https://www.prothomalony.com/

10117

literature

সাহিত্য

উত্তরের জনপদ

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৪ ১০:০৬

জনপদে থাকে বিচিত্র কাহিনী। সংগ্রাম-দুঃখ-কষ্টের পাশাপাশি থাকে সাফল্য ও প্রাপ্তির গল্প। উত্তরের জনপদে এখন গরমকাল, ভারী কম্বল আর জ্যকেটের বোঝা ফেলে মানুষ বাইরের রোদ্দুরে বেরিয়ে এসেছে। সামনের তিন-চার মাস কেটে যাবে ব্যাকইয়ার্ডে পার্কে বারবিকিউ করে। সুমুদ্রের পাড়গুলো ভরে উঠবে দর্শনার্থীতে। লম্বা দিনগুলোতে সূর্য ডুবে অনেক দেরিতে। গাউন পরে, মাথার গ্র্যাজুয়েশন ক্যাপ বাতাসে উড়িয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী হেসে উঠবে তাদের নিজস্ব সফলতায়। পাশে থাকা হাস্যোজ্জ্বল পরিবার দেখতে থাকবে আগামী দিনের স্বপ্ন। আবার অন্যদিকে কোন লেখিকা ছাপবে তার বই। তাতে উঠে আসবে পাঁচমিশালী প্রবাসের দিনলিপি। উত্তরের জনপদে দুটি গল্প এই জনপদকে ঘিরেই।

ধন্যবাদান্তে- সোহানা নাজনীন/ফরিদা ইয়াসমীন 

একাকিত্ব জীবন

পোর্ট অথোরিটির বাস টারমিনলে বসে আছে এক সাদা চুলের আমেরিকান ভদ্রলোক। নাম হেনরি, বয়স সত্তরের উপরে হবে। কিন্তু পোশাক পরিচ্ছদে আর ভাব-ভঙ্গিতে বয়স আরো কম মনে হচ্ছে। বার বার দেয়ালে ঝোলানো ডিজিটাল ঘড়িটার দিকে তাকাচ্ছে হেনরি। ওখানে বিভিন্ন রুটের বাস কখন শহর ছেড়ে যাবে সেই তালিকা আপডেট হচ্ছে। 

আমিও ওখানেই বসে আছি। ভার্জিনিয়া যাবার কথা একঘন্টা আগে, কিন্তু বাস ক্যান্সেল হবার কারণে আমাকে আর দুই ঘন্টা অপেক্ষা করতে হবে। অলস চেহারায় এদিক ওদিক তাকাচ্ছি, যদি কাওকে গল্পের সঙ্গী মনে হয়। পাশের সারিতেই দেখলাম এই হেনরিকে। ওর দিকে তাকিয়ে হাসি দিয়ে "হ্যালো" বলতেই লম্বা আলাপ গড়গড় করে বেরিয়ে এলো। 

আলাপে আলাপে অনেক কিছু জানলাম। হেনরি এই শহরে থাকে না, মিনিয়াপোলিসে বসবাস তার। একমাত্র নাতি ছেলের কলেজ গ্র্যাজুয়েশনে যোগদান দিতে নিউইয়র্কে আসা। নাতির গ্র্যাজুয়েশন শেষে ফিরে যাচ্ছেন ছেলের কাছে কানেক্টিকাটে। হেনরির এক ছেলে এক মেয়ে। ছেলেটা হার্ভার্ড থেকে পাশ করে জে পি মরগ্যান ব্যাঙ্কের উচ্চপদস্থ আসনে আছে। ছেলে অনেক টাকা সেলারি পায়, হেনরি কুঁড়ি বছরে যা আয় করেছিল তার ছেলে এক বছরেই এই টাকা কামিয়েছে। জানতে চাইলাম, "নাতি তাহলে কোন ঘরের? ছেলের ঘরের নাকি মেয়ের ঘরের?" 

