https://www.prothomalony.com/

8758

literature

সাহিত্য

নারী দিবস সংখ্যা

প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৪ ০৬:৫৬

ভূমিকাঃ বোধহীন একদল নগ্ন শাসক, আপনার জন্য বরাদ্দে রাখা মোলায়েম চেয়ারটি ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে। তারা ভাবছেন, নগ্ন নারী-পুরুষ, তৃতীয় লিঙ্গ, চতুষ্পদি প্রাণীগুলোকে দেখে আপনি লজ্জা-ভয়ে আতঙ্কে পালিয়ে যাবেন। এবং একপর্যায়ে আপনার চেয়ারটি সহ পুরো নাট্যমঞ্চ তাদের দখলে চলে যাবে। এখন আপনি যদি দৃঢ় সঙ্কল্প হন যে নিজ চেয়ারটিত বসবেনই, তখন ভীত, লজ্জিত, আতঙ্কিত হয়ে 'পালানো' আপনার জন্য উত্তম পন্থা নয়। কিংবা তাদের ভীত করতে পাল্টা নগ্ন হওয়াও কার্যকরী কোনো মাধ্যম নয়। যারা ইতোমধ্যেই নগ্নতা ধারণ করেছেন, তারা আপনার নগ্নতায় বরং আনন্দ খুঁজে পাবেন। এখন আপনাকে যা করতে হবে তা হল, নিজ চেয়ারটিতে শক্ত করে বসে পড়া। ধাক্কা দিয়ে এ কাজ হবে না। কারণ তারা যুগ যুগ ধরেই বিভিন্ন কৌশলে  নিজেদের শক্তিশালী করে রেখেছেন। এখন আপনাকে নিজ চেয়ারটিতে বসতে হলে, নিজেকে শক্তিশালী করতে হবে। আর এ শক্তি শরীরের শক্তি নয়, নিজ মনোবল ও অস্তিত্বের শক্তি। যতক্ষণ মনোবল শক্তিশালী না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি নিজ অস্তিত্বের জানান দিতে ব্যর্থ হবেন। আর অস্তিত্বের জানান দিতে আপনার দরকার-নিজেকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা। ব্যক্তি, পরিবার কিংবা সমাজ, কখনোই একজন দুর্বল মানুষকে মূল্যায়ন করে না। এই প্রথা আপনার আমার পক্ষে খণ্ডানো সম্ভব নয়। তাই নিজ অস্তিত্ব জানান দিতে, নিজেকে স্বাবলম্বী করতে হবে। যে যেমন অবস্থানেই থাকুন না কেন, চেষ্টা করুন নিজেকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলতে। ছোটখাটো যে কোনো কাজ দিয়ে যাত্রা শুরু করুন। কষ্ট হবে, প্রতিবন্ধকতা আসবে, হোঁচট খাবেন, বার বার পড়ে যাবেন, কেউ সুযোগ বুঝে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিবে। তারপরও চেষ্টা অব্যাহত রাখুন। মনোবল দৃড় রাখুন। নিজ অস্তিত্ব জানান দিন। যে চেয়ারটি আপনার জন্য বরাদ্দ, তা দখল করার প্রশ্নই আসে না। সে চেয়ারটিতে বসতে হলে আপনাকে কেবল শাসকদের পাশে শক্তিশালী হয়ে দাঁড়াতে হবে।


প্রিয় সভ্যতা

রুদ্রশংকর  

তুমি আমার উপত্যকার সৌন্দর্য নিয়ে লিখতে পার 

মেঘলা দিনে মেখে ফেলতে পার প্রেম 

পরক্ষনেই চোখ দিয়ে কেটে ফেলতে পার আমাকে 

ছুঁড়ে ফেলতে পার অনভ্যস্ত খিদের সামনে   

আসলে এমন এক অতীত থেকে উঠে এসেছি 

যেখানে তোমার  চাওয়াগুলো কখনো শেষ হয় না 

 

যে মুখে দৈনিক আলো পড়ার কথা ছিল 

সেই মুখে সংশোধন না-হওয়া ধর্মের রঙ মেখে  

তুমি বলতে পার মেয়েদের হাত নেই, পা নেই

যেন এক মূল্যহীন মানুষ 

যেন এক নিরীহ শস্যক্ষেত্র...    

 

ইচ্ছে করলে

তুমি আমাকে মধ্যযুগের ময়লায় ফেলে আসতে পার 

উপহার দিতে পার সামাজিক আতঙ্ক 

তবু আমার মনের মধ্যে 

ধুলো ওড়ে, হাজার মুক্তির ধুলো...

অল্প অল্প করে সভ্য শতাব্দীর কাছে ফিরি 

প্রিয় সভ্যতা দ্যাখো,  

একটু একটু করে 

মানুষের সমান অধিকার হেঁটে বেড়াচ্ছে রাস্তায়।
 

নারী দিবসে সম্মানের দাবী জানাই

সোহানা নাজনীন

মানব জন্মের মতো এক বিশাল কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পুরুষ এবং নারীর মাঝে সৃষ্টিকর্তা নারীকেই বেছে নিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, সন্তান ধারণ এবং জন্ম দেবার এক আশ্চর্য ক্ষমতা রাখেন একজন নারী। জন্মের পর সেই সন্তানের জীবনধারণের জন্য জন্মদাত্রী নারীর বুকে মজুত থাকে দুধ। আর এই কারণেই নারী প্রতিদ্বন্দ্বীহীন এক মহৎ সৃষ্টি, যার তুলনা অন্য কারোর সাথে হয় না। তবুও নারীর অধিকার লুণ্ঠিত হচ্ছে, নারীরা অসম্মানিত হচ্ছেন।    

সারা বিশ্বব্যাপী মার্চ মাসের ৮ তারিখে পালিত হয় নারী দিবস। এই দিনটি উদ্‌যাপনের পেছনে মূল কারণ ছিল নারী শ্রমিকের অধিকার আদায়। সেই ইতিহাসের পরিপ্রেক্ষিতে বলা হয়, ১৮৫৭ সালে মজুরি বৈষম্য, কাজের সময় নির্দিষ্ট করা এবং কাজের অমানবিকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই নিউইয়র্ক শহরের রাস্তায় নেমেছিলেন সুতা কারখানার নারী শ্রমিকেরা। সেই মিছিলের উপর চলে সরকার বাহিনীর আক্রমণ। ১৯০৯ সালে নিউইয়র্কে আয়োজিত হয় প্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন। এরপর দ্বিতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেন শহরে। সেই আয়োজনে বিশ্বের প্রায় ১৭টি দেশ থেকে ১০০ জন নারী প্রতিনিধি যোগ দিয়েছিলেন। এ সম্মেলনে ক্লারা প্রতি বৎসর ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেন। ১৯১৪ সাল থেকে বেশ কয়েকটি দেশে নারীদের সম-অধিকার দিবস হিসেবে দিনটি পালিত হতে শুরু করে। এবং ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে বাংলাদেশেও দিনটি নারী দিবস হিসাবে অনুসরণ করা হচ্ছে।

এইতো গেল আন্তর্জাতিক নারী দিবস প্রতিষ্ঠার ইতিহাস। বর্তমান সময়ে এসে নারী দিবসের সংজ্ঞা অনেকখানি বদলে গেছে। মহিলাদের আর্থিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি এখন শ্রদ্ধা-সম্মান ও অধিকারের ব্যাপারটা আলোচনায় উঠে এসেছে। তৈরি হয়েছে “নারীবাদ” শব্দটি। অনেকেই নারীবাদ শব্দের ভুল ব্যাখ্যা করেন। অনেকেই মনে করেন নারীবাদে বিশ্বাসী মহিলারা পুরুষের মতো চলাফেরা করবে, পোষাক পরবে, সিগারেট মুখে গুজে মোটর বাইক চালাবে। আসলে ব্যাপারটা তা নয়। “নারীবাদ” একটি আন্দোলন যা নারীর ক্ষমতায়ন, ভোটদানের অধিকার এবং নারী-পুরুষ সমান, এই দাবী থেকে শুরু হয়েছিল। সুক্ষ্মভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, ধর্মীয় আইন, রাষ্ট্রীয় আইন, অধিকার আইন, সামাজিক নিয়ম-কানুন, সবকিছুই মূলত নারীকে দমিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে প্রণোদিত হয়েছে। শারীরিক এবং মানসিক কাঠামোগত ভাবে নারী এবং পুরুষের থেকে অনেক্ষেত্রেই বিজ্ঞান সম্মতভাবে ভিন্ন। আমি মনে করি এই ভিন্নতা যুক্তিযুক্ত এবং গ্রহণযোগ্য। তাহলে নারী ক্ষমতায়নে বিপত্তিটা কোথায়? আসলে ভুত হচ্ছে সর্ষের মধ্যে। পারিবারিক ও সামাজিকভাবে নারীরা সঠিকভাবে মূল্যায়িত হচ্ছে না। আর্থিক-সামাজিক-রাজনৈতিকের মতো বড় স্কেল ছাড়াও ছোট স্কেলে আমরা নারীরা প্রতিনিয়ত অবহেলিত হচ্ছি। 

বিশ্ববিদ্যালয়ে একই বিষয়ে পড়াশোনা করা সহপাঠীর সাথে বিয়ে হবার পর শ্বশুরবাড়ি নামক পরীক্ষাকেন্দ্রে মেয়েটিকে একা লড়তে হয়। স্বামীর সাথে একই প্রশ্নপত্রের উত্তর লিখে পাশ করা মেয়েটি ঢাকার নামকরা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেও প্রতিনিয়ত ভালো স্ত্রীর প্রমাণ দিতে হয়। বিয়ের পর একজন মেয়ে ভালোবাসা পাবার চাইতে শ্বশুরবাড়িতে রান্না কাজ কর্মের পরীক্ষায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। অন্যদিকে তার স্বামী শ্বশুর বাড়িতে ঘি-ভাত দিয়ে মুরগি আর মাছের মাথা খেতে ব্যস্ত। মেয়েটি তখন নিজ শ্বশুর শাশুড়ি দেবর ননদ সামলাতে হিমশিম। ঈদগুলোতে নিজ বাবা-মা ছেড়ে মেয়েরা আনন্দ করতে চলে যায় শ্বশুরবাড়িতে। অথচ বাবা-মা অনেক কষ্ট করে, অর্থ ব্যয় করে তাদের আদরের কন্যা সন্তানকে বড় করে তুলেছেন। তারাও এক সময় বৃদ্ধ হয়ে যায়, তাদেরও একটা আশ্রয় বা অবলম্বন দরকার হয়। কিন্তু মেয়ের সংসারে তাদের থাকা হয়না। এই সমাজ প্রচ্ছন্নভাবে মেয়ের বাবা-মা’কে তাদের সাথে থাকার অনুমতি দেয়নি। এরপর যখন ঐ মেয়েটার বাচ্চা হয় তখন শুরু হয় আরেক পর্ব। নতুন বাচ্চার সব দায়িত্ব যেন মায়ের। বাচ্চার সব দোষ-ভুলের ভাগীদারও ঐ মা'কেই নিতে হয়। 

দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোতে মেয়েদের প্রতি কিম্ভুত কিছু সামাজিক সংকীর্ণতা দেখা যায়। মেয়ে সন্তান জন্মানোর পর অবহেলা, তাদেরকে পড়ানোর ব্যাপারে অনীহা, বোঝা মনে করা, বিয়ের সময় বিশাল খরচের ভয়, এসব তো আছেই। আরো আছে মেয়েদের নিরাপত্তার অভাব। প্রকৃতিগত ভাবেই মেয়েরা নিরাপদ নয়। ছোট শিশু থেকে পঞ্চাশ-পঞ্চান্ন অবধি মেয়েরা নানাভাবে নোংরা চিন্তা ও কাজের শিকার হচ্ছে। বিবাহিত মেয়েরাও আজকাল অনলাইনে সামাজিক মিডিয়ার কিছু হয়রানিতে হেনস্থা হচ্ছে। প্রবাসে আসার পর একজন নারীকেই বেছে নেয়া হয় সংসার এবং সন্তান সামলানোর কাজে। সুদুর প্রবাসের একঘেয়েমি জীবনে নারীর মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যাপারে গুরুত্ব দেয়া হয় না, মানসিক স্বাস্থ্যের সুস্থতা কামনা তো দুরের কথা। খুব সচেতনভাবে সেসব দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছে সমাজ, এমনকি ধর্মও আমাদের নারী সমাজের প্রতি অবহেলাকে বদলাতে পারছে না। এইসব ছোটখাট ব্যাপারগুলো না এড়িয়ে বরঞ্চ আমরা সবাই গভীরভাবে সমস্যাগুলোর প্রতি দৃষ্টিপাত করি। নারীদের মুল্যায়ন হোক, একজন মা হিসেবে, বোন-স্ত্রী-কন্যা হিসাবে অধিকার গ্রহণ করুক তারা। 

অন্যদিকে সংসারে পুরুষদেরকে খাটো করলে চলবে না, মেয়েদের উন্নতির জন্যে তাদের অবদান উল্লেখযোগ্য। ক্ষেত্র বিশেষে নারীরাই নারীদের সবচে বড় প্রতিবন্ধকতা। তাই পিছিয়ে পড়া এই নারী সমাজে টিকে থাকতে হলে, শুধু পুরুষ বিদ্বেষ নিয়ে বসে থাকলেই চলবে না, পুরুষের সাথে সমান তালে এগিয়ে যেতে হবে। বাবা, ভাই, স্বামী, ছেলে, এরা সবাই পুরুষ, আমাদের জীবনে সাথে থেকে হয়েছে সাফল্যের ভাগীদার, হয়েছে আমাদের নারী হয়ে ওঠায় সহায়ক। সফল হোক আন্তর্জাতিক নারী দিবস।

 

আমার নারী দিবস ভাবনা 

কুলসুম আক্তার সুমী 

৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। বছরের ৩৬৫ দিনের মধ্যে মাত্র একটা দিন নারী দিবস, এই নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা ছিল। থাকবে। তবে বছরে একদিন ভালোবাসা দিবস, মা দিবস বা বাবা দিবস হলেও সারা বছরই আমরা ভালোবাসি এবং মা বাবাকে সম্মান-শ্রদ্ধা করি। দিবস গুলোর উদ্দেশ্য বা তাৎপর্য একটা বিশেষ দিনে স্মরণ নয় বরং একটা সচেতনতা তৈরি করা। তাই আমি মনে করি একদিন নারী দিবস ও গভীর তাৎপর্যপূর্ণ। 

জায়গা ভেদে নারী দিবসের গুরুত্ব বা তাৎপর্য ভিন্ন। কেননা, যেখানে স্বাধীনতা অর্জন হয়েছে সেখানে রক্ষা করা, সংহত করা জরুরি, আবার যেখানে স্বাধীনতাই নেই সেখানে স্বাধীনতা অর্জন করাটা জরুরি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নারীদের প্রতি শ্রদ্ধা, তাঁদের কাজের প্রশংসা এবং ভালোবাসা প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে তাঁদের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সাফল্য অর্জনের উৎসব হিসেবেই পালন করা হয়। আজকের দিনে এসেও নারীর প্রতি বৈষম্য বিষয়টা দেখার জন্য দূরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। বিশ্বের উন্নত আর মুরুব্বি দেশ আমেরিকার দিকে তাকালেই বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে যায়। সন্তানকে ইতিহাস পড়াতে গিয়ে জেনে আশ্চর্য হলাম যে ১৪৭৯ খ্রিষ্টপূর্বেও মিশরের মতো দেশ ১৫ বছর যাবত শাসন করেছেন একজন নারী। অথচ এতো উন্নত দেশ আমেরিকা তাদের শতশত বছরে একজন ও নারী শাসক নির্বাচন করেনি। নারী শাসক তো দূরের কথা, এদেশে নারীদের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মাত্র একশ বছর আগে।  ২০১৪ সালের হোয়াইট হাউজের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, আমেরিকায় প্রতি পাঁচজন নারীর মধ্যে একজন জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে যৌন নির্যাতনের শিকার হন। এই পরিস্থিতির খুব বেশি উন্নতি আজো হয়নি তবে প্রযুক্তির উন্নয়নের সাথে সাথে নির্যাতনের ধরনের ও মাত্রার পরিবর্তন হয়েছে। 

অন্যান্য ক্ষেত্রের বৈষম্যও ছিলো এবং আছে। এমনকি পুরুষের অর্ধেক বেতন দেওয়ার বৈষম্যকে কেন্দ্র করেই বর্তমানের নারী দিবস পালনের বিষয়টি আসে। তাই সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে নারী দিবস পালনের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে তো যায়-ই নি বরং বৃদ্ধি পেয়েছে। নারীদের জন্য এই একটি দিন উৎসব হিসেবে পালন করার এই রীতিটিও আপোষে বা এমনি এমনি আসেনি। এর রয়েছে সুদীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। ১৮৫৭ সালে মজুরি বৈষম্য নিরসন, কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা, কাজের অমানবিক পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের রাস্তায় নেমেছিলেন সুতা কারখানার নারী শ্রমিকেরা। সেই মিছিলে সরকারি বাহিনী দমনপীড়ন চালায়। তারই পরিপ্রক্ষিতে সেই ঘটনার বহু বছর পর, আমেরিকার সোশ্যালিস্ট পার্টি পোশাক তৈরির শ্রমিকদের সম্মান জানাতে ১৯০৮ সালে ধর্মঘট ডেকেছিল। তাদের প্রতি সম্মান জানাতেই ১৯০৯ সালে ২৮ ফেব্রুয়ারিকে প্রথম নারী দিবস হিসেবে পালন করে। অর্থাৎ, প্রথমদিকে ৮ মার্চ নয় ২৮ ফেব্রুয়ারি নারী দিবস হিসেবে পালিত হয়। ১৯০৮ সালে নিউইয়র্কের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত নারী সমাবেশে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে সর্ব প্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন হয়। ক্লারা ছিলেন জার্মান রাজনীতিবিদ, জার্মান কমিউনিস্ট পার্টির স্থপতিদের অন্যতম। এর পর ১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহাগেনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন। ১৭টি দেশ থেকে ১০০ জন নারী প্রতিনিধি এতে যোগ দিয়েছিলেন। এ সম্মেলনে ক্লারা প্রতি বৎসর ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেন। সিদ্ধান্ত হয়, ১৯১১ সাল থেকে নারীদের সম অধিকার দিবস হিসেবে দিনটি পালিত হবে। বিভিন্ন দেশের সমাজতন্ত্রীরা দিবসটি পালনে এগিয়ে আসে। ১৯১৪ সাল থেকে বেশ কয়েকটি দেশে ৮ মার্চ পালিত হতে থাকে।

অতঃপর আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘ ১৯৭৫ সালের ৮ মার্চ দিনটিকে প্রথম আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯৭৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ সদস্য রাষ্ট্রদের নারী অধিকার ও বিশ্ব শান্তি রক্ষার জন্য জাতিসংঘ দিবস হিসাবে ৮ মার্চকে ঘোষণা করার আহ্বান জানায়। এর পর থেকে সারা পৃথিবী জুড়েই পালিত হচ্ছে দিনটি নারীর সমঅধিকার আদায়ের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে। 

রাশিয়া, কম্বোডিয়া, আজারবাইজান সহ বিশ্বের অন্তত চব্বিশটি দেশে আন্তর্জাতিক নারী দিবস আনুষ্ঠানিক ভাবে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয়। আবার চিন, ম্যাসিডোনিয়া, মাদাগাস্কার ও নেপালে শুধুমাত্র নারীরাই সরকারি ছুটি পেয়ে থাকেন। 

কিছুদিন আগে একটা লেখায় চোখ আটকে গিয়েছিলো। লেখাটা এরকম... কর্পোরেট দুনিয়া বহু আগেই নারীকে পণ্য বানিয়েছে। এখন তারা ব্যস্ত নারী স্বাধীনতা, নারী দিবস, নারী সংগ্রাম এবং নারীর অর্জনগুলোকে পণ্য বানাতে। সত্যিই তাই কর্পোরেট দুনিয়া কিংবা ফ্যাশন হাউজগুলো ৮ মার্চকেও বাণিজ্যিক করতে পিছ পা হয়নি, হবে না। কিন্তু এ দিবসটি শুধু সেমিনার বা শোভাযাত্রার জন্য নয়। কিছু ফিচার বিশেষ বুলেটিন বা রম্য কার্টুন আঁকার জন্যও নয়। বরং প্রকৃত অর্থে নারী বৈষম্যহীনভাবে, সম্মানের সাথে তাঁর জীবন অতিবাহিত করার সুযোগ পাক, এই সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যেই পালিত হোক আন্তর্জাতিক নারী দিবস-এই প্রত্যাশা। 


নারী কেন 'কালচার অব সাইলেন্স' দ্বারা আবদ্ধ? 

ফারজানা নাজ শম্পা 

মানবিক সমাজ গঠনের অন্যতম ভিত্তিমূল হলো নারী ও পুরুষl তবে মানব সমাজের বুনিয়াদ এখনো শক্ত হয়নিl কারণ এর অন্যতম ভিত্তি নারীরা হাজার বছর ধরে ঘরে বাইরে বিচিত্র মাত্রার নির্মমতার, সংঘাত, সহিংসতার এবং বৈষ্যমের শিকারl সভ্যতার সূচনালগ্ন হতে বর্তমান সময় পর্যন্ত যুগের পরিবর্তনের ধারায় নারীর মানবিক অধিকার পূর্ণাঙ্গ ভাবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য দুঃখজনকভাবে তেমন সহায়ক এবং সন্তোষজনক পরিবেশ এখনও পর্যন্ত গড়ে উঠেনিl নারীর জন্য স্বাভাবিক মানবিক অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রটি প্রকৃত পক্ষে একটি অসুস্থ 'নীরবতা সংষ্কৃতি'র চর্চার ধুম্রজালে প্রায় নিমজ্জিত l  

দৃশ্যমান দিক হতে বর্তমান প্রেক্ষিত বিবেচনায়, নারীর স্বাভাবিক বিকাশের জন্য মানবিক ও শারীরিক অধিকার হরণ হচ্ছ কি? হ্যাঁ। প্রতি মুহূর্তে হচ্ছে। যারা গভীর অন্তর্দৃষ্টির  আলোকে বিষয়টি বিচার করেন না অথবা পুরুষতান্ত্রিক একপেশে আর হীন আধিপত্যনির্ভর চিন্তায় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তারা প্রশ্ন তোলেন, আজকের নারী মুক্ত স্বাধীন। ঘরে বাইরে মা, গৃহবধু, হাসপাতাল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, দিনমজুর, পোশাক শ্রমিক, লেখক, পাইলট, গবেষক, মডেল, ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কর্মরত আছেন। তাই কিভাবে তারা অধিকার বঞ্চিত? 

এই দৃশ্যমান দিকের পরিবর্তে যদি বাস্তবচিত্রের গভীরে প্রবেশ করা যায়, প্রায় অশ্রুত এবং অদৃশ্য দিকগুলি স্পষ্ট হয়ে উঠে। নীতিগত ও তত্ত্বীয় ভাবে সর্বত্র নারী ও পুরুষের সম অধিকারের কথা বলা হলেও সামাজিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক সর্বক্ষেত্রে বারবার নারীকে পদানত করা হয়, নারীর স্বাভাবিক মানবিক অধিকার বঞ্চিত হয়। কর্মক্ষেত্রে নারী প্রতিনিয়ত তার সহযোগীদের বা উর্দ্ধতনদের দ্বারা শারীরিক বা মানসিক বিভিন্ন নির্যাতন, সহিংসতার এবং হয়রানির শিকার হোন।lদুঃখজনকভাবে এই ভুক্তভোগীরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে তেমন কোন ন্যায় বিচার পান নাl 

বাস্তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সামাজিকতার( প্রশ্নবিদ্ধ ) দোহাই দিয়ে নারীকে চুপ থাকতে বাধ্য করা হয়। পারিবারিক ক্ষেত্রে ছেলের বৌ, তার শ্বশুর-শাশুড়ি, ননদ-দেবরদের দ্বারা এবং পরিবারের নিকটজন বা সমাজের কারো দ্বারা কোন রকম সংঘাত, নির্যাতন বা বিকৃত মাত্রার  হয়রানি-বিভাজনের শিকার হলে, তাকে তথাকথিত 'ভাল মেয়ে মানুষ' হবার অজুহাত টেনে নীরবতার জন্য ক্রমাগত চাপ দেয়া হয়। 

চরম নির্মমতার ফলস্বরূপ অনেকক্ষেত্রে নারী আত্মহননের পথ বেছে নেন অথবা মনোবল হারিয়ে সন্ত্রস্ত সত্তার পরিণত হোন। এভাবেই হাজার বছর ধরে লালিত নীরবতার এই ধুম্রজাল, নারীর 'মানুষ' হিসেবে বাকস্বাধীনতা, মানবিক ও শারীরিক নিরাপত্তা ভিত্তিক অধিকারকে হরণ করছে। এছাড়া একজন নারী গৃহবধু, কর্মী ও মেয়ে শিশুরা প্রতিদিনের চলার পথে এবং যানবাহনে অভিযাত্রী দ্বারা লাঞ্ছিত এবং বহুমুখী পন্থায় নির্যাতিত হোন। নারী বিভিন্ন ভূমিকায় ঘরে বাইরে আত্মত্যাগ করেন কিন্তু পারিবারিক বা প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে এর যথেষ্ট সম্মান পান না। 

জীবনযুদ্ধে টিকে থাকার প্রয়োজনে এবং তাদের প্রতি আরোপিত চিরায়ত বিচিত্র নীরবতার সংষ্কৃতির চাপে, অনেক নারী প্রশ্ন তোলেন না। উন্নত দেশ ও সমাজে ক্রমবর্ধমান নারী নির্যাতন প্রতিরোধে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়া হলে ও উন্নয়নশীল দেশগুলিতে বিচার ব্যবস্থা আজও তেমন সক্রিয় নয়। নির্যাতন মেনে নেয়া আর অন্যায়কে প্রশ্রয় দেবার মধ্যে কোন সুনির্দিষ্ট পার্থক্য নেই। নারীর প্রতি নির্যাতন একটি ঘোরতর মানবাধিকার লঙ্ঘনজনিত অপরাধ। এই সত্যের পক্ষে সুদৃঢ় একটি দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা বিশেষ প্রয়োজন। নারীর জন্য এমন একটি সামাজিক ও পারিবারিক ভাবে ইতিবাচক নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করা প্রয়োজন, যাতে তারা ছোট বড়ো যে কোন শারীরিক বা মানসিক নির্যাতন, যৌন সন্ত্রাস বা হয়রানির বিষয়টি নির্ভয়ে সহজে প্রকাশ করতে পারে এবং তাৎক্ষণিক ন্যায়বিচার পান। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি মানুষ হিসেবে নারীর প্রতি হিংসাত্মক অবহেলার ও অন্যায়ের প্রবণতাকে হ্রাস করে। 

এই নীরবতার চর্চা আদৌ কোন সুফল নয় বরং স্থবির আবদ্ধ ভঙ্গুর আর নড়বড়ে একটি সামাজিক পরিবেশ নির্মাণ করে।সুষম সামাজিক বুনিয়াদ গঠনের নিমিত্তে হীন স্বার্থভিত্তিক  ভোগের বস্তু নয় বরং নারীর কর্মদক্ষতা ও মানবিক অধিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাকে একজন পূর্ণাঙ্গ বোধসম্পন্ন মানুষরূপে সর্বত্র ইতিবাচক ভাবমূর্তিতে তোলে ধরতে হবে।নারীর প্রতি বৈষম্য এবং সহিংসতা প্রতিরোধে, যে কোনো অন্যায় প্রতিরোধে, নীরবতা নয় বরং সরবভাবে তার পাশে দাঁড়াতে হবে পরিবার, রাষ্ট্র, প্রচার মাধ্যম সহ আমাদের সবাইকে।নারী একজন আত্মমর্যাদা সম্পন্ন মানুষ, তার প্রতি যথাযোগ্য মানবিক সম্মানদানের মাধ্যমে মানবিক হতে হবে। 

নারী আন্দোলনের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া শাখাওয়াত হোসেনর একটি বক্তব্য দিয়ে ইতি টানছি-'আমরা সমাজের আমরা অর্ধাঙ্গ, আমরা পড়িয়া থাকলে সমাজ উঠিবে কিরূপ? কোন ব্যক্তির এক পা বাঁধিয়া রাখিলে সে খোড়াইয়া খোড়াইয়া কতদূর চলবে?'

সবাইকে বিশ্ব নারী দিবসের শুভেচ্ছা। নারীর জন্য প্রতিটি দিন যেন স্বাভাবিক সুন্দর মানবিক হয়ে উঠে, নারী যেন তার অবিশ্রান্ত আত্মত্যাগের মর্যাদা পান সমাজ ও রাষ্ট্রের সব সদস্য ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ হতে-তাই প্রত্যাশা করি। 

 

মেয়েদের নিজের কোন সম্মান নেই

দিনা ফেরদৌস 

আমাদের সমাজের মেয়েদের নিজের সম্মান বলতে আসলে কিছু নেই। মেয়েরা চলে মূলত ধার করা সম্মানে। যেমন বাপ-ভাইদের সম্মানে, চাচা-মামা ও স্বামীর সম্মানে, এলাকার সম্মানে, আত্নীয়স্বজনদের সম্মানে। খারাপ কিছু একটা ঘটলেই দেখা যায় বাপ, ভাই, পরিবারের সকলের সম্মান যাওয়ার পাশাপাশি আত্নীয়স্বজন এমনকি এলাকার লোকেরও সম্মান যায়। পরিবারে মেয়ে জন্মের পর থেকেই বড় হতে হতে সকলে একটু একটু করে ইজ্জত, সম্মান দান করতে শুরু করে মেয়ের শরীর ও মগজের উপর। এই সম্মানের নাম হচ্ছে শৃঙ্খল। কি করতে পারবে না তার একখান ফর্দও বলা যায়। যার ফলে এই সম্মান রক্ষার দায়িত্ব মেয়ের পাশাপাশি সারা পরিবারের উপর বর্তায়।

ছেলেদের বেলায় ঠিক তার উল্টো। কারণ, ছেলেদের সম্মান বা ইজ্জত একান্ত তার নিজের। কারো কাছ ধারদেনা করে প্রাপ্তি নয়। সেজন্যে একটা ছেলে আনন্দের সাথে যেকোন ভুল, অন্যায় সহজেই করতে পারে, পরিবারও সেটা খুব স্বাভাবিক ভেবেই নেয়। আজপর্যন্ত অপ্রীতিকর যতগুলো ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, সবখানে ছেলে- মেয়ে উভয়ই রোল প্লে করতে দেয়া যায়। সেখানে সম্মান বা ইজ্জত যায় শুধু মেয়ের ও মেয়ের পরিবারের। ছেলের বা তার পরিবারের কিছুই যায় না। যার ফলে মেয়েদেরকে নিয়ন্ত্রণ করার হাতিয়ার হিসেবে; প্রেমের নামে কিছু ভিডিও করে রাখা হয়। যা শেষে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যায়। ছেলে জানে তার ইস্পাতের ন্যায় শক্ত ইজ্জতে কেউ কিছুই করতে পারবে না। একটা ছেলে সংসারে যতই উল্টা পাল্টা করুক, তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হবে না বা সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা সম্ভব নয়। অথচ মেয়েদের বেলায় সহজেই বলা যায়, আমাদের মুখে চুনকালি দিয়েছিস, সমাজে মুখ দেখাতে পারি না, আর কোনদিন তোর মুখ দেখতে চাই না। এতে করে সম্পত্তির অংশ মেরে দেয়াটাও সহজ হয়। যেহেতু মেয়েরা বাপ, ভাইয়ের ইজ্জতে বা সম্মানে চলে; তাই সেটা আমানত হিসেবে রক্ষা করে চলা মেয়েদের দায়িত্ব। দান করা ইজ্জত নিয়ে, চলতে গিয়ে মেয়েরা ভুল করার অধিকারটাও হারিয়ে ফেলে। 

কারো প্রেমের দিকে আঙ্গুল তোলা আমার উদ্দেশ্য নয়, প্রেম আমার কাছে সব সময়ই সুন্দর। একটা বিশেষ বয়সে বা বয়োঃসন্ধিকালে ছেলে- মেয়েদের হরমোনাল পরিবর্তন আসে। বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ কাজ করা, তাদের কাছে যাওয়ার আগ্রহ আসাটাই স্বাভাবিক। বুইড়াদের মতো প্রেম খারাপ, কিংবা কে কার সাথে, কোন বয়সে প্রেম করবে তার লিস্ট ধরিয়ে দেয়ার কোন যৌক্তিকতা দেখি না।  বরং আমি মনে করি একটা সময় বাচ্চাদের ভুল করার অধিকার আছে। এইসব ভুল থেকে কোন ঘটনা বা কোন দুর্ঘটনা ঘটে গেলে বাচ্চাদের ফিরে আসার জায়গা আমাদের রাখতে হবে। দিন শেষে আমাদের বাচ্চারা আমাদেরই। সন্তানের আগে সম্মান কখনোই বড় নয়।

এখনকার বেশিরভাগ প্রেমই ফেইক। কারণ, ভালোবাসলে, ভালোবাসা দিয়ে জয় করে নিতে হয়। ভালোবাসা হারিয়ে গেলে ছেড়ে দিতে হয়। বিয়ে করেও তো মানুষের ডিভোর্স হয়। আমাদের সমাজের ছেলেরা এখন ভালোবাসলে আগে ভিডিও করে রাখে, যাতে ছেড়ে যেতে না পারে। প্রেমের অবস্থা বিয়ের থেকেও খারাপ এখন। বেশিরভাগ মেয়েরাই প্রেম করে চাপ নিয়ে। প্রেমের বিয়েগুলো করতে হয়, বাধ্য হয়ে। সমস্যা হচ্ছে, একদিকে পরিবারের লোকজন করেন বকাঝকা; কি কারণে এই লাফাঙ্গাকে বিয়ে করছিস, অন্যদিকে আত্নীয়স্বজন তাদের বাচ্চাদের সাথে মেয়ের জামাই নিয়ে প্রতিযোগিতায় নামেন। আর পাড়াপড়শি বলেন, আগেই বলেছিলাম এই মেয়ে ভালো বর কোনদিনই পাবে না। না ঘরে শান্তি, না বাইরে শান্তি, না বিয়ে করে শান্তি। অনেক মেয়েই মনে করে, ভিডিও ভাইরাল হলে পরিবারের যেই ইজ্জতটা যাবে, তার থেকে লাফাঙ্গারটাকে বিয়ে করাটাই উত্তম।

এই যে চাপের মধ্যে থাকে আমাদের বাচ্চারা, কয়জন মা-বাবা জানেন তার খবর। আমরা বাইরে থেকে প্রেম দেখি। কিন্তু আমরা জানি না, যারা এইসব প্রেমের ফাঁদে একবার ভুল করে আটকায়, তারা আর কোনভাবেই বের হতে পারে না, এসিডের ভয়, খুন-গুম করে ফেলার ভয়, পরিবারের লোকজনদের নিরাপত্তার ভয় দেখিয়ে ছেলেরা প্রেমের নামে বেশিরভাগ মেয়েদেরকেই আটকে রাখে। বাইরে থেকে আমরা প্রেম দেখি, অথচ প্রেমের নামে আমাদের মেয়েরা প্রতিনিয়ত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের স্বীকার হয়। তারমধ্যে একটা হচ্ছে, নিয়মিত শারীরিক সম্পর্ক করবে ভয় দেখিয়ে। এইসব ছেলেরা নিয়মিত পর্ণ দেখে। ব্রোথেল হোমে নিয়মিত যেতে টাকা লাগে, তাই প্রেমের নামে মেয়েদের জিম্মি করে রাখে। শারীরিক কারণটাই এখানে গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে আবার নীতিবান সাজবে এইসব ছেলেরা; বলবে হিজাব লাগাও, ফেইসবুকের পাসওয়ার্ড দাও। মেয়েটি কোথায়, কখন যাচ্ছে সব মনিটরিং করবে নিরলসভাবে। গিফট টিফট দেবে মাঝেমধ্যে, কিন্তু তারচেয়েও দামী জিনিস; নিজের শরীর ও মনের উপরে ব্যক্তির যেই স্বাধীনতা, তা কেড়ে নেবে। কারণ, এই সমাজ ভালো করেই জানে, মেয়েদের স্বাধীনতা থাকতে নেই। আর আমরা সুশীল সমাজ বাইরে থেকে বলি, টাকা দেখে ছেলের পিছু নিয়েছে, সারাক্ষণ ছেলের সাথে ঘুরাঘুরি করে।

তারপর দেখা যায়, সেই ছেলেরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিয়ে করে না। বিয়ে করলেও শান্তি নেই। ছেলের পরিবার মেয়েটিকে সুন্দরভাবে গ্রহণ করে না, 'পদ্মলোচন' ছেলের মাথা নষ্ট করার অপবাদ দিয়ে। সেই ছেলেও মেয়েটিকে এতো এতো পেয়েছে, এখন নতুন করে যেখানে পাওয়ার কিছু নেই, সেখানে নতুন বৌ হিসেবে দাম দেবারও কিছু নেই।

আমার মেসেজ হচ্ছে, এইসব কাহিনী এখন ঘরে ঘরে, কাকের মতো চোখ বন্ধ করে থাকলেই, সব মিথ্যা হয়ে যাবে না। হঠাৎ করে মেয়ে, ফেইসবুক ব্যবহার করে না, হিজাব লাগায়, বন্ধুবান্ধবের সাথে আড্ডা দেয় না, দেখে খুশি হবার কিছু নেই। তারচেয়ে পরিবারে ছেলেমেয়ের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলুন। কি করছে, কোথায় যাচ্ছে খেয়াল রাখুন, মাইরধর করে কিছুই হবে না। নিজেদের সম্মানটা আরেকটু  মজবুদ করতে ভাবতে শিখুন। তা না হলে যখন তখন, যে কেউ এসে সম্মানে আঘাত করবে। যদি ভিডিও ভাইরাল হয় তো হউক। একটা জীবনের কাছে এইসব ভিডিও কিছুই না। মেয়েদের জানিয়ে দিন, তোকে যদি কেউ ব্ল্যাকমেইল করে তো বল, আমরা সব সময় তোর পাশে আছি। ইজ্জত নিয়ে ভাবার জন্যে আত্নীয়স্বজন, প্রতিবেশি আছে, তোকে নিয়ে ভাবার জন্যে আছে তোর পরিবার। কয়েকটা মেয়ের পরিবার যদি মুখের উপর বলতে পারে, আমাদের মেয়ের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, তাতে কার বাপের কি, মেয়ে আমাদের আমরা বুঝব। তখন আইনী সাহায্য পেতেও সহজ হবে। আর বাইরের লোকেরাও কথা বলতে সাহস পাবে না। এতে করে যারা ভয়ে মুখ লুকিয়ে চলে, তারাও সাহস পাবে। ইজ্জতের ভয়ে আমরা যদি লুকোচুরি করি, আর বাচ্চারা আমাদের ভয়ে করে লুকোচুরি, তো এইসব সমস্যার সমাধান জীবনেও আসবে না। 

বাজারে এখন চলে আসছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)। আপনার মেয়ের ইজ্জত বাজারে তুলতে চাইলে ; কিছু না করলেও ভিডিও বানিয়ে বাজারে তুলে দিতে পারে যে-কেউ। সেটা শুধু আপনার মেয়েকে পছন্দ করে বলে নয়; আপনার সাথে, আপনার পরিবারের কারো সাথে,  ছেলের সাথেও যদি শত্রুতা থাকে, সেখান থেকেও অস্ত্র হিসেবে আপনার মেয়েকে ব্যবহার করতে পারে। কারণ মেয়েরা'ত পরিবারের ধার করা ইজ্জতেই চলে। এইসব কিছু বুঝে উঠার আগে নিজেদের যদি দুর্বল ভাবেন; তো সামাজিকভাবে মানুষের কথা শুনে আরও দুর্বল হয়ে যাবেন, সাথে কিছু না করেও মেয়েটা হয়ে যাবে ভিকটিম। আর মন থেকে দুর্বল হয়ে গেলে সমাধান খুঁজে পেতেও সমস্যা হবে। তাই সত্য- মিথ্যা যাই হোক নিজের জায়গায় নিজেই শক্ত হয়ে দাঁড়ান।  

এখন কিছু অসভ্য লোক বলতেই পারে, সবকিছু জানাজানি হয়ে গেলে, মেয়ে বিয়ে দেবে কি করে, পরিবারে যদি আরও মেয়ে থাকে তো তাদের বিয়ে হবে কি করে? বিয়ে যে জীবনের একমাত্র সমাধান না, সেটা বিয়ের পর সংসারে কোন একটা ঝামেলা হলেই বুঝা যায়। এই সমাজে এখন পর্যন্ত কয়টা বিয়ে ভেঙেছে ভিডিও ভাইরালের জন্যে। আর ভাইরাল হওয়া কোন মেয়ের কি বিয়ে হয়নি? একবার আওয়াজ তুলেই দেখুন। অন্তত ঘরের মধ্যে যদি আপনার সন্তান নিজেকে নিরাপদ ভাবতে না পারে, তার থেকে অসহায় অবস্থা একটা সন্তানের জন্যে আর কিছুই হতে পারে না। সত্যের মুখোমুখি দাঁড়ানোর সাহস আমাদের যদি না থাকে, তো এটাই সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। আপনি যখন নিজেকে দুর্বল ভাববেন, সেই দুর্বলতার সুযোগ সবাই নেবে, সেই দায় এড়ানো সম্ভব নয়। 

 

নারীর ছুটে চলা 

ফরিদা ইয়াসমীন

নারী দিবসের সূত্রপাত হয়েছিল যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে, সে ঘটনা থেকে আমরা এখন অনেক দূরে। আমাদের নারী দিবস এখন আবর্তিত হয় বর্তমানে নানা রকম সমস্যাকে কেন্দ্র করে। আমরা নারীরা এখন ঘরে বাইরে সমানভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। দশভুজা দেবীর মত সারাক্ষণ আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। কী নেই আমাদের কাজের মধ্যে? বাঙালি নারী সকালে উঠেই স্বামী সন্তান এবং মা-বাবা শ্বশুর শাশুড়ি তাদের জন্য সকালের নাস্তা তৈরি করেন! ছেলে মেয়ে স্কুলে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। স্বামীর অফিস যাওয়ার ব্যবস্থা করেন, তারপর নিজে তৈরি হয়ে অফিসে যান। অফিস থেকে ফিরেও তার নিস্তার নাই। সবার জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেন ভালো মন্দের খোঁজখবর নেন। কিন্তু নিজের দিকে চাইবার সময় নাই। নিজে যেন এক মেশিন। যে মেশিনের কোন বিশ্রাম নেই, বিকল হওয়ার কোন সময় নাই। শুধু নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে ছুটে চলা আমৃত্যু।

কিন্তু নারী তো ছুটতেই চেয়েছিল। চেয়েছিল ঘরের অর্গল খুলে বাইরে আসতে। তবে কি নারী ভুল চেয়েছিল? অর্গল খুলে বাইরে আসতেই তার চতুর্দিকে কেন এত কাজের পাহাড়? চেয়েছিল কি এই জীবন যে জীবনে বিশ্রাম নেই, আছে শুধু হাজারো দায়িত্ব আর দায়িত্ব! তবে কি নারী কোন এক ধোকার ভিতরে পড়ে গেল!

 

নারী দিবস এলে নানাভাবে নানা রকম কথা, নানান জন বলতে থাকে। কিন্তু সত্যি কথা বলতে সমাজের খেটে খাওয়া নারীরা আজও জানে না নারী দিবস কি। যে রমণী সকাল হতে দুমুঠো ভাত মুখে গুঁজে কাজে গিয়ে ইট ভাঙতে থাকে, কিংবা যে রমণী সকাল থেকে বিভিন্ন বাসায় ছুটাবোয়া হিসেবে কাজ করে বেড়ায়, সে কি জানে, নারী দিবস কি? সে কি জানে, নারী দিবসের পিছনের গল্প কি? তার কাছে নারী দিবসের কোন বার্তা নেই, কোন অর্থ নাই। সে শুধু জানে তাকে দুমুঠো ভাতের ব্যবস্থা করতে হবে! সে জানে তার ক্ষুধার্ত সন্তান পথ চেয়ে আছে একটু খাবার আশায়। কিংবা গার্মেন্টসে কাজ করা যে মেয়েটি সকালে এক টিফিন ক্যারিয়ার ভর্তি খাবার নিয়ে কাজে চলে যায় এবং ঘরে ফেরে মধ্যরাতে; তার কাছে নারী দিবসের কোন অর্থ নেই। সে জানে তাকে কঠোর পরিশ্রম করে দিন যাপন করতে হবে, পেটের ক্ষুধা মেটাতে হবে। তাহলে এই যে আমরা নারী দিবস পালন করি, নারী দিবস এলে অনেক বড়ো বড়ো কথা বলি, কি লাভ তাতে ওই সকল নারীদের?

আসলে জীবনের সব সুবিধা থেকে বঞ্চিত নারীদের কাছে নারী দিবস একটা শো'কেসে সাজানো শো'পিস এর মতো। তারা জানে নারী দিবস এলে নারীরা সুন্দর করে সেজেগুজে টিভিতে আসে। অনেক অধিকারের কথা বলে, অনেক আশার কথা বলে, এটুকুই।

তবে কি বাংলাদেশের মতো দেশে নারী দিবসের কোনই সার্থকতা নাই? আমি বলব আছে। এই যে মেয়েরা আজকে বাইরে যেতে পারছে, কাজ করতে পারছে, নিজের পছন্দমত দুটো পয়সা ইনকাম করছে। এটাও কম কথা নয়। আগে তো বাইরে যাবার স্বাধীনতাটুকুই ছিল না। এখন গ্রাম থেকে মেয়েরা আসছে গার্মেন্টসে কাজ করছে, বিভিন্ন অফিসে কাজ করছে। এগুলো অনেকটা নারীদের জন্য ইতিবাচক দিক। তবে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মেয়েরা এখনো অনেক দূরে। সন্ধ্যার পর এখনো মেয়েরা নিরাপদ নয় বাইরে। এমন কি অফিসে, গার্মেন্টসে যেসব মেয়েরা কাজ করে তারা নানা ভাবে যৌন নিগ্রহের শিকার হয়। এগুলো দেখার কেউ নেই, বলার কেউ নেই। 

উন্নত বিশ্বে মেয়েরা নারী দিবস নিয়ে অত চিন্তা করে না। অনেকে জানেই না নারী দিবস বলে কিছু আছে। কারণ তারা অনেক এগিয়ে। তাদের পছন্দ-অপছন্দ তাদের নিজের কাছে। তাদের ব্যক্তিত্বের স্ফুরণ ঘটে শৈশবেই। তাদের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট তাদের স্থান নির্দিষ্ট করে দেয়। তারা বুঝতে পারে সমাজে তাদের মর্যাদাপূর্ণ স্থানকে।

কবিরা মেয়েদেরকে নিয়ে অনেক সুন্দর সুন্দর আকর্ষণীয় কথা বলেছেন তাদের কাব্য, গল্প ও উপন্যাসে। কিন্তু বাস্তবের মেয়েরা সে সবের থেকে অনেক দূরে। 

কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন, 

'কোন কালে একা হয়নি  ক' জয়ী পুরুষের তরবারি

প্রেরণা দিয়াছে, সাহস দিয়াছে বিজয় - লক্ষী নারী।' 

কবিতায় নজরুল, নারী পুরুষের সমতাকে সুন্দরভাবে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছেন কিন্তু বাস্তবে নারীদের এই সহাবস্থান অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্বীকৃতি পায় না।

রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, 

'শুধু বিধাতার সৃষ্টি নহ তুমি নারী

পুরুষ গড়েছে তোরে সৌন্দর্য সঞ্চারি

আপন অন্তর হতে।' 

রবীন্দ্রনাথের সৃষ্ট নারী, সে আমাদের মাটি-কাদার পৃথিবীতে  তৈরি নয়! সে নারী পুরুষের গোপন অন্তরের কল্পনা, ভালবাসা, মোহ এবং চোখের আকর্ষণ থেকে তৈরি।

আমাদের হিসাব নিকাশ, মাটির পৃথিবীতে মাটির তৈরি নারীকে নিয়ে। যে নারী চায় পুরুষের সাথে সহাবস্থান, যে নারী চায় তার কাজের প্রতি মূল্যায়ন, চায় পরিবারের সবাই হোক সহানুভূতিশীল ও সহযোগিতামূলক। নারী আজ ঘরের বাহিরে এসেছে তার কাঙ্খিত শিক্ষা এবং দক্ষতা দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করতে। কিন্তু এখানে দরকার পুরুষের এবং পরিবারের ও সমাজের সবার সহানুভূতি সম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গি। তবেই নারী তার কাজ ঘরে বাইরে সমানভাবে সম্পাদন করতে পারবে। নারী বাইরে আসা মানে পুরুষকে অবহেলা করা নয় বরং পুরুষকে সাহায্য করার জন্যই তারা আজকে বাইরে কাজ করছে। সেজন্য পুরুষদের উচিত যেসব নারী ঘরে বাইরে কাজ করছে, তাদের প্রতি সহযোগিতামূলক মনোভাব পোষণ করা। তাকে বুঝতে হবে পুরুষের মতো এই নারী ও বাইরে কঠোর পরিশ্রম করে এসেছে। সুতরাং ঘরে আসলে স্বামী-স্ত্রী দুজন মিলে বাকি কাজগুলো সম্পাদন করতে হবে। সন্তানদের দেখভালের দায়িত্ব ভাগাভাগি করতে হবে। মনে রাখতে হবে সমাজে আমাদের অবস্থান কেউ কাউকে বাদ দিয়ে নয়। পুরুষ যেমন নারীকে ছাড়া চলতে পারেনা, তেমনি নারী ও পুরুষকে বাদ দিয়ে চলতে পারে না। সৃষ্টির এমনই এক অলঙ্ঘনীয় নিয়মের বেড়াজালে আমরা বাঁধা আছি। এখানে কেউ কারো নাহি ছাড়ে সমানে সমান। এই সমানত্ব নিয়ে পরিবার এগিয়ে যাবে, সমাজ এগিয়ে যাবে, এগিয়ে যাবে আমাদের রাষ্ট্র। নারী দিবস সফল হোক। 
 

আমি দিবস বুঝিনা

রোকেয়া দীপা

 

দিবস বুঝিনা, আমি বিবশ বুঝি 

দ্বিধা বুঝিনা আমি ক্ষুধা বুঝি 

দিনশেষে তাই লুফে নেই ডাস্টবিনের খাবার

সুযোগ পেলে বড়লোকের ফ্রিজে রাখা;

বড়ো মাছের ঝোল

দিবস বুঝিনা, আমি অভাব বুঝি

সন্তানের বুকে পীড়নের ভার বুঝি 

দিনশেষে দেখি নৈতিকতা-মানবিকতার সংজ্ঞা

বাতাসের খায় দোল। 

দিবস বুঝিনা, আমি আমাকে বুঝি

ভাতের থালায় রোজ জীবন খুঁজি। 

সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন