https://www.prothomalony.com/

10062

foundation

ফাউন্ডেশন 

নিজ অধিকার সচেতনতার সাথে আদায় করতে হবে-মোঃ জয়নাল আবেদীন

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৪ ১০:৪৮

"আমরা সমাজকে সুন্দর কিছু দিতে চাই, তোমরা আমাদেরকে গ্রহণ করে নাও। আমরাও তোমাদেরকে গ্রহণ করতে প্রস্তুত-এই হচ্ছে আমাদের মেসেজ। আমাদের সন্তানদের সংস্কৃতির সাথে ধর্মকে সম্পৃক্ত রাখা শেখাতে হবে। তাদেরকে বোঝাতে হবে, এই দেশ আমাদের, এই দেশকে ভালবাসতে হবে। ধর্ম এবং সংস্কৃতির পাশাপাশি এই দেশের মূল চালিকা শক্তির কাছে যেন তারা পৌঁছাতে পারে। শুধু কলেজ-ইউনিভার্সিটিতে ভালো রেজাল্ট করলে চলবে না। একজন ভালো নাগরিক হবার জন্যে আমাদের কমিউনিটিকে সোচ্চার হতে হবে।"-কমিউনিটির উন্নয়ন নিয়ে কথাগুলো আলোচনা করেছেন মোঃ জয়নুল আবেদীন। গত ১৩জুন, বৃহস্পতিবার প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার জনপ্রিয় সাপ্তাহিক সম্প্রচার 'টক অব দ্যা উইক' অনুষ্ঠানে তিনি অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন।

মোঃ জয়নাল আবেদীন(এম.কম, এলএলবি) তিন দশকের বেশি সময় ধরে কমিউনিটিকে নিরলসভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। জয়নাল আবেদীন-'এলআইসি'তে ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত 'আইডিয়াল স্কুল' এর একজন প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক। আল আমিন জামে মসজিস এবং ইসলামিক সেন্টার-এস্টোরিয়াতে দুইবারের সফল সভাপতি। উডসাইড বাইতুল জান্নাহ মসজিদ, সানিসাইড-উডসাইড জামে মসজিদে একাধিকবারের প্রধান নির্বাচন কমিশনার। বর্তমানে তিনি Bangladeshi  American advocacy group এর সম্মানিত সভাপতি এবং একজন রিয়্যাল এস্টেট ব্যবসায়ী-যার হাত ধরে কমিউনিটির অনেক সাফল্য এসেছে। সম্প্রতি BAAG ১০ম বারের মতো NYC Albany-তে কমিউনিটির বিভিন্ন দাবী দাওয়া নিয়ে এ্যাভোকেসি করে আসছেন।

Bangladeshi  American advocacy group সংগঠনের প্রেসিডেন্ট হিসাবে মোঃ জয়নাল আবেদীন বলেন, "২০১১ সালে কিছু বাংলাদেশি অফিসিয়াল ভাই এই BAAG এর প্রথম আত্মপ্রকাশ করেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল নিউইয়র্কে আমাদের মতো ইমিগ্র্যান্ট কমিউনিটির অবস্থান জোরালো করা। এদের কথা পাবলিক অফিশিয়ালদের কাছে পৌঁছে দেয়া যাতে সম্মানজনকভাবে আমাদেরকে যথাযথভাবে মুল্যায়ন করা হয়। পাবলিক অফিসিয়াল, মেয়র অফিস, এসেম্বলি মেম্বার, কাউন্সিল মেম্বার, পাবলিক এডভোকেট অফিস এরা যেন আমাদের মতো নতুন কমিউনিটিকে মূল ধারার সাথে সম্পৃক্ত করতে সাহায্য করে। আমাদের প্রয়োজনীয় দাবিদাওয়া যেন আমরা অত্যন্ত নিয়মতান্ত্রিক ভাবে তুলে ধরতে পারি।"

BAAG এর কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, "সংগঠনটি জনস্বার্থে সেবা বা সুযোগ আদায়ে কাজ করছে। প্রথমে আমরা নিউইয়র্ক সিটিতে কাজ শুরু করি। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সংগঠনের সাথে সংযুক্ত হয়ে নিউইয়র্ক স্টেট গভর্নমেন্ট এবং ফেডারেল গভর্নমেন্টের সাথে কাজ করতে থাকি। নতুন আসা ইমিগ্রান্ট পরিবারের বাচ্চাদের স্কুল সাপ্লাইয়ের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করেছিলাম। বিভিন্ন সময়ে জব সেমিনার করেছি, তাতে কমিউনিটি মানুষ চাকরির সুযোগ পেয়েছে। কমিউনিটির আশা এবং চাহিদা সম্পর্কে আমাদেরকে আগে জানতে হবে। কমিউনিটিকে জাগ্রত করতে হবে।"  

এই সাংগঠনিক কাজের  দাবীগুলো কি ছিল? এ পর্যন্ত কোন কোন দাবীগুলো আদায় হয়েছে-এমন প্রশ্নে মোঃ জয়নাল আবেদীন জানান, "আমাদের দাবিগুলো অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে পরিবর্তিত হয়। স্কুলের প্রতিটি বাচ্চার মৌলিক অধিকার হচ্ছে পুষ্টিযুক্ত খাবার পাওয়া। তাই মুসলমান বাচ্চারা যাতে নিউইয়র্ক সিটির স্কুলে হালাল খাবার পায় সেই সুবিধা দিচ্ছি। নিউইয়র্কে মুসলমানদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে, প্রায় দেড় মিলিয়ন। এটা জনসংখ্যার দিক থেকে প্রায় ৯ শতাংশ। এই বিশাল কমিউনিটির যৌক্তিক দাবী, এবং আশান্বিত হবার মতো দাবী হচ্ছে হালাল ফুড। আমরা সারা স্টেটব্যাপী এই দাবী পূরণের জন্যে চেষ্টা করছি। প্রথমে ছয়টা স্কুলে হালাল ফুড চালূ করি, পর্যায়ক্রমে তা বেড়ে ১০৪টা স্কুলে চালু হয়েছে। আমরা অন্য কমিউনিটির জন্যেও কাজ করি। জুইশদের কথা চিন্তা করে কোসের ফুডের দাবী তুলেছি। তাছাড়া নিউইয়র্ক সিটিতে ২০১৫ সাল থেকে স্কুলে দুইদিন ঈদের ছুটি বাস্তবায়িত করতে সক্ষম হয়েছি। মেয়র ব্লাজিও স্কুলে হালাল খাবার ও ঈদের ছুটির দাবী সম্পর্কে কথা দিয়েছিলেন। এই দাবী অন্য স্টেটেও ছড়িয়ে দিতে চাই, যাতে সকল মুসলমানেরা এই সুবিধা ভোগ করতে পারে।"      

মোঃ জয়নাল আবেদীন দীর্ঘ সময় ধরে কমিউনিটির উন্নয়নমূলক কাজগুলি করে যাচ্ছেন। এতে কমিউনিটি বিভিন্ন ধরনের সুবিধা পাচ্ছে। ভবিষ্যতে আরো সুবিধা সম্পর্কে তিনি বলেন, "কাজগুলো আমি একা করছি না, সমন্বয়ে সম্ভব হয়েছে। আমাদের কমিউনিটি সর্বস্তরের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা না করলে আজকে এটা সম্ভবপর হত না। একসাথে কাজ করার জন্যে আমরা সবার কাছেই ঋণী। ২০১৯ সালে গার্ব বিল পাশ করেন নিউইয়র্কের গভর্নর কুওমো। এই আইন বাস্তবায়নের শুরু থেকেই BAAG কাজ করে গেছে। এই আইনে নিউইয়র্ক স্টেটে হিজাব পরে, দাড়ি রেখে, টুপি পরে কাজ করার বৈধতা দিয়েছে। তাদেরকে কেও কোন অবস্থাতেই অপমান-অপদস্ত করতে পারবে না। মিনিমাম ওয়েজ কে বৃদ্ধি করার চেষ্টা করেছি, নিউইয়র্ক শহরে ২০২৩ সাল থেকে প্রতি শুক্রবারে জুম্মার নামাজের আজান এবং রমাজান মাসে মাগরিবের আযন প্রচার করতে পেরেছি। এটাই আমাদের সাফল্য এবং গর্বের জায়গা।"

মোঃ জয়নাল আবেদীন ৩৫ বছর যাবত কমিনিউনির জন্য কাজ করছেন। তিনি মনে করেন কমিউনিটিতে কিছু সুযোগের অভাব রয়েছে যা নিয়ে আমাদের কাউকে না কাউকে আরো স্বক্রিয় হতে হবে। তিনি আরো জানান, "সারা বিশ্ব এখন সবার হাতের মুঠোয়। মুসলমানদের কারণে অকারণে সবজায়গায় সবসময় অনুসরণ করা হচ্ছে। প্রশাসনিক ভাবে বিষয়টি যাতে কোনরকম ভুল না করে, সচেতনতার মাধ্যমে যেন করা হয় এই ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে। ইসলামোফোবিয়া কি, কখন এটা হেইট ক্রাইমে পরিণত হয়, এই বিষয়গুলো যেন সরকার গুরুত্বের সাথে দেখে।"  

সংগঠনটি নিয়ে মোঃ জয়নাল আবেদীনের ভবিষ্যত পরিকল্পনা রয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্পর্কে তিনি বলেন, "আমাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে কাজ করছি। সেগুলোর কিছু বাস্তবায়িত হয়েছে, কিছু আংশিকভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। কোনো বিষয় বা দাবীকে আইনে পরিণত করা একটা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।ধৈর্য ও সাধনার ব্যাপার। নিউইয়র্ক স্টেটকে রোল মডেল হিসাবে ধরে আমেরিকার অন্য সব স্টেট যাতে এই কার্যক্রমগুলো অনুসরণ করতে পারে আমরা সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছি। যখন যে বিষয় আমাদের সামনে আসবে, আমরা কমিউনিটির স্বার্থে কাজ করে যাব। এই দেশে আমরা বসবাস করছি, এই দেশের সমাজ আমাদেরকে মানিয়ে নিচ্ছে, আমরাও সমাজের সাথে মানিয়ে নিয়েছি। সমাজের জন্যে কাজ করতে চাই আজীবন।"

গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে ও ফরিদা ইয়াসমীনের সঞ্চালনায় সেদিনের অনুষ্ঠানটি শেষ হয়। কারগরি সহযোগিতায় ছিলেন এইচ বি রিতা। প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার সাপ্তাহিক 'টক অফ দ্য উইক' প্রতি বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক সময় রাত নয়টায় সরাসরি ফেসবুক লাইভে সম্প্রচারিত হয়ে থাকে।   

 

ফাউন্ডেশন  থেকে আরো পড়ুন