https://www.prothomalony.com/
11276
literature
কবিতার একপাতা
গাজী রফিক
কবিতার একপাতার সম্পাদক কবি ফারুক ফয়সল আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও সাধুবাদ জানাই। দীর্ঘ ছ'বছর ধরে নিষ্ঠার সাথে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে পাতাটি সম্পাদনা করার জন্য। সাহিত্য সম্পাদনার কাজটি যতটা আনন্দের, ততটাই বিরক্তিকর অথবা বিপজ্জনক। আমি নিজে সম্পাদনার কাজের সাথে জড়িত ছিলাম অতীতে, তাই অভিজ্ঞতা থেকে এমন মনে হলো। এ কাজটি সবসময় সুখকর হয়না, তেমনি আবার এর ঝুঁকিও রয়েছে। তাও হৃদয়বান সাহসী সম্পাদকগণ বীরত্বের সাথে এ দায়িত্বে উৎসাহী হন। তাঁদের উৎসাহের কারণেই সাহিত্য চর্চা নিত্যনতুন পরিভাষা ও গতি লাভ করে, যার ফলাফল প্রাণে প্রাণে সৃজনশীলতার আলোকসম্ভাবনা জাগিয়ে দিয়ে মানবিক বুদ্ধিবৃত্তিতে মানুষকে হয়তো শক্তিশালী করে। আসলে সাহিত্যের দায়িত্ব নির্ধারণ করে দেয়া কোনো সমালোচকের কাজ নয়। সম্পাদকের দায়িত্বও সম্ভবত তার থেকে আলাদা কিছু।
সম্পাদক তাঁর নিজের রুচিমত লেখা লেখকের কাছ থেকে আদায় করেন, এখানে কোন মানের লেখা তিনি নেবেন তা তার এখতিয়ার। তবে আশার বিষয় সম্পাদনার মান মর্যাদা যেখানে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে, ‘কবিতার একপাতা’ সেখানে এখনো রুচি ও মর্যাদার জায়গাটি ধরে রাখতে পারছে, এটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে। কারণ আশি দশকের গোড়া থেকে আমরা যারা বড় বড় সম্পাদকদের হাত দিয়ে কবিতা প্রকাশের জন্য নির্বাচিত হলে আনন্দ পেতাম, তাদের অনেকেই এখন আর পত্রিকার পাতায় কবিতা লিখিনা। কবি ফারুক ফয়সল আপনাকে ভালোবাসা জানাই।
বাংলাভাষার সমকালীন অগ্রসর কবিতাকেই তুলে ধরেছেন দেশপ্রেমের তাড়নায়…
হেনরী স্বপন
কবিতা কি দিব্য ডিসকোর্স? হবেই হয়তো, কবি যদি ঈশ্বর হন! তাহলে তার আবেগেও তারুণ্যের কস্তুরীহরিণ ছুটে বেড়াবে কাব্যগন্ধী পাগলামো হাওয়ায়। যদিও সময় এবং সময়ের কবিতা তার মিনিং মেনেই এগিয়ে
চলে। সেহেতু কোনকালেই কবিতা পাঠকের প্রয়োজন-অপ্রয়োজন মেনে লেখা হয়নি। তবে, এই সময়ের কবিতা মুড-শাসিত, দূরবিস্তারি এক ধরনের গূঢ় মুগ্ধতায় রচিত হয় বলেই হয়তো, পাঠকের কাছে আজকের কবিতা কিছুটা বিশৃঙ্খল উপাধিতে অভিষিক্ত।
তবে, কলোনিয়াল সময়ের শেষ দিকটায় আমাদের কবিতা যে ব্লাকহোলে আক্রান্ত হয়েছিল, হয়তো সেখান থেকে উঠে আসছে, ঘন হচ্ছে, মুছে ফেলছে সেই দাসত্বের দাগ।কবিতার এটাই এখন প্রায়শ্চিত্ত! নিজের দিকে ফেরার— নিজস্ব উপাদান ও একান্ত নৃতাত্বিক মুডগুলোকে অনর্গল ডিকশনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা। হয়তো আবার অতীত সূত্রের ধারাবাহিকতায়, এমন
কিছুর মিশ্রণ… এবং যৌনতা যুক্ত হচ্ছে, যা আরও এক অভিনব বিকলন। কিন্তু আমাদের কবিতায় এই বিকলনই সত্য অভিনবত্ব এখন। তাই এ-সময়ের
কবিতা ও কবিতার সাধারণ উপাদানগুলো তার শরীর হারিয়ে— মুডে নিমজ্জিত হয়ে, প্রাণের কাছে গিয়ে অন্যমন্ত্র হয়ে উঠছে। এভাবেই তৈরি হচ্ছে নানাদৃশ্য,
ইমেজারি মুছে ফেলা শব্দ। তৈরি হচ্ছে শব্দের নিকটতম দূরত্বের গ্রাফ। তবুও এই আপাত বিশৃঙ্খলার অভ্যন্তরে যে শৃঙ্খলার অমৃতধারা, ক্রিয়াসূত্র রয়েছে কিংবা বিমানবায়নের মধ্যে মানবায়নের যে বীজমন্ত্র আছে, তা প্রায়শই স্পষ্ট হতে হতে যেনো কোনও এক কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে যাচ্ছে এখনকার কবিতার ট্রেন্ডগুলো…।
তাইতো, যে কবিতা- কবিতার মধ্যে আরো অনেক কবিতার ভ্রুণ হয়ে বেড়ে ওঠার প্রবণতা আছে, হয়তো তা থেকেই শুরু হয় কবিতায় কল্পনার গভীরতা কিংবা
সামগ্রিক বোধের মানবিক সময়োচিত দর্শন। এজন্যেই কবিতার অভিনবত্ব ও সময়োচিত দর্শনের খোঁজে ২০১৮ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত অর্থাৎ ছ’বছর ধরে উত্তর আমেরিকার নিউইয়র্ক
থেকে নিয়মিত প্রতিমাসে কবি ও প্রাবন্ধিক ফারুক ফয়সলের সম্পাদনায় প্রকাশিত হচ্ছে ‘প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা— কবিতার একপাতা’। সম্পাদক নিজেও একজন বহুমাত্রিক মুগ্ধতার কবি বলেই হয়তো তিনি সাহিত্যের গভীর মূল্যবোধ ও আদর্শকে পাথেয় করেই মৌলিক ও সময়ের কবিতার আত্মানুসন্ধান করেছেন প্রতিনিয়ত। ফলে নিয়মিত প্রকাশিত কবিতার একপাতায় কেবল সতর্ক শব্দচয়ন, উপমা, উৎপ্রেক্ষার
ব্যবহারে দূরদর্শীতা, গভীর দর্শন দিকবিবেচনায় এযাবৎ প্রকাশিত সকল কবিতাই সর্বার্থে আধুনিক কবিতার নতুন দিক উন্মোচনের দাবী রাখে। কারণ, বাংলা কবিতার বিশ্বায়নের ক্ষেত্রে সম্পাদক বরাবর সারাববিশ্বে ছড়িয়ে থাকা বাংলাভাষার সমকালীন অগ্রসর ও মেধাবী কবিদের কবিতাকেই তুলে ধরেছেন দেশপ্রেমের তাড়নায়।
