https://www.prothomalony.com/
8668
literature
শুধুই প্রাকৃতিক
তমিজ উদ্দীন লোদী
সিন্ডিকেট ও বৃত্তাবদ্ধদের দৌরাত্ম থেকে বেরিয়ে এসে
সে দেখলো স্বস্তির আকাশ
পাখিরা গাইছে , বাতাস বইছে হুহু
নরম রোদ্দুরে শিশুদের উল্লাস
মা ছুটছে কৃত্রিম শাসনের ভঙ্গিতে পিছুপিছু
ছাতার মতো ঝুলে আছে সবুজ
নির্বিকার হরিণ শিশু দৌড়াচ্ছে হাইওয়ে ধরে
একটি ময়ূর পেখম মেললো অনাবিল
বানরেরা লাফিয়ে চলেছে গাছে গাছে
এইসব প্রাকৃতিক দৃশ্যে আপ্লুত
সে হাঁটছে ওয়াকওয়ে ধরে
নির্মলতা মুঠোয় পুরে পুরে।
শুধুই প্রাকৃতিক
তমিজ উদ্দীন লোদী
সিন্ডিকেট ও বৃত্তাবদ্ধদের দৌরাত্ম থেকে বেরিয়ে এসে
সে দেখলো স্বস্তির আকাশ
পাখিরা গাইছে , বাতাস বইছে হুহু
নরম রোদ্দুরে শিশুদের উল্লাস
মা ছুটছে কৃত্রিম শাসনের ভঙ্গিতে পিছুপিছু
ছাতার মতো ঝুলে আছে সবুজ
নির্বিকার হরিণ শিশু দৌড়াচ্ছে হাইওয়ে ধরে
একটি ময়ূর পেখম মেললো অনাবিল
বানরেরা লাফিয়ে চলেছে গাছে গাছে
এইসব প্রাকৃতিক দৃশ্যে আপ্লুত
সে হাঁটছে ওয়াকওয়ে ধরে
নির্মলতা মুঠোয় পুরে পুরে।
শ্বেত পাথরের চোখ
শরিফুজ্জামান পল
আমার চোখটা শ্বেতপাথরের, কালো পাথরের ক্যামেরা
টাও নষ্ট, কিছুই দেখতে পাই না আর
আগে পরে সব মুছে গেছে, স্বপ্ন নাই, চিন্তা নাই ,দুঃখ নাই।
এখন আমি একটা অন্ধ বেকুব, ভালোই হয়েছে ভুলবশত
আমি দেখতে চাই না-ভুল মানুষের মিথ্যা আশ্বাস।
আমি দেখতে চাই না চৌর্যবৃত্তির কারুকার্যময় কর্ম
বিশ্বাস শব্দটা মানুষের ভিতর নেই, মৃত
শুধু বই আর ধর্মগ্রন্থে জীবিত।
আমি দেখতে চাই না-বড়লোকদের উচ্ছিষ্টাংশ ডাস্টবিনের
খাবার, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রাণীর স্বপ্নের আহার।
তীব্র ঘৃণা, তীব্র ঘৃণা, তীব্র ঘৃণা।
আমি দেখতে চাই না-পরীক্ষা নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশু
অসহায় মা ক্ষুধায় কাতর,
স্তন শুকিয়ে গেছে, মাতৃদুগ্ধ নেই
শিশুরা চিৎকার করছে গলা ফাটিয়ে। খাবার চাই, খাবার চাই, খাবার
চাই। ক্ষমা নাই, ক্ষমা নাই, ক্ষমা নাই।
আমি দেখতে চাই না-লোভী পুরুষের মুহুর্মুহু দীর্ঘশ্বাস
শুধু নারীর মাংস খাওয়ার প্রয়াস, জননীরা জীবন দাস।
আমি দেখতে চাই না-স্বাধীনতা নামক রাজনীতি নিয়ে
জাতিতে জাতিতে মৃত্যু খেলা; শত কোটি মানুষ রক্তের বন্যা।
আমি দেখতে চাই না-অসততা দাঁড়িয়ে আছে শত শত
সভ্যতার দালান হয়ে; পৃথিবীর সব দেশের রাজধানীতে।
বাহ! বাহ! বাহ ! চমৎকার!
হ্যাঁ ,আমি খুব ভালো আছি; নির্বোধ বোকা হয়ে পৃথিবীতে।
সবকিছু দেখা থেকে আমি বঞ্চিত
শ্বেতপাথরের অন্ধ চোখটাই আমার আশীর্বাদ, শ্রেষ্ঠ সম্পদ।
তোমার থাকা কিংবা না- থাকায়
আবদুল বাতেন
তোমার থাকা কিংবা না- থাকায়, কিছুই
আসে যায় না, কারো।
গজব পড়া গরিব আরো নিঃস্ব, নিঃসন্দেহে
লাখপতিরা কোটিপতি হবে রাতারাতি!
কুনোব্যাঙ এক লাফে বাঘ, স্বর্ণলতা বটবৃক্ষ
বনে যাবে। তোমার থাকা কি না- থাকায়
থেমে থাকবে না
সর্বহারার শিয়রে পা রেখে তরতর উপ্রে উঠা।
অশ্লীলতার অস্থির বিজ্ঞাপনে, আটকে থাকবে না
তোমার থাকা নতুবা না- থাকায়
ক্লাসের সবচে' মেধাবী মেয়েটির ভাইরাল হওয়া।
যেমন- জলোচ্ছ্বাস, যন্ত্রণার। ভূমিকম্প, ভয়ের
কস্মিনকালেও ছলনার ছোবল ও গ্রাস
যাবে না ঠেকানো
তোমার তুমুল রকম থাকা বা না- থাকায়।
একটি ঘরহারা ঘুঘু, শ্বাসকষ্টের মতো ডেকে ডেকে
প্রবীণ পাড়া- গাঁ’র শুধু
নিঃসঙ্গ দুপুরকে আরো বিষণ্ণ- একা করে তুলবে।
দ্রোহের আগুনে পোড়ে প্রেম
অলোক আচার্য
স্মৃতিগুলো দ্রুত অতীতের পথে হেঁটে যাচ্ছে
যেভাবে ভেসে যায় উড়ো মেঘ
গ্রীবা ভেঙে ভেসে আসে শ্বাপদের ছায়া
পেছনে শূন্য উঠান, স্ফুলিঙ্গ, মায়া।
হায় স্রোত! কতকাল আগে কচুরিপানা ঠেলে
মিলেছিলে প্রেমিকের পায়
বুকের রক্তে দিয়েছিলে যজ্ঞের আহুতি!
শূন্য ধমনীতে আজ আসা যাওয়ার মিছিল
দ্রোহের আগুনে পোড়া অত্যুচ্চ প্রলাপে
কোলাহলভরা সন্ধ্যা মেলায় বৃষলী পাড়ায়।
মৌনকাল
লুনা রাহনুমা
আজ আমি কিছু বলব না,
আজ একটি অন্যরকম দিন।
অবিরল ধারায় ঝরে পড়তে দেখো যে বৃষ্টিকে
সেও তো সময় নেয় মেঘ হয়ে জমতে,
ধূলি-কণা আর বাতাসকে বুকে ধরতে।
দীর্ঘ শীত-ঘুমের পর আমিও জেগে উঠব
শব্দ করে বলতে যদি ক্লান্ত লাগে, তাহলে লিখে জানাব
মৌনতার প্রতিটি প্রহরে তুমি থাকো মস্তিষ্কের কোষে
রক্তের ধারায় যেমন মিশে থাকে রক্ত কণিকারা নিঃশব্দে।
দুঃখ
রুশা চৌধুরী
সেই কথাটা বুঝতে পেরেছিল কি কেউ?
খোয়াই নদী, কলাবতী ফুল,ঝাউবন অথবা
লাল জামা গায়ে মেয়েটা...
মেয়েটার চোখ ঢেউয়ের মতো ছিল!
হয়ত সব না বুঝেই সাজাতে হবে
অক্ষরের গায়ে বৃষ্টি আর জলের বুকে সুর
যদি বুঝতে পারত সব, তবে পলাতক ঈশ্বর
পোশাকি নামের আবডালে আড়াল খুঁজত না।
বেঁচে থাকার ডামাডোলে
অরণ্যের খোঁজে বের হলো মানুষ;
শুধু আমি ধুলিমাখা পথ, দীর্ঘশ্বাস আর বাতাসের
সাথে তাল মিলিয়ে বাঁচতে বাঁচতে, ক্লান্ত বসে আছি।
কাঙ্খিত প্রণয়ের আগে
ইথার আখতারুজ্জামান
এমন করে আর বিদায় বলো না, প্রিয়া।
অহেতুক প্রশ্ন ছুড়ে দিও না এমন অপ্রস্তুত অন্যমনস্ক
শীতের মধ্যরাতে। তোমাকে বলি শোনো,
পৃথিবীর সমস্ত ভালোবাসা বুকে জড়ো করো; দেখবে
বুকের ভিতর কোথায় যেন তখনও শূন্য লাগে।
ফেলে আসা স্মৃতিতে তুমি তোমার যত প্রেমিকের
ছবি ভাসতে দেখো- তাদের তুমি অন্ধ করে দাও।
দেখবে এরপরও তুমি পালাবার পথ খুঁজে পাবে না
তারা তোমাকে ঠিকই ধরে ফেলবে।
আর আমিতো নিজ দোষে অন্ধ হয়েছি, সেই কবে!
তবে আমি তোমাকে আর কখনও খুঁজতে যাবো না।
এমন করে বিদায় বলো না প্রিয়া- অহেতুক প্রশ্ন ছুড়ে
দিও না আমার কপালের ভাজে।
তুমি বরং তোমার বাদামি পিঠ খুলে দাও,
আলতো করে সরিয়ে দাও তোমার চুল
ঠোঁটের ইজারা তুলে দাও এই শীত রাত্রির কাছে।
জলের মতো গড়িয়ে বরফের মতো জমে যাও,
তুমি আমাকে টেনে নাও, একটা অনাকাঙ্খিত কবিতা
হবার আগে।
এমন করে বিদায় বলো না প্রিয়া- অহেতুক প্রশ্ন ছুড়ে
দিও না; এমন একটা কাঙ্খিত প্রণয়ের আগে।
তাড়া
খ্রীষ্টফার পিউরীফিকেশন
বাবার শুরু করা দোকানে সুমন বসে। বাবার অকাল মৃত্যুর পর পক্ষাঘাতগ্রস্ত মা ও একমাত্র বোন স্বাতীর দেখাশুনা করার ভার তাকেই নিতে হল। এই সুমনকে নিয়ে তার মা বাবার অনেক আশা, অনেক স্বপ্ন ছিল। লেখাপড়া ক’রে সুমন প্রতিষ্ঠিত হবে। মাবাবার দুঃখ ঘোচাবে। কিন্তু বাবার মৃত্যু সুমনের সব উলট পালট ক’রে দেয়।
ছয় মাস হল সুমনের বাবা হঠাৎ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। বাবা মারা যাওয়াতে সুমনের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া আর সম্ভব হয়ে ওঠেনি। ঘরে অসুস্থ মা আর ছোট বোনই তার এখন একমাত্র ভাবনার বিষয়।
অন্যদিনের মত আজও সুমন বাড়ির কাছাকাছি বাজারের দোকানে এসে বসে। সকালে আসার আগে মাকে ঔষধ দিয়ে আর স্বাতীকে স্কুলে যাবার কথা বলে এসেছে। দুপুরে এক ফাঁকে সে ছুটে যাবে বাড়িতে। রান্নার বিষয়টাও তাকে দেখতে হয়। অবশ্য মা টেনে টুনে যা পারেন এগিয়ে রাখেন। দুপুরে গিয়ে মাকে ঔষধও খাওয়াতে হবে। এতগুলো ঔষধের হিসাব রাখা মায়ের পক্ষে সম্ভব নয়।
সুমন ভাবছে তার দোকানে কিছু জিনিস ওঠাতে হবে। কাল যেতে হবে কেনাকাটা করতে। এ ব্যাপারে তার মামাত ভাই জীবন সাহায্য ক’রে থাকে। কাল কি জীবন তাকে সময় দিতে পারবে?
এখন বিক্রিবাট্টা বাড়ার সময়। বাজারে লোকজন আসতে শুরু করেছে। ঠিক এমন সময় কতগুলো বখাটে যুবক সুমনের দোকানের সামনে এসে দাঁড়ায়। তাদের প্রত্যেকের হাতে মোবাইল ফোন। সবচে’ লম্বা বখাটে লম্বু প্রতাপ গলার আওয়াজ উঁচু করে বলে, এ্যাই সুমইন্যা চা লাগা।
টাক্কু জুয়েল এগিয়ে যায়। ‘বাহ্! বাহারি হলুদ রঙ্গের সোন্দর কলা ঝোলতাছে! অই সুমইন্যা দাম কতরে?
-বিশ টাকা হালি।
-অ্যা! কয় কী! বিশ টাহা! তার মানে একটা সাগর কলা পাঁচ টাহা! হেঃ হেঃ হেঃ দয়াল বাবা কলা খাবা, গাছ লাগাইয়া খাও!
কলা ছাড়িয়ে জুয়েল প্রত্যেকের হাতে একটা ক’রে কলা ধরিয়ে দেয়। নিজেও নেয় একটা।
সুমন চা ক’রে সকলকে দেয়। কেউ কেউ সামনের বেঞ্চে ব’সে পড়ে। কেউ আবার দাঁড়িয়ে। বাট্টু মঙ্গলা দাঁত কেলিয়ে হাসে। হাতের মোবাইলের কী-প্যাড টেপাটিপি করে অনর্থক।
টাক্কু জুয়েল বলে, অই বাট্টু! পেটলা মামুরে কল লাগা তো।
-মামু এহন ঘুমাইতেছে।
-দূর হালা। ঘুমাইবো ক্যান? সে তার অপারেশন নিয়া ব্যস্ত আছে। কল লাগা।
বাট্টু মঙ্গলা কল লাগায়।
-হ্যালো মামু। কী করতাছ? আমরা কলা আর চা খাইতাছি। হাঃ হাঃ হাঃ!
টাক্কু জুয়েল মঙ্গলার হাত থেকে মোবাইলসেট প্রায় ছিনিয়ে নেয়।
-ও মামু। কেমন আছো? খবর কী তোমার? হা হা হা সব ঠিক হ্যায়। এইবার তোমার কথা কও।
সুমন লক্ষ্য করে, বখাটেরা তার দোকানের সামনে অনর্থক লম্বা আড্ডা মারছে। সে মনে মনে বিরক্ত হয়।
-ও জুয়েল। তুই তো আমড়াকাঠের ঢেঁকী।
-আরে তুই তো অকালকুষ্মাণ্ড। আর প্রতাইপা অমাবস্যারচাঁদ।
-দূর শালা। তুই গোবরগণেশ।
-আর ওই চোঙ্গা বাদলা সাক্ষীগোপাল। হা হা হা!
বখাটেরা হইচই ক’রে সুমনের দোকান মাতিয়ে রাখে। সুমনের বিরক্তি বেড়ে যায়। এ সময় ক্রেতারা আসবে। আশেপাশের লোকজন সব লক্ষ্য করে। কিন্তু এগিয়ে আসে না কেহ।
-ও জুয়েল ভাই। তোমরা এমন ভিড় করলে আর আড্ডা দিলে তো কাস্টোমার আসবে না আমার দোকানে।
-দূর শালা। কথা বাড়াইস না। দে সিগ্রেট দে। খালি বেশি কথা বলে।
কাইলা নিকু সুর মিলায়, অই সুমইন্যা। আমরা কি তোর কাস্টোমারদের আসতে মানা করেছি?
-আমি তো মানা করার কথা বলিনি। বলেছি, তোমরা আমার দোকানে ভিড় করলে আমার ব্যবসায়ের ক্ষতি হয়।
-ও আমার ব্যবসারে! বেশি ব্যবসায়ী হইয়া গেছ দেখছি।
-দ্যান। টেকা দেন।
-কিসের টেকা দোস্ত? তুমি কি আমাদের টেকা ধার দিছিলা?
-টেকা দেন।
-অই। চল। সবাই মিল্লা অরে আমরা সাইজ করি। সুমইন্যা আইজ বেশি পটরপটর করতাছে।
-নাহ্। চল। মামুর অপারেশনটার কী অইলো, বুঝতাছি না।
সবাই উঠে দাঁড়ায়।
-তুমি বিজনেসম্যান সুমইন্যা টেকা নিবা? দাঁড়াও। তোমারে আমরা টেকা দিতাছি।
বাট্টু আর মঙ্গলা সুমনের সামনে এসে দাঁড়ায়। টাক্কু জুয়েলও এগিয়ে আসে।
-কেরোসিন দেও।
-কতটুকু লাগবো?
-যা আছে তোমার। সবটুকু।
কাইলা নিকু এগিয়ে গিয়ে নিজেই কেরোসিনের পাত্র টেনে আনে।
-আসো সোনামণি। তোমারে আমরা কেরোসিন দিয়া জামাই গোসল করাই।
সুমন বিষয়টা আঁচ করতে পারে। ভয়ার্ত চিৎকারে সে ‘ওমা!’ বলে আর্তনাদ ক’রে ওঠে।
-এ্যাই খবরদার। কোন চিল্লাচিল্লি না। একদম না।
টাক্কু জুয়েল কর্কশ কণ্ঠে শাসিয়ে ওঠে।
বাট্টু মঙ্গলা সুমনকে টেনে সামনে নিয়ে আসে। কাইলা নিকু পাত্র উপুড় করে সুমনের গায়ে কেরোসিন ঢেলে দেয়।
টাক্কু জুয়েল কিছু কেরোসিন দোকানের ভিতরে ছিটিয়ে দেয়। সাথে সাথেই চায়ের চুল্লি থেকে আগুনের শিখা ছড়িয়ে পড়ে দোকানময়। চোখের পলকে আগুনের ক্ষুধার্ত থাবা সুমনকে নাগালে পেয়ে যায়।
বাজারের লোকজন ‘আগুন!’ ‘আগুন!’ চিৎকারে ব্যতিব্যস্ত হয়ে ছুটে আসে। ততক্ষণে বখাটেরা সবকিছু পিছনে ফেলে ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটে পালায়।
জ্বলন্ত দোকানের ভিতর থেকে সুমনকে বের করে আনা হল। উপস্থিত লোকজন সুমনের গায়ের আগুন নেভাতে প্রাণান্তকর চেষ্টা চালায়।
ততক্ষণে সুমনের পুরো শরীর পোড়া কাঠ-কয়লার বর্ণ ধারণ করেছে। আগুন জ্বলে উঠেছে পুরো দোকানে দাউ দাউ ক’রে। মুমূর্ষু সুমনকে নিয়ে যাওয়া হলো নিকটস্থ মিশনারি চিকিৎসাকেন্দ্রে। কর্তব্যরত চিকিৎসক জবাব দিলেন চিকিৎসার আর প্রয়োজন নেই। যা হবার, তা হয়ে গেছে!
বিস্তর সব রঙিন স্বপ্নেরা সুমনকে তাড়া ক’রে নিয়ে যায় অন্য আর এক নতুন জগতে। সে তাকিয়ে দেখে, পিছনে প’ড়ে আছে তার দোকান। স্কুল পড়ুয়া একমাত্র ছোট বোন স্বাতী আর পক্ষাঘাতগ্রস্ত বিধবা মা। অপার্থিব উন্মুক্ত মহাসড়কের মাঝখান দিয়ে ব্যতিব্যস্ত সুমন ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটে চলেছে সামনের দিকে। পিছনে জাগতিক সমুদয় স্বপ্ন তাকে তাড়া করছে।
সাহিত্য থেকে আরো পড়ুন