"আমার একমাত্র মেয়ের ছেলে, এইবার কলেজ শেষ করলো, তার গ্র্যাজুয়েশনেই এসেছি।"

হেনরি আরো জানালো তার মেয়ের ক্যান্সার, সেকেন্ড স্টেজ। দু'বছর আগে চিকিৎসা করিয়ে এখন অনেকটা ভালো আছে। মেয়েটার আর্থিক অবস্থা তেমন সুবিধার ছিল না। ক্যান্সারের শুরুর দিকে অনেক টাকা লেগেছিল চিকিৎসায়। সেই টাকা হেনরির ছেলেই দিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে চিকিৎসার ব্যয়ভার আর চালাতে পারেনি। নিউইয়র্ক শহরে ফেলে রেখে গেছে বোনকে। কারণ নিউইয়র্কে আছে মেডিকেইড আর ফুড স্ট্যাম্পের সুবিধা। মেয়েটার শরীর বাঁচানোর খরচ ঐ থেকেই চলে যায়। নাতিটা বিনা খরচেই চার বছরের কলেজ শেষ করলো, নিন্ম আয়ের মানুষদের জন্যে এখানের স্টেট এবং ফেডারেল গভর্নমেন্ট টিউশন ফি মাফ করে দেয়।

"তোমার ছেলে তো অনেক ইনকাম করে, একমাত্র বোন কে দেখে না কেন?"

আমি অবাক হয়য়ে হেনরি কে জিজ্ঞাসা করে বসি। হেনরি লম্বা শ্বাস ফেলে বলে, 

"ভাই-বোন দুজনের মধ্যে একটা ঠাণ্ডা সম্পর্ক আছে। বোনের অনেক কাজকর্ম আমার ছেলে সাপোর্ট করেনি, বেশ বিরক্ত ছিল বোনের উপরে। কি আর বলবো, আমার মেয়েটা নিজের পছন্দে এক অপদার্থকে বিয়ে করেছিল। দুবছর যেতে না যেতেই ছাড়াছাড়ি। মেয়েটা অনেক কষ্টে সিঙ্গেল মা হিসাবে ছেলেকে বড় করেছে। তারপর এখন তো শরীরে ক্যান্সার বেঁধেছে, আগের মতো কাজ করতে পারে না। পার্টটাইম কিছু একটা করে। নাতি ছেলে পড়া শেষ করেছে, এবার একটা চাকরি পেলেই ভালো।"

"তোমার ছেলেকে সাহায্যর জন্যে একটু অনুরোধ করলেই তো পারো!"

হেনরি উচ্চস্বরে হেসে ফেললো, আমার দিকে তাকিয়ে বলল,

"তোমাকে আগে দেখেই বুঝেছি যে তুমি ইন্ডিয়ান। ইন্ডিয়ান মেন্টালিটি এমন ধাঁচের। আমাদের কালচারে এমন কথা বলে না। আমি ছেলেকে কিছুই বলবো না, দেখি সে কয়দিন এভাবে বোনের দিক থেকে নিজেকে ফিরিয়ে রাখতে পারে।" 

অস্বস্তির আভাস পেয়ে আমি প্রসঙ্গ পাল্টাই, বলি,

"কানেক্টিকাটে ক'দিন থাকবে?"

"সময়মতো রওনা দিলে আজকে রাতেই পৌঁছাব। তারপর কাল সকালেই আবার আমার শহরে।"

আমি তামাশা করে আবারো হেনরি কে জিজ্ঞাসা করি,

"ফেরার এতো তাড়া কিসের? বৌ কে খুব মিস করো নাকি?"

আমাকে অবাক করে দিয়ে হেনরি বলে,

"বৌ মারা গেছে সেই কবে, তারও ক্যান্সার হয়েছিল। তবে এখন গার্লফ্রেন্ড আছে। এই সপ্তাহে গার্লফ্রেন্ড ব্যস্ত তার নিজের বাচ্চাদের নিয়ে। আর আমিও এই ফাঁকে নিউইয়র্কে আমার মেয়ে আর নাতিকে দেখে গেলাম। তাছাড়া আবারো নতুন একটা ব্যবসা শুরু করার ইচ্ছা আছে, সে নিয়ে কাজ আগাতে হবে।"

চোখ কপালে তুলে আমি বলি,

"বল কি? এই বয়সে ব্যবসা! এতো পরিশ্রম সহ্য হবে তো? তোমার এখন উচিত হবে পরিবারের সাথে সময় কাটানো। নাতি-পুতির সাথে আড্ডা দিয়ে দিন পার করা।"

হেনরি আচানক ব্যাগটা কাঁধে তুলে নিল, আমার মুখের কাছে মুখ নামিয়ে বলল,

"তুমি চিন্তা ভাবনায় ইন্ডিয়ান সেটা আবারো প্রমাণ করলে। বয়স বেড়েছে তাতে কি? কাজ না করলে সুস্থ থাকা যায়না। তবে জানো কি? আমি ভীষণ একা, একাকিত্ব আমাকে কষ্ট দেয়।"

"আরে সেজন্যেই তো বলছি, ছেলে-মেয়ের সাথে থাকো।"

"ছেলে হার্ভার্ডে পড়েছিল, তাই ওদের হার্ভার্ড ক্লাবের কিছু সুবিধা আছে। ম্যানহাটানে এলামনাইদের হোটেলে প্যারেন্টস হিসাবে দুদিন ছিলাম। এতেই আমার শান্তি, আর কিছু চাইনা সন্তানদের কাছে। তোমাদের ইন্ডিয়ানদের মতো আমরা বুড়োকালে ছেলেমেয়ের ঘর কে শেষ আশ্রয় ভাবতে পারি না।"

হেনরির কথাটা খুব ঝাঁঝালোভাবে কানে লাগলো।'তোমাদের ইন্ডিয়ানদের মতো আমরা বুড়োকালে ছেলেমেয়ের ঘর কে শেষ আশ্রয় ভাবতে পারি না....!' কোথায় যেন আমি নিজেও প্রশ্নবিদ্ধ হলাম; দাবী, আশা, অধিকার কিংবা দখলে..! 

সত্যিই তো! কেন শেষ বয়সে সন্তানের ঘরকে শেষ আশ্রয় ভাবতে হয় আমাদের? তবে কি এই সন্তান লালন পালন করতে গিয়ে আমরা একেবারেই নিঃস্ব হয়ে যাই, নিজের জন্য কিছুই জনা রাখিনা!  শৈশবে সন্তানের একমাত্র ভরসাস্থল ও এক মাত্রআশ্রয়স্থল তার বাবা মা। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সন্তান হয়ে উঠে আমাদের একমাত্র ভরসা ও আশ্রয়স্থল। এ যেন এক প্যারাডক্সিক্যাল হিসাব। এর থেকে বের হতে হলে আমাদেরকে হেনরির সমাজ ব্যবস্থা ও সংস্কৃতির ছোঁয়া দরকার যেখানে আমরা পাবো নিজেদের দাড় করাতে সকল সুযোগ সুবিধা ও সরকারী সহায়তা। হেনরি কখনোই জানবে না, আমাদের গড়ে উঠা, পরিবারের সীমাবদ্ধতা, জানবে না সংস্কৃতির দায়বদ্ধতা, বাঙালি বাবা মায়ের আর্থিক টানাপোড়েনের গল্প কিংবা শেষ বয়সে সন্তানই কেন হয়ে উঠে আমাদের আশ্রয়স্থল!  

হেনরি গট গট করে হেঁটে গেল, তাকে দেখে কেউ বলবে না যে সত্তরের ঘর ছাড়িয়েছে। 

আমি আপন মনে হাসলাম, নিজেই নিজেকে উত্তর করলাম, "প্রথমত আমি ইন্ডিয়ান নই, আমি বাঙ্গালি। আর দ্বিতীয়ত, আমাদের কালচারেও আজকাল সন্তান তাদের বাবা-মা'কে ধরে রাখছে না কিংবা বলা যায় আমরা অনেকেই এখন আধুনিক হতে গিয়ে সন্তানদের সাথে থাকছি না। শেষ বয়সের একাকিত্ব আমাদেরও পিছু ছাড়ছে না।"


শিরীন আক্তার এক অনুপ্রেরণার নাম


এই জনপদের বাতাসে এখন উৎসবের আমেজ। একে তো সামার, তার উপর আছে গ্র্যাজুয়েশন এবং বিয়ের অনুষ্ঠানের‌ হিড়িক। কবি -লেখকদেরও বসে থাকার সময় নেই। শহরে বইমেলার আয়োজন, আজ কবিতা উৎসব তো কাল মোড়ক উন্মোচন। আরো আছে দল বেঁধে গল্প- কবিতার বিভিন্ন আড্ডা আলোচনা। নবীন-প্রবীণ সবাই সে আসরের আনন্দ লুটে নিতে চায়। কত নিত্যনতুন লেখক কবির আত্মপ্রকাশ ঘটছে এই আড্ডা আলোচনার অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। আবার অনেক লেখক কবির জন্ম খুবই সংগোপনে, একান্ত আপন জগতে। আজ আমি এমনি একজন লেখিকার সাথে এই জনপদের পাঠকদের পরিচয় করিয়ে দেব। যিনি চাকরি থেকে অবসর নেয়ার পরে লেখালেখি শুরু করেন এবং বইও বের করেন। আশাকরি, তার এই উদ্যোগ জনপদের মানুষকে উৎসাহিত করবে। আমরা বুঝতে শিখবো বয়স কেবল নিজেকে গুটিয়ে নেবার সময় নয়, বয়স মানুষকে আরো নতুন কাজে উৎসাহিত করারও একটা সময়।



লেখিকা শিরীন আক্তার ২০০০ সালে স্বামী ও তিন কন্যার সাথে আমেরিকা আসেন। এখানে আসার পরে বিভিন্ন পাবলিক স্কুলে তিনি শিক্ষকতা করেন। ২০১৭সালে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। অবসরের পরে সাধারণত মানুষ বিশ্রামে থাকে। জীবনকে উপভোগ করেন ভিন্ন এক আঙ্গিকে। আবার সেই বিশ্রামও কখনো হয়ে উঠে আমাদের হতাশা ও একাকিত্ব্র কারণ। এমন বিষাদ আর একাকিত্বের ছোঁয়া লাগেনি শিরীন আক্তারের গায়ে। তিনি নিয়মিত লিখতে শুরু করেন। এ যেন এক নতুন অধ্যায়ের শুরু। তার লিখার বিষয়বস্তু তার চতুর্দিকের জীবন নিয়ে। যে জীবনে সাধারণ মানুষ আছেন, নিজের ভাই বোন আছেন, আছেন মা বাবা এবং সন্তানেরাও। আমাদের চারপাশের যে ঘটনাগুলো আমরা অবহেলায় এবং নির্লিপ্ততায় এড়িয়ে চলি, লেখিকা শিরীন আক্তার সেই ঘটনাগুলোই তার কলমের আগায় নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলেন। সেই জন্যই তার লেখায় উঠে এসেছে রেমিটেন্স যোদ্ধার কষ্টের কথা, আমেরিকার নিঃসঙ্গ মায়ের হাহাকারের কথা। দুজনের কষ্টই যেন দিন শেষে একই রকম। রেমিটেন্স যোদ্ধা তার সমস্ত টাকা দেশে পাঠিয়ে দেয় সবার সুখের জন্য, কিন্তু দিনশেষে তার কষ্টের কথা কেউ ভাবে না। তেমনি ভাবে একজন মা তার সন্তানকে বড় করে নিজের সমস্ত মায়া-মমতা ভালবাসা দিয়ে। দিনশেষে সে সন্তান যখন দূরে চলে যায় মায়ের কথা সে মনে রাখে না। নিঃসঙ্গ মা পথ চেয়ে থাকে শুধু মাদার্স ডে তে একটি কার্ডের আশায়! এসব চরিত্রগুলোই লেখিকা শিরীন আক্তার তার গল্পগ্রন্থ "পাঁচফোড়নে "তুলে এনেছেন।

লেখিকার সাথে কথা বলে বুঝতে পেরেছিলাম তার গল্পের বইয়ের নাম কেন "পাঁচফোড়ন"। একটি নির্দিষ্ট আঙ্গিকে উনার লেখা ধরে রাখেননি। তাই এই মসলার নামে বইটির নাম। তার গল্পে অনায়াশেই উঠে এসেছে মুক্তিযুদ্ধে সন্তান হারানো পরিবারের করুণ কাহিনী। সন্তান হারিয়ে তারা দেশের স্বাধীনতার সূর্য দেখেছেন কিন্তু হারিয়েছেন বসতভিটা। নষ্ট রাজনীতির নিষ্ঠুর চালে সন্তানহারা শহীদ পরিবার বসতভিটা আর ফিরে পায় না। সন্তান হারানো হাহাকারের সাথে বসতবাড়ি হারানোর কষ্টটা মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়।

তার গল্পে আরও এসেছে এদেশের খেটে খাওয়া মহিলাদের কথা। যারা ঘরে বাইরে সমান তালে কাজ করে যাচ্ছেন আবার নিজেকে তৈরি রাখছেন সুন্দরভাবে। এসেছে সেই ক্লিনিং লেডির কথা। যে কিনা এক বিন্দু কাজে ফাঁকি না দিয়ে ওনার মেয়ের ঘর পরিষ্কার করে দিয়ে গিয়েছিলেন। উনি শ্রদ্ধা ভরে তাদের স্মরণ করেছেন। উনি আরো লিখেছেন ওনার মা-বাবার বিয়ের সময়কার ঘটনা এবং মজার ব্যাপার তাদের দুজনের বিয়ের কার্ড কেমন ছিল সেটাও তিনি লিখেছেন। বিয়ের কার্ডের ব্যাপারটা আমাকে খুবই চমৎকৃত করেছে।

আজ শিরীন আক্তারের অবসর সময়ে লেখালেখিতে মনোযোগ দেয়ার বিষয়টা জনপদের পাঠকদের কাছে শেয়ার করার কারণ হলো-অনুপ্রেরণা জোগানো। বিশেষত, যারা অবসর সময়ে নিজেদের সৃজনশীলতা বিকাশ করতে চান, তাদের জন্য এটি একটি উদাহরণ হতে পারে। আরো একটি কারণ হলো-তার লেখাগুলি পাঠকদের মধ্যে সাহিত্যিক চেতনা এবং সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা বিস্তার করা সহ এটি জনপদের পাঠকদের মধ্যে সমাজের বিভিন্ন সমস্যা, সংস্কৃতি, এবং মূল্যবোধ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে সহায়ক হতে পারে। 

পরিশেষে বলব, জনপদ সুখ-দুঃখের কাহিনী নিয়েই আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়। আজ যে শিরীন আক্তারকে আপনাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলাম, উনি নিঃসন্দেহে আমাদের আনন্দের এবং অনুপ্রেরণার এক দৃষ্টান্ত। এই জনপদের পক্ষ থেকে উনার জন্য একরাশ শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা রইলো। আমি আশা করবো ভবিষ্যতে উনি আরো লিখবেন। উনার কলম অবসরে হয়ে উঠুক এক শক্তি এবং আমৃত্যু লিখে যাক-এই কামনা করছি।


শিরীন আক্তারের মতো সমস্ত অবসরপ্রাপ্তদের জন্য আমার ক্ষুদ্র প্রয়াস-

অবসরের নিঃশব্দ প্রান্তরে, চলো হাতে কলম ধরি

শব্দেরা ফোটুক হৃদয়ের পাতায়, গাঁথুক মোহন কাব্যরথ

মনের মেঘ কাটুক বৃষ্টিতে, শুকিয়ে বিষাদের ধারাপাত, আলোকিত হোক অন্তরের প্রাঙ্গণ, ফিরে পাই শান্তির পথ।

সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন