https://www.prothomalony.com/
10776
bangladesh
বাংলাদেশ সোসাইটি নিউইয়র্কের অফিসে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জেরে সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মহিউদ্দিন দেওয়ানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন সংগঠনেরই ট্রেজারার নওশাদ হোসেন। ২০২৩ এর জুলাই মাসে দায়ের করা এই মামলা থেকে সম্প্রতি নিষ্কৃতি পেয়েছেন মহিউদ্দিন দেওয়ান। তাঁর দাবি, বাংলাদেশ সোসাইটির কর্মকান্ড থেকে বাইরে রাখা এবং হেনস্থা করে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্যই নওশাদ হোসেন এই 'মিথ্যা' মামলা দায়ের করেন। ২৮ আগস্ট বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে মহিউদ্দিন দেওয়ান এই দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি মামলার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যা ঘটেছিল বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি। লিখিত বক্তব্যে মহিউদ্দিন দেওয়ান বলেন, ২০২৩ সালের ২ জুলাই সংগঠিত ঘটনার জের হিসাবে নিউইয়র্ক স্টেটের দায়ের করা মামলায় (docket no: CR-020080- 23QN) জুরী বোর্ড কর্তৃক সকল অভিযোগে আমি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছি। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি খারিজ করে দিয়েছে। গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এই ধরণের মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে আমি এবং আমার পরিবার নিদারুন মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার বিষয়টি না হয় বাদই দিলাম। মহিউদ্দিন দেওয়ান বলেন, আজ আমি আপনাদের সামনে উপরোক্ত মিথ্যা মামলার প্রেক্ষাপট তুলে ধরতে চাই। যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মিথ্যা এবং প্রতিহিংসামূলক মামলার শিকার কেউ না হন। আমি বিশ্বাস করি, সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে জনগণের সেবার কথা বলে নির্বাচিত হয়ে যে সকল ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কেবল ব্যক্তি বিশেষের স্বার্থ রক্ষার জন্য এমন মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে হেনস্থা ও মানসিক নির্যাতনের শিকারে পরিণত করতে পারে, সমাজের কাছে, কমিউনিটির সামনে তাঁদের মুখোশ উমোচন করা দরকার। তিনি বলেন, গত বছর বাংলাদেশ সোসাইটি নিউইয়র্কের কার্যকরী কমিটির এক সভায় সেসাইটির কার্যক্রমে হিসাব চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক অনভিপ্রেত ঘটনার পর সভা শেষ হওয়ার পূর্বে তা সভার সভাপতি আব্দুর রব মিয়া এবং অপরাপর কর্মকর্তাদের উদ্যোগ ও সহযোগিতায় নিস্পত্তি ঘটে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, সে সভায় উপস্থিত সোসাইটির ট্রেজারার নওশাদ হোসেন ঘটনার নিস্পত্তির কয়েক ঘন্টা পর মিথ্যা অভিযোগ করে সোসাইটি অফিসে প্রবেশ করে পুলিশ ডাকেন। তার মিথ্যা এবং বানোয়াট অভিযোগের ভিত্তিতে আমাকে পুলিশ প্রিসিঙ্কটে ডাকা হয়। সেখানে পুলিশ আমাকে সোসাইটির ট্রেজারার নওশাদ হোসেন এর অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করে। পুলিশ এবং এসিস্টেন্ট ডিস্ট্রিক্ট এটর্নির পক্ষ থেকে আমাকে বলা হয়, মিথ্যা অভিযোগটি মেনে নিলে আমাকে খুবই সামান্য শাস্তি দিয়ে মামলার সমাপ্তি টানা হবে।কিন্তু আমি জানতাম আনি সম্পূর্ণ নির্দোষ। যে অপরাধ করিনি, তাই কথিত মিথ্যা অপরাধের দায় আমি নেবো কেন? সোসাইটির এই সিনিয়র সহ-সভাপতি বলেন, মামলার নথিপত্র এবং জুরী ট্রায়ালের ট্রানস্ক্রিপ্ট যাচাই করে জানা গেল, আসলে একজন নির্বাচিত সিনিয়র সহ সভাপতি হিসাবে আমাকে বাংলাদেশ সোসাইটির কর্মকান্ড থেকে বাইরে রাখা এবং হেনস্থা করে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্যই নওশাদ হোসেনের মিথ্যা অভিযোগ যেমন তার আঙ্গুল ভেঙে গেছে ইত্যাদি অভিযোগের জন্যই তার পক্ষে মামলাটি দায়ের করে নিউইয়র্ক স্টেট। তিনি বলেন, মামলায় জুরী বোর্ডের সামনে সাক্ষী হন সোসাইটির বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট ফারুক চৌধুরী এবং কার্যকরী পরিষদের সদস্য সাদী মিন্টু। বিজ্ঞ জুরী বোর্ড তাঁদের বক্তব্যকে গ্রহণ করেনি। আমলেই নেয়নি কোনো অভিযোগকে। অচলাবস্থা নিরসনে কার্যকরী কমিটির পক্ষ থেকে সভাপতি আব্দুর রব মিয়াকে একক দায়িত্ব দেওয়া হয় সমঝোতার ভিত্তিতে অন্য কাউকে ট্রাষ্টি বোর্ডে নির্বাচিত করার জন্য। কিন্তু তিনিও অজ্ঞাত কারণে ভোটাভুটিতে একাধিকবার ব্যর্থ প্রার্থীকেই ট্রাষ্টি বোর্ডে মনোনীত করেন। আমি বিশ্বাস করি, আমাকে মামলায় জড়িয়ে সোসাইটির কর্মকান্ড থেকে বাইরে রাখার অপচেষ্টা করা হয়েছে যা বিজ্ঞ জুরী বোর্ডের রায়ে ভন্ডুল হয়ে গেছে। বাতিল হয়ে গেছে আমার বিরুদ্ধে আনা অর্ডার অফ প্রটেকশন। মহিউদ্দিন দেওয়ান বলেন, দীর্ঘ তিরিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমি খেলাধুলা, ধর্মীয় এবং সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে সমাজের সেবা করে আসছি। যতদিন বেঁচে আছি, বাকি জীবনটাও আমি কমিউনিটির সেবায় নিয়োজিত রাখতে চাই।
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন