https://www.prothomalony.com/

18216

decoration

সাজসজ্জা

দানিউব তীরের শহর বুদাপেস্ট

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৪:০০

বুদাপেস্টকে সমগ্র ইউরোপের অন্যতম সুন্দর শহর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর কারণ হলো দানিউব নদীর তীরে অবস্থিত আধুনিক কাঠামোগুলোর মাঝে এর উনিশ শতকের স্থাপত্যগুলো বিদ্যমান। এ ছাড়া এখানে বুদা দুর্গ এবং হাঙ্গেরীয় পার্লামেন্ট ভবনের মতো বেশ কয়েকটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান রয়েছে।

আমাদের ২০২৬ এর ভ্যাকেশন পরিকল্পনায় প্যারিস যাওয়ার কথা ছিল। ইরান যুদ্ধের কারণে পরে আমরা হাঙ্গেরি, প্রাগ আর স্লোভাকিয়ার পরিকল্পনা করেছি। আগস্ট মাসের ১১ তারিখে আমরা ফিনএয়ারে জন এফ কেনেডি থেকে হেলসিংকির উদ্দেশ্যে যাত্রা করি। আমাদের চারজনের আইল সিটে আমরা দুজন ছাড়া আর কোনো যাত্রী না আসায় আমরা লম্বা হয়ে শুয়ে ঘুম দিয়ে হেলসিংকি পৌঁছাই। এখানে নেমে দেখি ঝিরঝির বৃষ্টি হচ্ছে। আমরা ২৪ সালে ফিনল্যান্ড, সুইডেন, নরওয়ে ট্রিপে দেখেছিলাম এখানকার বৃষ্টি। গোমড়ামুখো আকাশ, হঠাৎ নামা বৃষ্টি, আবার ঝকমকে রোদ। আর রোদ-মেঘের মাখামাখির পাশাপাশি এই ফিনল্যান্ডের পিয়েতাসারিতেই আমরা দেখেছি অরোরার রঙের খেলা। স্টপওভারের এক ঘণ্টা ৪০ মিনিট পর আমরা হেলসিংকি থেকে বুদাপেস্ট যাত্রা করি। তখন আকাশ ঝকঝকে। তিন ঘণ্টা পর আমরা বুদাপেস্টের মাটিতে ল্যান্ড করলাম। আমরা উবার নিয়ে হোটেলে চলে আসি, যদিও বুদাপেস্টের পাবলিক ট্রান্সপোর্টের সুনাম আছে। এখানে উবারের গাড়ি লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছে। উবার বুকিং করার পর একটা কোড আসে। সেই কোডটা উবারের ড্রাইভারকে দিতে হয়। চালাকি করে কি না বুঝলাম না, উবার ড্রাইভার হঠাৎই রাস্তা ভুল করে হোটেল পার হয়ে চলে গেল। পরে ভাঙা ইংরেজিতে যা বলল তার মর্ম হলো—২০ তারিখে ন্যাশনাল ডে সেলিব্রেশনের জন্য প্রচুর পর্যটক আসছে, তাই অ্যাপে সারাক্ষণ অফার আসায় তার ম্যাপ ডিলিট হয়ে গিয়েছে। ৫৫ ডলার আসল ভাড়া। হোটেলে পৌঁছে ফ্রেশ হয়ে কাছাকাছি ভিয়েতনামি রেস্টুরেন্টে খেতে যাই। রেস্টুরেন্টে পৌঁছে দেখলাম পিতা-পুত্রী মিলে রেস্টুরেন্ট চালাচ্ছেন। আমরা হাঙ্গেরিয়ান ভাষা জানি না, আর ঐ বাবা ইংরেজি জানেন না। কিন্তু ছোট্ট মেয়ে মীরা, সে ফিফথ গ্রেডে পড়ে। ইংরেজি পড়তে ও বুঝতে পারে, কিছু কিছু বলতেও পারে। পরে তার মা এলেন। সুন্দর ইংরেজিতে আমাদের খাবার বুঝিয়ে অর্ডার নিলেন। অতি সুস্বাদু খাবার পরিবেশন করা হলো। ওদের খাবার এত পছন্দ হলো যে পরদিনও আমরা ওখানে গিয়ে খাবার খেয়েছিলাম। রাতে হোটেলে ঘুম হলো না ভালো, বারবার ঘুম ভাঙল। হোটেলের এসি কাজ করছিল না ঠিকমতো। গরম অনেক। প্লেনে ঘুমানোর কারণেও হতে পারে কিছুটা।

ইউরোপের নিরাপদ ও সস্তা পাবলিক ট্রান্সপোর্টের জন্য হাঙ্গেরির সুনাম আছে। যদিও আমার কাছে সুইজারল্যান্ডই প্রথম, এর পরে এদের পাবলিক ট্রান্সপোর্ট—অর্থাৎ সুইসরা এক, এরা দুই। ট্যুরিস্টে সয়লাব বুদাপেস্ট ইউরোপের সবচেয়ে রোমান্টিক রাজধানী। আমার মনে হয় যত মানুষ বুদাপেস্টে থাকে, তত মানুষ এদের এখানে বেড়াতে এসেছে। আমি মুগ্ধ, এখানে শক্তিশালী দানিউব নদী ঐতিহাসিক বুদা দুর্গের পাহাড়কে আলাদা করেছে। প্রতিটি নদী তার আপন সৌন্দর্যে এগিয়ে যায়। বুদা আর পেস্টের মাঝে বয়ে চলা দানিউব, যাকে আদর করে এরা 'ডুনা' বলে ডাকে, সে যেন এক মায়াবতী কন্যা। একদিকে প্রাচীন দুর্গের রাজকীয় গম্বুজ, অন্যদিকে বিশাল গ্র্যান্ড বুলেভার্ড, আর্ট নভো ক্যাফে ও রুইন বার। জার্মানির ব্ল্যাক ফরেস্ট পর্বত থেকে উৎপন্ন হয়ে ১০টি দেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত দানিউব নদী বিভিন্ন দেশের জলবিদ্যুৎ ও পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র শীতলীকরণের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবেও পরিচিত। এই নদী জার্মানির প্রান্তে অবস্থিত ব্ল্যাক ফরেস্ট অঞ্চল থেকে যাত্রা শুরু করে পূর্ব ও পূর্ব-দক্ষিণ দিকে প্রায় ২ হাজার ৮৬০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে জার্মানি, অস্ট্রিয়া, বুলগেরিয়া, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি, ক্রোয়েশিয়া, সার্বিয়া, রোমানিয়া, মলদোভা এবং ইউক্রেনের গা ছুঁয়ে বয়ে গেছে আর সবশেষে তা কৃষ্ণ সাগরে এসে মিশেছে। এই নদী যেন ইউরোপিয়ান শিল্পী-সাহিত্যিকদের এক প্রেরণার নদী। দানিউবকে নিয়ে তৈরি হয়েছে অসংখ্য গান, ছবি, বই, কবিতা আর সিনেমা। জার্মানরা এই শহরকে "প্রাচ্যের প্যারিস" বলে। আমরা ২৪ ঘণ্টার জন্য ট্রান্সপোর্ট কার্ড করে বের হলাম। হোটেল থেকে একটু দূরে ট্রাম স্টপ।

পার্লামেন্ট ভবনটি নিও-গথিক শৈলীতে নির্মিত, দানিউব নদীর তীরে দাঁড়িয়ে আছে। ২৬৮ মিটারের বেশি দৈর্ঘ্য এবং ৯৬ মিটার উচ্চতাসহ এর বিশাল আকৃতি এটিকে এক শ্বাসরুদ্ধকর স্থাপত্যের নিদর্শনে পরিণত করেছে। অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় দ্বৈত রাজতন্ত্রের অধীনে নবগঠিত হাঙ্গেরি রাজ্যের ক্ষমতা ও গুরুত্ব প্রতিফলিত করার জন্য বুদাপেস্টের সংসদ ভবনটির নকশা করা হয়েছিল। যার ৬৯১টি কক্ষ ও ৯৬ মিটারের কেন্দ্রীয় গম্বুজে হাঙ্গেরিয়ান ক্রাউন জুয়েলার্স সেন্ট স্টিফেনের ক্রাউন, সোনালী রাজদণ্ড—এগুলো দেখা যাবে। এই ভবনটিতে প্রচুর ট্যুরিস্ট সমাগম হয়। সাধারণত ইউরোপীয় দর্শকদের জন্য প্রায় ৫ হাজার ৬৩৩ হাঙ্গেরিয়ান ফোরিন্ট এবং অন্যদের জন্য প্রায় ১১ হাজার ২৬৫ হাঙ্গেরিয়ান ফোরিন্ট প্রবেশমূল্য নির্ধারিত। আগেভাগে টিকিট বুক করে গেলে ভালো হয়।

ক্যাসেল হিলের চূড়ায় অবস্থিত বুদা ক্যাসেলের রাজকীয় প্যালেস কমপ্লেক্সে হাঙ্গেরিয়ান ন্যাশনাল গ্যালারি ও বুদাপেস্টের ইতিহাসের সংগ্রহশালা রয়েছে, যেখানে দানিউব, পেস্টের আকাশরেখা এবং মার্গারেট আইল্যান্ডের মনোরম দৃশ্য দেখা যায়। এটি হাঙ্গেরির রাজাদের পুরোনো বাসস্থান। এখন সেখানে গ্রন্থাগার, ন্যাশনাল গ্যালারি ও ইতিহাস জাদুঘর রয়েছে। পাহাড়ের চূড়া থেকে মনোরম দৃশ্য দেখা যায়। চেইন ব্রিজের সিঁড়ি বা ফানিকুলার স্টেশন দিয়ে উপরে ওঠা যায়। ভাড়া প্রায় ১ হাজার ২০০ ফোরিন্ট।

ফিশারম্যানস ব্যাস্টিিয়নের নিও-রোমানেস্ক টাওয়ারটি খুব আকর্ষণীয়। ফিশারম্যানস ব্যাস্টিয়ন পরিদর্শনের জন্য ট্রামে উঠে এর সিঁড়ির কাছে নামিয়ে দিল। তখন এর রূপকথার মতো রূপে আমরা মুগ্ধ। মনে হলো যেন কোনো স্বপ্নপুরী। এর মিনার ও প্রাচীরবেষ্টনীসহ এই স্থাপত্যটি মধ্যযুগীয় অতীতের কোনো ধ্বংসাবশেষের মতো দেখায়। ফিশারম্যানস ব্যাস্টিয়ন হচ্ছে সাতটি মিনার নিয়ে গঠিত দুর্গ, যার নামকরণ হয়েছে মধ্যযুগের জেলেদের নামে, যারা এই অংশটি রক্ষা করতেন। এটি হাঙ্গেরির সাতটি প্রতিষ্ঠাতা উপজাতির প্রতিনিধিত্ব করে। কেন্দ্রীয় মিনারটি আকর্ষণীয়, যা বুদাপেস্টের প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। ফিশারম্যানস ব্যাস্টিয়নের চূড়ায় পৌঁছে বুদা ও পেস্টের মাঝখানে থাকা দানিউব নদী ও বিখ্যাত সেতুগুলোর বিস্তৃত দৃশ্য উপভোগ করলাম, যা দুটি শহরকে সংযুক্ত করে।

কখনও কখনও, প্রথম নজরে সহজেই চোখে পড়া বিশাল দালানগুলোর মধ্যেই সবকিছু পাওয়া যায় না। বুদাপেস্টে কী কী দেখার আছে তা যদি জানতে চাই, তবে সেই সব স্মৃতিস্তম্ভ বা স্মারকগুলোকে আমরা ভুলতে পারি না, যেগুলোর পেছনে রয়েছে মর্মস্পর্শী সব কাহিনি। এবার আমরা 'শু অন দ্য ব্ল্যাকআউট মনুমেন্ট'-এ থামলাম, যা 'জুতো স্মৃতিস্তম্ভ' বা 'দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মানুষের স্মারক' নামেও পরিচিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইহুদিদের নদীতে ফেলে দেওয়ার আগে তাদের জুতো খুলে ফেলার আদেশ দেওয়া হয়েছিল। এই শিল্পকর্মটি সেই সমস্ত মানুষের দুঃখের স্মারক হিসেবে কাজ করে। আজ রোদ যেন তেতে উঠেছে। তাপমাত্রা ৯৫ থেকে ৯৮ ডিগ্রির ওপর। আমরা দুই নম্বর ট্রামে উঠে দানিউবের তীর ধরে পার্লামেন্টের কাছে গিয়ে শুনলাম এটি শেষ স্টপ। আবার ঘুরে শুরুর স্টপ পর্যন্ত দুইবার দানিউবের তীর ধরে যাওয়া-আসা করলাম। এতে আমরা ট্রামের শীতলতায় বসে বাইরের তাপমাখা বুদাপেস্ট ঘুরে দেখতে পেলাম। পুরো দিনে দুইবার টিকিট চেকিংয়ের জন্য সাদা পোশাকে চেকার দেখলাম।

দানিউব নদীর ওপর নয়টি ব্রিজের মধ্যে সবচেয়ে পুরোনো চেইন ব্রিজ। ১৮৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এই ব্রিজ। নদীর এক পাড়ে অবস্থিত বুদা থেকে অপর পাড়ের পেস্ট শহরে যেতে সব পর্যটককেই পাড়ি দিতে হয় এই ব্রিজ। এ বছর ২০ আগস্ট ছিল হাঙ্গেরির প্রজাতন্ত্র দিবস। জাঁকজমকের সাথে এই দিনটি পালিত হয়েছে। আর পৃথিবীর নানা প্রান্তের পর্যটকদের আগমন ঘটেছে। চেইন ব্রিজ (Széchenyi Lánchíd) ১৮৪৯ সালে নির্মিত শহরের প্রাচীনতম সেতু, প্রতিটি প্রান্তে পাথর দিয়ে সিংহের মুখোশ দিয়ে সাজানো। আমরা সিংহদরজার প্রবেশমুখে দাঁড়িয়ে ছবি তুললাম। রাতের আলোকসজ্জা শহরের স্কাইলাইনকে এক অসাধারণ সোনালী পোস্টকার্ডে রূপান্তর করে।

গ্রেট মার্কেট হল (Nagycsarnok) নানা রকম হাঙ্গেরীয় পণ্য, সালামি, টোকাজি মিষ্টি ওয়াইন, ল্যাঙ্গোস ভাজা রুটির স্টল এবং সবজি বিক্রেতাদের ভিড়ে ভরা। হাঙ্গেরীয় রন্ধনশৈলী মন জয় করে গোলাশ স্টু, ক্রিমি লাল মরিচের সসে চিকেন পাপরিকাশ, দারুচিনি-চিনিতে মোড়ানো কুটরোস্কালাচ (kürtőskalác) এবং টক ক্রিম ও পনির দিয়ে তৈরি ল্যাঙ্গোস ডিপ-ফ্রাইড ফ্ল্যাটব্রেডের মাধ্যমে।

এই হাঙ্গেরীয় রত্ন শহরটিতে ১১৮টি থার্মাল স্প্রিংস আছে, যেখানে সমৃদ্ধ স্নান সংস্কৃতি ভাস্বর। নিও-বারোক গম্বুজের নিচে সেচেনি বাথের আউটডোর পুলে ভিজে যেখানে স্থানীয়রা সারাবছর ৩৮° সেলসিয়াস (১০০° ফারেনহাইট) তাপমাত্রায় দাবা খেলে। রুদাস বাথের অটোমান যুগের অষ্টভুজাকার পুলটি দারুণ, যেখানে ছাদের বারান্দা থেকে দানিউবের জলদৃশ্য দেখা যায়। যদিও এবার দানিউবের জলস্তর অনেক নিচে, কারণ পানির প্রবাহ কমে গেছে। গেলার্ট বাথসের আর্ট নোভো সৌন্দর্য উপভোগ করা গেল না, কারণ গেলার্ট ২০২৮ সাল পর্যন্ত সংস্কারের জন্য বন্ধ। আরও আছে লুকাস থার্মাল বাথ। লুকাস বাথের স্থাপত্য ও সুবিধাগুলো যেমনটা জনপ্রিয় সেচেনি বাথ বা বিখ্যাত গেলার্ট বাথের মতো অট্টালিকা নয়, তবুও এর নিজস্ব কিছু শক্তি ও বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যেমন—এর দেয়ালে অনেক ধন্যবাদ-স্মারক পাথর বা স্টোন প্ল্যাক্স রয়েছে, যেখানে মানুষ তাদের শরীরের সুস্থতার জন্য গরম পানির ভূগর্ভস্থ তাপীয় জলরাশির ক্ষমতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া হিমালয় সল্ট রুম রয়েছে, যা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিরাময়ে সহায়ক, এবং ওয়েট বাথ রয়েছে, যা পিঠের খিঁচুনি, স্পাইনাল ইনজুরি বা অন্যান্য সমস্যা চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। লুকাস বাথের ইতিহাস বলছে যে ১২ শতকে সেন্ট জনের নাইটরা এই তাপীয় জল ব্যবহার করতেন। আমরা শেষ দিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত লুকাস বাথে রিল্যাক্স করি।

বিকালে—মানে সূর্যাস্তের সময় যাই নৌভ্রমণে। দানিউবের ক্রুজে সন্ধ্যায় নৌভ্রমণে আমরা দেখলাম, কৃত্রিম আলোকসজ্জায় ঝলমল করছে পার্লামেন্ট, চেইন ব্রিজ ও গেলার্ট হিল। পরদিন অর্থাৎ ২০ আগস্ট ন্যাশনাল ডে অব বুদাপেস্ট। এই নৌভ্রমণটি আমরা আগেই অনলাইনে বুকিং দিয়েছিলাম, মূল্য প্রায় ৩ হাজার ৫২০–৭ হাজার ৪১ হাঙ্গেরিয়ান ফোরিন্ট। এক ঘণ্টা ২০ মিনিটের ট্রিপে দুই ধরনের ড্রিঙ্কস সার্ভ করল। লেমনেড ছিল স্বর্গীয় স্বাদের, গরমের মধ্যে এত ভালো লেগেছিল! মার্গারেট আইল্যান্ডে যাওয়ার সুযোগ হলো না পানির প্রবাহ কমে যাওয়ার জন্য।

বুদাপেস্টের ঐতিহাসিক মেট্রো লাইন ১, যা ১৮৯৬ সালে চালু এবং ইউরোপের দ্বিতীয় প্রাচীনতম, তা সহ আধুনিক পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা, মহাদেশীয় জলবায়ুর উষ্ণ গ্রীষ্ম ও ঠান্ডা শীত এবং অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান সাম্রাজ্যজুড়ে জড়ানো ঐতিহাসিক ও আধুনিক সংস্কৃতির সংমিশ্রণে এই শহর হয়ে উঠেছে মধ্য ইউরোপের এক অনন্য কেন্দ্র। থার্মাল বাথ সেবা, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও রঙিন রুইন বার—সব মিলিয়ে বুদাপেস্ট সত্যিই ইউরোপের এক অনন্য, অবমূল্যায়িত এবং অসাধারণ রাজধানী। নদীকেন্দ্রিক এক আধুনিক শহর।
 

সাজসজ্জা থেকে আরো পড়ুন