https://www.prothomalony.com/
11037
literature
নিউ ইয়র্কের অন্যতম প্রতিষ্ঠিত ও ব্যস্ত সাংস্কৃতিক সংগঠন শিল্পাঙ্গনের উদ্যোগে সপ্তম নাট্যমেলা অনুষ্ঠিত হয় ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর। লং আইল্যান্ডে হিক্সভিল শহরে অবস্থিত লেভিটটাউন হলের বিশাল পরিসরে আয়োজিত দু’দিন ব্যাপী নাট্যমেলা উত্তর আমেরিকার নাট্যকর্মী, নাট্যদল, নাট্যব্যক্তিত্ব ও নাট্যমোদী দর্শকের মিলনমেলার ক্ষেত্রে রূপান্তরিত হয়। এবারের নাট্যমেলার প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল “মানবতার জন্যে নাটক”। নাটকের সংলাপে, অভিনয়ে, আলো ও শব্দের ব্যবহারে নাট্যজনেরা মানবতার জয়গান গেয়ে থাকেন। শিল্পাঙ্গন নাট্যমেলার সকল পরিবেশনায় ছিল মনুষ্যত্বের গাঁথা, ছিল মানবতার কল্যাণে বাঙ্গালীর শপথ। শিল্পাঙ্গন নাট্যমেলার সূচনা করা হয় একটি নাট্যকোলাজ দিয়ে। কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, শামসুর রাহমান, হেলাল হাফিজ, মুহম্মদ নূরুল হুদা, এবং আনিসুল হকের কবিতার অংশ নিয়ে নির্মিত হয়েছে নাট্যকোলাজ “স্বাধীনতা”। মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের গ্রন্থনা ও নির্দেশনায় নাট্যকোলাজে অংশ নিয়েছেন শফিউল আলম, আহসান উল্লাহ, সুলতানা খান, রাফিয়া খান, স্বপন কবীর, শাহরুখ তাসনিম, সোনিয়া হক, শান্তা মনি, নুসায়বাহ কবীর, এবং আয়ানা মাহিবা। ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ ধরণীতে মানুষের সংগ্রামে অর্জিত হয় সোনালী ভবিষ্যৎ, নিশ্চিত হয় স্বাধীনতা, - এই গৌরবের গাঁথা উপস্থাপিত হয় কাব্যে ও অভিনয়ে। নাট্যকোলাজের শেষ হয় মঞ্চে লাল-সবুজের কাপড় দিয়ে বাংলাদেশের পতাকা নির্মাণে এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে। নাট্যকোলাজের পর শুরু হয় নাট্যমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন পর্ব। বিশিষ্ট নাট্যকার, নির্দেশক, নাট্যসংগঠক ও নাট্যগবেষক শামসুল আলম বকুল মঙ্গলপ্রদীপ জ্বালিয়ে শিল্পাঙ্গনের সপ্তম নাট্যমেলার শুভ উদ্বোধন করেন। শিল্পাঙ্গনের পক্ষ থেকে অতিথি শামসুল আলম বকুলকে সম্মাননা প্রদান করেন শিল্পাঙ্গনের পরিচালক ফালাহ আহামেদ। এরপর শিল্পাঙ্গনের পক্ষ থেকে সকল নাট্যবোদ্ধা ও দর্শকবৃন্দকে স্বাগত জানান নাট্যমেলা আয়োজক পরিষদের আহ্বায়ক শফিউল আলম। নাট্যজন শামসুল আলম বকুল তাঁর শুভেচ্ছা বক্তব্যে শিল্পাঙ্গনের প্রয়াসকে সাধুবাদ জানান এবং আগামীতে নাট্যমেলার উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন। সবশেষে শিল্পাঙ্গনের পরিচালনা পরিষদের পক্ষ থেকে সহ-সভাপতি আকতার কামাল নাট্যমেলার অতিথি ও দর্শকদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। নাট্যমেলার প্রথম দিনের উল্লেখযোগ্য পরিবেশনা ছিল “মানবতার জন্যে নাটক” বিষয়ে সমৃদ্ধ আলোচনা। নাটক কি শুধু বিনোদনের মাধ্যম? সমাজে যেসব অন্যায়, অবিচার চলছে, মানবতা যে লুন্ঠিত হচ্ছে, সেখানে নাটকের ভূমিকা কি? নাটক সমাজ পরিবর্তনে কতখানি ভূমিকা রাখতে পারে? এসব নানা প্রশ্ন নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন বিশিষ্ট নাট্যজন মজিব বিন হক, শামসুল আলম বকুল, শিরীন বকুল, এবং ওমর ফারুক মিলন। সঞ্চালনায় ছিলেন নাট্যকর্মী আনোয়ার সেলিম। শিল্পাঙ্গন নাট্যমেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিল নবীন প্রজন্মের নাট্যাভিনয়। শিল্পাঙ্গন বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে আগামী প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দু’দিনই আগামী প্রজন্মের শিল্পীরা দু'টি নাট্যাভিনয় উপস্থাপন করে। প্রথমদিন অভিনীত হয় নাটক “প্রযুক্তি”। আমাদের অভিভাবকদের একটি সাধারণ অভিযোগ, আগামী প্রজন্ম খুব বেশি মাত্রায় প্রযুক্তি-নির্ভর হয়ে উঠছে। স্বাভাবিক মানবিক গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্য অর্জনের পরিবর্তে প্রযুক্তির ব্যবহারেই তারা বেশি আগ্রহী। তাহলে কি প্রযুক্তি আমাদের আগামী প্রজন্মকে মানুষের পরিবর্তে যন্ত্রে রূপান্তরিত করছে? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম তার নাটকে “প্রযুক্তি”। তার সঙ্গে নাটকে অভিনয় করেছে ছোট্ট বন্ধু ও মেধাবী শিল্পী আয়ানা মাহিবা। নির্দেশনায় ছিলেন সোনিয়া হক। শিল্পাঙ্গন নাট্যমেলার প্রথমদিন নবীন প্রজন্মের আরো একজন গুণী শিল্পী আমারা জামান অংশ নেয় যে এসেছিল সুদূর ক্যানাডা থেকে। আমাদের সমাজে নারী এখনো শারীরিক সৌন্দর্য্যের উর্দ্ধে উঠে মানুষ হিসেবে অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। সমাজের প্রতি ক্ষেত্রে নারী হয় লাঞ্চিত, ন্যায্য দাবি থেকে হয় বঞ্চিত, আর শিকার হয় নরপশুর লোভের।

কবি শুভ দাশগুপ্তের কবিতা “আমি সেই মেয়ে”-এর নাট্যাভিনয় করে আমারা জামান। নির্দেশনা দিয়েছেন লিসা জামান। শিল্পাঙ্গন নাট্যমেলায় বাংলা নাটকের নানা আঙ্গিক ও অনুষঙ্গ নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষার প্রয়াস নেয়া হয়েছে। সে ধরণের একটি পরিবেশনা ছিল, বাংলার লোকনাট্য “মৈমনসিংহ-গীতিকা”। ডক্টর দীনেশচন্দ্র সেন সম্পাদিত এই গ্রন্থ থেকে দ্বিজ কানাই রচিত “মহুয়া” পালার প্রথম অধ্যায়ের একটি সংকলিত অংশ পরিবেশিত হয়। প্রণয়, সামাজিক দ্বন্দ্ব, ইত্যাদি ঘাত প্রতিঘাতের এক অপূর্ব কাব্যিক প্রকাশ “মহুয়া” নাট্যপালায় অংশ নেন মাহনাজ হাসান, শাহপার ইসলাম, মোহাম্মদ শানু, লিটন ফিলিপস, এবং মুস্তফা মোর্শেদ মানু। গ্রন্থনা ও নির্দেশনায় ছিলেন মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। নাট্যমেলায় উপস্থাপিত হয় শিল্পাঙ্গনের একটি পরীক্ষামূলক নাট্যপরিবেশনা, কবিতা থেকে নাটক “জিন্দাবাদ”। জনগণের সেবায় নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিকবৃন্দ কি সর্বদা সৎ ও নিষ্ঠাবান হয়ে থাকেন? যদি হতেন তবে দেশে দেশে যুগে যুগে সন্ত্রাস ও দুর্নীতি থাকতো না। রাজনীতির বাইরের ও ভেতরের দ্বন্দ্ব নিয়েই নাটক “জিন্দাবাদ”। প্রখ্যাত কবি সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের মূল রচনা থেকে নাট্যায়ন ও নির্দেশনা দিয়েছেন মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। অভিনয়ে করেছেন শান্তা মনি, শফিউল আলম এবং আহসান উল্লাহ। শিল্পাঙ্গন নাট্যমেলায় সুদূর ক্যানাডা থেকে যোগ দেয় নাট্যদল “শুধুই নাটক”। তাদের দ্বিতীয় নাটক ছিল “ফিরবে কি নিরু”। লেখক জাহানারা বুলা-র উপন্যাস “ফিরে চল নিরুপমা” থেকে নাট্যরচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন ড. ওমর ফারুক মিলন। আর অভিনয় করেছেন লিসা জামান। শিল্পাঙ্গন নাট্যমেলার আমন্ত্রিত আর এক নাট্যদল “বাংলা থিয়েটার”, যার প্রতিষ্ঠাতা নাট্যজন মজিব বিন হক। বাংলা থিয়েটার পরিবেশন করে মুনীর চৌধুরীর নাটক “মিলিটারি”।

নাটকের প্রেক্ষাপট ১৯৭১ সালের সেই দু:স্বপ্নের দিন। পাক সামরিক জান্তার নির্বিচারে বাঙ্গালী হত্যা। সেখানে ব্যক্তিগত সুখ, দু:খ, প্রেম, ভালোবাসা, সব রূপান্তরিত হয় স্বাধীনতার আন্দোলনে। সেই দু:সাহসিক মুক্তিসংগ্রামের একটি কাব্যময় দৃশ্যের চিত্রায়ন করেছেন বরেণ্য নাট্যকার মুনীর চৌধুরী। আনোয়ার সেলিমের নির্দেশনায় ও মজিব বিন হকের তত্ত্বাবধানে অভিনয় করেছেন শফিউল আলম, আনোয়ার সেলিম, রেশমা চৌধুরী, এবং লিটন ফিলিপস। শিল্পাঙ্গন নাট্যমেলায় ছিল বাংলা ও ইংরেজি নাটকের দুই দিকপালের সৃষ্টিকর্ম। বিশ্ব নাটকের জনক উইলিয়াম শেক্সপিয়র রচিত “দ্যা টেমিং অফ দ্যা শ্রু” নাটকের অনুবাদ করেছেন আমাদের বাংলাদেশের নাটকের জনক মুনীর চৌধুরী। কালজয়ী নাটক “মুখরা রমণী বশীকরণ”-এর একটি দৃশ্যে শক্তিশালী অভিনয় করেন বরেণ্য নাট্যশিল্পী শিরীন বকুল এবং অভিনেতা কামাল মোহাম্মদ। নাট্যাংশের নির্দেশনা দিয়েছেন শিরীন বকুল। শিল্পাঙ্গনের একটি অসাধারণ নাটক পরিবেশিত হয়, “কাগজ ও জীবন”। মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। মেধা, সৃজনশীলতা ও কর্মদক্ষতায় মানুষ ছাড়িয়ে যেতে পারে সকল কল্পনাকে। কিন্তু সেই মানুষের জীবন ও কর্মের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার প্রয়োজনেই আবার তৈরী হয় আইন, কানুন, নিয়ম ও পদ্ধতি। কাগজে ছাপানো সেই নিয়ম কখনো আবার জীবনের উর্দ্ধে উঠে যায়, মানুষ নিজের সৃষ্ট আইনের কাছেই বন্দী হয়ে পড়ে। কাগজ ও জীবনের এরূপ দ্বন্দ্ব নিয়েই মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের রচনা ও নির্দেশনায় নির্মিত হয় নাটক “কাগজ ও জীবন”। অভিনয় করেন শাহরুখ তাসনিম, সোনিয়া পান্না, সুলতানা খান এবং নজরুল ইসলাম। নেপথ্যে ছিলেন আহসান উল্লাহ এবং শাহপার ইসলাম। শিল্পাঙ্গন নাট্যমেলার প্রথমদিনের শেষ পরিবেশনা ছিল ক্যানাডা থেকে আগত নাট্যদল “শুধুই নাটক”-এর নাট্যপ্রযোজনা “মুখোশ”। এরিয়েল ডর্ফম্যান-এর নাটক অবলম্বনে সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক রচনা করেন “মুখোশ”। ত্রিশ লক্ষ শহীদ ও লক্ষাধিক বীরাঙ্গনার ত্যাগের ফসল আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। আমাদের সেই মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে যেসব নরপশু ষড়যন্ত্র করেছিল, তারা লুকিয়ে আছে আমাদের মাঝে। সুযোগ পেলেই ফণা তোলে আবার ছোবল মারার উদ্দেশ্যে। কিন্তু আমরা সদা জাগ্রত আমাদের মাতৃভূমির স্বাধীনতা রক্ষায়। এমনি এক প্রেক্ষাপটে রচিত নাটক “মুখোশ”-এর নবনাট্যায়ন ও নির্দেশনা দিয়েছেন ড. ওমর ফারুক মিলন। অভিনয় করছেন আফরোজা মিতু, সামসুল আলম সরকার, সাদমান সাকিব এবং এঞ্জেলা খন্দকার। কোরিওগ্রাফি করেছেন লিজা রয়। রবিবার শিল্পাঙ্গন নাট্যমেলার দ্বিতীয় দিনের পরিবেশনাও শুরু হয় নাট্যকোলাজ "স্বাধীনতা" দিয়ে। এরপর শিল্পাঙ্গনের পক্ষ থেকে পরিচালক ফালাহ আহামেদকে নাট্যমেলার সবাইকে স্বাগত জানান। নাট্যমেলার দ্বিতীয়দিন মঞ্চায়িত হয় নবীন প্রজন্মের নাটক “আগামী”। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে আমরা লক্ষ্য করেছি নতুন প্রজন্ম দেশের নানাবিধ উন্নয়নে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। তেমনি এক অভিনব উদ্যোগের প্রস্তাব নিয়ে আসে ছোট্ট বন্ধু নুসায়বাহ কবীর। মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের রচনা ও সোনিয়া পান্নার নির্দেশনায় “আগামী” নাটকে আরো আরো অভিনয় করে আয়ানা মাহিবা, সোনিয়া পান্না এবং নজরুল ইসলাম। শিল্পাঙ্গন নাট্যমেলায় নাট্যপরিবেশনার পাশাপাশি নাটকের বিভিন্ন ধরণ ও উপকরণ নিয়ে পরিবেশনা অন্তর্ভুক্ত ছিল। নাটকের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বলিষ্ঠ উপকরণ হচ্ছে সংগীত। নাটকের অনেক সংকটময় মুহূর্তের দৃশ্যায়নে সংগীতের কোন বিকল্প নেই। নাটকে সংগীতের ব্যবহার নিয়ে মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের গ্রন্থনায় “নাটকের গান” পর্বে অংশ নেন তরুণ চন্দ, ইশরাত লিপি, ফাহমিদা ইয়াসমিন, এবং গাজী সালাহউদ্দিন। তবলায় সঙ্গদ করেছেন চামেলী গোমেজ। সঞ্চালনায় ছিলেন রাফিয়া খান নিশি। শিল্পাঙ্গন নাট্যমেলায় নিউ ইয়র্ক তথা উত্তর আমেরিকার বিশিষ্ট নাট্যজন ও নাট্যদল আমন্ত্রিত হয়ে প্রবাসের নাট্যচর্চা নিয়ে আলোচনা করেন, মতবিনিময় করেন, এবং নাটকের আদান প্রদান করেন। দ্বিতীয়দিনে নাট্যদল “কৃষ্টি” তাদের সাম্প্রতিক সফল পেশাদার নাট্যপ্রযোজনা মাসুম রেজা রচিত “পেন্ডুলাম” নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে নাট্যমেলার মঞ্চে। খাইরুল ইসলাম পাখির নির্দেশনায় এ নাটকে অভিনয় করেছেন শিরীন বকুল, সীতেশ ধর এবং খাইরুল ইসলাম পাখি। আবীর আলমগীরের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন শিরীন বকুল এবং সীতেশ ধর। নাট্যমেলায় এরপর ছিল শিল্পাঙ্গনের নাটক “শ্রুতি বিভ্রাট”। আমাদের জীবনে ও সমাজে অনেক শব্দেরই ভিন্ন ভিন্ন অর্থ ও প্রয়োগ হতে দেখি। শব্দের এরূপ ভিন্নার্থে ব্যবহার কখনো হাস্যরসের জন্ম দেয়, কখনো আবার বেদনাদায়ক সংকটের সৃষ্টি করে। শব্দের শ্রবণ, আত্মস্থকরণ, ও উচ্চারণের বিভ্রাট নিয়ে এক চমৎকার নাট্যরসের রচনা করেন নিরুপ মিত্র। মূল নাটক থেকে নবনাট্যায়ন, নির্দেশনা ও অভিনয়ে রয়েছেন রাফিয়া খান এবং শাহরুখ তাসনিম। শিল্পাঙ্গনের আমন্ত্রণে নাট্যমেলায় অংশগ্রহণ করে নিউ ইয়র্কের অন্যতম প্রাচীন নাট্যদল “বাংলাদেশ থিয়েটার অফ আমেরিকা”। তারা পরিবেশন করে বনানী মুখার্জির রচনা ও ফারুক আজমের নির্দেশনায় শ্রুতি নাটক “জ্যান্ত পুতুল”। অভিনয় করেন শিরীন বকুল এবং ফারুক আজম। শিল্পাঙ্গন নাট্যমেলায় আরো অংশগ্রহণ করে নিউ ইয়র্কের অগ্রগণ্য নাট্যদল “ঢাকা ড্রামা”। তারা শুধুমাত্র এই নাট্যমেলাকে উদ্দেশ্য করেই নির্মাণ করে নাটক “মহড়া মহড়া”। রিপন রহমানের ভাবনার ওপর কাজ করেছেন ঢাকা ড্রামার সদস্যবৃন্দ। শিল্পাঙ্গন সপ্তম নাট্যমেলার সর্বশেষ পরিবেশনা ছিল শিল্পাঙ্গনের নিজস্ব নাটক “আমার সন্তান”। আমরা সবাই আমাদের প্রাণপ্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ থেকে সহস্র মাইল দূরে এক ভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির দেশে বসবাস করছি। যে বাংলা ভাষার জন্য শহীদেরা প্রাণ দিয়েছেন সে ভাষা আমাদের প্রবাস জীবনে কতখানি গুরুত্ব পাচ্ছে? প্রবাসে বেড়ে ওঠা এ প্রজন্মের জীবনে বাংলা কতটুকু স্থান করে নিতে পেরেছে? প্রতিটি বাঙ্গালী পরিবারেই আমরা এ প্রশ্নের সম্মুখীন হই। বাংলাদেশের প্রতি ভালোবাসা বনাম পরিবারের নিশ্চিত ভবিষ্যৎ - এ বিতর্ক আমাদের ঘরে ঘরে। তারই প্রেক্ষাপটে রচিত হয়েছে নাটক “আমার সন্তান”। মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের রচনা ও নির্দেশনায় “আমার সন্তান” নাটকে অভিনয় করছেন সুলতানা খানম, সোনিয়া পান্না, শফিউল আলম এবং মো. নজরুল ইসলাম। নেপথ্যে সহযোগিতা করছেন আহসান উল্লাহ এবং রাফিয়া খান। শিল্পাঙ্গন নাট্যমেলা উদযাপনা পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন শফিউল আলম, এবং যুগ্ন আহ্বায়ক আহসান উল্লাহ। পরিকল্পনা, গ্রন্থনা ও নির্দেশনায় ছিলেন মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। নাট্যমেলার উপদেষ্টা ছিলেন আমর আশরাফ, ফালাহ আহামেদ, আকতার কামাল, এবং রাহাত হোসেন। আর সঞ্চালনায় ছিলেন সাতজন বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী, শান্তুনু সাজ্জাদ, এলি বড়ুয়া, নাজনীন মির্জা, রাফিয়া খান, শাহপার ইসলাম, শাহরুখ তাসনিম, এবং সোনিয়া হক। শব্দ ও আলোক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে সায়েম এবং সাউন্ড গিয়ার।
সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন