয়ার' কে বাতিল করার চেষ্টা করছিল। কারণ এর মতো বাজে হেলথ পলিসির মাধ্যমে সাধারণ মানুষ কোনভাবেই উপকৃত হবে না। ছাব্বিশ বছর হলেই একজনকে 'ওবামাকেয়ারে' থাকতে হবে, নাহলে বাৎসরিক ২০০০ ডলার জরিমানা দিতে হবে। এটা যে কোন সুস্থ্ সবল মানুষের জন্যে অমূলক হতে পারে। তাছাড়া এই 'ওবামাকেয়ার' স্বাস্থ্যসেবা ভোটের অভাবে সিনেটের ভোটে হেরে গিয়েছিল।"
জাতীয় নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষায় ট্রাম্প এবং কমলা হ্যারিসের নীতিগুলো সম্পর্কে নাসির খান বলেন, "ডোনাল্ড ট্রাম্প সবসময় আমেরিকান ডিফেন্সের জন্যে বেশি বাজেট করেন। চায়না, নর্থ কোরিয়া, রাশিয়া, যেভাবে শক্তিশালী হয়ে যাচ্ছে তাই আমেরিকাকে প্রতিরক্ষার খাতিরে তিনি ডিফেন্সকে শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে বাজেট বাড়ানোর কথা চিন্তা করেছেন।"
যুদ্ধ পরিচালনায় ইসলাইলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সমর্থন করার বিষয়ে তিনি বলেন, "ইসরাইলে যুদ্ধ হচ্ছে, সেখানে গাজা, ইয়েমেন, লেবানন অস্ত্র কোথা থেকে পাচ্ছে? এদের খাবারের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ নেই, অথচ এরা যুদ্ধে লিপ্ত। ইরান, রাশিয়া, চায়না এদেরকে অস্ত্র সরবরাহ করছে। একদিকে বাইডেন সরকার ইরানকে অর্থ দিয়ে সাহায্য করছে, অন্যদিকে একই অর্থ দিয়ে তারা অস্ত্র পাঠাচ্ছে লেবানন, ইয়েমেনের কাছে। স্ট্যান্ডার্ড পলিসি অনুযায়ী ইসরায়েলকে অর্থ ও অস্ত্র দিচ্ছে আমেরিকা, আবার ইরানকে অস্ত্র কেনার জন্যে অর্থ দিয়ে সাহায্য করছে। এই গেইম চলছে অবিরত ভাবে, পরিশেষে যত যুদ্ধ হবে তত তারা অর্থ বানাবে। এজন্য দেশগুলো যুদ্ধ টিকিয়ে রেখেছে।"
ইলেক্ট্রারাল ভোট কিভাবে জনগণের জনপ্রিয়তার মাঝে প্রভাব ফেলে?-এইচ বি রিতার এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, "আমেরিকার ইলেক্টোরাল ভোট একটা জটিল ব্যাপার। আলগোর কিন্তু জনপ্রিয় ভোটে এগিয়ে থাকলেও প্রেসিডেন্ট হতে পারেন নাই। প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন বুশ, এখানে ইলেক্টোরাল ভোট কার্যকর হয়েছিল। প্রতিটি স্টেট তাদের লোকসংখ্যা অনুযায়ী ইলেক্টোরাল ভোট বন্টন করে থাকে, যা স্টেট ভেদে ভিন্ন সংখ্যার হয়ে থাকে। আমেরিকান ইলেক্টোরাল ভোটের সংখ্যা ৫৩৮, এর মধ্যে যে প্রার্থী ২৭০ ভোট পাবেন উনিই আমেরিকান প্রেসিডেন্ট হবেন। দেখা গেছে, পাঁচটা বড় স্টেট যাদের ইলেক্টোরাল ভোটের সংখ্যা বেশি সেইসব স্টেটে যদি কোন প্রার্থী জয়ী হয় তবে তারা ১৯০ ইলেক্টোরাল ভোট পেয়ে যান। সুতরাং নির্বাচনে শক্তিশালী স্টেটের ইলেক্টোরাল ভোট একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার।"
দর্শক আলী আহমেদ প্রশ্ন ছিল, "ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন অভিবাসীদের জন্য কি কি কাজ করেছিলেন? তিনি সমস্ত ইমিগ্রেশনের কাজ স্লো ডাউন করেছিলেন, পনেরটি দেশে ভ্রমণ ব্যান করেছিলেন, বিভিন্ন দেশের ভিসা রেসট্রিক্ট করেছিলেন।" জবাবে নাসির খান বলেন, "আমার জানামতে ট্রাম্প কোনো দেশে ভ্রমণ করা বাতিল করেন নাই। ট্রাম্প সাতটা মুসলিম দেশে ট্রাভেল ব্যান করেছিল যা মূলত ওবামার পলিসি ছিল। পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসাবে ট্রাম্প সেটা বহন করেছিলেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনো মুসলমানদের প্রতি নিষেধাজ্ঞা দেয় নাই, তিনি উগ্রবাদী যেমন আইএসআইএস, টেররিস্টের মতো গ্রুপগুলোকে ভিসা পাবার ব্যাপারে কড়াকড়ি আইন নিয়োগ করেছিলেন। দুই প্রেসিডেন্টই নিরাপত্তার ব্যাপারে কড়াকরি আইন আরোপ করেছিলেন, তারা ইসলামের বিরুদ্ধে নয় বরং টেরোরিস্টের বিরুদ্ধে এগুলো করেছিলেন। কিন্তু মিডিয়া কিংবা পত্রিকাগুলোতে এই খবরগুলো কিছুটা টুইস্ট করে প্রচারণা করা হয়।"
আলী আহমেদের দ্বিতীয় প্রশ্ন ছিল, "প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দেশ পরিচালনায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন বলেই গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। তাহলে এইবার সফল হবেন কিভাবে?" নাসির খান বলেন, "গত নির্বাচনে কোভিডকে কেন্দ্র করে মেইলিং ভোট, আর্লি ভোট হয়েছিল যা আমেরিকার নির্বাচন ইতিহাসে ঘটেনি। আমেরিকান কন্সটিটিউশন অনুযায়ী প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচন মানে নভেম্বর মাসের প্রথম মঙ্গলবারের ভোটকেই বোঝায়। সেই নির্বাচনে ট্রাম্পের হেরে যাবার অনেক কারণ হয়তোবা ছিল। এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প বলেছেন যে উনি এবার ক্ষমতায় আসার চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে পৃথিবীর সমস্ত যুদ্ধ বন্ধ করবেন। আমরা যুদ্ধ চাই না, ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি আসেন তাহলে সব যুদ্ধের অবসান ঘটবে।"
দর্শক মিয়া মোহাম্মদ আসকির এর মন্তব্য ছিল, "সারা বিশ্বের বাতিঘর আমেরিকাতেই ট্রাম্প বেমানান। আমেরিকায় যদি ট্রাম্পের মতো প্রেসিডেন্ট দেখতে হয় তাহলে উন্নত সভ্যতা দেখা, শেখা ও চর্চা করার জন্যে আমেরিকায় আসার প্রয়োজন কি?" নাসির খান এর উত্তরে জোরালোভাবে বলেন, "সিএনএন সংবাদ সংস্থা বলেছে, আমেরিকার ডেমোক্রেসির জন্যে ট্রাম্প খুব বিপজ্জনক। কিন্তু উল্টো ডোনাল্ড ট্রাম্পকেই তিনবার প্রাণ নাশের চেষ্টা করা হয়েছে। ট্রাম্প ভয়াবহ হলে তাকে গুলি করা হত না।"
নির্বাচন নিয়ে উত্তেজনাকর আলোচনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়। সঞ্চলনায় ছিলেন ফরিদা ইয়াসমিন, পরিচালনায় ছিলেন এইচ বি রিতা। প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার "টক অফ দ্য উইক" অনুষ্ঠানটি প্রতি বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক সময় রাত নয়টায় ফেসবুক পেইজে লাইভ সম্প্রচারিত হয়ে থাকে।
ফাউন্ডেশন থেকে আরো পড়ুন