তাই, ‘কবিতার একপাতা’র এই ষষ্ঠবর্ষ পূর্ণ করার এই অভিযাত্রায় আমাদের আত্মবীক্ষণের একটা বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। যেহেতু বছরের পর বছর এই কবিতাপত্রকে যাঁরা সমৃদ্ধ করেছেন, এক্ষেত্রে কৃতজ্ঞচিত্তে শ্রদ্ধা ও প্রণাম জানাই সম্পাদক এবং পত্রিকা সংশ্লিষ্ট সকল কার্যকর্তা ও এর প্রকৃত প্রভু আমাদের পাঠকদেরকেও়…। সম্পাদক তো… পাঠকের আকাঙ্খাকে
সম্মান করেছেন, ভালোবেসেছেন কবিতার অক্ষয়, অক্ষর, শব্দ, ভাষাতে, আস্থা রেখেছেন লেখকের লেখনীর শক্তিকে। এক্ষেত্রে সম্পাদক তাঁর কবিতা নির্বাচনে ঢালাওভাবে কবিতাকে কবিতাকে ট্রাস্ট করেননি। ইস্যুভিত্তিক বিষয় ও ভাবনানুযায়ী মনোনীত কবিদের নিমিত্তে অতিসন্তর্পনেই নিজের চাহিদাকে প্রাধান্য রেখে কবিদের শ্রেষ্ঠ লেখাটিই আদায় করে নিতে
সচেষ্ট ছিলেন।
সন্দেহ নেই, কবিতার এই দীর্ঘ যাত্রাপথ অনেক বন্ধুর ছিল। যে পথের বাঁকে বাঁকে বহু অপ্রত্যাশিত ও প্রত্যাশিত বাধা ছিল। যা অতিক্রম করার পথ ও পথিককে ক্রমাগত প্রসার ঘটানোর জন্যই বাংলাভাষার উত্তরাধিকারকে সমৃদ্ধ করার চিরন্তন সাধনাই সুদূর আমেরিকা থেকেই পালন করে চলেছেন কবি ফারুক ফয়সল।
কবিসত্তার নির্জনতা
তাপস গায়েন
কবিতায়, কবি এমন এক নির্জনতার মুখোমুখি হন যা লৌকিক জগতে কবির নিঃসঙ্গতার বেদনা নয়, কিংবা সাহিত্য-নির্মাণের জন্য কবির একাকীত্বের অনুধ্যানও নয়, যেমনটি কবি রাইনারমারিয়া রিলকে অনুভব করেছিলেন অর্ফিয়ুসের উদ্দেশে সনেটগুচ্ছ লেখার প্রাক্কালে । এক অনিশ্চয়তার মধ্যে কবিতার উন্মেষ এবং অনন্য এক অপূর্ণতার ভিতরে তার সমাপ্তি; এই অপূর্ণতার বোধ থেকে শুরু হয় সৃষ্টির নতুন প্রয়াস ; কবি নিজের অজান্তেই নিজেকে আলাদা করে ফেলেন তাঁর সৃষ্টিপ্রক্রিয়া থেকে, এবং নতুন কাজের ভিতর দিয়ে নিজেকে নিরাকার করে তুলতে চান, আর এই পুনঃপুনঃ নির্মাণের মধ্য দিয়ে নিজের সত্তাকে অনুভব করেন, তাঁর নিজস্বস্বকীয়তায় আস্থাশীল হয়ে উঠেন; কিন্তু, তাঁর সকল প্রক্রিয়া ব্যর্থ হতে বাধ্য, কারণ তাকে ভাষারমধ্য দিয়েই বাহিত হতে হয় । প্রকৃত অর্থেই, সত্তা অনেক কাজ নয়, বরং একটি কাজের মধ্যে তার অসীমতাকে অনুভব করতে আগ্রহী। প্রতিটি শিল্পকর্ম শেষাবধি নয় অপূর্ণ কিংবা সম্পূর্ণ; যা সে হয়ে উঠেছে, সে তাই; এসবের বাইরে কবি যা প্রকাশ করতে ইচ্ছুক, তার অভিমুখ কিছুই নির্দেশ করে না । অন্যদিকে, কবি নিজেকে কাজের মধ্যে আস্থাশীল দেখতে চান, তিনি সেক্ষেত্রে নিক্ষিপ্ত হন এক নির্জনতার মধ্যে, যা নির্দেশ করে এক সত্তাকে, যা কাজ নয়, বরং কাজের ছায়ার মধ্যেই আবর্তিত, যা কবির জন্য এক অনিবার্য নির্জনতা । তাহলে, কবিতা কী? কবিতা, বোধকরি, তাই যা এখনও লেখা হয়ে উঠেনি ।
কবিতার এই অনির্দিষ্টতাকে একইসাথে মান্য ও অমান্য করে কবি এবং প্রাবন্ধিক ফারুক ফয়সল নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশ করে চলেছেন ‘প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা’র বাংলা কবিতার মাসিক বিশেষ আয়োজন, ‘কবিতার এক পাতা ।’ বিগত ছয় বছরে তাঁর সম্পাদনায় ‘কবিতার একপাতা’য় প্রকাশিত হয়েছে প্রায় ৬৬০টি কবিতা, যা প্রকৃতপক্ষেই সাফল্যের এক স্মারক । অনন্যসাধারণ এই সম্পাদক বাংলা কবিতার যে বৈভব তুলে এনেছেন, সেই অর্জনকে যেন আমরা বুকে ধরে রাখি।
বাংলা কবিতার প্রসার প্রসঙ্গে
জিললুর রহমান
‘কবিতা’ শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ‘সৃষ্টি’ হলেও কালে কালে সৃজনশীল লেখার জগতে নানারকম ফর্মের আবির্ভাব ও বিকাশ ঘটার কারণে কবিতা একটা নির্দিষ্ট সীমারেখার মধ্যে নিজের কৌলীন্য বজায় রেখে এখনও অনুভূতিপ্রবণ মানুষের মেধা ও মননকে নাড়া দিয়ে চলেছে। তার জন্য কবিতাকে কবিতা হয়ে ওঠার সংগ্রাম করতে হয়েছে নিরন্তর। কবিতার এই সংগ্রাম হলো সংবাদ, গল্প, ফিচার এবং ফটোগ্রাফি থেকে নিজেকে স্বতন্ত্র করে গড়ে তোলার প্রয়াস। তাই শিল্প বিমূর্তের দিকে এগিয়ে চলে মূর্তের প্রকাশে এবং সাধারণ্যের কাছে ক্রমশ দুরূহ হয়ে ধরা পড়ে। কিন্তু কবিতার সত্যিকার পাঠক, যিনি এ রসে মজেছেন, তিনি এই কবিতার আনন্দে বিভোর থাকতে পারেন, যেমন বিভোর থাকেন শাস্ত্রীয় সংগীতের শ্রোতা ও শিল্পী। তাই সময়ের সাথে সাথে শাস্ত্রীয় সংগীতে যেমন, তেমনি কবিতার সমঝদারও কমে এসেছে। পৃথিবী জুড়েই একই দৃশ্য। একটা উপন্যাস যত পাঠকের কাছে পৌঁছায়, কবিতা পৌঁছায় তার শতভাগের বা সহস্রভাগের একভাগ পাঠকের কাছে। তবু কবিতা লেখার মানুষ কিন্তু সংখ্যায় বেশী, সম্ভবত এর কারণ, পাঠক বা লেখক কারোরই কোন অনুশীলন ছাড়াই এ মাধ্যমটি সামাজিক প্রডাকটিভিটি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একবিংশ শতকে রেড়ির তেলের বাতির মতো ধুকেধুকে জ্বলছে।
তারপরও বহু বৈচিত্রে রঙিন হয়ে সজ্জিত হয় কবিতা, বিশেষত কবিতার কাগজ বা লিটল ম্যাগাজিনগুলোতে। কবি ও পাঠকের পাঠসমৃদ্ধি ভেদে নানা স্তরের কবিতা সমাজের নানা স্তরে রচিত এবং পঠিত হয়। জাতীয় দৈনিকগুলো একসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও ইদানীং সাহিত্য সম্পাদকগণের বিবেচনাবোধের সাথে স্বজন-সৌজন্যের মেলবন্ধন ঘটায় জাতীয় দৈনিকের কবিতার পাতা সত্তর-আশি দশকের জৌলুস হারিয়ে ফেলেছে। বিশ্ব পরিস্থিতি বাংলাদেশ থেকে কিছুটা ভাল হলেও উপন্যাসের তুলনায় কবিতার বাজার অনেক নীচেই থেকে যায়। বাংলা কবিতার বই সাধারণত লেখকভেদে ২০০ থেকে ৫০০ পর্যন্ত ছাপা হয়ে থাকে, বাংলাভাষী মানুষের সংখ্যার তুলনায় তা নস্যিতুল্য। এর মধ্যেও মরিয়া হয়ে লিখে যাচ্ছেন কিছু নিবেদিত কবি, ছাপা হচ্ছে লিটল ম্যাগাজিন। বেশ কিছু দৈনিক সাহিত্যের পাতা বন্ধ এবং সংকুচিত করে দিলেও উল্লেখ করতেই হয় কয়েকটি জাতীয় দৈনিক, যেমন সংবাদ, কালের কণ্ঠ, ভোরের কাগজ-সহ বেশ ক’টি সাহিত্যের পাতা নিয়মিত প্রকাশ করছে এবং পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে বিভিন্ন কবির সাথে। প্রথম আলো নিয়মিত তার সাহিত্যের পাতা গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করে যাচ্ছে।নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা প্রতি মাসে প্রকাশ করে ‘কবিতার এক পাতা’। এই পাতায় দেশে বিদেশে অবস্থানকারী কবিদের কবিতা নিয়মিত ছাপা হয়ে আসছে বেশ ক’বছর ধরে। প্রতিটি সংখ্যায় অন্তত বেশ কয়েকটি ভাল কবিতা প্রকাশিত হয়। প্রবাসী বাঙালিদের মধ্যে কবিতা জনপ্রিয়করণেও কাগজটির নিশ্চয় একটা ভূমিকা রয়েছে। কবিতার একপাতা যেন ভবিষ্যতে দুই দেশ ও দুই ভাষার কবি ও পাঠকদের মধ্যে একটা সেতুবন্ধ রচনা করতে পারে সেই কামনা রইল।
লাটিম
বিমল গুহ
আমাকে কোথায় এনে দাঁড় করিয়েছো ঝড়োমেঘ
কী পরীক্ষা নিতে চাও আজ?
আকাশে রোদের রঙে
হেসে ওঠে দীপ্ত মহাকাল
দূরে উল্কাবৃষ্টির মতো ধাবমান স্ফুলিঙ্গ—তারকামণ্ডলী
আমাকে কোথায় এনে দাঁড় করিয়েছো এইবেলা?
আমার চারপাশে দেখো বরফাচ্ছাদিত প্রান্তর
ঠাণ্ডার প্রকোপ
হুমড়ি খেয়ে পড়েছে প্রত্যুষে সবখানে!
এখন দুপুর
বরফের কুঁচি-আঁকা মধ্যদুপুর
রোদের বর্ণালী যেন লাফিয়ে পড়ছে ওই বরফ-রাস্তায়;
দেখি— শশব্যস্ত মধ্যদুপুর একা
মাথা কুটে ঝিমধরা লাটিমের মতো চেনা আঙ্গিনায়।
পরানধ্বনির বাদ্যযন্ত্র
ঝর্না রহমান
একটা ডুগডুগির খোঁজে আমি হেঁটে যাচ্ছি পূর্বপুরুষের গ্রামের দিকে
এ ডুগডুগিতে বাজে আমার পরানধ্বনি।
এ ধ্বনি বেজেছে রোজ তামাটে চামড়াঢাকা দেহের খোলসে
লৌকিক পরিক্রমা শেষে ডুগডুগি আসে নাই ফিরে আর প্রজন্মমেলায়
ডুগডুগিটা আমাকে খুঁজে পেতেই হবে।
হয়তো বা সংযোগ সড়ক থেকে নেমে গেলেই
যে গাঁয়ের পথ, ডুগডুগিটা পড়ে আছে সেইখানে
প্রাচীন বটের ডালে থুত্থুড়ে জ্ঞানবুড়ো-পেঁচার খোঁড়লে।
একথা জেনেছি আমি ভোরের মিছিল থেকে মাঙ্গলিক হুতুমের কাছে।
একটা একতারার খোঁজে আমি ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছি।
হেঁটে যাচ্ছি বিলুপ্তপ্রায় কোনো মেঠোপথ ধরে।
একতারাতে বাজে আমার দেহলাউ চিন্ময় খোল
একতারে প্রতিদিন টংকার তুলে যেতো প্রপিতামহদের বাউল আঙুল
মেঠোপথ পরিক্রমা শেষে একতারা পড়ে আছে নির্জনতায় কোনো লতাকুঞ্জ তলে,
একতারাটা আমাকে খুঁজে পেতেই হবে।
হয়তোবা প্রাচীনা মাতাদের বীজ লাউ ঝুলেছিল যে সতেজ জংলায়
একতারা পড়ে আছে সেইখানে ভেষজ বাগানে।
আজও সুরে বাঁধা আছে সহজিয়া বাউলের লাউ
একথা জেনেছি আমি আত্মার ধুন থেকে নিঃশব্দে ছড়িয়ে পড়া মরমীয়া গানে।
একটি বাঁশের বাঁশি, সহজ সারিন্দা কিংবা মৃদঙ্গ, মন্দিরা
খুঁজতে খুঁজতে আমি পেরিয়ে যাচ্ছি সব নাগরিক ইটভাটা দালানকোঠা
শুকনো নদীর সোঁতা কঙ্কাল সাজিয়ে রাখা যত জাদুঘর।
আমাকে খুঁজে পেতেই হবে হারানো রত্নভরা সুরেলা সিন্দুক,
যেখানে সোনার কৌটোয় সযত্নে রাখা আছে প্রাণভোমরার মত সত্য গুপ্তধন।
হৃতরাজ্য পুনরুদ্ধার করে আমাকে খুঁজে পেতেই হবে
হাজার বছর ধরে জীবন জাগানো যত সহজিয়া সুর
এরপরে গেয়ে যাব প্রকৃত সংগীত।
জীবনসূত্র
রেজাউদ্দিন স্টালিন
ঘুরতে ঘুরতে পথ হয়ে যায়
ভাঙতে ভাঙতে সিঁড়ি,
জ্বলতে জ্বলতে একটা জীবন
বিশাল অগ্নিগিরি।
উড়ার স্বপ্ন-উড়তে উড়তে
কেউ হয়ে যায় পাখি,
স্বদেশ বাঁচাতে চিতরের রাণী
রক্তে বাঁধেন রাখি।
ছুটতে ছুটতে পেয়ে যায় নদী
নির্জনতার বাড়ি,
গাইতে গাইতে ক্ষুদিরাম দেয়
অসম্ভবকে পাড়ি।
আঁকতে আঁকতে দীর্ঘ দেয়াল
আগুনের সাদা ডানা,
ভাসতে ভাসতে অনন্ত দিন
হাহাকার একটানা।
কাঁদতে কাঁদতে চোখটা আকাশ
হাসতে হাসতে মাটি,
এমন জীবন কে পেয়েছে আর
বিশুদ্ধ পরিপাটি।
হাঁটতে হাঁটতে পিঁপড়ার দিন
দুধভাতে উৎপাত,
সূর্য তারার চেয়েও অসীম
ভালোবাসা ছোঁয়া হাত।
শিহাব শাহরিয়ার
ব্রহ্মপুত্র দাঁড়াও
হঠাৎ যেন সরে গেলো ল্যান্ডস্ক্যাপের শাদা চোখ?
