https://www.prothomalony.com/

9710

new-york

নিউইয়র্ক

ইঁদুর দমাতে বিশেষজ্ঞদের জড়ো করছেন অ্যাডামস, সেপ্টেম্বরে ‘রেট সামিট’

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৪ ২০:০৩

ইঁদুরের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ নিউইয়র্কের বাসিন্দারা। ছোট এই প্রণীটি যেমন বিভিন্ন অসুখ বিসুখের কারণ তেমনি মানুষের জিনিসপত্র নষ্ট করেও ক্ষতিসাধন করছে। আর এর থেকে পরিত্রাণ পেতে অনেক চেষ্ট করেও যেন কোন সুফল পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এবার ইঁদুর দমাতে নিউইয়র্কে বিশেষজ্ঞদের জড়ো করছেন সিটি মেয়র।

আগামী ১৮ এবং ১৯ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হবে আরবান র‌্যাট সামিট। শহরের স্বাস্থ্য ও মানসিক পরিচ্ছন্নতা বিভাগ এবং কর্নেল ইউনিভার্সিটির নিউইয়র্ক স্টেট ইন্টিগ্রেটেড পেস্ট ম্যানেজমেন্ট বিভাগ সম্মেলনটির আয়োজন করবে। যেখানে দেশের বিভিন্ন স্থানের গবেষক এবং পৌর কীট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপকরা অংশ নিবেন। বিশেষ করে বোস্টন, নিউ অরলিন্স এবং সিয়াটেলের বিশেষজ্ঞদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

১৫ মে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব বিষয় জানিয়ে নিউইয়র্ক সিটি মেয়র এরিক অ্যাডামস বলেন, আমাদের শত্রুকে পরাজিত করার সর্বোত্তম উপায় হলো আমাদের শত্রুকে জানা। তাই শহুরের ইঁদুরগুলো এবং কীভাবে তাদের জনসংখ্যা পরিচালনা করা যায় তা আরও ভালভাবে বোঝার জন্য সারাদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ এবং নেতাদের একত্রিত করতে আমরা এই সম্মেলনটি আয়োজন করছি।

এদিকে মেয়র অ্যাডামসের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে শহরে ইঁদুরের সংখ্যা ইতিমধ্যে কমতে শুরু করেছে। এনওয়াইসি ডিপার্টমেন্ট অফ স্যানিটেশন বলেছে, শহরের রাস্তা থেকে আবর্জনা কমিয়ে ফেলার কারণে ইঁদুর প্রসারের স্থানগুলোতে ১৪ শতাংশ ইঁদুর কমেছে, সার্বিকভাবে এই হার কমেছে ৬.৩ শতাংশ।

নিউইয়র্ক সিটির স্যানিটেশন এবং কঠিন বর্জ্য কমিটির সভাপতি কাউন্সিল সদস্য শন আব্রেউ বলেন, ট্র্যাশ কন্টেইনারাইজেশনসহ শহরের সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপ প্রশংসার দাবিদার। সম্মেলনটি ইঁদুর সংকট মোকাবেলায় আরও মানবিক পদ্ধতি খুঁজে পেতে সহায়তা করবে।

তিনি  বলেন, যখন ২টি ইঁদুর ১৫ হাজার বংশধর তৈরি করতে পারে তখন এক‘শ ইঁদুর মেরে কোনো উপকার লাভ সম্ভব নয়। হাজার ইঁদুর মেরেও কোন ফলাফল মিলবে না।

আব্রেউ বলেন, আমি মনে করি শহরের ট্র্যাশ কন্টেনেরিজেশন প্রোগ্রাম এবং গর্ভনিরোধক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা উচিত। যা তাদেরকে ব্যাপকভাবে প্রজনন থেকে বিরত রাখবে।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরে নিউইয়র্ক সিটিতে ইঁদুরের সংখ্যা অজানা ছিলো। তবে ২০২৩ সালের এক সমীক্ষা অনুযায়ী নিউইয়র্কে প্রায় ৩ মিলিয়ন ইঁদুর রয়েছে। যা নিউইয়র্কের মানব জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশের কাছাকাছি!

নিউইয়র্ক সিটির ইঁদুরগুলো প্যাথোজেন বহন করে যা মানুষের মধ্যে ডায়রিয়া , বমি এবং জ্বর হতে পারে - বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে। তারা যে প্যাথোজেন বহন করে তার মধ্যে রয়েছে ক্লস্ট্রিডিয়াম ডিফিসিল ( সি. ডিফ ), সালমোনেলা , ই. কোলাই এবং লেপ্টোস্পাইরার মতো ব্যাকটেরিয়া।

বর্তনেলা ব্যাকটেরিয়া বিড়াল স্ক্র্যাচ রোগ , ট্রেঞ্চ ফিভার এবং ক্যারন রোগের কারণ। এই ব্যাকটেরিয়া ইঁদুরের লালা, প্রস্রাব বা মলের সংস্পর্শে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ইঁদুর রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাস বহন করতে পারে যেমন স্যাপোভাইরাস, কার্ডিও ভাইরাস, করোনাভাইরাস, প্যারেক ভাইরাস, রোটা ভাইরাস, হেপা ভাইরাস এবং সিউল ভাইরাস। ইঁদুর মাছি বহন করতে পারে যা বুবোনিক প্লেগ, টাইফাস এবং দাগযুক্ত জ্বরের মতো রোগের বাহক। এছাড়াও, কিছু লোকের ইঁদুরের চুল, প্রস্রাব বা মলের কারণে অ্যালার্জিতে ভুগে থাকেন।

নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন