https://www.prothomalony.com/
9747
new-york
প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৪ ১০:৫১
নিউইয়র্কে ১০টিরও অধিক বাংলা সংবাদপত্র তাদের নিয়মিত প্রকাশনার মাধ্যমে প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষা, সুখ-দুঃখ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আর্থিক উন্নয়নসহ নানা সংবাদ প্রচার করে বাঙালী কমিউনিটি বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও সাম্প্রতিককালে সংবাদ প্রচারের নীতি নৈতিকতার বাইরে গিয়ে নাম সর্বস্ব কিছু টেলিভিশন চ্যানেল ও স্যোসাল মিডিয়ার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের বিপরীতে অর্থ সংগ্রহ করার অভিযোগ উঠেছে। যার ফলে কমিউনিটির কল্যাণ ও উন্নয়নে নিবেদিতপ্রাণ সংবাদপত্রগুলোকে পড়তে হচ্ছে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে। সুশৃঙ্খল বাঙালী সোসাইটি শান্তিপূর্ণ রাখতে এ ধরনের ভুঁইফোড় চ্যানেল ও স্যোসাল মিডিয়ার পেজ বর্জনের আহবান জানান সচেতন মহল।
তারা জানান, নিউইয়র্কে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও সুবিশাল বাঙালী কমিউনিটি বিনির্মানে সংবাদপত্রের অবদান অত্যন্ত বেশি। আশির দশক থেকে এযাবতকাল পর্যন্ত সংবাদপত্রের ক্রমবিকাশ এ কমিউনিটিকে করে তুলছে আরও বেশি সমৃদ্ধ। কিন্তু বর্তমানে সংবাদপত্রকে ব্যবহার করে মানুষের কাছ থেকে সংবাদ প্রচারের কথা বলে অর্থ সংগ্রহ ও চাঁদাবাজির মতো ঘটনাও ঘটাচ্ছে নামসর্বস্ব কিছু চ্যানেল। যাদের ব্যাপারে সতর্ক হওয়া জরুরি।
গত ১০ মে জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন রেষ্টুরেন্টে ট্রাভেল এসোসিয়েশন ( আটাব) এর ঈদ পুর্ণমিলনী চলছিল। প্রোগ্রাম শেষে অনেকেই চলে যান গন্তব্যর উদ্দেশ্যে। কিন্তু দুই তিনজন সাংবাদিক নামধারী প্রোগ্রাম স্থলে ঘোরাঘুরি শুরু করে দেন এবং আয়োজকদের কাছে খরচ আছে বলে ডলার দাবী করেন। এ সময় ট্রাভেল ব্যবসায়ি নজরুল ইসলাম একজনকে কড়া ভাবে ডলার চাওয়ার বিষয়ে প্রতিবাদ করেন। এ সময় কয়েকজন ঐ সাংবাদিক নামধারীর ভিডিও তুলে রাখেন।
এ বিষয়ে সাপ্তাহিক পরিচয় সম্পাদক নাজমুল আহসান জানান, ডলার দাবী করার বিষয়টি লজ্জাজনক। আয়োজকরাও সচেতন হওয়ার দরকার। কারণ এ ভাবে কতিপয় নামধারী সাংবাদিকের জন্য পেশাদার সাংবাদিকরাও অনেক সময় প্রশ্নবিদ্ধ হন।
সংবাদমাধ্যমের নাম ভাঙিয়ে অর্থ সংগ্রহ করা সাংবাদিকতার নীতি নৈতিকতা পরিপন্থী জানিয়ে আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মনজুরুল হক বলেন, এটা স্পষ্ট চাঁদাবাজি। নিউইয়র্কে ১০ থেকে ১২টি সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়। এ সংবাদপত্রগুলো নিরলসভাবে কমিউনিটির বিভিন্ন সাফল্য-সম্ভাবনা ও সমস্যার কথা তুলে ধরছে। এখানে সংবাদ সংগ্রহ নিয়ে অর্থ সংগ্রহের কোন অসুস্থ চর্চা নেই। তবে ইদানিংকালে ভুঁইফোঁড় কিছু নামধারী সোসাল মিডিয়া চ্যানেলের লোকজন সংবাদ সংগ্রহ করার নামে ফান্ড গঠন করছে বলে জানতে পেরেছি। যা সম্পূর্ণ সাংবাদিকতার নীতি নৈতিকতা পরিপন্থি। এ ধরনের মিডিয়াগুলো বয়কট করা উচিত। অন্যথায় নিউইয়র্কে সাংবাদিকতার সুন্দর পরিবেশ সহসাই নষ্ট হবে বলে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা সবসময় বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে সংবাদপত্রের ফান্ড সংগ্রহ করাকে উৎসাহিত করি। সংবাদপত্রগুলো কমিউনিটির কথা বলে। নিউইয়র্কে সংবাদপত্রের প্রকাশ ও আচার-অনুষ্ঠান উদযাপনের চর্চা থাকার কারণে অন্যান্য স্টেট থেকে এখানে বাঙালীদের বসবাস বেশি। সুতরাং কমিউনিটির প্রয়োজনে সংবাদপত্রগুলো বাঁচিয়ে রাখতে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সংবাদপত্রগুলোকে অর্থ সহয়তা দেয়ারও আহবান জানান তিনি।
এদিকে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দরা বলেন, আমেরিকার বাংলাদেশি ইমিগ্রান্ট কমিউনিটির ক্রমবিকাশ এবং আজকের এ অবস্থান সৃষ্টির নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে বাংলা সংবাদপত্রগুলো। সংবাদপত্রের সুন্দর ধারায় অশুভ থাবা হানা নামধারীদের প্রতিহত করা হলে বাংলাদেশি কমিউনিটিকে আরও শক্তিশালী ও মর্যাদাবান করার লক্ষ্যে পত্রিকাগুলো আরও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে পারবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।
নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন