https://www.prothomalony.com/
8444
new-york
গ্লোবাল পিস অ্যামব্যাসেডর, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, সংগঠক স্যার ড. আবু জাফর মাহমুদ বলেছেন, একটি সমাজ একজন ব্যক্তির কারণে এগিয়ে যায় এ কথা ঠিক নয়। একটি সমাজ বা রাষ্ট্রে একজনের উদ্যোগেই সব হয়ে যায় ব্যাপাটা তা নয়। যদিও ছোটবেলা থেকে এই ভুল শিক্ষা আমরা পেয়ে এসেছি, এক নেতা এক দেশ বঙ্গবন্ধুই বাংলাদেশ। এটি একটি রাজনৈতিক শ্লোগান। রাষ্ট্র জন্ম দেওয়ার পর এ শ্লোগান আমরা পেয়েছিলাম। ৫৩ বছরে আমরা শিখেছি একজন ব্যক্তি যত যোগ্য ও ক্ষমতাশালী হন তিনি একটি রাষ্ট্রের জন্য যথেষ্ট নন। একটা রাষ্ট্রে অনেকগুলি শক্তি সমন্বিতভাবে ভূমিকা রেখে থাকে। নিউইয়র্কে এমনই এক সংগঠন বাংলাদেশি আমেরিকান কালচারাল এসোসিয়েশন। এই সংগঠনের নেতৃত্ব, শৃংখলা, পারস্পারিক শ্রদ্ধাবোধ ও দেশীয় সংস্কৃতির চর্চা এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
তিনি ৬ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ব্রংকস এর খলিল চাইনিজ রেস্তোরাঁয় বাংলাদেশি আমেরিকান কালচারাল এসোসিয়েশন আয়োজিত নৈশভোজ ও আলাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করছিলেন। অনুষ্ঠানে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আবুল হাশেম হাসনু, সদ্য সাবেক সভাপতি আহবাব এইচ চৌধুরী, বর্তমান সভাপতি সারওয়ার চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক শাহ বদরুজ্জামান রুহেলসহ সংগঠনের নির্বাহী কমিটির সকল কর্মকর্তা ও সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
স্যার আবু জাফর মাহমুদ বলেন, বাকার ২৩ জনের কমিটির প্রত্যেকেই একেকজন নেতা। পারস্পারিক সহিষ্ণুতা, একই চিন্তায় একীভূত হওয়া এই যোগ্যতাগুলোই তাদেরকে সফল করেছে। একজন নেতার এই বৈশিষ্টগুলো দরকার। সমাজে আমরা প্রত্যেকে অবদান রাখি। কেউ বেশি কেউ কম। কারোটা উজ্জল হয় কারোটা আলোচনায় আসে না। তিনি বলেন, সমাজের প্রচলিত ধারার সাথে গা না ভাসানোই একজন নেতার আদর্শ। সমাজের সব ধারার মধ্যে থেকে মিশে নতুন ঢেউ সৃষ্টি করাই একজন নেতার বড় দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাকা'র সহসভাপতি মোহাম্মদ সাদী মিন্টু, মাকসুদা আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ্ কামাল উদ্দিন, সোহেল আহমদ, এম ডি আলাউদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ রনি, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক রায়হান জামান রানা, স্কুল ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সালমা সুমী, ক্রীড়া সম্পাদক শাহ্ ইকবাল রাজু, প্রচার ও গণসংযোগ সম্পাদক মোহাম্মদ লিয়াকত আলী, আইন ও আন্তর্জাতিক সম্পাদক দুলাল রহমান, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ হোসেন টিটু, সদস্য চৌধুরী মুমিত তানিম, সাংবাদিক শামীম আহমেদ, খলিল বিরিয়ানি হাউজের সিইও খলিল রহমান।
বাংলাদেশ সোসাইটির প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত
নিউইয়র্কে একুশের সর্ববৃহৎ আয়োজনে
প্রধান অতিথি আবু জাফর মাহমুদ
দেশের বাইরে সবচেয়ে বড় পরিসরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করে থাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসীদের সর্ববৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি ইউএসএ ইনক। প্রতিবারের চেয়ে এবার নেয়া হয়েছে আরো বর্ণাঢ্য কর্মসূচি। এবারের আয়োজনে প্রধান অতিথি থাকছেন গ্লোবাল পিস অ্যামব্যাসেডর বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাউন্টেন ব্যাটালিয়ন কমা-ার স্যার ড. আবু জাফর মাহমুদ। বুধবার নিউইয়র্কের এল্মহার্স্টে সোসাইটির নিজস্ব কার্যালয়ে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেন বাংলাদেশ সোসাইটির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রব মিয়া। অনুষ্ঠানে স্যার ড. আবু জাফর মাহমুদ ছিলেন প্রধান অতিথি। এছাড়াও অনেকের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রুহুল আমীন সিদ্দিকী, ভাইস প্রেসিডেন্ট ফারুক চৌধুরী, ট্রেজারার মোহাম্মদ নওয়াশেদ হোসেন, জনসংযোগ ও প্রকাশনা সম্পাক রিজু মোহামেদ, ক্রীড়া ও বিনোদন সম্পাদক মাইনুদ্দিন মাহবুব, নির্বাহী সম্পাদক আখতার বাবুল, সাদী মিন্টু প্রমুখ।
প্রধান অতিথি আবু জাফর মাহমুদ বলেন, আমরা যুদ্ধ করে বাংলাদেশ জন্ম দিয়েছি। প্রবাসে বাংলাদেশের ঐতিহ্য সংস্কৃতি সুরক্ষার নেতা হচ্ছে আমেরিকার বাংলাদেশ সোসাইটি। এই সোসাইটি যতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে, ততদূর পর্যন্ত আমি গভীরভাবেই এর সঙ্গে যুক্ত। এই সোসাইটি পরিচালনার কাজটি গোটা জাতির কাজ, গোটা সমাজের কাজ। বিশেষ করে সামাজিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এই সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে।
তিনি বলেন, যেখানে আমাদের লক্ষ্যের একতা আছে সেখানে কর্মের একতা নিয়ে ভাবতে হবে না। লক্ষ্যটা আগে স্থির করা দরকার। সকল ¯্রােতে গা ভাসিয়ে দেয়া কোনো জ্ঞানী মানুষের কাজ নয়। আমরা যেন সফল হই। সফলতাটি হচ্ছে আমরা যা করছি তার যেন কার্যকারিতা থাকে। আর সেই কার্যকারিতাও অন্য কিছু নয়, শুধু আমাদের দেশ ও জাতির কল্যাণ। নিউইয়র্ক সিটিতে পৃথিবীর সব জাতিধর্মের মানুষ রয়েছে। এর মধ্যে আমাদের জাতি যেন সম্মান ও মর্যাদায় মাথা উঁচু করে থাকতে পারে সেটিই আমাদের দেখার বিষয়।
তিনি বলেন, দেশকে প্রতিনিধিত্ব করে, বাংলাদেশ সোসাইটি। এই সোসাইটি তখনই সফল হবে, যখন এটি পকেটের প্রভাবে বড় না হয়ে জ্ঞানের প্রভাবে বড় হয়। তিনি বাংলাদেশ সোসাইটির অতীতের বিভিন্ন কর্মকা-ের কথা তুলে ধরে বলেন, সেগুলো এখন নেই বলেই সংগঠনটি গতিশীলভাবে চলছে। তিনি বলেন, ব্যক্তি সম্মান বা সংগঠন পরিচালনার সাফল্যই শেষ কথা নয়। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূতিকে বড় করে তোলাই আমাদের বড় দায়িত্ব।
এবার একুশে উদযাপনী আয়োজন উডসাইটের টিবেটান কমিউনিটি সেন্টারে। অনুষ্ঠান শুরু হবে ২০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার বিকেল ৫টায়। চলবে একুশের প্রথম প্রহর পর্যন্ত। অনুষ্ঠানে থাকবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন, মুক্তিসংগ্রাম ও দেশপ্রেমের বার্তাবহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। প্রতিবারের মতোই থাকবে সাংগঠনিক নানা আনুষ্ঠানিকতা ও একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পন করে বায়ান্নর রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন।
নিউইয়র্ক থেকে আরো পড়ুন