হঠাৎ ভুলে গেলাম জীবনানন্দের ‘তিমির হনন’?
আমি পড়িনি—মার্কস, নেরুদা, গোর্কী, ‘গোরা’?
কেন গলির-গন্ধ ছাড়া কিছুই আসছে না নাকে!
কেন ভাতের থালা—কব্জায় কারসাজি দেখছি?
উত্তর-দক্ষিণ কোথায়? কোথায় শহরের কাকেরা
নেকড়েরা নগরে সাঁতরাচ্ছে ক্লান্ত ঢেউয়ের মতো
হাত থেকে কেন উড়ে যাচ্ছে পিতার কালো কোট?
মাজার-মুরিদ নেই, ঘন ঘাসের ওপর রোদ নেই?
ক্যাম্পাসে ঘোড়ায় চড়ে উড়াতাম ওড়না, কই তা?
সড়কেরা কাঁদছে—দিগম্বর হচ্ছে কাশ-কোকিল!
বুবুর নিঃসঙ্গ শাড়ির আঁচল আমাকে জড়িয়ে ধরে
আমি দৌড়াচ্ছি, দৌড়াচ্ছি ব্রহ্মপুত্র তুমি দাঁড়াও
আব্বা, আব্বা, আমাকে—গাঙ পার করে দাও...
গার্হস্থ্য
শিবলী মোকতাদির
খানিকটা রস দিয়ে বশে আনা ভালো
বিচিত্র রং ঘেটে বেদনায় এঁকেছ এই দেহ
ভালোবাসা—পৌরাণিক পরিহাস, পুরাতন প্রত্নকথা
নগদে কুশল কামনা করো
যেন আমি শরবিদ্ধ হই;
তিল-তিসির লোভে ছুটে বেড়াই কূল থেকে কলঙ্কে।
সাঁওতাল থেকে শাবরীর ধারায় তোমাকে খুঁজি
ততদিনে বক্রনদী সরল গতিতে দাঁড়ায়
সকল স্নানে আমার গার্হস্থ্য ভেসে যায়
শরমে ধর্ম হারায়।
কার্তিকে খেতখামার নিয়ে বেশি কথা না বলাই ভালো
বাকিটা বাঁক অন্ধ বিড়ালের মতো নিঃশব্দে পেরিয়ে যাব
একগুচ্ছ চাঁদ নিয়ে জেগে উঠবে বিতর্কিত রাত
চতুষ্কোণে রঙ্গভূমি, আমাকে বানাও অভিজাত।
প্রতিদ্বন্দ্বী
খলিল মজিদ
ঈর্ষার টুপি পরে বসে আছি তার সংবর্ধনায়
অভ্যাগতদের মুখ সব ভেজা জামরুল
চোখে কড়া নগদ-চশমা,
গায়ে আজানুলম্বিত অবিশ্বাসের জোব্বা।
ফুলডোরবেষ্টিত মঞ্চের সামনে বসে আছে
সারিবদ্ধ মিথ্যামুগ্ধ হলুদ গোলাপ
— হাস্যরসিক, ভ্রুকুটিপূর্ণ, সাপের খোলস
তার হাসি কুমারীকন্ঠের গান যেন
ঈর্ষাছড়ানো, লকলকে, সবুজ ফণানো ডগা।
তার আস্তিনের ভেতরে লুকানো লেলিহান ঘৃণা
এত মিথ্যা ভাষণ, যেন সভাসদগণ কেউ হলুদ নন
— কেঁদে-কেটে সকলে সবুজ!
সাপের ছাড়ানো খোলসের মতো ফানুসহীন
সংবর্ধনাসভাটি থকথকে গোলাপের স্তুপ
বাইরে বেগুনী ঝড় বইছে জারুলের বনে…
একাকী অতীত
ওবায়েদ আকাশ
পরিত্যক্ত বিদ্যালয়ে লতিয়ে উঠেছে
এ কার সবুজ দেহ?
মা মা করে ডাকে পাখি ও অরণ্য-পুত্রগণ
আমাকে বসিয়ে রেখে তুমিও তো মিশে গেছ
প্রকাশ্য দ্বিধায়
অথচ শিখিনি কিছু পাঠশালার নিজস্ব রীতি
প্রকৃত পুষ্পের ঘ্রাণে যত দূর গুঞ্জরণ ছিল
তারও তো অধিক ঘন তোমার আহবান
কিছু কি শুনছি? বলে যারা নির্ভাষ বিস্তার লিখে ফেলে
তাদের শিয়রে বসে দীর্ঘকাল কেটেছে তোমার, একা
সমুদ্রে বড়শি ফেলে দেখ
প্রতিটি একাকী মাছ কী করে আটকে পড়ে
মোহন মুদ্রায়
গৌরচন্দ্রিকা
মোস্তাক আহমাদ দীন
গৌরচন্দ্রিকা মতে, পথে পথে লুপ্ত হয়ে যাই
বুঝে নিই লিপিবদ্ধ-করে-রাখা পূর্ণ বিবরণ
ভাবি পূর্ণ জাগরণকথা বলে বলে তারা শুধু
গৌরচন্দ্রিকাকথা ব্যক্ত করে যায়
ধ্যানমৌন দেখে বলে
নিদ্রা বা অর্ধ নিদ্রাকাল গুপ্ত থাকে রাত্রিবিধিমূলে
আমি কেন মেনে নেব তথাগত অর্ধ জাগরণ?
মনে পড়ে লুপ্ত-হয়ে-যাওয়া কত শত পথের পুরাণ
তবু, গৌরচন্দ্রিকা মতে, কারও লীলাগান শুনব বলে
চোখ খুলে বসে আছি পথের ওপর
পলাতক
সেঁজুতি বড়ুয়া
কেউ তোমার শরীরে বাসা বাঁধুক
কেউ থুতনিতে মুখ রেখে, 'উৎসব, উৎসব'
বলে চেঁচিয়ে, যত্নে রাখুক...
কোনো সমমনা ঘুম, মগজের ক্লান্তিতে স্বপ্ন ওড়াক
কোনো সমমনা হাত, পুরনো সঙ্গমে 'মুক্ত, মুক্ত''
বলে সহস্র জখমে, হৃদয়ে সেঁধাক...
অথবা বেদনা নয়, একা হয়ে যেতে যেতে
জটিল গল্পগুলো শরীরের উপবনে 'ঘুম ঘুম'
অবিরাম চুমুর বেহাগে, চির সতেজ থাকুক...
মিঠে রোদ আঙুলস্পর্শে অভিমান, সম্পর্কে বাঁচুক
বিকেলের আড়ষ্ট দিনলিপি সবকিছু 'মিথ্যে, মিথ্যে'
ভেবে জীবনের কড়াপাঁক, স্মৃতিতে জড়াক...
রোদন বসে আছি একা
শামীম আজাদ
আমি আর উদাসীনতা
হাত ধরাধরি করে বসে ছিলাম।
সে ম্লানমুখে গালে হাত দিয়ে
আর আমি আকাশের সবচেয়ে নিচের
জানালার দিকে চেয়ে।
পাখিরা আমাদের ফেলে চলে যাচ্ছে।
পাখি, তোরা যাবি কত দূর
যেখানেই যাবি সেখানেও তো
একই পুরাতন আকাশ ছাদ হয়ে আছে
গায়ে যার অসংখ্য অসুখের অঙ্কুর।
ওরে পাখি তোরা কি জানিস না,
বুঝিস না কিছুই, কি হচ্ছে?
সব নষ্টই যে এই পরিচিত আকাশের
নিচে চলে গেছে।
উদাসীনতাও উঠে যাচ্ছে আর
আমি এক ব্যাপক ক্রন্দন হয়ে গেছি
উন্মূল হতাশায় মৌন কার্নিশে
ঝুলে আছি একা।
বইতে পারছি না নিজদেহের হাড়ের বোঝা
নিজ বিষের এই রক্ত রক্ত খোঁচা॥
আমি শুধু দেখতে চাই
তমিজ উদ্দীন লোদী
আপাতত আপনাকে তুলে রাখছি কমল কুমার মজুমদার
তুলে রাখছি মার্কেজ , জয়েস , পামুক আপনাদেরও
তুলে রাখছি গঘ , গঁগ্যা , মাতিস
‘গোয়ের্ণিকা ‘ ব্যতীত আপনাকেও তুলে রাখছি পিকাসো
সময় হলেই আপনাদের আবারো টেবিলে নামাবো
নিত্যদিন যেসব গান আমাকে আপ্লুত করে রবীন্দ্রনাথ
সেসবও শুনছি না আজকাল, শুনতে পারছি না
আমার শিরায় এখন ঝড় তুলছে ‘ কারার ঐ লৌহকপাট…’
আমার টেবিলে এখন সুকান্ত , নবারুণ ভট্টাচার্য
আমার টেবিলে দারবিশ , হিকমত , মায়াকোভস্কি
আমার হৃদয়ের সবুজ বেয়ে নামছে লাল
আমাকে টানছে না কোনো তত্ত্ব , তথ্যের কূটাভাস
আমি শুধু দেখতে চাই একটি সুস্থ, সুন্দর আবাস।
অচেনা অবয়ব
হোসাইন কবির
কপালে রাখেনি কেউ অনাবৃত হাত বহুদিন
কান পেতে অপেক্ষার প্রহর গুনে ঘুমিয়ে পড়ে
আড়ালে বুঝিবা কেউ
লাশের গায়ে অচেনা বুলেট
হিমাগারে রেখে দাও।
হিমাগারে রয়েছে তো আরও লাশ বহুকাল
নামহীন গোত্রহীন নির্বিবাদী
দূরে শঙ্খ বাজে
রাতের আঁধার ভেঙে
সেই কবেকার কণ্ঠস্বরে শুনি–
'কতো রবি জ্বলেরে, কেবা আঁখি মেলেরে'
পাড়ার রবি পাগলা জানতো না–
রাজা যায় রাজা আসে
তার সরল বিশ্বাসের জমিন বেদখল হয়ে যায়
আমাদের শান্তির পায়রার পাখা নেই
রাকীব হাসান
মাটিতে ঘাস খাচ্ছে কয়েকটি নতুন বাছুর
তাদের পাশে উড়ে এসে জুড়ে বসেছে বিদেশী কবুতর
বাংলার মাটি দারুণ খাসা –
জীবন এখানে ধর্মের কুয়ায় এখনও টলমল।
আমাদের শান্তির পায়রার আর পাখা নেই
শেষ পালকে ভর করে সে যেদিন বাংলার আকাশে পৌঁছালো
তখন ‘একুশে’-এ আগুন জ্বলছে আর ‘বত্রিশ’ পুড়ে গেছে!
পুরানো আগুনের ধোঁয়ায় –
এই পাখির শেষ পালক পুড়ে যাওয়ার গল্প লেখা হলো!
ডানাহীন শান্তির পায়রা দায়িত্ব নিলেন বাছুরদের,
গ্রামীণ মান্দার ডাল আর সুশীল-বিছুটিপাতার সমন্বয়ে
গঠিত হলো শান্তির গণ্ডার-পরিষদ।
মেষ-শাবক সেজে থাকা আমাদের গণপ্রধান
পালকহীন শান্তির পাখিকে বাংলার গাও-গ্রামের ফতুয়া পরিয়ে দিলেন,
পাখি কুটকুট করে বাদাম খেতে খেতে শপথ নিলো –
তীব্র ক্ষুধা না পেলে সে কৃষকের ধানের ক্ষেতে নামবে না।
পাখাহীন পাখির নৌকা ও নদীতে ভয়,
আকাশ-বাতাসে তার ভয়,
সবুজের দিগন্তে তার আসন বাছুরের পিঠ –
এখানে বসেই নারী আর শিশুদের সমবন্টনে দাড়িপাল্লায় মেপে দেবে সুদহীন নতুন পর্দার হালাল স্বাধীনতা।
স্বনিয়তি
তুষার গায়েন
এই হবে, এইতো হবার কথা ছিল
বহুকাল ধরে এসব করার প্রস্তুতি নিয়ে এসেছিল ওরা
সকলেই জানত আজ না হয় কাল ওরা আসবে
ধ্বংস, হত্যা আর ধর্ষকামিতার শিস বাজাতে বাজাতে!
যারা এসব চায় না বলেও ক্ষমতার দণ্ড হাতে
সজ্ঞানে কিংবা অজ্ঞানে, লোভে অথবা নগদ লাভের আশায়
তাই করে চলেছিল যাতে ওদের আসার পথ সুগম হয়- -
অন্ধকারের ভয় আছে সবার মনে, তবু তার আকর্ষণ মনের গভীরে
কেউ চায় না ওদের, তবু সবাই মিলে যা কিছু করছিল
তাতে ওদেরই আসার পথ সুগম হয়েছিল একটু একটু করে;
ওরা বলেছিল হেসে, এমনভাবে সবকিছু হবে যাতে ফল পেকে
একদিন টুপ করে পড়বে অনায়াসে তাদের হাতে…
বল প্রয়োগের অত দরকারই হবে না, আর যতটুকু দরকার
সেসব মজুত থাকবে বরাবর যেভাবে তাদের থাকে,
কারো অবাক হবার আগেই যাতে তারা সবকিছুর দখল নিতে পারে।
এই হবে, এইতো হবার কথা ছিল
আমাদের হৃদয়ে নিরর্থক রক্তক্ষরণ!
সহজ কবিতা শিক্ষা
মুজিব ইরম
সহজ কবিতা লেখা
আমারে শিখিও তুমি সন্ধ্যা হলে পর…
জপে জপে আমি যেন পাশ করি
আমি যেন সহজে লিখতে পারি বেদনা আমার…
কবিতা মাস্টার তুমি
অধমের
এ-জীবনে মানিয়াছি মনেপ্রাণে কামেঘামে যাতনায়…
আমার প্রণতি তুমি হৃদয়ে রাখিও
আমার বেদনা তুমি সুরেতে মাখিও
নৈশ বিদ্যালয়ে তুমি করিও গো কবিতা নবিশ…
এ মিনতি করি
অপরাহ্ণ সুসমিতো
বৃষ্টির ইন্টারনেট ঝুপঝাপ নেমে এসেছে দস্যুতা করে তোমার চিত্রণ উঠানে
লম্বা পা ফেলে ফেলে তুমি ঠুমরি পরিবেশ, কেবল খালি পা
এত বাতাবিলেবু এত কাঁঠালচাঁপা ছড়ায়ে রেখেছ চারপাশ,
তুমি আজ নাচছ না কেন বলো নাচছ না কেন?
মেঝেতে বসে আছো হাত ছড়ায়ে ময়ুর পেখম আর চোখ বুজে
ল্যাম্পপোস্ট থেকে আলো মাখা কৃষ্ণ রাত ডালিয়া হয়ে মিশে যাচ্ছে
তোমার গানের অরূপ লিরিকে,
তুমি আজ শুনছ না কেন বলো শুনছ না কেন?
স্মার্ট ফোনে জমা হচ্ছে ঠোঁট ভেজা ক্ষুদে বার্তা, আল্পনা শরতের
ছোট্ট করে জানান দিচ্ছে নবারুণ প্রণয় ব্রডব্যান্ড তুমি কেবল অনুপমা
আজ সারাদিন বইয়ের পাতায় তোমার চোখপাপড়ি আর তুমুল শাহনাজ-
তুমি আজ লিখছ না কেন বলো লিখছ না কেন?
জিজ্ঞাসা
মিলটন রহমান
এখনো পাতাঝিম বিকালে মাইক বেজে ওঠে বাজে 'ও নাগর কইয়া যাও, কইয়া যাও' মতিগড় নদীর স্রোতের সাথে কত নাগর চলে গেলো অথচ এখনো রয়ে গেলো একই গান একই সুর না চাইলেও কন্যা জলে ভিজে পাথরে খাঁচ কেটে রেখে যায় সমুদয় বিলাপ
বুকে চাপা শিসের মতো কখনো কখনো
ফিস ফিস করে কে যেনো জানতে চায়,
কেমন আছো তুমি?
বুকে কইছালি করে সে জিজ্ঞাসা রাত ফুঁড়ে
বেদনা জাগায়, বলে ভালো থেকো, ভালো…
অনাবরণ
রওশন হাসান
কি মিহি সুরে বাতাসের অর্কেষ্ট্রা খুব যত্ন করে
নদীগুলোর স্বচ্ছ পানিতে লাল রঙ ঢেলে দেয়—
পাখিরাও হয়ে ওঠে বন্য, সকাল-দুপুরে দ্রোহের উদ্বেগ l
আকাশের চোখে চোখ রেখে সংগ্রামী মুখগুলো
ঝুলে থাকে প্রহরের বাহতে—
উদ্যানে-সমাধিতে আত্মাগুলো জড়ো হয় নিঃসঙ্গ আলোয়
গত বৈশাখের জীবিত যুবকগুলো
এ বৈশাখে স্মৃতি হয়ে অশ্রুপাতে জমে রয়—
দীর্ঘশ্বাসে! সজীবের সমারোহে 'নরকে এক ঋতু'
শোকে ভরা পূর্ণিমা, সুখ ও দুঃখের উদ্ধৃতি l
হে আমার অশান্ত হৃদয়, তুমি কি বিপন্ন গান শোনো ?
পতন্নোমুখ হলদে পাতায় আত্মহুতির চিহ্ন শতাব্দী মনে রাখেনি l
সৌরভে, চাহনিতে মূককথা, লেখার টেবিলে ছড়িয়ে থাকে
কবির আহত-শব্দ।
বদলে যাওয়া সময়ে মানুষের কোন সৌন্দর্য নেই।
তির্যক
লায়লা ফারজানা
আক্রমনাত্মক নীলের বিরুদ্ধে —
সবুজতম কোরাল হয়ে জেগে উঠেছিলাম
ক্যালিফোর্নিয়ার গোলাপি সানসেটের মত
ভাঙা কাঁচের ফাটলে
তাজা ছিল আমাদের মুখ
হয়ত সহজ ছিল:
গুটানো শার্টের নীচে বোবা চামড়া; তবুও —
আমাকে দেখাতে চাইনি সেদিন।
বাতাসের আন্দোলনে
অস্হির দেহভঙ্গীতে
স্বাদ আর গন্ধ থেকে দূরে রেখেছিলাম নিজেকে
মঞ্চের বাইরে —
যেমন একটি পুরো মৌসুম অপেক্ষা করে থাকে
শীতের রাস্তায় ছড়িয়ে পড়তে:
রোকোকো পেইন্টিঙের
নাটকীয় বিকৃত বিশপের মত —
অনাকাঙ্ক্ষিত সংক্ষিপ্ত।
সম্পাদকের শুভেচ্ছা ও পাঠক মন্তব্য
কবিতার একপাতা তার কাব্যভুবন ভ্রমণে ছয় বৎসর অতিক্রম করলো। ‘কবিতার একপাতা’র গুণী ও সফল সম্পাদক-কবি ও প্রাবন্ধিক ফারুক ফয়সলকে অভিনন্দন। গত ছয়টি বছর ধরেই যে কবিগণ বাংলা কবিতার বিশ্বব্যাপী ফেরিওয়ালা প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার আয়োজনে সেরা কবিতা পাতাটির সাথে যুক্ত আছেন, নিরলস ভালোবাসার শ্রমে, মেধায় লিখে যাচ্ছেন শ্রেষ্ঠ কবিতা সম্ভার, তাঁদেরকে আমার ও আমাদের অকুন্ঠ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। একবুক ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা কবিতাপ্রেমিক পাঠকদেরকে, যাঁরা গভীর আবেগে ও ভালোবাসায় কবিতার পাতাটি হাতে তুলে নিলে আমাদের শ্রম ও সময়ের সার্থক ব্যবহার হয়।
আপনাদের সকলকে শুভেচ্ছা!
ইব্রাহীম চৌধুরী
সম্পাদক, প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা
সুদূর যুক্তরাষ্ট্রে ছয়টি বছর ক্রমাগত একটি সাপ্তাহিকে বাংলা কবিতার মাসিক একটি আয়োজনকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা কবি ও কবিতাপ্রেমিকদেরকে যূথবদ্ধ করে সেরা কবিতাপত্র করে তোলা সহজসাধ্য মোটেই নয়। এই সাফল্যের সাথে অবশ্যই কবিতার একপাতা সম্পাদকের কবিতার প্রতি একনিষ্ঠ প্রেম, তাঁর আবেগ, মনোযোগ, শ্রম, অধ্যবসায়, মেধা-মনন ও দীর্ঘ সময় দান যুক্ত ছিল। তবু সেটুকুই সব নয়। পত্রিকা সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরীর কবিতা-তাড়িত মন, আবেগ এবং উদার মন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে, স্বতস্ফূর্ত সমর্থন দানে কাজটিকে সহজ করে তুলেছেন অনেকাংশে। তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা। আমার পক্ষ থেকে। বাংলা কবিতার অগ্রসর কবি, কবিতাকর্মী ও পাঠকদের পক্ষ থেকে তাঁকে জানাই শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। পত্রিকা সংশ্লিষ্ট সকলকে, বিশেষতঃ নির্বাহী সম্পাদক জনাব, মঞ্জুরুল হককে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।
কবিগণ, যাঁরা তাঁদের শত ঝামেলা, উপদ্রব সরিয়ে রেখে আমার দাবীর কাছে ভালোবেসে নিজেকে সমর্পন করেন, চাহিদা মতো নিয়মিত লিখে পাঠান, তাঁদের জন্যে আমার এক বুক ভালোবাসা। যাঁরা ভালোবেসে নিয়মিত পড়ে আমাদেরকে মন্তব্য লিখে, ফোন করে, ম্যাসেঞ্জারে জানিয়ে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের জন্যে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। সকলের জন্যে শুভেচ্ছা।
ফারুক ফয়সল
সম্পাদক, কবিতার একপাতা
আপনাদের অকুন্ঠ সমর্থনের অগণিত মন্তব্য থেকে বিভিন্ন সংখ্যা থেকে কতিপয় এখানে লিপিবদ্ধ করা হলো। বিশেষ কোন নিয়ম না মেনে বা কোন অগ্রাধিকার বিবেচনা ব্যতিরেকে এই মন্তব্যগুলি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। আশা করি কোন অপরাধ নেবেন না। আমাদের ভালোবাসা জানবেন। ফা•ফ
কতিপয় মন্তব্যঃ
———————————
তাপবিদগ্ধ তৃষিত ধরাচিত্র
মানে ও মননে, গ্রহণে বরণে
যেন সম্পাদকেরই ছায়া
এজন্য আমাদেরও এই
একপাতা নিয়ে
বড় বেশি আছে মায়া।
অভিনন্দন @ফারুক 
কবি, লেখক ও অনুবাদক শামীম আজাদ
( আগস্ট, ২০২৩ সংখ্যা )
অভিনন্দন। কবিতাগুলো মননশীল। 


প্রবীর বিকাশ সরকার ( ডিসেম্বর ২০২২ সংখ্যা )
আলো কখনোই আঁধারের মতো গভীর নয়
কল্পনাতে তুমি যতটা জীবন্ত, বাস্তবে তা নও... উদ্ধৃতিযোগ্য দুটি চরণ। কবির জন্য শুভকামনা।
কবি মারুফ রায়হান ( সেপ্টেম্বর ২০২৩ সংখ্যা )
বললে বেশী হবে, না বললে কৃপণ হয়ে যাবো। এক সঙ্গে এতগুলো ভালো কবিতা পড়া সম্ভব হবে ভাবতেও পারিনি। নভেম্বর, শুভ নভেম্বর প্রিয় ফারুক ফয়সল।আপনার কবি জীবন সুন্দর হোক।
কবি আব্দুর রাজ্জাক ( নভেম্বর ২০২২ সংখ্যা )
নিউইয়র্কে শুক্রবারের সকালটা শুরু হলো 'কবিতার এক পাতা' পাঠের মধ্য দিয়ে। চমৎকার আয়োজন, শব্দের রঙে অসামান্য সব উচ্চারণ। ধন্যবাদ আপনাকে।
কবি হোসাইন কবীর ( ডিসেম্বর ২০২৩ সংখ্যা )
সুন্দর, তরতাজা কিছু কবিতা পাঠ করলাম। দারুণ লাগলো। অভিনন্দন।
কবি ও সম্পাদক, কৃষিবিজ্ঞানী গাজী রফিক ( ডিসেম্বর ২০২২ সংখ্যা)
আমেরিকা, কানাডা, ইংল্যাণ্ড এবং বাংলাদেশের কবিদের লেখায় সমৃদ্ধ 'কবিতার এক পাতা' পড়ে ভাল লাগছে৷ উক্ত পাতায় ভারতের কবিদের লেখা যুক্ত করলে আরও ভাল লাগবে৷
কবি শঙ্খশুভ্র পাত্র ( আগস্ট, ২০২৩ সংখ্যা)
খুব সমৃদ্ধ পাতা। অভিনন্দন সকল কবিকে আর ধন্যবাদ প্রিয় সম্পাদককে।
কবি ও ভ্রমণ গদ্য লেখক কামরুল হাসান ( জানুয়ারী ২০২২ সংখ্যা )
Congrats 

কবি ফকির ইলিয়াস ( নভেম্বর ২০২০ সংখ্যা )
আহা এই পাতাটি যদি প্রতি সপ্তাহে বেরুতো! এই আক্ষেপ প্রমাণ করে এখানে আনন্দ আছে, এবং মন তা বারংবার চায়।
কবি ও চিত্রশিল্পী রাকীব হাসান ( এপ্রিল ২০২২ সংখ্যা )
কবিতার একপাতা' মার্চ সংখ্যার অধিকাংশ কবিতাই ভালো লেগেছে। সুন্দর আয়োজনের জন্য সব কবি এবং গুণী সম্পাদক ফারুক ফয়সল ভাইকে অভিনন্দন !
কবি তুষার গায়েন ( মার্চ ২০২১ সংখ্যা )
ওয়া ওওওও!! অসাধারণ লাগল সবাইকে ভালোবাসা।
কবি হেনরী স্বপন ( ডিসেম্বর, ২০২৩ সংখ্যা )
ধন্যবাদ ও মুগ্ধতা জানবেন, ফারুক ভাই। অভিনন্দন জানবেন।
কবি মুজিব ইরম ( ফেব্রুয়ারী ২০২৩ সংখ্যা )



কবি ও সাহিত্য সম্পাদক, ওবায়েদ আকাশ
এত সুন্দর একটি পাতার সম্পাদনা করেছেন, বসন্ত তো আপনিই ছড়িয়ে দিলেন। 


কবি জিললুর রহমান ( ফেব্রুয়ারী ২০২২ সংখ্যা )
এই কবিতার পাতায় কবিতার জন্য আপনার ভালোবাসা প্রকাশ পায় ফারুক ভাই। উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি হোক। শুভকামনা রইল।
কবি ও লেখক নাহার মনিকা ( এপ্রিল ২০২২ সংখ্যা )
বাহ, বরাবরের মতোই দারুণ এক আয়োজন। মাসিক এই পাতাটি বেশ ভালো একগুচ্ছ কবিতা পাঠের সুযোগ করে দেয়। এর কারিগর কবি ফারুক ফয়সল ভাইকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই। তাঁর অক্লান্ত মনোভাব এই পাতাটির সৌন্দর্যের আসল রহস্য। সূচিবদ্ধ কবিগণ ধন্যবাদ ও প্রশংসা প্রাপ্য তাদের দারুণ সব কবিতার জন্য।
কবি খলিল মজিদ ( ডিসেম্বর ২০২৩ সংখ্যা )
পাতা একটিই বটে, তবে তাতে আছে আট রকম বৈচিত্র্য। দারুণ আয়োজন! সত্যিই আপনি খুব যত্ন করে "কবিতার এক পাতা" সম্পাদনা করেন ফয়সল ভাই। 
কবি শাহানা আক্তার মহুয়া
টমনোলোভা ভূমিকাসহ দারুন এক আয়োজন…
কবি ও ভ্রমণগদ্য সম্পাদক মাহমুদ হাফিজ ( সেপ্টেম্বর ২০২৩ সংখ্যা )
কবিতাকে এতটা গুরুত্বদান সত্যি বেশ অনুপ্রেরণার। কবিতাগুলোও বেশ। কবিতা নির্বাচনকেও প্রশংসা করতে হয়!
আব্দুর রব ( কবি, ভ্রমণ গদ্য লেখক, জানুয়ারী সংখ্যা ২০২৩ )
একগুচ্ছ সুন্দর কবিতা, শীতে মোলায়েম কম্বলের মত উষ্ণ, আরামপ্রদ ও মননে অনুপ্রেরণার স্থল।
লেখক শাহাব আহমেদ ( জানুয়ারী ২০২২ সংখ্যা )
প্রিয় ফারুক ফয়সল ভাই, কবিতা গুলোর বিষয়বৈচিত্র্য, আঙ্গিক ,উপমা, কাব্যকলার সফল প্রতিফলন যে কোন পাঠকের হৃদয় হরণ করা জন্য যথেষ্ঠ। সম্পাদকের সযত্ন সম্পাদনা, কবিতা নির্বাচনে মার্জিত রুচীর প্রতিফলন কবিতার এক পাতায় দৃশ্যমান। আপনি আমার অভিভাদন গ্রহণ করুণ। অপার শুভকামনা।
শেখর ভট্টাচার্য (কবি ও প্রাবন্ধিক, জানুয়ারী ২০২৩.সংখ্যা )
কবিতার একপাতা আমার বরাবর প্রিয়। এই পাতায় অনেকগুলি ভালো কবিতা পড়া যায়। তবে এবার রাজু আলাউদ্দিনের কবিতাটি ছিল একদম ভিন্নরকম। আমার ধারনা এই ধরনের কবিতা তিনি আগে কখনও লেখেননি। ওনার লেখক জীবনের মূল্যায়ন বলা যায় কবিতাটি।
মনিজা রহমান ( কবি ও লেখক, প্রাক্তন ক্রীড়া সাংবাদিক) মে,২০২৪ সংখ্যা।
সবগুলো কবিতাই ভীষণ ভালো লেগেছে
কবিতার একপাতা মানেই মনের মতো সব কবিতা!
কবি পারভীন শাহনাজ ( মার্চ ২০২১ সংখ্যা )
চমৎকার। অভিনন্দন আপনাদের
লোপা মমতাজ ( সেপ্টেম্বর ২০২৩ সংখ্যা )
সুখপাঠ্য কিছু কবিতা একসাথে পড়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
বরাবরের মতই নান্দনিক উপস্থাপন।
বাচিক শিল্পী ও সংস্কৃতি কর্মী ক্লারা রোজারিও ( ফেব্রুয়ারী ২০২২ সংখ্যা )
Very impressive!
কবি ও গীতিকার, বিজ্ঞানী রুদ্রশংকর ( আগস্ট ২০২২ সংখ্যা )
কবিতাগুলো পড়ার সুযোগ দেয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। প্রতিটি কবিতা ভিন্ন ভিন্ন আমেজে ধরা দিয়েছে। অসাধারণ সব কবিতা।
কবি আঞ্জুমান রোজি জানুয়ারী ২০২২ সংখ্যা )
শীতের সকালে শীতের কবিতাগুলো ভাল লাগলো। ধন্যবাদ ফারুক ভাই।
ভাস্কর্য শিল্পী আখতার আহমেদ রাশা ( জানুয়ারী ২০২২ সংখ্যা )
কবিতাগুলোর মূল টাইপ ভার্ষণ সংযুক্ত করার জন্য ধন্যবাদ। প্রতিটি কবিতাই মানসম্পন্ন, নান্দনিক! ভালো লেগেছে আপনার সমৃদ্ধ আয়োজন।
বাদল ঘোষ ( এপ্রিল ২০২২ সংখ্যা )
কবিতার পাতার অনুপম সাহিত্যিক সৃজনে ঋদ্ধ হয়েছি বারবার আজকের মতো।
কবি ফারজানা নাজ শম্পা ( নভেম্বর ২০২২ সংখ্যা )
চমৎকার ও সমৃদ্ধ আয়োজন।
কবি ও মন মানচিত্র সম্পাদক— আলী সিদ্দিকী ( সেপ্টেম্বর ২০২২ সংখ্যা )
কৃতজ্ঞতা ফারুক ভাই। খুব মনোপ্লাবী হয়েছে।
কবি ও নাট্যকার— বদরুজ্জামান আলমগীর ( ডিসেম্বর ২০২৩ সংখ্যা )
অসম্ভব রকমের সুন্দর ও সৃজনশীল একটি কবিতার পাতা পড়লাম আজ। যেমন কবিতা, তেমন ইলাস্ট্রেশন। সকল কবিদের শুভ কামনা। বেশি ধন্যবাদ জানাই কবিতার এক পাতার সম্পাদক ফারুক ফয়সাল ভাইকে এমন মন মুগ্ধকর একটা কবিতার পাতা তৈরি করার জন্য। কবিতার সাথে ছবি-অপরুপ এক কাব্যিক সংমিশ্রণ।
কবি— এইচ বি রিতা ( আগস্ট ২০২২ সংখ্যা )
সুন্দর আয়োজন ভাইজান। সকল কবিদের অভিনন্দন।
ভায়লা সেলিনা
প্রিয় আয়োজন, প্রিয় পাতা....
হাসান ইমতিয়াজ ( অক্টোবর ২০২১ সংখ্যা )
সবগুলো কবিতাই মুগ্ধকর।
গাফফার মাহমুদ ( অক্টোবর ২০২১ সংখ্যা )
প্রিয় 'কবিতার এক পাতা' পাতাভরা বিচিত্র ও সমৃদ্ধ কবিতা সব। শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অগ্রজ কবি ফারুক ফয়সল।
কবি রেজা শামীম ( জানুয়ারী ২০২২ সংখ্যা )
সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন