https://www.prothomalony.com/
8873
opinion
প্রতিবছর সংযম ও আত্মশুদ্ধির মহান বার্তা নিয়ে আমাদের মাঝে আসে পবিত্র মাহে রমজান। পৃথিবীর সব দেশেই আসে। লোভ, হতাশা, সংকীর্ণতা, ক্রোধ, দুর্নীতি অসততা ইত্যাদি অসৎগুণাবলি সমাজকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়। এগারো মাস চলে আসা এ পঙ্কিল জীবন থেকে মুক্তির পথ দেখায় সিয়াম। সিয়াম কুপ্রবৃত্তিগুলোকে দমন করে নির্লোভ, নিরহঙ্কার, সমাজ হিতৈষী, হতাশামুক্ত জীবন গঠনে সহায়তা করে। সালাতের পরই সার্বজনীন গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত রমজান মাসের সিয়াম। এর মধ্যে আত্মিক বা আধ্যাত্মিক এবং স্বাস্থ্যগত দ্বিবিধ উপকারিতা রয়েছে। সিয়ামে অসৎগুণাবলি থেকে যেমন আত্মাকে রক্ষা করা যায় তেমনি খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রিত হয়ে স্বাস্থ্যেরও উপকার হয়। সারাবছরের পাপ ও আত্মশুদ্ধির জন্য মহান আল্লাহর কাছে মাগফেরত কামনা করে ধর্মপ্রাণ মুসলমান। বিগত দিনের ভুলত্রুটি ও অন্যায়ের জন্য মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে। কিন্তু আমাদের মাঝে আসা এই পবিত্র রমজান যেন হাজির হয় একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। রমজান আসলেই যেন এদেশের বাজারে আগুন লাগে। অনেক ঢাকঢোল পিটিয়ে সে আগুন আয়ত্ত্বে রাখার চেষ্টা করলেও কোন এক অদৃশ্য শক্তির কাছে পরাজিত হয় সব চেষ্টা ও কলা কৌশল। প্রতিবছর রমজানের আগে এই মহড়ার পূনরাবৃত্তি ঘটলেও মজুদার, মুনফাখোররা অঘোষিত আর পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক নিজ নিজ দায়ত্ব পালনে থাকেন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। ফলে সাধারণ জনগন প্রতি রমজানেই পুড়তে থাকে এক অদৃশ্য অনলে। মহান আল্লাহর দরবারে তার এবাদত বন্দেগী দ্বারা তার পাপ মোচন করতে পারলেও বাজারের আগুনে সে ঝলসাতে থাকে প্রতিনিয়ত। এর থেকে তার কোন পরিত্রান নাই। পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে মূল্যবৃদ্ধির এই খেলা কেবলমাত্র আমাদের দেশেই সম্ভব। বিশ্বের আর সব মুসলিম দেশেই পবিত্র রমজান এলে জিনিষপত্রের মূল্য কমে, সকল জনগণের মাঝেই সংযম বাড়ে। আর আমাদের দেশে মানুষের মাঝে অসংযমতা বৃদ্ধি পায় আর সেই সুযোগে জিনিস পত্রের মূল্য বৃদ্ধিপায়। জনগণ যেন এই মাসে বেহিসেবীর মত খরচ করতে পিছপা হন না। তারা ভুলে যান রমজান সংযমের মাস। এ থেকে মনে হয় মানুষ মানুষকেই বেশি ভয় করে, আল্লাহকে নয়। সারাদিন অভুক্ত থেকে ইফতারী ও সেহরীতে বাহুল্য অতিআয়োজন ও অপচয় করার নাম সংযম বা রোজা নয়। প্রতিক্ষেত্রে সংযম প্রদর্শন করাই রমজানের আদর্শ।
বর্তমান বিশ্বের দ্রুত গতির জীবনধারা, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি এবং বিভিন্ন ধর্মীয় বিশ্বাসের সৌন্দর্যের যে ব্যাপ্তি তৈরি হয়েছে, মানবসভ্যতার বিকাশে এর গুরুত্ব অপরিসীম। ইসলাম এক শান্তিপূর্ণ ধর্ম। এ ধর্মের প্রতিটি নির্দেশ ও আমলের পেছনে যেমন রয়েছে আধ্যাত্মিকতা, ঠিক এর বিপরীতে রয়েছে বিজ্ঞানময় ব্যাখ্যা। ইসলামে যেসব বিধিবিধান সরাসরি মানুষকে সংযত, আত্মশুদ্ধি ও আধ্যাত্মিক চেতনা ও প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ করে, মাহে রমজানের সিয়াম সাধনা তথা রোজা তার মধ্যে অন্যতম। রমজান পালন আধ্যাত্মিকতা, ব্যক্তি ও সম্প্রদায়ের আত্ম-উন্মেষের আলোকবর্তিকা হিসাবে কাজ করে। রমজান ইসলামিক চন্দ্র ক্যালেন্ডারের নবম মাস। এই মাসটি বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের জন্য গভীর তাত্পর্য বহন করে, তবে এর প্রাসঙ্গিকতা ধর্মীয় সীমানা ছাড়িয়ে সমসাময়িক বিশ্বের জন্য অমূল্য আধ্যাত্মিক সাংস্কৃতিক আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।
মাহে রমজানে সমাজের স্থিতিশীলতা, শান্তি, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিদ্যমান। সমাজের প্রত্যেক ধর্মপ্রাণ মানুষ যদি মাহে রমজানের মতো অন্যান্য মাসেও আত্মসংযমের সঙ্গে জাতি-ধর্ম-বর্ণ ও দলমতনির্বিশেষে সব ধরনের বিরোধ এড়িয়ে যান, তাহলে কোনো রকম সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় না। সমাজ-জীবনে পরস্পরের প্রতি সাহায্য-সহযোগিতা, সহানুভূতি ও সহমর্মিতা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে এবং সাম্য, মৈত্রী, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের ক্ষেত্রে রোজার ভূমিকা অনস্বীকার্য। আজকের রমজানের এ সংযমের শিক্ষায় পৃথিবীতে চলমান সকল যুদ্ধ ও হানাহানি বন্ধ হোক, আমাদের সকলের মধ্যে মানবতাবোধ জন্ম হোক, আবারও পৃথিবীতে শান্তি ও সমৃদ্ধি ফিরে আসুক, মহান রাব্বুল ইজ্জতের কাছে এই মোনাজাত করি। সকলকে জানাই রমজানুল মোবারক।
আমরা নিজেদের ধর্মপ্রাণ ভাবতে পছন্দ করি, কিন্তু ধর্ম প্রকৃত উপায়ে পালন করি না, বাস্তব জীবনে চর্চা করি না। আমাদের দেশের ধর্মীয় নেতাদের উচিত এ ব্যাপারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা; তারাই পারেন সাধারণ মানুষকে ধর্মের প্রকৃত বার্তা বুঝতে সহযোগিতা করা। প্রকৃত বার্তা গ্রহণ না করে আমরা যদি ধর্মের ব্যাপারে কেবল আচার-সর্বস্ব থেকে যাই, তাহলে সমাজ থেকে অন্যায়-অনাচার আর ধনী-গরিবের বৈষম্য দূর করা কঠিনই হবে।
বৈষয়িক প্রত্যাশা বা আকাঙ্ক্ষা এবং সব ধরনের লোভের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করাই সংযম। এ মাসে যেখানে দরিদ্রের না খেয়ে থাকার কষ্ট, বেঁচে থাকার জন্যে প্রয়োজনীয় ন্যূনতম সম্পদ না থাকার কষ্ট বোঝার সাধনা করার কথা, সেখানে যদি ব্যবসায়ীরা কেবল বেশি মুনাফার লোভে প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দেন, এই অসততা মেনে নেয়া যায় না। খাদ্যাভ্যাসে সংযমের পরিবর্তে দেখা যায় ইফতারের বাজারের রমরমা বাণিজ্য; এতো চটকদার ইফতার আয়োজন কোনোভাবেই সংযমের পরিচয় বহন করে না। আর ভেজাল ও ক্ষতিকর দ্রব্য মিশিয়ে সেসব খাবারকে বাহারি ও সুস্বাদু করার যে প্রবণতা ইফতারি বিক্রেতাদের মধ্যে দেখা যায়, তা রোজাদারদের সঙ্গে কেবল প্রতারণাই নয়, রীতিমতো অপরাধ। আমরা ধর্মকে ভয় হয়তো পাই, কিন্তু ধর্মের শিক্ষা গ্রহণ করি না।
রমজান মাস উপবাস পালনের মাস। যাতে ধনীরা অভাবী মানুষের ক্ষুধার যন্ত্রণা উপলব্ধি করতে পারেন। কিন্তু আমরা রমজানকে ভোজের আয়োজনে পরিণত করি। পানাহারের প্রতি এত বেশি মনোযোগী হই, যাতে ইবাদতে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। সামর্থ্যবানেরা এত বেশি বাজার করেন, এতে গরিব মানুষ কেনার সুযোগ পায় না, যা রমজানের শিক্ষার ও উদ্দেশ্যের পরিপন্থী। সহমর্মিতার এ মাসে আমাদের আশপাশে প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজন যাঁরা অভাবী আছেন, তাঁদের ইফতার ও সাহ্রির ব্যবস্থা করা আমাদের আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব।
রোজার সুযোগ নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের কিছু পণ্যের দাম বাড়িয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে । চিনির শুল্ক কমানো হলেও পণ্যটির দাম এক টাকাও কমেনি। কারণ ছাড়াই পোলট্রি মুরগির দাম অযৌক্তিকভাবে বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দিচ্ছে; তবে এসবে পাত্তা দিচ্ছে না বাজার সিন্ডিকেট।
পণ্যের মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতি সন্তোষজনক। তার পরও কেউ কেউ সুযোগ নিচ্ছে, তারা কারা তাদের ব্যবসায় বাণিজ্য ও বিনিয়োজিত তহবিলের উৎস, খাদ্যপণ্য আমদানির ব্যবস্থাপনা কাদের করায়ত্তে, সেই সিন্ডিকেট কেন সরকারকে পাত্তা দিচ্ছে না বিষয়টি রাজনৈতিক অর্থনীতির ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা খতিয়ে দেখা দরকার। মিডিয়ার রিপোর্টে প্রকাশ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রমজানকে কেন্দ্র করে গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় সব জিনিসের দাম ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। উপরন্তু গত বছরের চেয়ে কোনো কোনো জিনিসের দাম শতভাগ বেড়েছে। পণ্যের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। স্বল্প আয়ের মানুষ যারা কার্ড করতে পেরেছেন, তারা টিসিবি ডিলারের দোকানে লাইন দিচ্ছেন। যাদের কার্ড নেই, তারা প্রয়োজনের অর্ধেক বা তারও কম পণ্য কিনে ঘরে ফিরছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে সন্ধ্যার খাবারের মূল্য সাহরির সময় বারো আনা (৭৫ শতাংশ) বৃদ্ধি পায়। শিক্ষার্থীদের করুণ দুর্দশার কথা প্রকাশিত হয়েছে পত্রিকায়। সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, রমজান মাসকে সামনে রেখে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ভোক্তা অধিদফতর, টিসিবিসহ সরকারের সংস্থাগুলো বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর পরও থেমে নেই বাজার কারসাজি। কিছু পণ্যের দাম সহনীয় থাকলেও রোজার আগেই পরিকল্পনা করে বাড়ানো হয়েছে সুনির্দিষ্ট কয়েকটি পণ্যের দাম। নিত্যপণ্যের পাশাপাশি বেড়েছে কাঁচাসবজির দামও। এ ব্যাপারে (পণ্য বা সেবামূল্য তদারকি ও ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গঠিত) কমপিটিটিভ কমিশনের কোনো তৎপরতা দেখা যায় না। তবে এটিও ঠিক বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার ও ব্যবসায়ীদের যেমন দায়িত্ব আছে, একইভাবে ভোক্তাকেও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। তারা যেন কৃচ্ছ্রতা সাধনের মাস রোজার সময় হুমড়ি খেয়ে পণ্য না কেনেন। কারণ হঠাৎ কোনো পণ্যের চাহিদা বেড়ে গেলে তার দাম বেড়ে যায়। তাই ভোক্তারা যদি পণ্য কেনার ক্ষেত্রে সহনীয় আচরণ করেন, বাজারও সহনীয় থাকবে।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও রূঢ় সত্য এটাই যে, এমনই একটি পবিত্র সময়েও আমরা বাংলাদেশে বৃহত্তম মুসলিম দেশের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধি আর ভেজাল খাদ্যের দাপটে প্রচণ্ডভাবে হিমশিম। অথচ খোঁজ নিলে দেখা যাবে, বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশ রমজান উপলক্ষ্যে জিনিসপত্রের দাম কমিয়েছে এবং সরবরাহ বৃদ্ধি করেছে। বাংলাদেশে বইছে উল্টোস্রোত। অবাধে দাম বাড়ানো হচ্ছে এবং সৃষ্টি করা হচ্ছে কৃত্রিম সঙ্কট। এক শ্রেণির ব্যবসায়ীর ধর্ম ও নৈতিকতা প্রশ্নের সম্মুখীন। ব্যবসার নামে যদি এহেন অনৈতিকতা ও অমানবিকতা প্রদর্শন করা হয়, তাহলে যে রমজান উচ্চ নৈতিক চরিত্র, উন্নত মানবতাবোধ, ত্যাগ, পরহিত, কৃচ্ছ্বতার শিক্ষা দেয়, সেই পবিত্র মাসের আমল-ইবাদতের সঙ্গে চরম অবমাননাই করা হয়।
বিশ্বের দেশে দেশে মুসলমানরা নিপীড়িত, নির্যাতিত ও সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ কবলিত। কুশাসন, ক্ষুধা, দারিদ্র্য, পশ্চাদপদতা, অশিক্ষা- এশিয়া ও আফ্রিকার মুসলিম দেশগুলোর নিত্যসঙ্গী। দুর্নীতি, মজুদদারি, মূল্যবৃদ্ধি, ভেজালসহ শত অনৈতিকতায় ছেয়ে গেছে মুসলমান সমাজ ও সম্প্রদায়। এই বাস্তব চিত্রকে আড়াল না করে একে অপসারণে সচেষ্ট হওয়াই জরুরি। সেই সঙ্গে রমজানের শিক্ষায় স্ব স্ব তাকওয়া ও নৈতিকতাকে বিকশিত করার প্রচেষ্টা নেওয়াই কাম্য।
রমজানের পবিত্র দর্পণে আত্মসমালোচনা করে এবং রমজানের পবিত্র শিক্ষায় আত্মসংশোধনের মাধ্যমেই জাগতিক ও পারলৌকিক সাফল্য ও কল্যাণের পথ সন্ধান করতে হবে প্রতিটি মুসলমানকে। ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের পবিত্রতা অটুট রাখতে হবে এবং মানুষের জন্য ক্ষতিকর ও অকল্যাণকর পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকতে হবে। ব্যবসা ও জাগতিক জীবন যেন লাভ ও লোভে কবলিত হয়ে আমাদের ধ্বংসের কারণ না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখাও জরুরি।
আমাদের দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধি অস্বাভাবিক কোনো বিষয় নয়। প্রতি বছর, প্রতিমাস এবং প্রতিদিনেও জিনিসপত্রের মূল্য বৃদ্ধি হয়। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে সামগ্রিক বাজার ব্যবস্থার ওপর সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে। দেশপ্রেম ও মানবিকতা এবং তাকওয়া সহকারে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করলে কোনো মানুষ অতি মুনাফা করার জন্য সচেষ্ট হবে না। রোজাকে সামনে রেখে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করতে সরকারকে অবিলম্বে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ টি.সি.বি.-কে আরও শক্তিশালী করতে হবে। ক্রেতা-ভোক্তাদের অধিকার সংরক্ষণের জন্য আইন রয়েছে। বিদ্যমান আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
মানবিক মূল্যবোধের চর্চাই পারে মানুষকে সত্যিকারের মানুষ হতে সাহায্য করতে। বাহ্যিক সৌন্দর্যের পরিচর্যার পাশাপাশি অন্তরের সৌন্দর্যেরও পরিচর্যা করা উচিত। জাগ্রত মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ কখনো অন্যায় করতে পারে না, কখনো তার দ্বারা অপরের ক্ষতি হতে পারে না। বিবেককে সঙ্গী করে যে সুবোধ তৈরি হয়, তা দ্বারা মানুষ ভুল পথে পরিচালিত হতে পারে না। তাই প্রত্যেকের উচিত মানবিক মূল্যবোধের চর্চা করা। তবেই বদলে যাবে জাতি, বদলে যাবে দেশ।
বিশ্ব রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলেও, কৃত্রিম সংকটের কারণে দেশের বর্তমান দ্রব্যমূল্যে নাভিশ্বাস মধ্যবিত্তের। এরমধ্যে চলমান রমজানে যদি আরেক দফা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পায়, তাহলে সাধারণ মানুষের কী অবস্থা হতে পারে- সেটি সহজেই চিন্তা করা যায়।
কোনো দেশে, কোনো সভ্য সমাজে এই ধরনের দুর্র্বৃত্তায়নের সুযোগ নেই। সেক্ষেত্রে সরকারকেই, জনগণের সেবায় এগিয়ে আসতে হয়। কঠোর নজরদারি এবং আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ, অনাচার ও দুর্ভোগ থেকে মানুষকে স্বস্তির পথ দেখায়। এক্ষেত্রে আমাদের দেশেও এমনটিই হবে- সেই প্রত্যাশা থাকল। সংযমের এই মাসে, লোভাতুর কাবুলিওয়ালাদের নিয়ন্ত্রণে রাখাই হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মূল চ্যালেঞ্জ।
অভিমত থেকে আরো পড়ুন