https://www.prothomalony.com/
9052
bangladesh
প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৪ ১৩:২৪
কান্তজিউর মন্দির প্রাঙ্গনে মসজিদ নির্মাণের অপচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান ঐক্য পরিষদ গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা প্রকাশ করেছে। ১ মার্চ ২০২৪ দিনাজপুরের কাহারোলে কান্তজিউ মন্দিরের দেবোত্তর জমিতে অবৈধভাবে মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন স্থানীয় এমপি জাকারিয়া। প্রশাসন মসজিদ নির্মাণ কাজ বন্ধের নির্দেশ দেয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ঐক্য পরিষদ ধন্যবাদ জানিয়েছে। ঐক্য পরিষদ প্রশ্ন তুলেছে, কান্তজিউ মন্দিরের দেবোত্তর সম্পত্তিতে মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন স্থানীয় এমপি করেন কিভাবে?
এ প্রসঙ্গে ঐক্য পরিষদ চন্দ্রনাথ শক্তিপীঠ এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে সংঘঠিত সামপ্রদায়িক ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেয়। একই ধারাবাহিকতায় ধর্মান্ধ মৌলবাদী গোষ্ঠীর রমজানের পবিত্রতা রক্ষার নামে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর চড়াও হয়ে তাঁদের শারীরিকভাবে লঞ্ছনা করার ঘটনার উল্লেখ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ঐক্য পরিষদ অশঙ্কা প্রকাশ করে যে, এগুলো হয়তো হিন্দুদের ওপর আবার নুতন করে বড় ধরণের আক্রমণের রিহার্সেল।
অষ্টাদশ শতকে নির্মিত, জাতীয় ঐতিহ্য ও হিন্দু সম্প্রদায়ের পবিত্র তীর্থস্থান কান্তজিউ মন্দিরের ওপর এর আগেও এই মন্দিরের ওপর আক্রমন হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ঐক্য পরিষদ মৌলবাদী শক্তির কালো থাবা থেকে মন্দির ও দেবোত্তর সম্পত্তি উদ্ধার ও সুরক্ষার জন্য মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র ব্যক্তিগতভাবে হস্থক্ষেপ কামনা করে, এবং যুগপৎ স্থানীয় প্রশাসন, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও রাজনৈতিকদলগুলোকেও ঐক্যবদ্ধভাব এ’ ধরণের ন্যাক্কার জনক ঘটনা প্রতিহত করার জন্য আহ্বান জানায়।
ঐক্য পরিষদ বলেছে, সামপ্রদায়িক শক্তি এই মন্দিরের কার্যক্রম বন্ধ করে দখল করার লক্ষ্যে ২০১৫ সালের ৪ঠা ডিসেম্বর অনুষ্ঠানে চলাকালীন বোমা-আক্রমণ করেছিল। মসজিদ কর্তৃপক্ষ স্থানীয় এক ডিসিকে ধরে একসময় দেবোত্তর সম্পত্তি’র কিছুটা অবৈধ লিজ নেয়, যা হাইকোর্ট ১৯৯৯ সালে বাতিল করে দেন। তা’ জানা সত্ত্বেও এলাকার নবনির্বাচিত সাংসদ জাকারিয়া সাহেব উক্ত অবৈধ মসজিদ প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করে মৌলবাদীদের সহযোগিতা করেছেন, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
কান্তজিউর মন্দির শুধু সনাতন ধর্মালম্বীদের পবিত্র তীর্থস্থানই নয়, এটা বাংলার টোরাকোটা শিল্পের এক অনুপম শিল্পকীর্তি যা পুরাকীর্তি হিশেবে বিশ্বনন্দীত। কারণ, এই মন্দিরের দেয়ালে উৎকীর্ণ টেরাকোটা শিল্প-কর্ম ও চিত্রকলার এক বিস্ময়কর সমাহার। এই প্রন্ততাত্ত্বিক নিদর্শন আমাদের উন্নত সভ্যতার স্মারক। স্মর্তব্য, মন্দিরের অদূরে নয়াবাদে মন্দির নির্মাণ শ্রমিকদের নামাজের জন্য মহারাজা প্রাণনাথ রায়ের অর্থায়নে নয়াবাদ মসজিদও নির্মিত হয়েছিলো, যে মসজিদও একটি পুরিকীর্তি। কান্তজীর মন্দির নির্মাণকারী প্রকৌশলী ও শিল্পীরা ওই মসজিদ নির্মাণ করেলছিলেন। মন্দির ও মসজিদ নির্মাণ যারা করেছিলেন তাঁদের প্রায় সবাই ছিলেন মুসলমান। স্পষ্টত:ই কান্তজিউর মন্দির বাংলার সামপ্রদায়িক সম্প্রীতির মূল ধারার প্রতীক বিশেষ। এর ওপর অক্রমণ শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর আক্রমণ নয় এটা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর আঘাতও বটে।
যুক্তরাষ্ট্র ঐক্য পরিষদ মনে করে যে, ক্ষমতাসীন দল তাদের ২০১৮ সালে প্রদত্ত নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুত সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন বিলটি পাশ করলে ২০২১ সালের অক্টেবরের পুজোর সময়কার নির্যাতন, সিতাকুণ্ড, বা কান্তজিউ মন্দিরের দু:খজনক ঘটনা ঘটতো না। দেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ঠেকানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের হেইট ক্রইম ও স্পীচ আইনের আদলে কঠোর আইন প্রণয়ন করার বিকল্প নেই। যুক্তরাষ্ট্র ঐক্য পরিষদ মনে করে দেশে চলমান সংখ্যালঘু নির্যাতনের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে মাননীয়া প্রধানমন্ত্রীর ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি অবিলম্বে বাস্তবায়ন করা দরকার। বিচার ও শাস্তির ভয় থাকলে মৌলবাদীরা সংখ্রালঘু নির্যাতন করতে সাহস পাবে না। তাই, যুক্তরাষ্ট্র ঐক্য পরিষদ দ্রুত ‘সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন ও ‘সংখ্যালঘু কমিশন’ গঠন করার আহ্বান জানায়।- প্রেস বিজ্ঞপ্তি।
বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন